04/04/2026
🏛️ অজানা ফরিদপুর | পর্ব – ২
📍 মথুরাপুর দেউল — রহস্যে ঘেরা চারশো বছরের সাক্ষী
ফরিদপুরের মধুখালীর শান্ত গ্রামাঞ্চলের মাঝে দাঁড়িয়ে আছে ইতিহাসের এক নীরব প্রহরী — মথুরাপুর দেউল। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে সময়ের পরিবর্তন দেখেও আজও মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা এই স্থাপনাটি যেন অতীত বাংলার এক জীবন্ত গল্প।
ধারণা করা হয়, প্রায় চারশো বছর আগে মধ্যযুগীয় বাংলায় নির্মিত হয়েছিল এই দেউল। তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো— এর নির্মাতা কে, কেন এটি নির্মাণ করা হয়েছিল, সে সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য আজও পাওয়া যায়নি। ইতিহাসের এই রহস্যই মথুরাপুর দেউলকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
প্রায় ৮০–৯০ ফুট উঁচু এই স্থাপনাটির সবচেয়ে বিস্ময়কর দিক হলো এর বারো-কোণা স্থাপত্যশৈলী, যা বাংলাদেশের স্থাপত্যে অত্যন্ত বিরল। পুরো দেউলজুড়ে রয়েছে সূক্ষ্ম পোড়ামাটির (টেরাকোটা) অলংকরণ— যেখানে ফুটে উঠেছে দেবদেবীর চিত্র, পৌরাণিক কাহিনি, যুদ্ধদৃশ্য, নৃত্যরত মানুষ ও প্রকৃতির নান্দনিক নকশা।
স্থানীয়দের কাছে এটি কখনো মন্দির, কখনো মঠ, আবার কারও কাছে বিজয়স্তম্ভ। কিন্তু প্রকৃত পরিচয় আজও ইতিহাসের পাতায় আংশিক অজানা।
চন্দনা নদীর কাছাকাছি অবস্থিত এই দেউল শুধু একটি প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা নয়; এটি ফরিদপুরের হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য, শিল্প ও সভ্যতার এক অনন্য স্মারক।
সময়ের ক্ষয়ে এর অনেক অলংকরণ হারিয়ে গেলেও, মথুরাপুর দেউল আজও মনে করিয়ে দেয় — আমাদের ইতিহাস শুধু বইয়ে নয়, মাটির ভাঁজে ভাঁজেও লুকিয়ে আছে।
📌 আপনি কি কখনো মথুরাপুর দেউল ঘুরে দেখেছেন? আপনার অভিজ্ঞতা কমেন্টে জানাতে পারেন।
#অজানা_ফরিদপুর