03/04/2026
বড় বেলায় জীবনের যাবতীয় আয়োজনে কোথাও একটু মনে রাইখেন, এই জগতটা স্বর্গ না।
আপনার জীবন চিরদিন একই অবস্থায় থাকবে,
এইরকম শিশুতোষ ভাবনাতেও একেবারে ডুবে যেয়েন না।
নানা রকম আপ্স এন্ড ডাউন্স হবে। স্বাস্থ্যে, সম্পর্কে, অর্থনীতিতে নানা রকম জটিলতা আসবে।
বিচ্ছিন্নতা আসবে, নানা বিশ্রী চেহারায়।
অসুখ আসবে মনে।
স্ট্রেসে ভার হয়ে আসবে মন!
কি করে স্থির হবেন? কি করে সুখ পাবেন?
কি করলে অস্থিরতা কমবে, নানা রকম জাগতিক জটিলতায় কি করে শান্তি আসবে মনে?
এ বিষয়ে কোরআন আপনাকে কি বলে দেখেন,
' নিশ্চয় যারা ঈমান এনেছে, যারা ইয়াহূদী হয়েছে এবং খৃষ্টান ও সাবিঈন- যারাই আল্লাহ ও শেষ দিবসে বিশ্বাস করে ও সৎকাজ করে, তাদের জন্য পুরস্কার তাদের প্রতিপালকের নিকট আছে, তাদের কোন ভয় নেই এবং তারা দুঃখিত হবে না। '
সুরাহ বাকারা/ ৬২ নম্বর আয়াত।
এইটাকে ভাঙেন।পড়ার সময় আরেকটু ভাবেন।
বিশ্বাসীদের জন্যই সৃষ্টিকর্তার সবচেয়ে বড় পুরস্কারটাই হচ্ছে,
তারা ভয় পাবেনা।
তাদেরকে ঐভাবে কোন দু:খও স্পর্শ করবেনা।
আরেকটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ জ্ঞান আছে কোরআনে,
'আল্লাযীনা আমানু ওয়া তাতমাইন্নু কুলুবুহুম বি-যিকরিল্লাহ; আলা বি-যিকরিল্লাহি তাতমাইন্নুল কুলুব।
“নিশ্চয়ই আল্লাহর স্মরণেই অন্তরসমূহ প্রশান্তি পায়।”
আল কোরআন ১৩:২৮
আল্লাহ আপনাকে বলতেছে সৃষ্টিকর্তার স্মরণ ছাড়া আপনি কোনভাবেই আত্নার স্থিরতা পাবেন না!
আপনার ক্বালবের অস্থিরতা আর কোনভাবেই কমানো সম্ভব না।
ভাবেন। আরেকটু গাঢ় ভাবে ভেবে দেখেন এ জীবন।
টাকা, ম্যাটেরিয়াল নানাবিধ অর্জন আপনাকে সুখি করবে যদি ভাবেন, ভুল ভাবতেছেন।
আল কোরানের ৫৭:২৩ ( সুরাহ আল হাদিদ)
লিকাইলা তা'সাও ‘আলা মা ফাতাকুম ওয়ালা তাফরাহু বিমা আতাকুম; ওয়াল্লাহু লা ইউহিব্বু কুল্লা মুখতালিন ফাখূর।
“যাতে তোমরা যা হারিয়েছ তাতে দুঃখিত না হও এবং যা তিনি দিয়েছেন তাতে উল্লসিত না হও!
কোরআনের জ্ঞানটা নিতে পারেন এই আয়াত থেকে ।
কোন লসে, সেটা অর্থনৈতিক হোক, সম্পর্ক হোক, তাতে অতটা দু:খের সাগরে ভেসে যেতে নেই। অর্জনেও মাত্রাতিরিক্ত উচ্ছসিত হওয়ার কিছু নেই।
এ জগতের প্রতি অতিরিক্ত এটাচমেন্টই আমাদের প্রায় সমস্ত অসুখের একেবারে মূল কারন।
সবকিছু থেকেই কিছুটা বিচ্ছিন্নতা অত্যন্ত জরুরি।
সকল কিছু হইতেই একটা বিদায়ের প্রস্তুতি রাখা সম্ভবত বড়বেলার সবচেয়ে জরুরি জ্ঞান!