Amlagachhi BM High School Alumni Network

Website Contact the organization

Amlagachhi BM High School Alumni Network এক স্কুল, এক পরিবার — আমলাগাছী বিএম উচ্চ বিদ্যালয়।

আসসালামু আলাইকুম।শিক্ষাবৃত্তি ২০২৬ঢাকার ৬টি স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত গাইবান্ধা জেলার ২০২৪–২০২৫ ও ২০২৫–২০২৬ শিক...
19/09/2026

আসসালামু আলাইকুম।

শিক্ষাবৃত্তি ২০২৬

ঢাকার ৬টি স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত গাইবান্ধা জেলার ২০২৪–২০২৫ ও ২০২৫–২০২৬ শিক্ষাবর্ষের ৫০০ জন শিক্ষার্থীকে শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করতে যাচ্ছে গাইবান্ধা জেলা ছাত্রকল্যাণ সমিতি,ঢাকা।

শিক্ষার অগ্রযাত্রায় গাইবান্ধার শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে একটি প্রশংসনীয় পদক্ষেপ।

তিতুমীর ক্যাম্পাস থেকে যারা শিক্ষাবৃত্তির জন্য আবেদন করেছেন, তাদের সবাইকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।

সবার জন্য রইল শুভকামনা।
সাফল্যের পথে এগিয়ে যাক গাইবান্ধার প্রতিটি শিক্ষার্থী।

মোঃ সোহেল মিয়া
যুগ্ম সদস্য সচিব
গাইবান্ধা জেলা ছাত্রকল্যাণ সমিতি, ঢাকা

Amlagachhi BM High SchoolSSC Result 2026 | Batch-26আলহামদুলিল্লাহ, আমাদের প্রিয় Amlagachhi BM High School-এর SSC Result ...
10/08/2026

Amlagachhi BM High School
SSC Result 2026 | Batch-26

আলহামদুলিল্লাহ, আমাদের প্রিয় Amlagachhi BM High School-এর SSC Result 2026 প্রকাশিত হয়েছে।

🌟 Result at a Glance
🎓 পরীক্ষার্থী: 112 জন
✅ উত্তীর্ণ: 71 জন
❌ অনুত্তীর্ণ: 41 জন
🏆 GPA 5.00: 10 জন
〽️ Pass Rate: 63.39%

তোমাদের পরিশ্রমের এই অর্জন তোমাদের পরিবার, শিক্ষক এবং আমাদের প্রিয় বিদ্যালয়ের জন্যও আনন্দের। এই সাফল্যকে সামনে এগিয়ে যাওয়ার শক্তি হিসেবে কাজে লাগাও। সামনে আরও বড় পথ, আরও বড় স্বপ্ন।

আর যারা এবার প্রত্যাশিত ফলাফল অর্জন করতে পারোনি তোমাদের জন্যও আমাদের শুভকামনা রইল।
একটি পরীক্ষার ফলাফল তোমার যোগ্যতা বা ভবিষ্যৎকে সংজ্ঞায়িত করে না। কোথায় ভুল হয়েছে, তা বুঝে আবার শুরু করো। আজকের একটি setback যেন আগামী দিনের success-এর পথে থামিয়ে না দেয়।

শেষ পর্যন্ত, সাফল্য শুধু GPA-তে নয়; সাফল্য হলো প্রতিদিন নিজেকে একটু একটু করে এগিয়ে নেওয়া।
Batch-26-এর প্রত্যেক শিক্ষার্থীর আগামী দিনগুলো হোক আরও সুন্দর, আত্মবিশ্বাসী ও সম্ভাবনাময়। 💙

Congratulations & Best Wishes to You All.
Amlagachhi BM High School Alumni Network

"We are ranked  #1 on Google & Facebook"🔎Search: Amlagachhi BM High School Alumni Network
02/07/2026

"We are ranked #1 on Google & Facebook"
🔎Search: Amlagachhi BM High School Alumni Network

প্রিয় আমলাগাছি বিএম উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীবৃন্দ,অনেকদিন ধরেই একটি স্বপ্ন ছিল আমাদের স্কুলের সব প্রাক্তন শিক...
26/06/2026

প্রিয় আমলাগাছি বিএম উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীবৃন্দ,

অনেকদিন ধরেই একটি স্বপ্ন ছিল আমাদের স্কুলের সব প্রাক্তন শিক্ষার্থীকে একটি প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করা, যাতে একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ আরও সহজ ও শক্তিশালী হয়।

সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে আমলাগাছি বিএম উচ্চ বিদ্যালয়ের ব্যাচ-২১ এর শিক্ষার্থী Muhammad Musa, বর্তমানে ফিন্যান্স বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, তৈরি করেছেন Amlagachhi BM High School Alumni Network এর Alumni Database.

🌐 ওয়েবসাইট:
https://abmhs.github.io/Alumni-Database/

এটি আমাদের Amlagachhi BM High School Alumni Network -এর একটি ডাটাবেজ। এখানে সকল ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের তথ্য সংরক্ষণ করা হবে, যাতে খুব সহজেই জানা যায় কে কোথায় আছেন, কী করছেন এবং প্রয়োজনীয় যোগাযোগের তথ্য। এমনকি ব্লাড গ্রুপ এর গুরুত্বপূর্ণ তথ্যও এক ক্লিকেই পাওয়া যাবে।

আপনি যদি আমলাগাছি বিএম উচ্চ বিদ্যালয়ের একজন প্রাক্তন শিক্ষার্থী হয়ে থাকেন, তাহলে অনুরোধ রইল— ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে "Add Yourself" অপশনে ক্লিক করুন এবং আপনার তথ্য যুক্ত করুন। আর আপনিও যুক্ত হয়ে যান এই এলামনাই ডাটাবেজে।

আপনার একটি ছোট্ট অংশগ্রহণই আমাদের এলামনাই নেটওয়ার্ককে আরও সমৃদ্ধ, কার্যকর ও শক্তিশালী করে তুলবে।
আসুন, আমাদের স্কুলের সকল প্রাক্তন শিক্ষার্থীকে একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্কে যুক্ত করি। ❤️

26/06/2026

Muhammad Musa আপনাদের জন্য দারুন একটি ফিচার নিয়ে আসছে।

শিবলী সাদিক (সরাসরি ইনবক্স থেকে নেওয়া)"ইন্নাল্লাহা মা'আস-সাবিরীন"নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন।— সূরা আল-বাকারা :...
23/06/2026

শিবলী সাদিক (সরাসরি ইনবক্স থেকে নেওয়া)

"ইন্নাল্লাহা মা'আস-সাবিরীন"
নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন।
— সূরা আল-বাকারা : ১৫৩

অনেকেই আমাকে জিজ্ঞেস করেন, "আপনি কি নিজেকে সফল মানুষ মনে করেন?"
আমি তখন চুপ করে থাকি! কারণ সত্যি বলতে, সফলতা কাকে বলে আমি আজও পুরোপুরি বুঝে উঠতে পারিনি।
তবে আমার জীবনের গল্পটা বলতে পারি...

মালিয়ান দহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বারান্দাটা আজও হয়তো আমাকে মনে রেখেছে। ছোট্ট সেই ছেলেটা, যে প্রতিবার পরীক্ষায় প্রথম হতো, তার নাম ছিল শিবলী সাদিক।

খাতায় যখন স্যার ৮০, ৯০ কিংবা ১০০ নম্বর লিখতেন, দূরে দাঁড়িয়ে আমার মা আঁচল দিয়ে চোখ মুছতেন। সেই চোখের পানিতে ছিল গর্ব, ভালোবাসা আর হাজারো দোয়া।

২০০০ সালে ভর্তি হলাম আমলাগাছী বিএম উচ্চ বিদ্যালয়ে। চারপাশে মেধাবী ছাত্রদের প্রচণ্ড প্রতিযোগিতা। তাদের মাঝেও আল্লাহর রহমতে ফার্স্ট ডিভিশনে পাশ করলাম।

সার্টিফিকেটটা বাবার হাতে তুলে দিতেই তিনি কাঁপা গলায় বললেন,
"বাপ, তুই আমাদের মুখ উজ্জ্বল করলি।"
কিন্তু আমি জানতাম, আমার জীবনের গল্পটা এখানেই অন্যদিকে মোড় নিতে যাচ্ছে। কারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তানরা খুব দ্রুত একটা কঠিন সত্য বুঝে যায়-
স্বপ্নের দাম অনেক, কিন্তু বাস্তবতার দাম আরও বেশি।

কলেজ শেষ হওয়ার পর একদিন বাবা-মায়ের সামনে দাঁড়ালাম।
গলা কাঁপছিল, কিন্তু সিদ্ধান্ত ছিল দৃঢ়।
আমি বললাম, "আমি আর পড়াশোনা করব না।"
মা কেঁদে ফেললেন। খবর পেয়ে জ্যাঠা, চাচা, গ্রামের মুরুব্বিরা সবাই চলে এলেন। বড় আব্বা শুধু একটা প্রশ্ন করলেন,
"পড়বি না কেন, বাপ?"

আমি সাতটি কারণ বলেছিলাম—
🔰 বাবা ১৯৭২ সালে কলেজ পাশ করেও বেকার।
🔰 মা আমাদের মানুষ করতে নিজের জীবনটাই বিলিয়ে দিয়েছেন।
🔰 বোনের বিয়ে দিতে হবে, যৌতুকের জন্য জমি বিক্রি করতে হবে।
🔰 আমি পড়লে বাবাকে আরও জমি বিক্রি করতে হবে।
🔰 দেশে লেখাপড়া শেষ করেও চাকরির নিশ্চয়তা নেই।
🔰 না পারব শহরে ছোট কাজ করতে, না পারব গ্রামে কৃষিকাজে ফিরতে।
🔰 তাই সিদ্ধান্ত নিলাম—এখনই ঢাকায় গিয়ে কাজ করব।
সব শুনে বড় আব্বা শুধু বললেন, "ছেলের সিদ্ধান্ত খারাপ না।" তারপর উঠে চলে গেলেন।

সেদিন বুঝেছিলাম—
মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে হওয়া মানে অনেক সময় নিজের কলম ভেঙে পরিবারের জন্য কাস্তে হাতে তুলে নেওয়া। আমিও তাই করেছিলাম।

গ্রামের মাটি পায়ে মেখে, চোখের পানি লুকিয়ে ঢাকার পথে রওনা দিলাম। পকেট প্রায় শূন্য। কিন্তু বুকভরা সাহস। ২০০৫ সাল থেকে শুরু হলো আমার জীবনযুদ্ধ।
তেজগাঁও নাখালপাড়ার একটি পেপসি কোম্পানিতে চার মাস চাকরি করলাম। এরপর পুরান ঢাকার একটি বই প্রকাশনীতে দুই বছর চার মাস কাজ করলাম। একদিন বস বললেন, "টাকা থাকলে বই ছাপাও, না থাকলে গার্মেন্টসে যাও।"

আমি গার্মেন্টসে চলে গেলাম। টেক্সটাইল ডাইং বিভাগে সাত মাস, এরপর কাটিং সেকশনে তিন বছর পাঁচ মাস, পরে আবার ডাইং বিভাগে নতুন দায়িত্ব। সেই সময় প্রাইমারি শিক্ষকদের বেতন ছিল প্রায় পাঁচ হাজার টাকা। আমার মাসিক আয় ছিল তিন হাজার আটশ থেকে চার হাজার টাকার মতো।

তবুও কখনো লজ্জা লাগেনি। কারণ সেই ঘামের টাকায়—
বোনের বই কেনা হতো,
বাবার জমি রক্ষা পেত,
মায়ের মুখে হাসি ফুটত।
আমি সফলতা বলতে ত্যাগকেই বুঝি।

আল্লাহ সাক্ষী, আমার উপার্জনের টাকা দিয়ে আমি যা করতে পেরেছি—
বাবাকে জমি বিক্রি করতে দিইনি।
মাকে সেলাই আর টিউশনির কষ্ট থেকে মুক্ত করেছি।
বড় বোনের বিয়ে নিজের টাকায় দিয়েছি।
ছোট বোনকে ফিজিক্সে অনার্স পড়িয়ে সরকারি চাকরিতে প্রতিষ্ঠিত হতে সাহায্য করেছি।

গ্রামের চাচারা বলতেন, "আমাদের গ্রামের সবচেয়ে সফল ছেলে শিবলী।" কিন্তু আমি কখনো নিজেকে সফল ভাবিনি। আমি শুধু দেখেছি—
বোনের হাসি,
মায়ের চোখের শুকিয়ে যাওয়া অশ্রু,
বাবার সম্মান বেঁচে যাওয়া।
আমার কাছে এটাই ছিল সফলতা।

তারপর এলো অমাবস্যার পরীক্ষা, বিয়ের পর জীবন বদলে গেল। একটি সন্তান নিয়ে আমি আমার সব বিশ্বাস, সব ভালোবাসা, সব সঞ্চয় পরিবারের হাতে তুলে দিয়েছিলাম।
তারপর একদিন দেখলাম—
যাদের আপন ভেবেছিলাম, তারা পর হয়ে গেছে।
যাদের ভাই ভেবেছিলাম, তারা শত্রুর মতো আচরণ করছে।
আমার জীবনে নেমে এলো অমাবস্যার কালো অন্ধকার।

ঠিক তখনই আমি মনে করলাম নবীদের জীবনের কথা।
মনে পড়ল আইয়ুব (আ.)-এর ধৈর্যের কথা।
মনে পড়ল ইব্রাহিম (আ.)-এর তাওয়াক্কুলের কথা।
মনে পড়ল সেই আয়াত—
"হাসবুনাল্লাহু ওয়া নি'মাল ওয়াকীল"
আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট, তিনিই উত্তম কর্মবিধায়ক।
— সূরা আলে ইমরান : ১৭৩

আরও মনে পড়ল—
"নিশ্চয়ই আমি তোমাদের পরীক্ষা করব ভয়, ক্ষুধা এবং ধন-সম্পদের ক্ষতি দ্বারা; আর ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ দাও।"
— সূরা আল-বাকারা : ১৫৫

আমি সিজদায় পড়ে গেলাম! কাঁদলাম।
তারপর নিজেকে আল্লাহর কাছে সঁপে দিলাম।

জীবনের মাঝপথে আবার ঢাকায় ফিরলাম।
এবার নিজের জন্য নয়, আমার ছেলেটাকে মানুষ করার জন্য। এটাও এক যুদ্ধ, কবে শেষ হবে জানি না আল্লাহই ভালো জানেন। তবে জীবন আমাকে একটা জিনিস শিখিয়েছে—
যে পরিস্থিতিই আসুক; ধৈর্য ধরতে হবে, হতাশ হওয়া যাবে না, আর সবসময় শুকরিয়া আদায় করতে হবে।

কারণ আমার রব বলেছেন—
"নিশ্চয়ই কষ্টের সাথেই স্বস্তি আছে।"
— সূরা ইনশিরাহ : ৬

আমি জানি না সফলতা কাকে বলে। আমার স্বপ্ন ছিল—
বোনদের প্রতিষ্ঠিত করা,
বাবার সম্মান বাঁচানো,
মায়ের চোখের পানি মুছে দেওয়া।
আল্লাহ আমার সেই স্বপ্নগুলো কবুল করেছেন।

আজও পরীক্ষা চলছে। আমি তা মেনে নিয়েছি। কারণ কুরআন বুঝে পড়লে একটা সত্য স্পষ্ট হয়—
সুখ-শান্তি টাকায় পাওয়া যায় না।
সুখ-শান্তি পাওয়া যায় সিজদায়।

আজও আমার চোখে ভেসে ওঠে—
সূরা আল-আনফাল : ৩০
সূরা আলে ইমরান : ৫৪
কারণ মানুষ পরিকল্পনা করে, কিন্তু শেষ পরিকল্পনাটা আল্লাহই করেন।

আমি আজও বেঁচে আছি।
যতদিন হায়াত আছে, ততদিন লড়ব, ধৈর্য ধরব, শুকরিয়া আদায় করব আর প্রতিদিন দোয়া করব—
"রব্বি হাবলী মিনাস সালিহীন"
হে আমার রব, আমাকে নেক সন্তান দান করুন।
— সূরা আস-সাফফাত : ১০০

হে আল্লাহ, আমাকে সেই ধৈর্যশীলদের দলে রাখুন, যাদের সম্পর্কে তুমি বলেছ—
"ইন্নাল্লাহা মা'আস-সাবিরীন"
নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন।
— সূরা আল-বাকারা : ১৫৩

আমার চোখের পানি তোমার আমানত, হে রব।
তুমি ছাড়া কেউ তা মুছে দিতে পারবে না।
তুমি ছাড়া কেউ আমার গল্প পুরোটা বুঝবে না।
আল্লাহ, তুমি কবুল করো। আমিন।

অভিনন্দন ও গভীর শ্রদ্ধা, Shibli Sadik ভাই।
Amlagachhi BM High School Alumni Network -এর পক্ষ থেকে আপনার জীবনসংগ্রাম, দায়িত্ববোধ, ত্যাগ, ধৈর্য এবং পরিবারের প্রতি নিঃস্বার্থ ভালোবাসাকে জানাই আন্তরিক সম্মান ও শুভেচ্ছা।

কুঁড়ে ঘর থেকে শুরু হওয়া এই পথচলা এখনো শেষ হয়নি। লড়াই চলছে, পরীক্ষা চলছে, কিন্তু ধৈর্য, বিশ্বাস এবং আত্মত্যাগের প্রদীপ এখনো সমানভাবে জ্বলছে।

এই গল্প শুধু শিবলী সাদিকের ব্যক্তিগত গল্প নয়; এটি হাজারো মধ্যবিত্ত সন্তানের প্রতিচ্ছবি, যারা নিজের স্বপ্নকে কিছুটা পিছিয়ে রেখে পরিবারের স্বপ্ন, সম্মান এবং ভবিষ্যৎকে এগিয়ে নিয়ে যায়।

আপনার এই সংগ্রামী পথচলা আমাদের শিখিয়ে দেয়—সফলতা শুধু ব্যক্তিগত অর্জনের নাম নয়, কখনো কখনো প্রিয় মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর নামও সফলতা।

আপনার এই অসাধারণ ত্যাগ ও অধ্যবসায়কে জানাই বিনম্র সালাম। আপনার গল্প আমাদের কমিউনিটির জন্য আজ অনুপ্রেরণা, আগামী প্রজন্মের জন্য প্রেরণা। ❤

Alhamdulillah! 200 Followers❤️ধন্যবাদ সবাইকে, আপনাদের ভালোবাসা ও Support-এর জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা।আমাদের সঙ্গে থাকুন, জে...
23/06/2026

Alhamdulillah! 200 Followers❤️

ধন্যবাদ সবাইকে, আপনাদের ভালোবাসা ও Support-এর জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা।

আমাদের সঙ্গে থাকুন, জেনে নিন নতুন নতুন তথ্য, আপডেট এবং প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো সবার আগে।

Amlagachhi BM High School Alumni Network

Follow | Connect | Explore

মোঃ এমরান সরকারআমলাগাছি বিএম উচ্চ বিদ্যালয়ের ব্যাচ-১৫ এর একজন গর্বিত শিক্ষার্থী। ছোটবেলা থেকেই তিনি ছিলেন অত্যন্ত শান্ত,...
22/06/2026

মোঃ এমরান সরকার

আমলাগাছি বিএম উচ্চ বিদ্যালয়ের ব্যাচ-১৫ এর একজন গর্বিত শিক্ষার্থী। ছোটবেলা থেকেই তিনি ছিলেন অত্যন্ত শান্ত, ভদ্র এবং বিনয়ী স্বভাবের একজন মানুষ। এলাকার মানুষ তাকে ভালোবাসতেন তার সরলতা, ভদ্রতা এবং নম্র ব্যবহারের জন্য। তিনি খুব বেশি কথা বলতেন না, কিন্তু নিজের কাজ, দায়িত্ব আর লক্ষ্য নিয়ে ছিলেন ভীষণ সচেতন।

ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনার সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল গভীর। অনেকের কাছে পড়াশোনা ছিল দায়িত্ব, কিন্তু এমরানের কাছে এটি ছিল ভালোবাসা। তিনি কখনোই নিজের শিক্ষাজীবনের সঙ্গে আপোষ করেননি। বন্ধুদের আড্ডা, বিনোদন কিংবা সাময়িক আনন্দের চেয়ে নিজের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলাকেই তিনি বেশি গুরুত্ব দিতেন। কারণ তিনি জানতেন, স্বপ্ন পূরণ করতে হলে আজকের ত্যাগই একদিন আগামী দিনের সাফল্য হয়ে ফিরে আসবে।

মাধ্যমিকের গণ্ডি পেরিয়ে তিনি ভর্তি হন আহম্মেদ উদ্দিন শাহ শিশু নিকেতন স্কুল অ্যান্ড কলেজে। জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু হয় সেখানে। উচ্চ মাধ্যমিক জীবন অনেকের কাছেই একটু মুক্তির সময়; নতুন বন্ধু, নতুন পরিবেশ, আনন্দ আর অসংখ্য স্মৃতি তৈরির সময়। কিন্তু এমরানের জীবনটা ছিল একটু ভিন্ন।
তিনি আনন্দ করতে জানতেন, বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটাতেনও। তবে তার জীবনের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল একটি বিষয় নিজেকে প্রতিদিন আরও একটু ভালোভাবে গড়ে তোলা। তিনি বিশ্বাস করতেন, জীবনে বড় কিছু অর্জন করতে হলে নিজেকে সাধারণ চিন্তার বাইরে নিয়ে যেতে হয়। তাই উচ্চ মাধ্যমিকের পুরো সময়টাতেই তিনি নিজের স্বপ্নকে আগলে রেখেছিলেন নীরবে।

এই সময়টা তার জন্য সহজ ছিল না। চারপাশে হাজারো মেধাবী শিক্ষার্থী, সীমাহীন প্রতিযোগিতা, নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা, সফল হওয়ার প্রবল চাপ সবকিছু মিলিয়ে এটি ছিল মানসিকভাবে অত্যন্ত কঠিন একটি সময়। কিন্তু এই কঠিন সময়ে তিনি হাল আরও শক্ত করে ধরেছিলেন।
তার একটি স্বপ্ন ছিল দেশের স্বনামধন্য কোন এক প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার। সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে তিনি নিজের সর্বোচ্চটুকু দিয়ে প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন। দিনের পর দিন, রাতের পর রাত তিনি নিজেকে প্রস্তুত করেছেন। কখনও ক্লান্তি এসেছে, কখনও ভয় কাজ করেছে, কখনও হয়তো মনে হয়েছে পথটা অনেক দীর্ঘ। কিন্তু প্রতিবারই তিনি নিজেকে নিজেই সাহস দিয়েছেন।

অবশেষে আসে সেই বহু প্রতীক্ষিত সময়। তার পরিশ্রম, ধৈর্য আর আত্মবিশ্বাসের প্রতিদান তিনি পেয়ে যান। তিনি সুযোগ পান দেশের অন্যতম স্বনামধন্য খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (KUET)-এ। সেখানে তিনি ভর্তি হন ম্যাটেরিয়ালস সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (MSE) বিভাগে।
স্বপ্নের ক্যাম্পাসে পা রাখার মুহূর্তটি ছিল আনন্দের, কিন্তু সেই আনন্দের আড়ালে শুরু হয়েছিল আরেকটি নতুন সংগ্রাম।

বিশ্ববিদ্যালয় জীবন বাইরে থেকে যতটা রঙিন দেখায়, ভেতরটা সবসময় ততটা সহজ হয় না। নতুন পরিবেশ, নতুন মানুষ, নতুন শহর, কঠিন একাডেমিক চাপ, অসংখ্য অ্যাসাইনমেন্ট, পরীক্ষা এবং নিজের অবস্থান ধরে রাখার লড়াই সবকিছু মিলিয়ে প্রতিটি দিনই ছিল নতুন এক চ্যালেঞ্জ।
কিন্তু এমরান কখনো পিছিয়ে যাননি।
তিনি ধীরে ধীরে নিজেকে আরও পরিণত করেছেন, আরও শৃঙ্খলাবদ্ধ করেছেন। প্রতিটি কঠিন সময়কে তিনি নিজের শেখার সুযোগ হিসেবে নিয়েছেন। অসংখ্য ত্যাগ, নির্ঘুম রাত আর অবিরাম পরিশ্রমের মধ্য দিয়ে তিনি সফলতার সঙ্গে সম্পন্ন করেন ম্যাটেরিয়ালস সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বিএসসি ডিগ্রি।

তবে এই বিশ্ববিদ্যালয় জীবন তাকে শুধু একজন প্রকৌশলী হওয়ার শিক্ষা দেয়নি; বরং তার হৃদয়ে জন্ম দিয়েছিল আরও বড় একটি স্বপ্ন। দিন যত এগোতে থাকে, ততই তিনি উপলব্ধি করতে শুরু করেন যে, তার সবচেয়ে বড় ভালোবাসা শুধু নিজে শেখার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং নিজের অর্জিত জ্ঞান অন্যদের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার মধ্যেই তিনি খুঁজে পান গভীর এক আত্মতৃপ্তি।

ধীরে ধীরে তিনি নিজেকে কল্পনা করতে শুরু করেন শ্রেণিকক্ষের সামনে একজন শিক্ষক হিসেবে। এমন একজন শিক্ষক, যিনি শুধু পাঠদান করবেন না; শিক্ষার্থীদের বন্ধু হবেন, তাদের কথা শুনবেন, তাদের পাশে দাঁড়াবেন এবং তাদের বড় স্বপ্ন দেখতে সাহস জোগাবেন। একসময় এই স্বপ্নই তার জীবনের নতুন দিকনির্দেশনা হয়ে ওঠে।
কিন্তু স্বপ্নকে হৃদয়ে ধারণ করা যতটা সহজ, তাকে বাস্তবে রূপ দেওয়া ঠিক ততটাই কঠিন। সামনে তখনও অপেক্ষা করছিল দীর্ঘ প্রস্তুতি, অনিশ্চয়তা, অসংখ্য ত্যাগ এবং নিজের সঙ্গে আরও অনেক বড় এক সংগ্রাম।

একজন শিক্ষক হওয়ার স্বপ্নের পেছনেও ছিল দীর্ঘ প্রস্তুতি, কঠোর পরিশ্রম এবং অসংখ্য আত্মত্যাগ। তিনি সিদ্ধান্ত নেন, নিজেকে আরও সমৃদ্ধ করবেন, আরও গভীরভাবে জ্ঞান অর্জন করবেন। সেই লক্ষ্যেই তিনি ভর্তি হন দেশের সর্বোচ্চ প্রকৌশল বিদ্যাপীঠ বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (BUET)-এ এবং সম্পন্ন করেন ম্যাটেরিয়ালস সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে এমএসসি।
এই যাত্রাপথে ছিল না কোনো মসৃণ রাস্তা। জীবনের অনেক পরিকল্পনা বদলেছে, অনেক অনিশ্চয়তা সামনে এসেছে, অনেক সময় নিজেকে নতুন করে গুছিয়ে নিতে হয়েছে। কখনও মানসিক চাপ, কখনও ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা, কখনও দীর্ঘ অপেক্ষা—সবকিছুর মধ্য দিয়েই তাকে এগিয়ে যেতে হয়েছে। কিন্তু তিনি থেমে যাননি। কারণ তিনি জানতেন, স্বপ্নের মূল্য দিতে হয়।

শিক্ষাজীবন শেষে এমরানের কর্মজীবনের পথচলা শুরু হয় International Centre for Diarrhoeal Disease Research, Bangladesh (ICDDR,B)-এ রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে যোগদানের মাধ্যমে। এটি ছিল তার জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। তবুও তার হৃদয়ের ভেতরে একটি স্বপ্ন প্রতিনিয়ত নাড়া দিত।

তিনি তো শিক্ষক হতে চেয়েছিলেন!
তিনি এমন একটি শ্রেণিকক্ষে দাঁড়াতে চেয়েছিলেন, যেখানে তিনি নতুন প্রজন্মকে স্বপ্ন দেখাতে পারবেন। তিনি এমন একজন শিক্ষক হতে চেয়েছিলেন, যাকে দেখে একজন শিক্ষার্থী সাহস পাবে, অনুপ্রেরণা পাবে। তাই চাকরি করার পাশাপাশি তিনি নিজের প্রস্তুতি, নিজের স্বপ্ন এবং নিজের লক্ষ্যকে কখনোই ছেড়ে দেননি। তিনি ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করেছেন, নিজেকে প্রতিনিয়ত প্রস্তুত করেছেন এবং বিশ্বাস রেখেছেন একদিন তার সময় আসবেই।
অবশেষে সেই প্রতীক্ষার অবসান হয়।

ডিসেম্বর ২০২৪
বহু বছরের পরিশ্রম, অগণিত ত্যাগ, অদম্য অধ্যবসায় এবং নিজের প্রতি অটুট বিশ্বাসের প্রতিদান হিসেবে তার দরজায় কড়া নাড়ে বহুদিনের লালিত স্বপ্ন।
তিনি যোগদান করেন খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (KUET) ম্যাটেরিয়ালস সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে প্রভাষক (Lecturer) হিসেবে।

যে বিশ্ববিদ্যালয়ে একদিন তিনি স্বপ্ন নিয়ে একজন শিক্ষার্থী হিসেবে প্রবেশ করেছিলেন, ঠিক সেই বিশ্ববিদ্যালয়েই একদিন তিনি শিক্ষক হিসেবে ফিরে আসেন।

এটি কিন্তু শুধুমাত্র একটি চাকরি পাওয়ার গল্প নয়।
এটি একটি শান্ত, বিনয়ী ছেলের গল্প যে কখনো নিজের স্বপ্নের সঙ্গে আপোষ করেনি। এটি দীর্ঘ অপেক্ষা, নিরব সংগ্রাম, আত্মবিশ্বাস এবং পরিশ্রমের গল্প। এটি প্রমাণ করে, স্বপ্ন যত বড়ই হোক না কেন, যদি তার জন্য নিরলসভাবে কাজ করা যায়, তবে একদিন না একদিন সেই স্বপ্ন বাস্তবের দরজায় এসে কড়া নাড়বেই; আর নিয়ে যাবে স্বপ্নের শিখরে।

অভিনন্দন, Amran Sarker ভাই। ❤️
Amlagachhi BM High School Alumni Network এর পক্ষ থেকে আপনার প্রতি রইল আন্তরিক ভালোবাসা, শ্রদ্ধা এবং শুভকামনা। আপনার এই অর্জন আমাদের বিদ্যালয়ের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ শিক্ষার্থীদের জন্য এক অনন্য অনুপ্রেরণা। আপনার পথচলা আরও সুন্দর হোক, আপনার জ্ঞান ও প্রজ্ঞার আলোয় আলোকিত হোক অসংখ্য শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ।

"শিকড় থেকে শিখরে" আপনার এই যাত্রা আমাদের সবার জন্য এক জীবন্ত প্রেরণার নাম। ❤️

মামুন মুনআমলাগাছি বিএম উচ্চ বিদ্যালয়ের ব্যাচ-১৬-এর একজন গর্বিত শিক্ষার্থী। তার গল্পটা শুধু একটি চাকরি পাওয়ার গল্প নয়, বর...
21/06/2026

মামুন মুন

আমলাগাছি বিএম উচ্চ বিদ্যালয়ের ব্যাচ-১৬-এর একজন গর্বিত শিক্ষার্থী। তার গল্পটা শুধু একটি চাকরি পাওয়ার গল্প নয়, বরং এটি এমন এক ছেলের গল্প যার শৈশবের দুষ্টুমি, বাবার প্রতি মুগ্ধতা এবং দেশের প্রতি গভীর ভালোবাসা একসময় তাকে নিয়ে যায় তার স্বপ্নের সবচেয়ে কাছের জায়গায়। দুষ্টুমিতে ভরা শৈশব, কিন্তু স্বপ্ন ছিল অন্যরকম।

ছোটবেলায় মামুন ছিল পরিবারের সবচেয়ে চঞ্চল সদস্যদের একজন। সারাদিন বন্ধুদের সঙ্গে খেলাধুলা, মাঠে দৌড়ঝাঁপ, গাছে চড়া, নানা রকম দুষ্টুমি এসব নিয়েই কেটে যেত তার দিনগুলো। বাসায় তাকে নিয়ে অভিযোগও কম ছিল না। কিন্তু কেউ তখন বুঝতে পারেনি, এই দুষ্টু আর অস্থির ছেলেটার বুকের ভেতর ধীরে ধীরে জন্ম নিচ্ছে এক অসাধারণ স্বপ্ন।

তার বাবা ছিলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। ছোট্ট মামুন প্রায়ই মুগ্ধ হয়ে বাবার ইউনিফর্মের দিকে তাকিয়ে থাকত। ইউনিফর্ম পরা মানুষটিকে তার কাছে সাধারণ কোনো বাবা মনে হতো না; মনে হতো তিনি যেন একজন দায়িত্ববান যোদ্ধা, যিনি নিজের পরিবারকে ভালোবাসেন, আবার একইসঙ্গে নিজের দেশকেও ভালোবাসেন।

বাবাকে দেখেই প্রথম সে উপলব্ধি করতে শেখে দেশকে ভালোবাসা শুধু একটি অনুভূতি নয়, এটি একটি দায়িত্বও।
সেই ছোট্ট বয়সেই অজান্তে তার ভেতরে জন্ম নেয় এক নীরব প্রতিজ্ঞা—
"একদিন আমিও এই ইউনিফর্ম পরব। আমিও আমার দেশের জন্য কাজ করব।"

আমলাগাছি বিএম উচ্চ বিদ্যালয়ের দিনগুলো ছিল তার স্বপ্নকে লালন করার সময়। অনেকেই কৈশোরে এসে নিজেদের স্বপ্ন বদলে ফেলে। কেউ ডাক্তার হতে চায়, কেউ প্রকৌশলী, কেউ ব্যবসায়ী হওয়ার স্বপ্ন দেখে। কিন্তু মামুনের ক্ষেত্রে বিষয়টি ছিল ব্যতিক্রম।
তার স্বপ্নের রঙ ছিল সবসময় লাল-সবুজ।
তিনি বুঝতে শুরু করেন, দেশের সেবা করার স্বপ্ন দেখা সহজ, কিন্তু সেই স্বপ্নের যোগ্য হয়ে ওঠা সহজ নয়। প্রয়োজন কঠোর পরিশ্রম, শৃঙ্খলা, ধৈর্য এবং নিজের প্রতি অটুট বিশ্বাস। তাই স্কুলজীবন থেকেই তিনি নিজেকে ভেতর থেকে প্রস্তুত করার চেষ্টা করেছেন। নিজের মধ্যে দায়িত্ববোধ, সময়ের মূল্য এবং শৃঙ্খলাকে ধারণ করার চেষ্টা করেছেন। কারণ তিনি জানতেন, একজন সৈনিক হওয়ার আগে একজন মানুষকে নিজের সঙ্গে যুদ্ধ করতে শিখতে হয়।

মাধ্যমিক পরীক্ষার পর তিনি ভর্তি হন খোলাহাটি ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে। জীবনের এই অধ্যায় যেন তাকে তার স্বপ্নের আরও কাছে নিয়ে আসে। ক্যান্টনমেন্টের পরিবেশ, শৃঙ্খলাপূর্ণ জীবনযাপন এবং দেশপ্রেমের আবহ তাকে নতুন করে অনুপ্রাণিত করে। প্রতিটি সকাল, প্রতিটি দিন যেন তাকে বারবার মনে করিয়ে দিত—
"তোমার স্বপ্ন খুব দূরে নয়, শুধু নিজেকে প্রস্তুত রাখো।"

এই সময় অনেকেই নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা পরিকল্পনা করছিল। কিন্তু মামুনের লক্ষ্য ছিল একেবারে পরিষ্কার। তিনি কখনো অন্য কোনো চাকরি বা অন্য কোনো সেক্টর নিয়ে খুব বেশি ভাবেননি। কারণ তার কাছে পেশা নয়, পরিচয়টাই ছিল গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি শুধু একজন চাকরিজীবী হতে চাননি; তিনি হতে চেয়েছিলেন এমন একজন মানুষ, যার পরিচয় হবে—
"আমি আমার দেশের একজন সৈনিক।"

অবশেষে বহু প্রতীক্ষিত সেই মুহূর্ত আসে। উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন হওয়ার আগেই তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যোগদানের সুযোগ লাভ করেন। সেদিন হয়তো তার চোখের সামনে ভেসে উঠেছিল শৈশবের সেই দিনগুলো মাঠে দৌড়ে বেড়ানো দুষ্টু ছেলেটি, বাবার ইউনিফর্মের দিকে মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকা ছোট্ট শিশুটি, আর নিজের মনে করা সেই নীরব প্রতিজ্ঞা।
একটি স্বপ্ন, যা জন্ম নিয়েছিল ভালোবাসা থেকে; বেড়ে উঠেছিল শৃঙ্খলার মধ্যে; আর বাস্তবের পথে হাঁটতে শুরু করেছিল অদম্য বিশ্বাসকে সঙ্গে নিয়ে।

এটি শুধু মামুন মুনের ব্যক্তিগত সাফল্য নয়। এটি একজন বাবার আদর্শের বিজয়, একটি পরিবারের গর্ব এবং প্রমাণ যে, শৈশবের ছোট্ট স্বপ্নগুলোও একদিন বাস্তব হয় যদি মানুষ সেই স্বপ্নকে ভালোবেসে আঁকড়ে ধরে রাখতে পারে।

যে জীবনের শুরুটা ছিল দুষ্টুমি আর চঞ্চলতায় ভরা। কিন্তু সেই দুষ্টু ছেলেটির বুকের ভেতরে ছিল এক টুকরো লাল-সবুজের স্বপ্ন।
আজ তিনি সেই স্বপ্নকে বাস্তবের পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।
হয়তো এ কারণেই কিছু গল্প শুধু সফলতার গল্প নয়; কিছু গল্প হয়ে ওঠে অনুপ্রেরণা। মামুন মুনের গল্পটাও ঠিক তেমন একজন দুষ্টু, প্রাণবন্ত ছেলের গল্প, যে বাবার কাছ থেকে দেশকে ভালোবাসতে শিখেছিল, আর সেই ভালোবাসাকেই নিজের জীবনের সবচেয়ে বড় পরিচয়ে পরিণত করেছে।

অভিনন্দন, MJ Mamun Moon! ❤️🇧🇩
Amlagachhi BM High School Alumni Network পরিবারের পক্ষ থেকে আপনার জন্য রইল অনেক অনেক শুভকামনা ও দোয়া। আপনার দেশপ্রেম, শৃঙ্খলা ও অদম্য স্বপ্ন আগামী প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকুক। লাল-সবুজের পতাকা বুকে নিয়ে এগিয়ে যান আরও অনেক দূর।

Address

Amlagachhi, Palashbari
Gaibandha
5730

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Amlagachhi BM High School Alumni Network posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Organization

Send a message to Amlagachhi BM High School Alumni Network:

Shortcuts

Share