Khansama Youth Awareness Forum

Khansama Youth Awareness Forum Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Khansama Youth Awareness Forum, Nonprofit Organization, Khansama, Dinajpur.

সমাজসচেতনতা ও মানবকল্যাণে নিবেদিত "সমাজ সংস্কার, নৈতিক মূল্যবোধের চর্চা এবং মানবিক সচেতনতা বৃদ্ধি করে" একটি ন্যায়ভিত্তিক, শান্তিপূর্ণ ও উন্নত সমাজ গড়ে তোলার এবং সুশিক্ষা ও সামাজিক কার্যক্রমের মাধ্যমে যুবকদের প্রকৃত সাফল্যের দিকে নিয়ে যাওয়ার একটি সংগঠন।

বিশ্বের সেরা দুই শক্তিধর রাষ্ট্র, কম্যুনিজম আর পুঁজিবাদের দুই  দিকপাল। (China VS USA) অথচ দুইপক্ষের কোন দিকেই একজন নারী ...
17/05/2026

বিশ্বের সেরা দুই শক্তিধর রাষ্ট্র, কম্যুনিজম আর পুঁজিবাদের দুই দিকপাল। (China VS USA)
অথচ দুইপক্ষের কোন দিকেই একজন নারী প্রতিনিধি নেই। এমন মৌলবাদী উচ্চ-প্রশাসন কি আমরা চেয়েছিলাম !...

আল্লাহ তা'আলা সবাইকে আমল করার তৌফিক দান করুন এবং অপরের মাঝে এটি ছড়িয়ে দিই!
17/05/2026

আল্লাহ তা'আলা সবাইকে আমল করার তৌফিক দান করুন এবং অপরের মাঝে এটি ছড়িয়ে দিই!

রুয়ান্ডা ম্যাসাকারে প্রায় ৮ লাখ মানুষ নিহত হয়।জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রথম ধাপে ৭ জনের...
15/05/2026

রুয়ান্ডা ম্যাসাকারে প্রায় ৮ লাখ মানুষ নিহত হয়।

জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রথম ধাপে ৭ জনের সাজা ঘোষণা করে।

পরে ধাপে ধাপে আরও অনেকেরই বিচার হয় এবং সাজাও হয়।

কিন্তু যারা সবচেয়ে বেশি দায়ী, তাদের বিচার সবার আগে করা হয়।

তন্মধ্যে প্রথম দফায় সাজাপ্রাপ্ত ৭ জনকে ধরা হয় প্রধান হোতা হিসেবে।

কিন্তু আপনি যদি তাদের তালিকা দেখেন, হতবাক হয়ে যাবেন।

খুব স্বাভাবিকভাবেই আমরা হয়ত ধরে নিচ্ছি যে এই প্রধান ৭ কুশীলবের সবাই নিশ্চয়ই ঘাঘু মিলিশিয়া নেতা বা মিলিটারি অফিসার।

কিন্তু বাস্তবতা হলো–এই ৭ জনের একজন হলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী, একজন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা, একজন প্রাক্তন চিফ অব স্টাফ।

তাহলে বাকি ৪ জন?

বাকি ৪ জনের একজন পল আকায়েসু, ক্ষুদ্র একটা এলাকার সাবেক মেয়র। তাকেই সর্বপ্রথম সাজা দেওয়া হয়।

আরেকজন হলেন হাসান এনগেজা। কাঙ্গুরা পত্রিকার ‘নিরপেক্ষ’ এবং ‘সিনিয়র’ সাংবাদিক!

ফের্দিনান্দ নাহিমনা, একটা রেডিও-টেলিভিশন সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা! অর্থাৎ আমরা বলতে পারি ‘সিনিয়র’, 'সাহসী' ও নিরপেক্ষ ‘সম্পাদক’।

সর্বশেষ জন হলেন সাইমন বিকিন্দি, একজন শিল্পী! সুরকার, গীতিকার, গায়ক!

বাংলাদেশের স্ট্যান্ডার্ডে খুবই অবাক করা বিষয় না?

আমাদের দেশে যারা আপাদমস্তক নিপাট ভদ্রলোক, যারা প্রতিটা গণহত্যার পর সর্বপ্রথম দায়মুক্তি পায়, রুয়ান্ডাতে দেখা যাচ্ছে একদম প্রথম দফার বিচারে তাদের প্রত্যেকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়েছে!

যাই হোক, আমাদের পয়েন্ট হলো–এরা কেউই কিন্তু সরাসরি ম্যাসাকারে অংশ নেয়নি।

তবুও প্রথম দফাতেই তাদের বিচার করা হয়েছে। কারণ তারা এই গণহত্যার প্রেক্ষাপট তৈরি করেছে। এর পক্ষে সম্মতি উৎপাদন করেছে। এবং শেষমেশ এটা বাস্তবায়ন করতে মানুষকে উস্কে দিয়েছে।

ভারতেও এখন একই ধরনের গ্রাউন্ড প্রিপারেশন চলমান।

দ্য প্যানেল অব ইন্টারন্যাশনাল ইন্ডিপেন্ডেন্ট এক্সপার্টস (PIIE)-এর ২০২৬ সালের রিপোর্টে ভারতের আসাম ও উত্তর প্রদেশে মুসলিমদের হালচাল উঠে এসেছে।

রিপোর্টে ভারতের পরিস্থিতিকে রুয়ান্ডার সাথে তুলনা করা হয়েছে।

২০২২ থেকে ২০২৫-এর ডিসেম্বর পর্যন্ত এই দুই প্রদেশে মুসলিমদেরকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক হত্যা করা, পঙ্গু করা, দাঙ্গা, হামলা-মামলা, জ্বালাও-পোড়াও-এর ঘটনাগুলো বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে পুরো দেশ জুড়ে মুসলিমদের বিরুদ্ধে যে সুসংগঠিত অপপ্রচার, ডি-হিউম্যানাইজেশন চলছে, সেটার ওপর।

রিপোর্টে দেখানো হয়েছে যে উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ ১০৮টি বক্তব্য দিয়েছেন, যেখানে রুয়ান্ডার মতো মুসলিমদেরকে পশু-পাখির সাথে তুলনা করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের রয়েছে ৮৫টি বক্তব্য।

খোদ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আছে ৮১টি বক্তব্য।

আসামের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত বিশ্ব শর্মার ৫২টি বক্তব্য। এর বাইরে বিজেপির অন্যান্য নেতাদের মিলিয়ে ২৮৭টির বেশি এমন বিদ্বেষমূলক বক্তব্য নথিভুক্ত করা হয়েছে!

আপনি যদি সংখ্যাগুলো বিবেচনা করেন, তাহলে এটা শিউরে ওঠার মতো পরিসংখ্যান।

এখানে রিপাবলিক বাংলার মতো ভুঁইফোড় সংবাদপত্রগুলোকে তো গণনাই করা হয়নি।

গোদি মিডিয়া, সুশীল, বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক, শিক্ষক, ইতিহাসবিদ–সবার সমন্বিত সম্মতি উৎপাদনকে বিবেচনায় নিলে পরিস্থিতি আসলে রুয়ান্ডার মতো না, রুয়ান্ডার চাইতেও ভয়াবহ।

ক্ষেত্র প্রস্তুত হচ্ছে। কোনদিন সেটা বিস্ফোরিত হবে, জাস্ট সেই অপেক্ষা।

কিন্তু কথা হলো, ভারতের মতো ১২০ কোটি জনসংখ্যার অতি বিশাল দেশে রুয়ান্ডা সিচুয়েশন তৈরি হলে বাংলাদেশের মতো ক্ষুদ্র মুসলিম প্রতিবেশীর ওপর যে ভয়াবহ প্রভাব পড়বে, আমরা কি সে ব্যাপারে সচেতন?

নিদেনপক্ষে ঘরের দরজায় যা ঘটছে, সে সম্পর্কে?

বাচ্চাদের কার্টুন দেখা নিয়ে একটা কথা বলি —আমরা সবাই জানি বাচ্চারা কার্টুন দেখে। এটা নতুন কিছু না। আমরাও ছোটবেলায় দেখেছ...
11/05/2026

বাচ্চাদের কার্টুন দেখা নিয়ে একটা কথা বলি —

আমরা সবাই জানি বাচ্চারা কার্টুন দেখে। এটা নতুন কিছু না। আমরাও ছোটবেলায় দেখেছি। কিন্তু আমাদের সময় আর এখনকার মধ্যে একটা বিশাল পার্থক্য আছে।

আমরা দেখতাম সপ্তাহে একদিন, নির্দিষ্ট সময়ে, টিভিতে। শেষ হলে শেষ।
এখন? সকালে উঠে মোবাইল, খাওয়ার সময় মোবাইল, ঘুমানোর আগে মোবাইল। YouTube অটোপ্লে চলছেই। থামার কোনো বালাই নেই।

এই "পরিমাণটা" কিন্তু সব বদলে দিয়েছে।
WHO এবং American Academy of Pediatrics কী বলছে?
২ বছরের নিচে — স্ক্রিন টাইম শূন্য হওয়া উচিত।
২ থেকে ৫ বছর — দিনে সর্বোচ্চ ১ ঘণ্টা।
৬ বছরের উপরে — পরিবার মিলে সীমা ঠিক করতে হবে, কিন্তু পড়াশোনা, ঘুম, শরীরচর্চার জায়গা নষ্ট করা যাবে না।

বাস্তবে আমাদের দেশের বেশিরভাগ বাচ্চা এর কয়েকগুণ বেশি দেখছে।
মস্তিষ্কে কী হচ্ছে আসলে?
JAMA Pediatrics-এ ২০১৯ সালে একটা বড় গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে দেখা গেছে, যেসব শিশু ছোটবেলা থেকে বেশি স্ক্রিন দেখেছে, তাদের পরবর্তীতে মনোযোগের সমস্যা, আবেগ নিয়ন্ত্রণে দুর্বলতা এবং ভাষাগত বিকাশে পিছিয়ে পড়ার হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

কারণটা হলো — শিশুর মস্তিষ্ক এখনো তৈরি হচ্ছে। এই বয়সে মস্তিষ্কের যে অংশ ধৈর্য, মনোযোগ আর সিদ্ধান্ত নেওয়া নিয়ন্ত্রণ করে (prefrontal cortex), সেটা সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হয় পরিবেশ দিয়ে।
দ্রুত দৃশ্য পরিবর্তন, উচ্চশব্দ, অবিরাম উত্তেজনা — এগুলো মস্তিষ্ককে একটা "হাইপার স্টেট"-এ রাখে। এই অবস্থায় বাস্তব জীবনের স্বাভাবিক গতি — বই পড়া, কারো কথা শোনা, একা খেলা — সব কিছু বোরিং লাগতে শুরু করে।

কার্টুনের সহিংসতা নিয়ে আলাদা কথা আছে।
National Institute of Mental Health-এর দীর্ঘমেয়াদী গবেষণা বলছে, বাচ্চারা যখন বারবার কার্টুনে মারামারি, ধ্বংস, আগুন দেখে — এবং দেখে যে এগুলো মজার — তখন তাদের মধ্যে এই ব্যাপারগুলো নিয়ে স্বাভাবিক অস্বস্তিটা কমে যায়। এটাকে বলা হয় desensitization।

এর মানে এই না যে কার্টুন দেখলেই বাচ্চা হিংস্র হয়ে যাবে। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে সহানুভূতি কমে, রাগ নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয় — এটা গবেষণায় বারবার উঠে এসেছে।
তাহলে কি কার্টুন সম্পূর্ণ বন্ধ?

এটা বাস্তবসম্মত না, এবং দরকারও নেই।
কিছু শিক্ষামূলক কন্টেন্ট — এগুলো আসলেই শিশুর ভাষা ও আবেগ বিকাশে সাহায্য করে। গবেষণাও এটা বলে,তবে সারাদিনে সর্বোচ্চ ৩০ মিনিট।
পার্থক্য হলো কোনটা দেখছে, কতক্ষণ দেখছে, আর একা দেখছে নাকি পাশে কেউ আছে।

বাচ্চাকে চুপ করানোর জন্য হাতে মোবাইল দিয়ে দেওয়া আর বাচ্চার সাথে বসে একটা ভালো কার্টুন দেখা — দুটো সম্পূর্ণ আলাদা জিনিস।
আপনার বাচ্চার স্ক্রিন টাইম কতটুকু? এটা কি আপনি নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন, নাকি বাচ্চাই নিয়ন্ত্রণ করছে?
~Dr. Nobel

07/05/2026

ভালো হওয়ার জন্য এই ভিডিওই যথেষ্ট ইনশাল্লাহ! 🥹
~আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহিমাহুল্লাহ

04/05/2026
রংপুর বিভাগের সবগুলো জেলার "অবৈধ ইটভাটার দৌরাত্ম্য" নিয়ে 'আমার দেশ' পত্রিকার সম্পাদকীয় অংশ। ৪ মে ২০২৬
04/05/2026

রংপুর বিভাগের সবগুলো জেলার "অবৈধ ইটভাটার দৌরাত্ম্য" নিয়ে 'আমার দেশ' পত্রিকার সম্পাদকীয় অংশ।
৪ মে ২০২৬

23/04/2026

২০১৫ সালের, মার্চ!

ক্যালেন্ডারের পাতা উলটে আজ আমরা ২০২৬-এ। ঠিক ১১ বছর আগে শুরু হয়েছিলো আমাদের লস্ট মডেস্টি।

আমাদের গল্পটা শুরু হয়েছিল এক ‘অসময়ে’...

পরীক্ষার মৌসুমে যখন পড়ার টেবিলে থাকার কথা, তখন মাথার ভেতর গিজগিজ করছিল অদ্ভুত এক অস্থিরতা। চারপাশে যখন নীল পর্দার বিষাক্ত হাতছানি তরুণ সমাজকে গ্রাস করছে, তখন নাকে-মুখে পড়া গেলা সম্ভব হয়নি। সেই জেদ থেকেই পড়াশোনা বাদ দিয়ে আদাজল খেয়ে নেমেছিলাম গবেষণায়। বাসার মানুষ জানতো ছেলে পড়ছে, অথচ ছেলে তখন ল্যাপটপে অনুবাদ করছিল এক সাবেক পর্ন স্টারের অন্ধকার জীবনের আর্তনাদ।

চুনোপুঁটির দুঃসাহস?

শুরুতে অনেকেই বলেছিলেন— "যেখানে বড় বড় স্কলাররা চুপ, সেখানে তোরা চুনোপুঁটি হয়ে কেন এই ট্যাবুর দেয়াল ভাঙতে যাস?" ভয় ছিল, আমরা সচেতন করতে গিয়ে আবার আসক্ত করে ফেলব না তো? কিন্তু আমরা জানতাম, ঘরের ভেতর আগুন লাগলে 'ট্যাবু'র দোহাই দিয়ে দরজা বন্ধ করে রাখাটা বুদ্ধিমানের কাজ নয়।

সালাহউদ্দিন আইয়ুবী রহিমাহুল্লাহ বলেছিলেন— "কোন জাতিকে ধ্বংস করতে চাইলে তাদের তরুণদের মধ্যে অশ্লীলতা ছড়িয়ে দাও।" আমরা চোখের সামনে সেই নীল বিষের ধ্বংসলীলা দেখছিলাম। তাই ২০১৫ সালের ৪ঠা এপ্রিল ব্লগ এবং ২২শে এপ্রিল ফেসবুক পেইজ খোলার মাধ্যমে যে যাত্রা শুরু হয়েছিল, তার নাম ছিল— 'পর্নোগ্রাফি: মানবতার জন্য হুমকি'। পরবর্তীতে সেই চারাগাছটিই আজকের 'Lost Modesty'।

আমাদের ১১ বছরের অর্জন:

• ১ লাখ + পাঠক

• ২০ লাখ+ লিফলেট বিতরণ

•২০০+ ব্লগ

• পর্নোগ্রাফির ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা মুলক বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম বই "মুক্ত বাতাসের খোঁজে"

• হারাম সম্পর্ক, যিনা, ভালোবাসা, হতাশা আত্মহ-ত্যা নিয়ে লেখা বই "আকাশের ওপারে আকাশ"

• অসংখ্য তরুণ-তরুণীর দ্বীনে ফেরার সহযাত্রী হওয়া

আমরা চেয়েছি আমাদের দেশটা যেন ওই পশ্চিমা দেশগুলোর মতো না হয়, যেখানে প্রতি ১০৭ সেকেন্ডে একজন নারী লাঞ্ছিত হয়।

গত ১১ বছরে আমাদের কাজে ভুল ছিল, ত্রুটি ছিল। আমরা কোনো প্রফেশনাল কাউন্সিলর বা বড় আলেম হিসেবে আসিনি, এসেছিলাম আপনার পাশের বাড়ির এক ভাই হিসেবে। যারা শুরু থেকে কাজ করেছেন, যারা আমাদের ভুলগুলো ধরিয়ে দিয়েছেন এবং যারা আমাদের প্রতিটি ক্যাম্পেইনে পাশে ছিলেন- আল্লাহ আপনাদের দুনিয়া ও আখিরাতে উত্তম প্রতিদান দিন।

মুক্ত বাতাসের খোঁজে বেরিয়ে পড়ার সময় কি এখনও আসেনি?

পৃথিবীটা এখন বড় অস্থির। নফসের সাথে যুদ্ধ করতে করতে আপনি হয়তো ক্লান্ত। কিন্তু মনে রাখবেন-
"আর যে ব্যক্তি আল্লাহর উপর ভরসা করে, তিনিই তার জন্যে যথেষ্ট।" (সূরা আত তালাক: ৩)

আমাদের এই ১১ বছরের পথচলায় আপনি কি আমাদের সাথে আছেন? কমেন্টে আপনার সেই দিনগুলোর স্মৃতি বা লস্ট মডেস্টিকে নিয়ে আপনার অনুভূতির কথা জানাতে পারেন।

23/04/2026

[মাওলানা আতিক উল্লাহ সাহেবের দাওয়াতি রোডম্যাপ]

সরকার যেভাবে পাঁচসালা পরিকল্পনা নিয়ে অগ্রসর হয়, আমরাও আগামী পাঁচটা বছর নিবিড় দাওয়াতের মেহনতে নিজেকে নিয়োজিত করতে পারি।
আসুন, আমরা প্রত্যেকেই নিজ অবস্থান থেকে চেষ্টা শুরু করি।
ইনশা আল্লাহ সবকিছু বদলে যাবেই।
বিশেষ করে ওলামায়ে কেরাম ও দ্বীন সচেতন ভাইদের প্রতি বিনীত আরজ।
আমরা প্রত্যেকে অন্তত একটা স্কুলে দ্বীন শেখানোর দায়িত্ব নিতে পারি।
আমরা প্রত্যেকে নিজের এলাকার প্রতিটি শিক্ষার্থিকে দ্বীন শেখাতে পারি।
আমরা প্রত্যেকে নিজ মাদরাসার ছাত্রদেরকে আপন পরিবার ও এলাকায় দাওয়াতি মেহনত করার জন্য প্রশিক্ষিত করে তুলতে পারি।
আমরা প্রত্যেকে নিজ মাদরাসার চারপাশে ঘরে ঘরে গিয়ে দ্বীন শেখাতে পারি।
আমরা প্রত্যেকে নিজ মসজিদের প্রতিটি মুসল্লীকে দ্বীন শেখাতে পারি।
----
কালিমার দাওয়াত
কালিমার মেহনত
আমরা কালিমার দাওয়াত ও মেহনত নিয়ে
প্রথমে বিভাগীয় শহরে যেতে চাই।
তারপর জেলাশহরে।
তারপর থানাশহরে।
তারপর ইউনিয়নে।
তারপর গ্রামে-গঞ্জে।
তারপর পাড়া-মহল্লায়।
আমরা বাংলার প্রতিটি শিশুর কাছে পৌঁছতে চাই।
আমরা বাংলার প্রতিটি কিশোরের কাছে পৌঁছতে চাই।
আমরা বাংলার প্রতিটি তরুনের কাছে পৌঁছতে চাই।
আমরা বাংলার প্রতিটি মানুষের কাছে পৌঁছতে চাই।
আমরা বাংলার প্রতিটি শিক্ষার্থির কাছে পৌঁছতে চাই।
আমরা বাংলার প্রতিটি স্কুলে যেতে চাই।
আমরা বাংলার প্রতিটি কলেজে যেতে চাই।
আমরা বাংলার প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে চাই।
আমরা বাংলার প্রতিটি শিক্ষালয়ে যেতে চাই।
আমরা বাংলার প্রতিটি মানুষের কাছে যেতে চাই।
এই তাকাযাকে সামনে রেখে যারা নিজেদের এলাকায় মেহনতের জন্য আমাদের দাওয়াত দিতে চান, আমাদেরকে কমপক্ষে ২৪ ঘণ্টার জন্য দাওয়াত দিতে হবে। একটা-দুইটা আয়োজনের জন্য গিয়ে পোষায় না। আমাদের জন্য ২৪ ঘণ্টার প্যাকেজ সাজাতে হবে। সেটার রূপরেখা কেমন হবে?
নিন্মোক্ত বিষয়গুলো সামনে রাখতে পারি-
এক:
মৌলিক মেহনত
১. শবগুজারি ও কিয়ামুল লাইলের ব্যবস্থা।
(আগ্রহী সাথীদের সাথে মসজিদে শবগুজারি, ভোররাতে তাহাজ্জুদ, জিকির, মুনাজাত)
৩. কমপক্ষে ১০ টি স্কুলে মেহনতের ব্যবস্থা।
(প্রাথমিক, মাধ্যমিক, কলেজ, ভার্সিটি, এলাকায় সবচেয়ে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠির স্কুল)
৪. কমপক্ষে ৫-টি জায়গায় ঘরোয়া মাহফিলের ব্যবস্থা।
(বাসা ও মহিলা মাদরাসা)
৫. পাঁচ নামাজের পর পাঁচটি মসজিদে দ্বীনি ভাইদের সাথে বসার ব্যবস্থা।
৬. কমপক্ষে ৫-টি মাদরাসায় আসাতিযায়ে কেরাম ও তালিবে ইলমদের সাথে দেখা-সাক্ষাতের ব্যবস্থা।
৭. কুরআন মাশকের ব্যবস্থা। স্থানীয় মক্তবগুলো পরিদর্শনের ব্যবস্থা।
উল্লেখ্য: উপরোক্ত ছয়টি আমাদের মৌলিক কাজ। এই কাজগুলো ঠিকমতো আঞ্জাম দিতে পারলে, আমাদের প্রাথমিক লক্ষ্য অর্জিত হবে। ইন শাআল্লাহ। বাকি নিন্মোক্ত বিষয়গুলোর ব্যবস্থা করতে পারলে আমাদের মেহনত ও সফর আরো বেশি ফলপ্রসূ হবে। ইন শা আল্লাহ
দুই:
আত্মশুদ্ধিমূলক কাযক্রম
১. আমলে সালিহ নিয়ে আলোচনার ব্যবস্থা।
২. আমলে সু নিয়ে আলোচনার ব্যবস্থা।
৩. কবিরা গুনাহ ও সগিরা গুনাহ নিয়ে আলোচনার ব্যবস্থা।
৪. খুলুকিন আযীম বা নবীজি সা.-এর মহত গুণগুলো নিয়ে আলোচনার ব্যবস্থা।
৫. আখলাকে যামীমা বা মন্দগুণগুলো নিয়ে আলোচনার ব্যবস্থা।
৬. নাফসের বড় বড় দশটি রোগ সম্পর্কে আলোচনার ব্যবস্থা।
৭. এলাকায় প্রচলিত গুনাহ ও অন্যায়গুলো নিয়ে আলোচনার ব্যবস্থা।
৮. তাওহিদ, ইসলাম, ঈমান, ইহসান, ইখলাস, তাকওয়া নিয়ে আলোচনার ব্যবস্থা।
৯. শিরক, কুফর, বিদাত, নিফাক, ইরতিদাদ, সেকুলারিজম, লিবারালিজম নিয়ে আলোচনার ব্যবস্থা।
তিন:
শিক্ষামূলক কাযক্রম
১. একটি সূরার তরজমা, তাফসীর, বালাগাত, এজায, লামাসাত নিয়ে বসার ব্যবস্থা। সবাই মিলে মুযাকারার ব্যবস্থা। তিলাওয়াত, তাদাব্বুর, তাযাক্কুর, তাফাক্কুরের ব্যবস্থা। দীর্ঘসময় তিলাওয়াতের ব্যবস্থা।
২. হাদীসের একটি অধ্যায় নিয়ে মুযাকারার ব্যবস্থা।
৩. সীরাতের কোনো একটি পর্ব নিয়ে বসার ব্যবস্থা।
৪. ফিকহের একটি অধ্যায় নিয়ে মুযাকারার ব্যবস্থা।
৫. ইতিহাসের একটি পর্ব নিয়ে মুযাকারার ব্যবস্থা।
৬. নবী, সাহাবী, সালাফ, আকাবির, ওলি-আউলিয়ার জীবন ও কর্ম নিয়ে মুযাকারার ব্যবস্থা।
৭. বিভিন্ন বাদ-মতবাদের তুলনামূলক পযালোচনার ব্যবস্থা।
৮. শাস্ত্রভিত্তিক সেমিনারের আয়োজন-
উলুমুল কুরআন, কাসাসুল কুরআন, তরজমাতুল কুরআন, তারকীবুল কুরআন, বালাগাতুল কুরআন, উলুমুল হাদীস, হাদীসের শিক্ষা, সীরাহ, সাহাবায়ে কেরাম, ইতিহাস, ফিকহ, উসুলুল ফিকহ।
৯. শিক্ষার্থিদের নিয়ে বিভিন্ন বিষয়ে প্রদর্শনীর আয়োজন। যেমন, বিজ্ঞানমেলা, ইংরেজিমেলা, বাংলামেলা, গণিত অলিম্পিয়াড, কোডিং অলিম্পিয়াড, এ-আই অলিম্পিয়াড, ক্যালিগ্রাফি চর্চা, বিতর্ক প্রতিযোগিতা, মিনি সংসদ, দৌড় প্রতিযোগিতা, সাঁতার প্রতিযোগিতা, সাইকেল প্রতিযোগিতা, নাশীদসন্ধ্যা।

১০. কোনো একটা বই বা বিষয় নিয়ে পাঠচক্রের আয়োজন।
গোটা বই হওয়া জরুনি নয়, বাংলা/আরবী/ইংরেজি/উর্দু/ফারসি ভাষায় লিখিত কোনো প্রবন্ধ হতে পারে। সীরাহর কোনো অংশ হতে পারে, ইতিহাসের কোনো অংশ হতে পারে। কুরআনের কোনো সুরা হতে পারে।
১১. হাতের লেখা সুন্দর করার কর্মশালার আয়োজন।
১২. পরীক্ষায় ভালো করার উপায় বিষয়ক কর্মশালার আয়োজন।
চার:
জনসংযোগমূলক কাযক্রম
১. এলাকার ইমাম-খতিব-মুহতামিমদের সুহবতে কিছুক্ষণ সময় কাটানোর সুযোগ।
২. এলাকায় সচেতন আলিম ও তরুণদের সাথে একবার বসার সুযোগ।
৩. থানা, ব্যারাক, ক্যাম্প, কারাগার, মেথর-ডোমপট্টি, গণিকালয়, হিজড়াপট্টি, শ্রমিকপল্লী, জেলেপল্লী, বস্তি, গার্মেন্টস, ফ্যাক্টরি, (দাওয়াত ও) পরিদর্শনের ব্যবস্থা।
৪. দ্বীনের বড়, দুনিয়ার বড়, কাজে বড়, পদে বড় এই চার শ্রেণীর ব্যক্তিদের সাথে বসার ব্যবস্থা।
৪. এলাকার সামাজিক সংগঠন, সেবামূলক সংগঠন, পেশাজীবী সংগঠন, পাঠাগারগুলোর সদস্যদের সাথে বসার ব্যবস্থা।
৫. এতিমখানা, বৃদ্ধাশ্রম, মাদকাসক্তি নিরাময়কেন্দ্র, হাসপাতালগুলো পরিদর্শনের ব্যবস্থা।
৬. এলাকার সবচেয়ে মেধাবী শিক্ষার্থিদের সাথে সাক্ষাতের ব্যবস্থা।
৭. এলাকায় কোনো গুণীজন, কীর্তিমান থাকলে তার সাথে সাক্ষাতের ব্যবস্থা।
৮. বিভিন্ন ঘরানার দ্বীনি মারকাযগুলো পরিদর্শনের ব্যবস্থা।
৯. বিভিন্ন পেশাজীবীর সাথে বসার ব্যবস্থা।
(ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, ব্যবসায়ী)।
১০. অন্য ধর্মাবলম্বীদের সাথে সৌজন্য সাক্ষাতের ব্যবস্থা। ধর্মগুরুদের সাথে ভাব বিনিময়ের ব্যবস্থা।
১১. শিল্প-সাহিত্য, নাটক-চলচ্চিত্র জগতের লোকদের সাথে সৌজন্য সাক্ষাত।
১২. স্থানীয় পত্রিকাগুলোর অফিস পরিদর্শন, সম্পাদক, সাংবাদিকদের সাথে সৌজন্য সাক্ষাত।
১৩. ডিশ ও নেট কানেকশনদাতাদের সাথে সৌজন্য সাক্ষাত।
১৪. নিয়মিত পাঁচওয়াক্ত নামাজ মসজিদে এসে পড়েন, নিয়মিত ফজরের মুসল্লিদের সাথে সাক্ষাত।
পাঁচ:
সচেতনতা সৃষ্টিমূলক কাযক্রম
১. যুবক-যুবতীদের জন্য ক্যারিয়ার ভাবনা বিষয়ে সেমিনারের আয়োজন।
২. শিক্ষার্থিদের জন্য শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরামর্শ বিষয়ক সেমিনার আয়োজন।
৩. এলাকার ইতিহাস-ঐতিহ্য, এলাকার কীর্তিমান, গুণী, এলাকার সুবিধা-অসুবিধা, সমস্যা ও সমাধান, এলাকার সম্ভাবনা ও সীমাবদ্ধতা ইত্যাদি নিয়ে সেমিনার আয়োজন করা।
৪. বেকার, গরীবদের কর্মসংস্থান বিষয়ক সেমিনার আয়োজন করা।
৫. মিথ্যা মামলাপীড়িত, বিচারবিহীন কারাবন্দীদের নিয়ে আলোচনা ও প্রতিকার। আইনি ও আর্থিক সুবিধা প্রদান নিয়ে আলোচনা।
৬. পুঁজির অভাবে ধুঁকতে থাকা উদ্যমী তরুন, উদ্যোক্তাদের সাথে আলোচনা।
৭. এলাকার বিধবা, বৃদ্ধ, দুঃস্থ, অন্ন-বস্ত্র-বাসস্থানহীন মানুষের পুনর্বাসন বিষয়ক সেমিনার।
৮. বৃক্ষরোপণ, রাস্তাঘাট নির্মাণ ও সংস্কার, পুকুর-নলকুপ-খাল খনন, মজা খাল-পুকুর পরিষ্কার, পতিত জমি আবাদ, এলাকার অবকাঠামোগত উন্নয়ন. মৎস্য ও পোল্ট্রি শিল্প উন্নয়ন, বিষয়ে আলোচনা।
৯. উদ্যোক্তা মেলা।
১০. বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটের অধিকার ও করণীয় সম্পর্কে আলোচনা।
১১. গাড়ির মালিক, চালক, হেল্পারদের অধিকার ও করণীয় সম্পর্কে আলোচনা।
১৩. হোটেল, মোটেল, পার্ক, বিনোদনকেন্দ্রের মালিকদের করণীয় সম্পর্কে আলোচনা।
১৪. আর্মি, বিজিবি, র‌্যাব, পুলিশ, আনসার, নিরাপত্তারক্ষীদের করণীয় সম্পর্কে আলোচনা।
ছয়:
সেবামূলক কাযক্রম
১. ডাক্তারদের নিয়ে একটা মেডিক্যাল ক্যাম্পের ব্যবস্থা করা (রক্ত পরীক্ষা, সুগার পরীক্ষা, প্রেশার মাপা, চোখ পরীক্ষা, নাককানগলা পরীক্ষা, ডায়েট পরামর্শ, ব্যায়াম পরামর্শ)।
২. যৌতুকবিহিনী বিয়ের ব্যবস্থা করা।
৩. গরিব শিক্ষার্থিদের মাঝে শিক্ষার উপকরণ বিতরণের ব্যবস্থা।
৪. ছিন্নমূল, গৃহহীনদের স্থায়ী আবাসনের ফিকির।
৫. কৃষকদের মধ্যে উন্নত জাতের বীজ ও চারা বিতরণ। চাষের উপকরণ বিতরণ। কৃষি উন্নয়ন বিষয়ক পরামর্শ প্রদান।
৬. প্রবাসীদের সুযোগ-সুবিধা, সমস্যা-অসুবিধা নিয়ে আলোচনা ও প্রতিকার।
৭. শিক্ষার্থিদের বিষয়ভিত্তিক উন্নতির ব্যবস্থা গ্রহণ। বিশেষ করে বিজ্ঞান, অংক ও ইংরেজিতে।
৮. কাজের বুয়া, বৃদ্ধ শ্রমিক, হকার, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী তাদের সমস্যাগুলো প্রতিকারের ব্যবস্থা।
সাত:
আত্মোন্নয়নমূলক কাযক্রম
১. দাম্পত্যজীবনে করণীয়-বর্জনীয় বিষয়ক সেমিনার।
২. স্কিল ডেভেলপম্যান্ট বিষয়ে সেমিনার।
৩. পেশাজীবী, শ্রমিক, কৃষকদের সুবিধা-অসুবিধা, সংকট ও সমাধান বিষয়ক সেমিনার।
৪. শিক্ষার মানোন্নয়ন বিষয়ক সেমিনার।
৫. দুর্বল শিক্ষার্থিদের শিক্ষা পরামর্শ বিষয়ক সেমিনার।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: ১
উপরে যা কিছু বলা হল, সবই একসাথে কোথাও বাস্তবায়ন করা গেলে আলহামদুলিল্লাহ। উদ্যোক্তাদের প্রতি বিনীত অনুরোধ থাকবে, সাধ্যমতো বেশি ইভেন্টের ব্যবস্থা করতে। কিছু ইভেন্ট আছে, এখন হয়তো আয়োজন করা যাবে না, ভবিষ্যতে অবশ্যই যাবে ইন শা আল্লাহ।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: ৩
আমাদের যাওয়া-আসার ভাড়া ও বিতরণ করা বইয়ের মূল্য কি আপনারা পরিশোধ করবেন নাকি আমরা, সেটা আগেই পরিষ্কার করে জানাতে হবে। আপনাদের তাওফীকে না কুলোলে নির্দ্বিধায় জানাতে পারেন। ভাড়া ও বইয়ের টাকার জন্য মেহনত আটকে থাকতে পারে না।
যোগাযোগ
মাদরাসাতুল কুরআনিল কারীম
01552738562
01924651373
01612676775
ইন শা আল্লাহ
ওয়াফফাকানাল্লাহ
জাযাকুমুল্লাহু খাইরান
রাদিয়াল্লাহু আনহুম ওয়া রাদু আনহু
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম

কার্টেসি : মাওলানা আতিক উল্লাহ

NB: Kotokicui kra jay Mehnoter Niyote!

আজ থেকে তিনশো বছর আগে উপমহাদেশের মহীরুহ শাহ ওয়ালিউল্লাহ মুহাদ্দিস দেহলভী (রাহিমাহুল্লাহ) মুসলিম সমাজকে আবিষ্কার করেছিলেন...
12/04/2026

আজ থেকে তিনশো বছর আগে উপমহাদেশের মহীরুহ শাহ ওয়ালিউল্লাহ মুহাদ্দিস দেহলভী (রাহিমাহুল্লাহ) মুসলিম সমাজকে আবিষ্কার করেছিলেন বহুমুখী বিপর্যয়ে জর্জরিত অবস্থায়। যমীনে জুলুম ও ফাসাদ ছড়িয়ে পড়েছিল। কোণঠাসা হয়ে পড়ছিল ইসলাম, ভূলণ্ঠিত হচ্ছিল তাঁর প্রতীকগুলো। চারদিকে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠেছিল কুফর ও শিরক।
শাহ ওয়ালিউল্লাহ এই ঘুর্ণিপাকের মাঝে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন, এমন সময়ে আল্লাহর হুকুম হলো:
ফুক্কু কুল্লা নিযাম—
ভেঙে দাও বিদ্যমান সব ব্যবস্থা।

পুরোনো কাঠামোর সংস্কার বা সংশোধন করে লাভ নেই। এই সংকট থেকে মুক্তি পেতে হলে ভেঙে দিতে হবে পুরোনো ব্যবস্থা। তৈরি করতে হবে নতুন সমাজ, শাসন আর নতুন ধরনের মানুষ। নতুন পৃথিবী গড়তে হলে আগে বদলাতে হবে মানুষের মন আর সমাজকে, তারপর আসবে ব্যবস্থার পরিবর্তন।

শব্দগুলো শাহ ওয়ালিউল্লাহর, কিন্তু ইতিহাসজুড়ে বিভিন্ন আলিম এবং মুজাদ্দিদদের কণ্ঠে আমরা এই একই বক্তব্যের প্রতিধ্বনি শুনতে পাই। উম্মাহ যখনই সংকটে পড়েছে, তখন উত্তরণের প্রথম ধাপ ছিল দ্বীনের পুনর্জাগরণ। তারপর সেই পুনর্জাগরণের ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে পুরো সমাজকে বদলে দেওয়া।
আগে বুনিয়াদ, তারপর ইনকিলাব।

আরব বসন্ত থেকে বাংলাদেশের জুলাই গণঅভ্যুত্থান—ইতিহাস আমাদের দেখিয়েছে মজবুত আদর্শিক ভিত্তি ছাড়া স্রেফ রাজপথের জনবিস্ফোরণ টেকসই হয় না। সমাজ ও শাসনের গোড়ায় যদি পরিবর্তন না আসে, তবে পুরোনো ব্যবস্থাই ফিরে আসে নতুন রঙে। কেবল শাসক বা সংবিধান বদলানোর কসমেটিক সংস্কার ভেতরের পচনকে আড়াল করতে পারে, কিন্তু সারাতে পারে না।

কাজেই, আমরা যদি সত্যিই বড় কোনো পরিবর্তন চাই, তবে সবার আগে তৈরি করতে হবে বুনিয়াদ। সব নিযাম গুড়িয়ে দিয়ে ইলাহী নিযাম কায়েম করার ইনকিলাবকে দাঁড়াতে হবে তাওহীদের মজবুত ভিত্তির ওপর। এভাবেই ইসলামের দাওয়াহ শুরু হয়েছিল। যুগে যুগে দ্বীনের পুনর্জাগরণের আন্দোলনগুলোও ঠিক এই পথেই হেঁটেছে।

প্রশ্ন হলো, সেই বুনিয়াদ আমরা গড়ব কীভাবে? কী হবে পথ ও পদ্ধতি?
আমরা কি স্রেফ নিজেদের খেয়ালখুশিমতো কাজ করে যাব? নাকি নির্দিষ্ট কোনো মানুষকে অন্ধভাবে অনুসরণ করব? অথবা কোনো পরিকল্পনা ছাড়াই এলোমেলো ছুটোছুটি করব আর এভাবেই এক দিন ‘কিছু একটা’ হয়ে যাবে, সেই আশায় বসে থাকব?

গুরুত্বপূর্ণ কোনো কাজ কখনো এভাবে হয় না। খুব সামান্য কিছু টাকা বিনিয়োগ করার আগেও মানুষ লম্বা সময় নিয়ে মার্কেট রিসার্চ করে। পরিবারের কেউ অসুস্থ হলে সে সবচেয়ে ভালো ডাক্তার আর হাসপাতালের খোঁজ করে। এমনকি দামি পোশাক কেনার সময়ও দশটা দেখে একটা বাছাই করে।

ছোট ছোট বিষয়ে মানুষ এত হিসেবি। তাহলে দ্বীন ইসলামের মতো এত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, যা আমাদের অস্তিত্ব ও ভবিষ্যৎ, দুনিয়া ও আখিরাতের সাথে জড়িত, সেখানে অপরিকল্পিতভাবে কাজ করার কী যুক্তি থাকতে পারে?

সতর্ক, হিসেবি আর সুচিন্তিত কর্মপদ্ধতি ছাড়া সামনে থাকা দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে মনজিলে পৌঁছানো অসম্ভব। এখানে খামখেয়ালি সিদ্ধান্ত নেওয়া শুধু কাণ্ডজ্ঞানহীনতা নয়, বরং এক অর্থে অপরাধও।
আমাদের বুনিয়াদ গড়ার নকশা খুঁজতে হবে এমন উৎসের কাছে, যা নিখুঁত ও চিরন্তন। আমাদের কর্মপদ্ধতি সাজাতে হবে তাঁদের অনুকরণে, যারা মানবজাতির শ্রেষ্ঠতম পথপ্রদর্শক। করণীয় কী—এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে ফিরে যেতে হবে নবী-রাসূলগণের দাওয়াহর কাছে; সেই অবিনশ্বর বাতিঘরে।
আলাইহিমুস সালাতু ওয়াস সালাম।

যেকোনো কাজ সম্পর্কে ভালোভাবে জানার উপায় হলো, সেই পথের সেরাদের কাছ থেকে শেখা। সমাজ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে নবী-রাসূলগণই (আলাইহিমুস সালাম) শ্রেষ্ঠ। তাঁরাই মানবজাতির সফলতম শিক্ষক। তাওহীদ প্রতিষ্ঠা, দ্বীনের পুনর্জাগরণ, দাওয়াহর পদ্ধতি, কিংবা মানুষ নিয়ে কাজ করা—প্রতিটি ক্ষেত্রে তাঁরাই আমাদের একমাত্র নির্ভুল দিশারী। আলাইহিমুস সালাম।

আমরা আজ যে পরিস্থতির মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছি, নবী-রাসূলগণ (আলাইহিমুস সালাম) তার চেয়েও হাজার গুণ বেশি প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়েছিলেন। তাঁরা তাঁদের কওমগুলোকে আবিষ্কার করেছেন অন্ধকার গোলকধাঁধায়। একদম শূন্য থেকে শুরু করে সীমিত সামর্থ্য নিয়ে তাঁরা কাজ করে গেছেন সমাজ পরিবর্তনের জন্য। বদলে দিয়েছেন ইতিহাসের গতিপথ।

অস্তিত্বের যে মৌলিক প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজতে গিয়ে দুনিয়ার তাবৎ বড় বড় দার্শনিকরা খেই হারিয়ে ফেলেছে, যেখানে হাজারো বাদ-মতবাদ আর তন্ত্রমন্ত্র ব্যর্থ হয়েছে, নবী-রাসূলগণ (আলাইহিমুস সালাম) সেগুলোর জট খুলে দিয়ে গেছেন। হাজার বছর ধরে পথ চলতে গিয়ে মানুষ বারবার দিকভ্রান্ত হয়েছে, নবী-রাসূলগণ (আলাইহিমুস সালাম) গন্তব্যের সরল পথ আমাদের চিনিয়ে দিয়েছেন।

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা চাইলে আসমানি কিতাবগুলো সরাসরি নাযিল করতে পারতেন। কিন্তু তিনি তা করেননি। তিনি কিতাব পাঠিয়েছেন নবী-রাসূলগণের কাছে। তাঁরা মানুষকে শিখিয়েছেন। কারণ এভাবেই মানুষ শেখে। এটা মহান আল্লাহর হিকমাহ।
তাই সমাজকে কীভাবে পথ দেখাতে হয়, আর কীভাবে আমূল পরিবর্তন আনতে হয়, তা জানার শ্রেষ্ঠ উৎস হলো নবীদের দাওয়াহ। আলাইহিমুস সালাম।

বনী আদমের জন্য নবী-রাসূলগণের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন,
‘মানবজাতির জন্য সূর্য, চন্দ্র, বাতাস ও বৃষ্টি যতটুকু প্রয়োজন, একজন মানুষের জন্য তাঁর জীবন, চোখের জন্য আলো, দেহের জন্য খাদ্য ও পানীয়ের প্রয়োজন যতটুকু, মানবজাতির জন্য রাসূলদের প্রয়োজন এর চেয়েও অনেক বেশি। অন্য যেকোনো কিছুর চেয়ে নবী-রাসূলগণ মানবজাতির জন্য অধিক গুরুত্বপূর্ন। নবী-রাসূলগণ হলেন মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে মানবজাতির জন্য দূত। তাঁরা তাঁর আদেশ ও নিষেধাজ্ঞা পৌঁছে দেন। এবং তাঁদের মধ্যে সর্বশেষ এবং সর্বশ্রেষ্ঠ হলেন মুহাম্মাদ ﷺ।’

কাজেই বিদ্যমান সংকটের মোকাবিলায় আমাদের চিন্তা, দাওয়াহ এবং কর্মপদ্ধতি সাজাতে হবে নববী দাওয়াহর ছাঁচেই। এই পথ ও পদ্ধতি সাত আসমানের ওপর থেকে নির্ধারণ করা, খোদ মানবজাতির মালিকের বাছাই করা। তাই ইসলামী ইনকিলাবের পুরো প্রকল্পকে দাঁড় করাতে ঐ বুনিয়াদের ওপরেই।

আর সে জন্য আমাদের জানতে হবে কেমন ছিল নবী-রাসূলগণের (আলাইহিমুস সালাম) দাওয়াহ।

-পৃষ্ঠা ১৭৩-১৭৬, মুসলিমবঙ্গ,আসিফ আদনান, ইলমহাউস পাব্লিকেশন।

॥ সফ্ট রিমাইন্ডার ॥শাওয়াল মাসের ছয়টি নফল রোজা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ। বছর ঘুরে শুধু একবার শাওয়ালের এই নফল রোজার সুযোগ পাওয়া ...
23/03/2026

॥ সফ্ট রিমাইন্ডার ॥

শাওয়াল মাসের ছয়টি নফল রোজা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ। বছর ঘুরে শুধু একবার শাওয়ালের এই নফল রোজার সুযোগ পাওয়া যায়।

চাইলে ছয়টি রোজা একসাথেও রাখতে পারেন, আবার সুবিধামত গ‍্যাপ দিয়েও রাখতে পারেন। তাই, যারা এখনো শুরু করেননি, দ্রুত শুরু করে দিন। বিত্তাওফিক ইন শা আল্লাহ।

Address

Khansama
Dinajpur

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Khansama Youth Awareness Forum posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share