মেডিসিন ক্লাব, শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ ইউনিট

  • Home
  • Bangladesh
  • Gazipur
  • মেডিসিন ক্লাব, শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ ইউনিট

মেডিসিন ক্লাব, শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ ইউনিট আর্তের সেবায় আমরা একটি পরিবার

ঈদ মোবারক“নিশ্চয়ই আমার সালাত, আমার কুরবানি, আমার জীবন ও আমার মৃত্যু—সবই আল্লাহর জন্য।”— কুরআন ৬:১৬২
27/05/2026

ঈদ মোবারক

“নিশ্চয়ই আমার সালাত, আমার কুরবানি, আমার জীবন ও আমার মৃত্যু—সবই আল্লাহর জন্য।”
— কুরআন ৬:১৬২

24/05/2026

নাম: তাজিয়ান তামিমা
রোল:৭৩
ব্যাচ: TA-13

আসসালামু আলাইকুম, আমি তাজিয়ান তামিমা,আল্লাহ রব্বুল আলামিনের সাহায্যপ্রাপ্তদের কাতারে দাঁড়িয়ে জীবনের একটা প্রাপ্তির কথা বলছি।

আমি জানি না কেন ছোট বাচ্চাদের “Aim in Life” জিজ্ঞেস করলে majority ডাক্তার হতে ইচ্ছা পোষণ করে!! বিষয়টা আসলে অবাক হওয়ার মতোই! একটা ছোট বাচ্চা যে হয়তো জানেই না ডাক্তারদের responsibilities কতটুকু, তাদের কাজটা exactly কী... কিন্তু সে অনায়াসে এটা বলার সাহস দেখায় যে, “আমি ডাক্তার হবো”। এই passion টা কোথা থেকে আসে! এই “White Coat” টার মধ্যে আলাদাই কিছু আছে!!

আমিও এর ব্যতিক্রম নই। সাদা অ্যাপ্রন গায়ে জড়ানোর ইচ্ছা অনেক দিনের এবং হ্যাঁ অবশ্যই ততটা যোগ্যতার সাথে। আমার মা বলতেন, সাদা অ্যাপ্রন গায়ে তোকে অসম্ভব সুন্দর লাগবে। আমি আমার বাবার চোখেও সেই আশাটা দেখেছিলাম। তার থেকেও বেশি যেটা দেখেছি সেটা হলো আমার উপর আস্থা, confidence যে, “আমার মেয়ে পারবে!”

আমি অনেকের মতো নামকরা কলেজ থেকে পড়াশোনা না করলেও তাদের মতো বড় স্বপ্ন দেখেছি। অনেকসময় ভাবতাম এই ছোট জায়গা থেকে এত বড় competitive environment আমি আদৌ সামাল দিতে পারবো কিনা। হতাশ লাগেনি যে এমন না, কিন্তু আমি এটা বলতে proud feel করি যে আমি নিজের উপর confident ছিলাম। আমার মনে হতো আল্লাহ আমাকে সেই সামর্থ্য দিয়েছেন। আল্লাহর কাছেই সাহায্য চেয়েছি এবং তিনি আমাকে ফেরাননি। আলহামদুলিল্লাহ।

খুব ক্লান্ত হয়ে গেলে মায়ের যত্ন, বাবার অনবরত আমাকে সাহস দিয়ে যাওয়া, তাদের অকৃত্রিম ভালোবাসা আর প্রার্থনা, বন্ধুদের “আরে তুই পারবি ইনশাআল্লাহ” এটা বলা, আমার শিক্ষকদের স্নেহ আর তাদের দেওয়া শিক্ষা এবং সর্বোপরি আমার প্রতিপালক আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের সেই রহমত, সেই দয়া আর সেই অপরিমেয় ভালোবাসা আমাকে আমার স্বপ্ন ছুঁতে দিয়েছে!!

HSC এর পরে admission এর জন্য পড়া শুরু করলাম। Short syllabus এ HSC পরীক্ষা হওয়ায় আগে থেকে full syllabus পড়িনি, তাই একটু কষ্ট হচ্ছিল সব আয়ত্ত করতে। তারপরেও যতটা সম্ভব আল্লাহ আমাকে দিয়ে করিয়েছেন। আমি মোটামুটি confident ছিলাম যে পারবো। কিন্তু ঠিক পরীক্ষার আগের রাতে যখন ঘুমানোর জন্য তাড়াতাড়ি শুয়ে পড়েছিলাম, আমি বলে বোঝাতে পারবো না কেমন লাগছিল! মনে হচ্ছিল যেন জীবনের সব মানে কালকের পরীক্ষাটা। আমি এত কষ্ট আর চেষ্টা করেছি, যদি কাল ব্যর্থ হই!! কেন জানি না এই চিন্তাটা মাথা থেকে সরছিলই না।

আমি জানি একটা পরীক্ষা মানুষের পুরো জীবন নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। কিন্তু তখন যেন একেবারে অবুঝ হয়ে গিয়েছিলাম। ঘুম আসছিল না কিছুতেই। যেখানে আমার ১০ টায় ঘুমিয়ে পড়ার কথা, সেখানে আমি রাত ২ টায়ও জেগে আছি। যাই হোক, সকালে উঠে পরীক্ষার হলে গেলাম। আমার স্পষ্ট মনে আছে সেই দিনটার কথা — The 12th December!! পরীক্ষা দিয়ে ঢাকা থেকে বাড়ি চলে আসলাম। ১৪ তারিখ result দিলো। আর ওই মুহূর্তটা!! আমি জানি যারা আমার এই লেখাটা পড়ছে, ওই মুহূর্তটা সবাই অনুভব করতে পারছে। এমন অদ্ভুত সুন্দর অনুভূতি — নিজের অজান্তেই আল্লাহর কাছে মাথা নত হয়ে যাওয়া, আনন্দে কেঁদে ফেলা — জীবনের অল্প কিছু মুহূর্তেই হয়।

আমি পেরেছি আমার স্বপ্নকে ছুঁতে, আমার বাবা-মায়ের স্বপ্ন পূরণ করতে, আমার বন্ধুদের কাছে “doctor bandhobi” nickname টা পেতে এবং নিজের জীবনকে অর্থপূর্ণ করে তোলার একটা সুযোগ তৈরি করতে... হ্যাঁ আমি পেরেছি, আর আমি এজন্য আমার রবের কাছে চিরকৃতজ্ঞ থাকবো।

এখন আমার medical college টা নিয়ে একটু বলি। শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজে যেদিন ভর্তি হতে আসলাম, campus দেখেই মন ৫০% satisfied হয়ে গিয়েছিল। এরপর আস্তে আস্তে class শুরু হলো, নতুন বন্ধু পেলাম, নতুন শিক্ষকদের দেখলাম। যদিও সবার সাথে পরিচিত হতে পারিনি, তারপরেও কিছু senior পেলাম একদম বড় আপুর মতো।

আমি যদি নিজের কাছে খুব সৎ থেকে বলার চেষ্টা করি তাহলে হ্যাঁ, আমি enjoy করেছি medical এর এই hardness টা। কেনই বা করবো না! আমি এটার জন্য কী না করেছি!! আমার এই medical college টা এখন আমার নতুন পরিচিতি। আমরা চেষ্টা করবো যেন সবাই মিলে এই college এর academic and co-curricular activities কে একটা নতুন মাত্রায় নিয়ে যেতে পারি। কেন জানি এই কথাগুলো লিখতে খুব ইচ্ছা হলো। আপনারা সবাই দোয়া রাখবেন আমার জন্য। সবার জন্য শুভকামনা রইলো।

And finally, I’d like to say —
“I’m proud enough as a STAMCian.”

“ব্লাড গ্রুপ জানা শুধু তথ্য নয়, এটি হতে পারে জীবন বাঁচানোর প্রস্তুতি।”🗓️গত ১৯ মে, ২০২৬, রোজ মঙ্গলবার মেডিসিন ক্লাব, শহী...
20/05/2026

“ব্লাড গ্রুপ জানা শুধু তথ্য নয়, এটি হতে পারে জীবন বাঁচানোর প্রস্তুতি।”

🗓️গত ১৯ মে, ২০২৬, রোজ মঙ্গলবার মেডিসিন ক্লাব, শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ ইউনিট কর্তৃক আয়োজিত হয়“ Blood Grouping Campaign - 2026 “। উক্ত ক্যাম্পেইনটি অনুষ্ঠিত হয় ছোট দেওড়া অগ্রণী উচ্চ বিদ্যালয়ে।

🩸উক্ত ক্যাম্পেইনে প্রায় ১০০ জন শিক্ষার্থীর বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ নির্ণয় করা হয়। শিক্ষার্থীদের ব্লাড গ্রুপিংয়ে অংশগ্রহণ করেন ক্লাবের নব্য সদস্যবৃন্দসহ অন্যান্য সদস্যগণ। ক্যাম্পেইনের Sponsor হিসেবে ছিলেন বেক্সিমকো ফার্মা।

✅ উক্ত ক্যাম্পেইনে আমাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল শিক্ষার্থীদের নিজের রক্তের গ্রুপ সম্পর্কে সচেতন করা এবং ভবিষ্যতে রক্তদানে উৎসাহিত করা।

💝 সকলের আন্তরিক সহযোগিতায় ও উৎসাহ আমাদের আয়োজনকে সাফল্যমণ্ডিত করেছে। যাদের অংশগ্রহণ ও আন্তরিক প্রচেষ্টায় ক্যাম্পেইনটি সফলতা পেয়েছে তাদের ধন্যবাদ জানাই।

” আর্তের সেবায় মোরা একটি পরিবার “
~ মেডিসিন ক্লাব, শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ ইউনিট

18/05/2026

নাম: রাকিবুল হাসান ইফতি
রোল: ১১৪
ব্যাচ:TA-13

আমার জার্নিটা একটু ব্যতিক্রম। প্রথম দিকে পড়তে গিয়ে হয়তো গোঁজামিল লাগতে পারে—“আসলে কী হচ্ছে?” কিন্তু টেনশন নেই, পড়তে থাকলে সব ক্লিয়ার হবে।

এই পরিচয়ের বাইরে আমার আরেকটা পরিচয় আছে, যেটা আমি কলেজ লাইফ আর অ্যাডমিশন জার্নির প্রায় সব জায়গাতেই গোপন রেখেছিলাম। আমার একটা মাদরাসা ব্যাকগ্রাউন্ড আছে। আমি হিফজ কমপ্লিট করেছি, আর মাওলানা হতে তখনও প্রায় তিন বছর বাকি ছিল। অর্থাৎ, আমি একসাথে দুইটা লাইনে পড়াশোনা করেছি—জেনারেল আর মাদরাসা। দুইটা সম্পূর্ণ আলাদা জগত, আলাদা পড়াশোনা, আলাদা পরিশ্রম; যেখানে এক লাইনের পড়া আরেক লাইনের সাথে প্রায় কোনোভাবেই মেলে না।

এসএসসি পর্যন্ত somehow এই দুইটা লাইন প্যারালালভাবে চালিয়ে নিতে পেরেছিলাম। কিন্তু আসল বিপত্তি শুরু হয় ইন্টারমিডিয়েটে। যেহেতু শুরু থেকেই নিয়ত ছিল মাদরাসা লাইনটা ছাড়ব না, তাই ইন্টারেও একইভাবে প্যারালাল চালানোর সিদ্ধান্ত নিলাম। আগে যেমন মাদরাসায় থেকেই পড়তাম, শুধু এক্সামের সময় স্কুলে যেতাম—ভাবলাম এবারও তেমনই হবে।

কলেজ এমন একটা বেছে নিতে হয়েছিল, যেখানে নিয়মিত না গেলেও বড় কোনো সমস্যা হবে না। সব ভেবে-চিন্তে টঙ্গী সরকারি কলেজে ভর্তি হলাম। কিন্তু তখনও আমার কল্পনায় ছিল না HSC-এর সিলেবাস আসলে কতটা বিশাল। আমার বড় ভাই আমাকে মানা করেছিলেন, কিন্তু তখন মাথায় একটাই বিশ্বাস ছিল—
“এতদিন পারা গেছে, এখন কেন পারব না? পরিশ্রম বাড়াতে হবে ঠিকই, কিন্তু অসম্ভব তো আর না!”

আজ বুঝি, যদি তখন কেউ হাতে-কলমে দেখিয়ে দিত কেন এটা প্রায় অসম্ভব, তাহলে হয়তো সেদিনই আমার পরিকল্পনা বদলে যেত।

২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারির দিকে একাদশ শুরু হয়। তখন আমি মাওলানা লাইনের পঞ্চম বর্ষে। মাদরাসায় রমজান-রমজান ধরে বর্ষ গণনা হয়, তাই মার্চের দিকেই আমার পঞ্চম বর্ষ শেষ হয়। এর মধ্যেই কলেজের পরীক্ষা। কিন্তু মাদরাসায় ফুলটাইম থাকতে হতো, বাইরের পড়াশোনায় ছিল কড়া রেস্ট্রিকশন। ফলে কলেজের পড়া প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে আসে।

ধরো, এক্সাম ১২:৩০-এ। আমি মাদরাসা থেকে ছুটি নিয়ে বের হতাম ১১টার দিকে। একেবারেই না পড়া বিষয় নিয়ে হলে ঢুকতাম। আজও ভাবলে অবাক লাগে—যেখানে মানুষ এক ঘণ্টা আগে রিভিশন শেষ করে, আমি তখন পড়া শুরু করতাম। এই অল্প সময়ে যতটুকু চোখে পড়ত, ততটুকু দেখেই এক্সাম দিতাম।

ফলে বায়োলজি কোনোমতে বানিয়ে লিখতাম, কেমিস্ট্রি চলত আগের বেসিকের ওপর, আর ফিজিক্সে ভরসা ছিল পার্শিয়াল মার্ক। কিন্তু ম্যাথ তো আর এভাবে হয় না। তাই পুরো কলেজ লাইফে ম্যাথে কখনোই পাশ আসেনি। অন্য সাবজেক্টে কোনোমতে পাশ এলেও, ম্যাথের কারণেই পুরো রেজাল্ট ফেল হয়ে যেত।

এইভাবেই চলতে চলতে ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে এসে সিদ্ধান্ত নিলাম—এই কয়েকদিন ফুলটাইম জেনারেল লাইনে দেব। তখন মাদরাসা লাইনের ক্লাসও প্রায় শেষের দিকে। কর্তৃপক্ষের এক হুজুরকে নিজের অবস্থাটা খুলে বললে তিনি বিষয়টা সুন্দরভাবে বুঝলেন এবং ছুটি দিতে রাজি হলেন। ১৮ জানুয়ারি পুরস্কার বিতরণী ছিল, সেখানেও আমি প্রাইজ পেয়েছিলাম। ১৯ জানুয়ারি বাসায় ফিরলাম। সেদিন থেকেই আমার পুরোপুরি HSC লাইফ শুরু।

ভাবছিলাম মার্চে টেস্ট হবে, সিলেবাস অন্তত কিছুটা শেষ করা যাবে। কিন্তু টেস্ট পড়ে গেল জানুয়ারির শেষ কিংবা ফেব্রুয়ারির শুরুতেই। প্রস্তুতির মতো সময়ই পেলাম না। টেস্টে ফেল এল, তবুও মাত্র দুইটা সাবজেক্টে ফেল হওয়ায় সেটাকে কনসিডার করে মেইন পরীক্ষার সুযোগ পেলাম।

এরপর উদ্ভাসের FRC ব্যাচে ভর্তি হলাম। কিন্তু মেইন এক্সামে আমি এতটাই প্রেসারাইজড ছিলাম যে অনেক সহজ MCQ ভুল হয়ে যায়। আমার একটা নীতি ছিল—যত কষ্টই হোক, কারো থেকে হেল্প নেব না। সেই নীতিতেই ছিলাম। অতিরিক্ত চাপের কারণে এমনকি বাংলাদেশের জাতীয় কবির প্রশ্নটাও ভুল দাগিয়ে আসি—না জানার কারণে নয়, শুধু প্রেসারের কারণে।

বাংলা দ্বিতীয় পত্রে ভালো করার কথা ছিল। প্রায় ২০ পেজ রচনা লিখেছিলাম। কিন্তু খাতা তোলার সময় চোখে পড়ে—একটা একেবারে নিশ্চিত ৫ নম্বরের প্রশ্ন বাদ পড়ে গেছে। সেই মুহূর্তের কষ্ট ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন।

১৫ সেপ্টেম্বর রেজাল্ট এলো। GPA 5 পেতে শুধু এক সাবজেক্টে প্লাস দরকার ছিল, কিন্তু প্রত্যেকটাতেই A এসে আটকে গেল। বাংলা বিষয়ে মাত্র ২ নম্বরের জন্য মিস। GPA হলো ৪.৮৩। তখন বুঝলাম—আল্লাহ যা করেন, ভালোর জন্যই করেন। ম্যাথ হলে হয়তো ফেলই আসত।

তবুও মেডিকেল প্রিপারেশন ছাড়িনি। শর্ট সিলেবাস শেষ না করেই অ্যাডমিশন সেশনে ফুল সিলেবাস—আরেকটা কঠিন যুদ্ধ। প্রথম টাইমে রেজাল্ট এলো ৬৫.৭। HSC শুরু থেকে রেজাল্ট পর্যন্ত কেটে গেল ঠিক এক বছর।

এরপর শুরু হলো সেকেন্ড টাইমের জার্নি—অনেক পড়াশোনা, অনেক পরীক্ষা, অনেক হতাশা। শেষ ১৫ দিন কেটেছে ভয় আর আশার দোলাচলে। কখনো মনে হয়েছে, “হবে না,” আবার কখনো মনে হয়েছে, “ইনশাআল্লাহ, আল্লাহ ফিরাবেন না।”

এক্সামের পর মিলাতে চাইনি, তবুও মিলালাম। দুই দিন যেন শেষই হচ্ছিল না। অবশেষে বিকাল ৪টা ৪৪ মিনিটে আল্লাহ সব সমস্যার সমাধান করে দিলেন। রেজাল্টে মার্ক বেড়ে ৭৬.৪৬—যেখানে সাধারণত মানুষের কমে, সেখানে আমার বেড়েছে।

আলহামদুলিল্লাহ। সবই আল্লাহর ইচ্ছা।

সর্বোপরি, আমি আমার পরিবারসহ সকল গুরুজনের প্রতি—বিশেষ করে আমার আম্মুর প্রতি—অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। তাঁদের সহযোগিতা, দোয়া আর নিঃস্বার্থ সাপোর্ট ছাড়া এতটুকু পথ পাড়ি দেওয়া আমার পক্ষে কখনোই সম্ভব হতো না।

আমার জন্য এবং আমার পুরো পরিবারের জন্য সবাই দোয়া করবেন।
আল্লাহ হাফেজ।

আগামী ১৯ মে, ২০২৬, রোজ : মঙ্গলবার, মেডিসিন ক্লাব শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ ইউনিটের তত্ত্বাবধায়নে আয়োজিত হতে যাচ...
17/05/2026

আগামী ১৯ মে, ২০২৬, রোজ : মঙ্গলবার, মেডিসিন ক্লাব শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ ইউনিটের তত্ত্বাবধায়নে আয়োজিত হতে যাচ্ছে ব্লাড গ্রুপিং ক্যাম্পেইন - ২০২৬। উক্ত ক্যাম্পেইনের উদ্দেশ্য সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে ব্লাড গ্রুপিং করা। উক্ত ক্যাম্পেইনে অংশগ্রহণ করবেন নবাগত TA-13 এর অনূজরা এবং ক্লাবের অন্যান্য সদস্যবৃন্দ।

ক্যাম্পেইনের ভেন‍্যু : ছোট দেওড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
ক্যাম্পেইনের সময় : সকাল ১০ টা
ক্যাম্পেইনের সার্বিক সহযোগিতায় আছে : Beximco Pharma

উক্ত ক্যাম্পেইনে ক্লাবের সকল সদস্য সাদরে আমন্ত্রিত এবং সকলের উপস্থিতি একান্ত কাম্য।

ধন্যবাদন্তে
মেডিসিন ক্লাব, শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ ইউনিট

17/05/2026

নাম : ফাতিমা তুজ্জোহরা
রোল : 38
ব্যাচ : TA-13

স্বপ্ন আমার বুকের অন্ধকারে লুকিয়ে থাকা,
কষ্টের জলে ভেসে ওঠা এক প্রত্যয়ের রেখা।

মানুষ সফলতার গল্প শুনতে ভালোবাসে।
অলীক হলেও সেখানে আলো থাকে, আশ্বাস থাকে।
কিন্তু ব্যর্থতার তিক্ত বাস্তব,
যা বুকের ভেতর নিঃশব্দে রক্তক্ষরণ ঘটায়,
সেটা খুব কম মানুষই শুনতে চায়।
ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন আদৌ ছিল কি না,।
নিজেও জানি না।
কিন্তু ক্লাসে ফার্স্ট হওয়ার সুবাদে একদিন হেড স্যার বলেছিলেন,
“স্কুল থেকে ওর একার নামই দিয়েছি ক্ষুদে ডাক্তার ক্যাম্পে।
সবাই দোয়া করো, একদিন সে সত্যিই ডাক্তার হবে।”
সেই ছোট্ট একটা বাক্য
তীরের মতো তীক্ষ্ণ হয়ে ঢুকে গিয়েছিল অন্তরের অবগাহনে।
আমার ভেতরে স্বপ্নের বীজ বপন করেছিল।
স্যারদের অক্লান্ত চেষ্টা, বিশ্বাস আর যত্নে
সেই বীজ ধীরে ধীরে মহীরুহ হওয়ার স্বপ্ন দেখত।
বায়োলজি তখন থেকে আমার কাছে বিশেষ গুরুত্ব পেতে শুরু করল।
বায়োলজির প্রতিটি সূত্র, প্রতিটি অধ্যায়,,
আমার কাছে শুধু তথ্য ছিল না,
এগুলো ছিল প্রাণের ভাষা,
আত্মবিশ্বাসের নিঃশব্দ স্পন্দন।
শিক্ষকেরা আদর করে ডাকতেন “নক্ষত্র”।
অভাবনীয় সাফল্যে স্কুল–কলেজের গণ্ডি পার করলাম।
ফুল মার্কসের ধারাবাহিকতায়
ফলাফলের পাতায় ঝরে পড়ত সফলতার আলো।
কিন্তু হঠাৎ মেডিকেল রেজাল্ট,
একটি সাদা কাগজ,
বারো বছরের সব অর্জনকে
মুহূর্তে সাহারার মরুভূমির মতো উড়িয়ে দিল।
এতদিনের হাসি, আত্মবিশ্বাস, স্বপ্ন,
সব এক লহমায় ফিকে হয়ে গেল।
দুনিয়াটাকে মনে হচ্ছিল
হেমলকের পেয়ালা ঠোঁটে নিয়ে বেঁচে থাকার মতো।
প্রতিটি মুহূর্তে নিজেকে নিয়ে সংশয়,
নিজের অস্তিত্ব নিয়েই প্রশ্ন।
আমার টানা বারো বছরের টপ ফলাফলের আনন্দ
ধূলিসাৎ করে দিয়েছিল একটিমাত্র রেজাল্ট শিট,
যেটা আমার কাছে মৃত্যুর ফরমানের মতো ভারী ছিল।
তবু সময় থেমে থাকেনি।
বুকে পাথর বেঁধে, দাঁতে দাঁত চেপে
প্রতিটি পরীক্ষায় ঝাঁপিয়ে পড়েছি।
মরণ কামড় দিয়েছি প্রতিটি এক্সামের প্রশ্নে।
নিজেকে কুরবান দেওয়ার মতো কঠিন মুহূর্ত পার করেছি।
সব পরীক্ষায় ভালো করেও
মন থেকে মুছতে পারিনি সেই তীক্ষ্ণ ব্যথা।
জাবি, ডেন্টাল, এগ্রি,
সবখানেই টপ পজিশন।
আলহামদুলিল্লাহ!
শেষে ভর্তি হলাম
Biochemistry & Molecular Biology-তে।
কিন্তু মন আটকে ছিল সেই সাদা এপ্রনের স্বপ্নে।
বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়েছিলাম
শুধু ভর্তি আর কাগজপত্রের জটিলতায়!ক্লাসে,বসে থাকলেও
মন পড়ে ছিল হাসপাতালের করিডোরে।
বুঝে গিয়েছিলাম,
এই আকর্ষণ থেকে আমি পালাতে পারব না।
সাদা এপ্রনের তীব্র নেশা
আমাকে ছেড়ে আসতে বাধ্য করেছিল
ভার্সিটির সব জমকালো আয়োজন।
সেপ্টেম্বরের শেষ থেকে
আবার শুরু করলাম সেকেন্ড টাইমের প্রস্তুতি।
এই সময়টা ছিল
নিজেকে প্রতিদিন একটু একটু করে ক্ষয়ে যাওয়ার গল্প।
প্রতিটি দিন যেত,
আর মনে হতো,
আমি এ যুদ্ধে ক্ষয়ে যাচ্ছি!ব্ল্যাকহলের গহহবরে ক্রমশ ডুবে যাচ্ছি!ন্যানো সেকেন্ড এ মনে হত,
আর লড়তে পারছি না নিজের সাথে!
আমার বইয়ের প্রতিটি পাতা জানে
নিঃশব্দে ঝরে পড়া চোখের জলের শব্দ,
আশা আর হতাশার একাত্ম মেলবন্ধন।
আমার সেকেন্ড টাইমের প্রতিটি দিন আমাকে শিখিয়েছে,
কীভাবে নিঃশব্দে মরতে মরতে
আবার উঠে দাঁড়াতে হয়,
কীভাবে অপমান, ব্যর্থতা, নিজের সঙ্গে যুদ্ধ—
সব একসাথে বয়ে নিয়ে সামনে তাকিয়ে থাকতে হয়।
অবশেষে এল
মেডিকেল এক্সামের প্রতীক্ষিত দিন।
মাথা ব্ল্যাংক নিয়ে এক্সাম হলে ঢুকে,
তীব্র মাথা ঘোরানো নিয়ে
ঢুলতে ঢুলতে বেরিয়ে এসেছিলাম হল থেকে।
এবং,
আমার রব্ব আমাকে আর ফিরাননি খালি হাতে।
এক্সপেকটেশনের চেয়েও বেশি দান করেছেন।
আলহামদুলিল্লাহ।
বাসার কাছে পড়ার সুযোগ
চান্স পাওয়ার আনন্দকে বহুগুণে বাড়িয়ে দিয়েছে।
সবশেষে আমি কৃতজ্ঞ
আমার শিক্ষকদের বিশ্বাসের কাছে,
আম্মু–আব্বুর নিঃশব্দ ত্যাগ ও দোয়ার কাছে,
আর সব শুভাকাঙ্ক্ষীর আন্তরিক প্রার্থনার কাছে।
সবার কাছে একটাই দোয়া চাই
যে গুরদায়িত্বের জন্য
আমার রব আমাকে মনোনীত করেছেন,
আমি যেন সেই দায়িত্ব
সততা, নিষ্ঠা আর মানবিকতা দিয়ে
ভালোভাবে পালন করতে পারি।
ডাক্তার হওয়া শুধু পেশা নয়
এটা মানুষের কষ্টকে
নিজের শক্তিতে রূপ দেওয়ার
সবচেয়ে বড় আমানত।
এই আমানত যেন আমার রব্ব আমাকে
সম্পূর্ণভাবে পালন করার তাওফিক দেন।
আমীন।

শতামেক — তপস্যার মহাকাব্য

শতামেক-
নিছক শিক্ষায়তন নয়,
এ এক শ্বাসরুদ্ধ হেমাটোলজিক আকাঙ্ক্ষার মহাকাব্য,
নিশীথের নিস্তব্ধতায় নিউরোনাল স্মৃতিতে উৎকীর্ণ
অধ্যবসায়ের অনন্ত উপাখ্যান।
প্রবেশাধিকারে অধিষ্ঠিত কেবল তারাই
যাদের হৃদপিণ্ডে স্পন্দিত অবিচল চৈতন্যের কার্ডিয়াক রিদম,
যাদের দৃষ্টিতে দীপ্ত অম্লান ভিশন,
আর শিরায় সঞ্চারিত দুর্দমনীয় অ্যাড্রেনাল সংকল্প,
যারা বহন করে অনিঃশেষ সাধনার সেরিব্রাল অনলশিখা।
এই করিডোর প্রত্যক্ষ করেছে,
অসংখ্য নিঃশব্দ সারভাইভাল স্ট্রাগলের হিস্ট্রি,
চূর্ণ স্বপ্নের মাল্টিপল ফ্র্যাকচার্ড ইল্যুশন,
ক্লান্ত আত্মার নির্মম সাইকোলজিক্যাল রিহ্যাবিলিটেশন,
যার প্রতিটি পালসে উৎকীর্ণ থাকে
অধ্যবসায়ের ক্লিনিক্যাল ছন্দোলিপি।
মাতৃপ্রার্থনা হয়ে ওঠে ইমিউন শিল্ড,
পিতৃনীরব দৃঢ়তা,এক স্টেবল ভেক্টর অফ সাপোর্ট,
আর আত্মরক্তে রঞ্জিত সাধনা
একটি লাইফলং ওথ অফ সারভাইভাল।
এই ত্রয়ী মিলিয়েই জন্ম নেয়
পরম রিকভারি ও চূড়ান্ত ভিক্টরি
শতামেক—
যার প্রতিটি ইটের উপাখ্যান খোদিত অধ্যবসায়ের অনন্ত প্রতিফলন,
যেখানে রক্তঝরা নিঃশ্বাসও হয়ে ওঠে অনলশিখার অবিনাশী প্রতিধ্বনি।
বিনম্র শ্রদ্ধা সেই সাদা অ্যাপ্রনের নিঃশব্দ বীরদের প্রতি
যারা ক্লান্তি, যন্ত্রণার অন্ধকার এবং নিঃশব্দ ছায়ার মধ্যেও রক্ষা করে অনলশিখার দীপ্তি,
যাদের ধৈর্য, নীরব সাহস এবং করুণ স্পর্শ খোদিত হয় ইতিহাসের অমর মহাপটভূমিতে।
শেষ হোক ক্লান্তি ও নিঃশব্দ প্রতিধ্বনি,
আর জন্ম হোক এক অনন্ত বিজয়ের অধ্যায়,
যেখানে শতামেকের অনলশিখা অধ্যবসায় এবং
সাদা অ্যাপ্রনের নিঃশব্দ বীরদের তপস্যা মিলিয়ে
রচিত হয় অপার্থিব, অমোঘ, অলিখিত চিরন্তন জয়ের মহাকাব্য।

15/05/2026

নাম:সুমাইয়া আফরিন
রোল:৪৮
ব্যাচ:TA-13

অ্যাডমিশন জার্নি—একটা phase, যেটা বাইরে থেকে শুধু “preparation” মনে হয়, কিন্তু ভিতর থেকে পুরো একটা alternate universe।
এমন একটা সময়, যেখানে calendar-এর date, clock-এর time, day-night—সবকিছুর meaning ধীরে ধীরে বদলে যায়।
জীবনটা তখন chapters, model tests, marks, ranks আর endless anxiety-তে মাপা শুরু হয়।

পড়লে মনে হতো enough না, আর না পড়লে মনে হতো everything is slipping away.

কিছু রাত ছিল একদম Whiplash Movie এর মতো—
নিজেকেই নিজের biggest enemy মনে হতো।
মনে হতো rest নেওয়া মানেই পিছিয়ে যাওয়া।
একটা chapter শেষ করলেও peace আসত না, বরং নতুন panic শুরু হতো—
“আরও কত বাকি…”
আর pressure?
হ্যাঁ, pressure ছিল terrifyingly real।

তবে আম্মু ছিল পুরো গল্পটার emotional backbone।
তিনি কখনো dramatic motivation speech দেননি।
কিন্তু তার ছোট ছোট actionsগুলো আজ মনে হয় পৃথিবীর সবচেয়ে powerful things ছিল।
রাত ২টায় kitchen-এর light জ্বলে উঠত।
আমি জানতাম—আম্মু coffee বানাচ্ছে।
Exam-এর আগে আমার মাথায় হাত রেখে চুপচাপ দোয়া পড়ত।
কখনো কিছু না জিজ্ঞেস করেও বুঝে ফেলত আমি mentally exhausted
আর honestly?
অনেক সময় মনে হতো আমি নিজের জন্য যতটা fight করছি, তার চেয়ে বেশি fight করছি আম্মুর সেই বিশ্বাসটাকে সত্যি করার জন্য।

Result day-
Result publish হওয়ার আগে হাত কাঁপছিল।
Screen blur লাগছিল।
Roll numberটা type করার সময় মনে হচ্ছিল "This is the end"
তারপর—selected।
এক সেকেন্ডের জন্য পুরো পৃথিবীটা থেমে গিয়েছিল।
সব রাত জাগা, সব breakdown, সব self-doubt, সব silent crying—একসাথে মাথার ভিতরে flash করতে শুরু করল।
আমি জানি না ওই মুহূর্তে আমি বেশি খুশি ছিলাম, নাকি relieved।
কারণ finally মনে হচ্ছিল—
“I did it.
I actually did it.”
আর তারপর আম্মুর reaction।
ওই একটা মুহূর্তের জন্য honestly পুরো journey-টা আবারও repeat করা যায়।

আর doctor হতে চাওয়ার কারণ?
না, এটা সেই “মানুষের সেবা করতে চাই” type answer না।
কারণ মানুষকে help করার হাজারটা profession আছে।

একজন মানুষ তার জীবনের সবচেয়ে vulnerable মুহূর্তগুলোতে একজন doctor-এর সামনে বসে।
যখন তার ভয় থাকে, uncertainty থাকে, —সেই মুহূর্তে একজন doctor শুধু treatment দেয় না, একটা strange kind of reassurance দেয়।
Hospital এমন একটা জায়গা, যেখানে simultaneously fear আর hope একসাথে থাকে।
এক room-এ কেউ শেষবারের মতো কাঁদছে, আর পাশের room-এ কেউ নতুন জীবন শুরু করছে।
আর জানি না কেন, কিন্তু সবসময় মনে হতো আমি ওই chaos-এর অংশ হতে চাই।
আমি এমন একটা profession চেয়েছিলাম, যেখানে মানুষ perfectly fine days-এ না, তাদের worst days-এও আমাকে মনে করবে।

People say মৃত্যুর আগে মানুষ নাকি শেষ ৭ মিনিটে নিজের পুরো জীবনটা আবার দেখে নেয়।
আমার মনে হয়, সেই ৭ মিনিটের কিছু অংশ জুড়ে হয়তো এইসব Experience থাকবে আমার,থাকবে হয়তো আম্মুর মুখের সেই proud smile,আর হয়তো আমার first apron পরা সেই overwhelmed faceটা!

14/05/2026

নাম: মেহেবুবা
রোল:40
ব্যাচ: TA-13

প্রাক্তন: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

গল্পের নাম: ব্যর্থতাই সাফল্যের স্তম্ভ

আমার মেডিকেল কলেজ আমার কাছে সেরা মেডিকেল কলেজ[ শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিকেল কলেজ, গাজীপুর]

আসসালামু আলাইকুম।
​আজ আমি এখানে কোনো প্রতিযোগিতায় জেতার উদ্দেশ্যে নয়, বরং আমার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং কঠিন একটি অধ্যায়ের গল্প বলতে এসেছি। আমাদের প্রত্যেকের জীবনেই এমন কিছু সময় আসে যা আমাদের আমূল বদলে দেয়। আমার জন্য সেই সময়টি ছিল আমার মেডিকেল অ্যাডমিশন জার্নি।

​যেকোনো বড় পরীক্ষার রেজাল্টের দিনে আমরা যে অস্থিরতা আর ভয় অনুভব করি, পরীক্ষার আগের রাতেও আমি তার ব্যতিক্রম ছিলাম না। প্রস্তুতি ভালো থাকা সত্ত্বেও ভাগ্যের ফেরে আমি ৭২.৭৫ পেয়ে একটু পিছিয়ে যাই। তবুও ভাবতাম ডাক্তার আমি হবোই। চারপাশের মানুষ, প্রতিবেশী এবং কিছু আন্টি সমাজ নানাভাবে ভয় দেখাতেন। কেউ বলতেন, "মেডিকেলে অনেক প্রেশার, এখানে এসো না," কেউ বলতেন, "এখানে পড়াশোনা ছাড়া আর কোনো জীবন নেই।" সমাজ আমাকে নানা নেতিবাচক মন্তব্যে দমাতে চেয়েছিল। এটি নিতান্তই ভুল ধারণা কেননা পড়ালেখার চাপ সব জায়গায় আছে কোন জায়গায় চাপ ব্যতীত পড়ালেখা হয় না । আমার লক্ষ্য ছিল অটুট—আমি ডাক্তার হবোই। নিজের এই ছোট্ট লক্ষ্যটুকু যদি পূরণ করতে না পারি, তবে জীবনের বড় লক্ষ্যগুলো ছুঁবো কীভাবে?

​এরই মাঝে মায়ের অনুরোধে অনেকটা অনিচ্ছাসত্ত্বেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিই। পরীক্ষার হলে ঢোকার আগে মাকে বলেছিলাম, "মা, এখানেও হয়তো আমার হবে না।" মা শুধু বলেছিলেন, "দিয়ে এসো আল্লাহ ভরসা।" পরীক্ষা আহামরি হয়নি, কিন্তু আমার বিশ্বাস ছিল—আল্লাহ ধৈর্যশীলদের নিরাশ করেন না। ফলস্বরূপ, আলহামদুলিল্লাহ, আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান ইউনিটে(রসায়ন)ভর্তির সুযোগ পাই।🤍❤️

​এরপর শুরু হলো এক অসম লড়াই। একদিকে ঢাবির পড়াশোনা সামলানো, অন্যদিকে মেডিকেলের আজন্ম লালিত স্বপ্নের দিকে এগিয়ে যাওয়া। আমি প্রায়ই ভাবি, যাদের জীবনে কখনো ব্যর্থতা আসেনি তারা বোধহয় কিছুটা দুর্ভাগা। কারণ ব্যর্থতা না থাকলে জীবনের গল্পটা খুব ছোট হয়ে যায়। জীবনে যত হার থাকবে, জয়ের আনন্দটা তত বেশি বড় হয়ে ধরা দেয়। আমাদের ব্যর্থতাই আমাদের শেখায় যে, আজ পিছিয়ে থাকলেও কাল পাহাড়ের শীর্ষে ওঠা সম্ভব।💚
​আমার এই লড়াইয়ে আমি একা ছিলাম না। আমার চোখের সামনে ভাসে মায়ের সেই মুখটি, যিনি রাত জেগে তাহাজ্জুদ পড়ে চোখের পানিতে জায়নামাজ ভিজিয়েছেন শুধু আমার সাফল্যের জন্য। মনে পড়ে বাবার কথা, যিনি আমার সময় বাঁচাতে নিজের ব্যস্ততার মাঝেও আমার ক্লাসগুলো দেখে রাখতেন, নোট করে গুছিয়ে রাখতেন। এমনকি আমার ছোট ভাই-বোনরাও মা-বাবার মতো শাসন করে আমাকে আগলে রেখেছে।

​সবার এই ত্যাগ আর মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে আমি আজ শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজে পড়ার সুযোগ পেয়েছি। আজ পেছনে ফিরে তাকালে মনে হয়, সেদিন যদি ব্যর্থ না হতাম, তবে হয়তো এমন সুন্দর একটি ক্যাম্পাস, চমৎকার হোস্টেল জীবন আর এমন অসাধারণ শিক্ষকদের সান্নিধ্য পেতাম না। কবি যখন বলেন, "এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি", আমি আমার মেডিকেল কলেজকে দেখে ঠিক তেমনই অনুভব করি।
"এমন মেডিকেল কলেজ টি বাংলাদেশের কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি"❤️💚

​আমার ক্যাম্পাস নিয়ে আমি এতটাই মুগ্ধ যে, ভর্তির দিন আমার ফোনটি চুরি হয়ে যাওয়ার পর আমি ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য দেখে ফোন হারানোর শোক ভুলে যাই—এই প্রাঙ্গণে পা রাখার পর থেকেই আমি বিশ্বাস করি, এই সুন্দর আঙিনা থেকেই আমি আমার কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে পৌঁছাতে পারব, ইনশাআল্লাহ।💙

​সবশেষে এটুকুই বলব, স্বপ্ন দেখতে জানলে আর পাশে পরিবারের ছায়া থাকলে কোনো বাধাই অজেয় নয়।

ধন্যবাদ সবাই কে🧡

14/05/2026

নাম : তালহা আল জুনায়েদ
রোল : ৫০
ব্যাচ : TA-13

ছোটবেলার বেশিরভাগ স্মৃতিই আমার কাছে আবছা হয়ে গেছে, কিন্তু এমন একটা স্মৃতি আছে যেইটা আমার একদম স্পষ্ট মনে আছে আর যেইটা নিয়ে আজকে আমি লিখতে যাচ্ছি।

আমার ছোটবেলার পুরানো বাসার সামনে ছিল একটা বিরাট খেলার মাঠ। বারান্দা দিয়ে তাকালে জায়গাটা সুন্দর মতো দেখা যেত। আমি সেখানে অনেক আগ্রহের সাথে বসে বড় ভাইয়াদের খেলা দেখতাম কারণ তখনো মাঠে গিয়ে খেলার বয়স হয়নি। একদিন আমি দেখতে পাই মাঠের একবারে পিছনের দিকে কোনায় কিছু কুকুর ছানা আছে, একদম নিউবর্ন। সেটা দেখে তো আমি বিরাট খুশি, কি কিউট কুকুর ছানাগুলা। আমি নিয়মিত সেই দিন থেকে কুকুর ছানাদের চোখে চোখে রাখতাম। একটা রুটিনে পরিণত হয়ে গেছিল ব্যাপারটা। কিন্তু কিছুদিন পর আমি লক্ষ করলাম আস্তে আস্তে করে কুকুর ছানাগুলো একে একে মারা যাচ্ছে। আমার প্রথমে ভীষণ মন খারাপ হল কিন্তু তারপর আমি সংকল্প করলাম আমি ডাক্তার হয়ে সব কুকুর ছানাকে সুস্থ করে ফেলব। একজন প্রাপ্তবয়স্ক লোকের কাছে কথাটা হাস্যকর মনে হলেও ছোটবেলার সেই আমিই এইটাতে মনে প্রাণে বিশ্বাস করেছিলাম। দূর্ভাগ্যবসত সব কুকুর ছানাই শেষ পর্যন্ত মারা যায়।

যখন আরও বড় হলাম, বুঝতে শিখলাম তখন থেকেই মনে পড়ে আব্বু-আম্মু সবসময় বলতেন বড় হয়ে তুই একদিন ডাক্তার হবি। তখনো অবশ্য বুঝতাম না ডাক্তার পেশাটা আসলে কেমন আর কেনই বা আমাকে ডাক্তার হতে হবে। কিন্তু তাদের চাওয়ার পিছনে কিছু কারণ ছিল যা তখন বুঝতাম না।

আমার বাবা যেকোন মানদণ্ডে একজন খুবই সফল, সৎ ও যোগ্য ব্যক্তি। বাবা একজন কৃষকের সন্তান হয়েও জীবনে যত দূর পর্যন্ত এসেছেন বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে তা হাতে গোনা কয়েকজন করতে পেরেছে, আমার বাবা তাদের মধ্যে একজন। দাদার স্বপ্ন ছিল বাবাকে ডাক্তার বানাবেন। সেই জন্য বাবার পড়াশোনার ব্যাপারে দাদা কোন কমতি রাখেন নাই। তখনকার সময়ে আমাদের মতো জিপিএ সিস্টেম ছিল না, বরং সবার রেজাল্টকে তিন ভাগে ভাগ করা হত- ফার্স্ট ক্লাস, সেকেন্ড ক্লাস আর থার্ড ক্লাস। থার্ড ক্লাস শব্দটা এখনো ব্যবহার করা হয় খুবই খারাপ কিছু বোঝাতে। মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় বসতে তখন ফার্স্ট ক্লাস পাওয়া লাগত। ভালো পড়াশোনার জন্য দাদা বাবাকে শহরেও পাঠিয়েছিলেন কিন্তু রেজাল্টে বাবা সেকেন্ড ক্লাস পেয়ে যান, আর দাদার স্বপ্ন সেখানেই শেষ হয়ে যায়। পরে অবশ্য বাবা ঘুরে দাড়ান এবং বিআরআরআই এর প্রিন্সিপাল সাইনটিস্ট হিসেবে এখন কর্মরত আছেন। তবুও দাদাকে আশাহত করার কষ্ট তিনি কোনদিন ভুলতে পারেননি। তাই, উনার মাঝে একটা সুপ্ত ইচ্ছা ছিল, যেই স্বপ্ন আমি পূরণ করতে পারিনি, সেইটা একদিন আমার সন্তানরা পূরণ করবে।

আমার বড় ভাইয়ের জন্মের পরপরই তিনি অনেক অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন এবং উনাকে নিয়ে বাবা-মাকে ডাক্তারের কাছে অনেক ছোটাছুটি করতে হয়েছিল। এমন কঠিন মুহূর্তে ডাক্তারদের ভূমিকা আম্মুর মনে একটা তীব্র ইচ্ছার জন্ম দেয় যে আমার সন্তানরাও এভাবে একদিন রোগীদের চিকিৎসা করে তাদের সুস্থ করে তুলবে।

বাবা-মা মন থেকে দোয়া করলে আল্লাহ নাকি সেই দোয়া ফেরান না আর এক্ষেত্রেও তার কোন ব্যতিক্রম ঘটেনি।

বড় ভাই এখন ঢাকা মেডিকেল কলেজের ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী। লক্ষাধিক শিক্ষার্থীর মাঝে শ্রেষ্ঠ মেধাবীরা তাদের মেধার স্বাক্ষর রেখে ঢামেকে ভর্তি হয় এইটা তো নতুন করে বলার কিছু নেই। আমার বড় ভাই তাদের মধ্যে একজন এবং এটা নিয়ে আমি গর্ববোধ করি।

আমি অবশ্য আমার ভাইয়ের মতো মেধাবী, বাবার মতো পরিশ্রমী বা মায়ের মতো একনিষ্ঠ কোনটাই নই। তবুও আল্লাহ আমার মনের চাওয়া পূর্ণ করেছেন। শতামেক এর মতো সুন্দর একটা মেডিকেল কলেজে অধ্যয়ন করার সুযোগ দিয়েছেন। এজন্য আমি নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করি।

আজ, ১৩ মে, ২০২৬ মেডিসিন ক্লাব, শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ ইউনিটের উদ্যোগে একটি প্রি ক্লিনিক্যাল ক্লাসের আয়োজন করা...
13/05/2026

আজ, ১৩ মে, ২০২৬ মেডিসিন ক্লাব, শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ ইউনিটের উদ্যোগে একটি প্রি ক্লিনিক্যাল ক্লাসের আয়োজন করা হয়। উক্ত আয়োজনের মাধ্যমে নবাগত TA-13 ব্যাচের শিক্ষার্থীগণ প্রথমবারের মতো ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণে ক্লাব কর্মসূচীর সাথে পরিচিত হন। উক্ত আয়োজনে শিক্ষার্থীদের ব্লাড গ্রুপিং সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয় এবং হাতে কলমে ব্লাড গ্রুপিং শেখানো হয়।

TA-13 ব্যাচের শিক্ষার্থীদের এমন স্বতস্ফূর্ত অংশগ্রহণে মেডিসিন ক্লাব আনন্দিত।

Address

Gazipur

Opening Hours

Monday 09:00 - 17:00
Tuesday 09:00 - 17:00
Wednesday 09:00 - 17:00
Thursday 09:00 - 17:00
Saturday 08:00 - 22:00
Sunday 09:00 - 17:00

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when মেডিসিন ক্লাব, শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ ইউনিট posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Organization

Send a message to মেডিসিন ক্লাব, শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ ইউনিট:

Share