Khansama Upazila Dawah Society

Khansama Upazila Dawah Society Alhamdulillah, We are Muslims and want to spread Islamic behaviour and history all over the world. And Indeed, we are "One Muslim UMMAH"☝

এই গরমের মধ্যে ঠান্ডা পানি খেতে মন চায়। রাসূলের যুগে তো ফ্রিজ ছিলো না। তিনি কি গরমের সময় ঠান্ডা পানি খেতে চাইতেন? আবুল হ...
03/06/2026

এই গরমের মধ্যে ঠান্ডা পানি খেতে মন চায়। রাসূলের যুগে তো ফ্রিজ ছিলো না। তিনি কি গরমের সময় ঠান্ডা পানি খেতে চাইতেন?

আবুল হায়সাম ইবনে তায়্যিহান রাদিয়াল্লাহু আনহু নামে একজন আনসার সাহাবী ছিলেন। 'জাসিম' নামে তাঁর একটি কূপ ছিলো। এই কূপের পানি ছিলো ঠান্ডা এবং সুমিষ্ট। প্রচণ্ড গরমের সময় কেউ ঠান্ডা পানি খেয়ে তৃষ্ণা মেটাতে চাইলে 'জাসিম' কূপের পানি খেতো।

এক গরমের দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আবুল হায়সাম রাদিয়াল্লাহু আনহুর বাড়ি গেলেন। সাথে ছিলেন আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু।

বাড়িতে গিয়ে আবুল হায়সামকে জিজ্ঞেস করলেন, "আবুল হায়সান, ঠান্ডা পানি আছে?"

আবুল হায়সাম নবিজীর আগ্রহ দেখে তোড়জোড় শুরু করলেন। কী সৌভাগ্য, নবিজী তাঁর বাড়িতে ঠান্ডা পানি খেতে এসেছেন!

তিনি এক বালতি বরফের মতো ঠান্ডা পানি নিয়ে আসেন। ছাগলের দুধের সাথে ঠান্ডা পানি মেশান। বিভিন্ন ধরনের খেজুর আর প্লেটভর্তি সারীদ নিয়ে নবিজীর সামনে হাজির হন।

দুপুরবেলা বিশ্রাম নেবার জন্য আবুল হায়সাম রাদিয়াল্লাহু আনহুর একটি ছাউনি ছিলো। এই ছাউনিতে বসলে পর্যাপ্ত বাতাস আসে, ঠান্ডা পরিবেশ।

নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর প্রিয় সাহাবীকে নিয়ে ঠান্ডা পানি, খেজুর, সারীদ খান। ছাউনির নিচে বিশ্রাম নেন।


তথ্যসূত্র:

বালাজুরী, আনসাবুল আশরাফ: ১/৫৩৫।

~আরিফুল ইসলাম

•৯ জিলহজ তারিখের ফজরের নামাজ থেকে শুরু করে ১৩ জিলহজ সালাতুল আসর পর্যন্ত তাকবীরে তাশরীক পাঠ করা ওয়াজিব।•পরুষগন তাকবীরে তা...
27/05/2026

•৯ জিলহজ তারিখের ফজরের নামাজ থেকে শুরু করে ১৩ জিলহজ সালাতুল আসর পর্যন্ত তাকবীরে তাশরীক পাঠ করা ওয়াজিব।
•পরুষগন তাকবীরে তাশরীক জোরে বলবে।
•মহিলাগন তাকবীরে তাশরীক নিচু স্বরে বলবে, যেন নিজ কানে শোনে।

শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়া (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন:الآمرون بالمعروف والناهون عن المنكر أطباء الأديان، الذين تشفى بهم القلوب ...
25/05/2026

শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়া (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন:

الآمرون بالمعروف والناهون عن المنكر أطباء الأديان،
الذين تشفى بهم القلوب المريضة، وتهتدي بهم القلوب الضالة،
وترشد بهم القلوب الغاوية، وتستقيم بهم القلوب الزائغة، وهم أعلام الهدى ومصابيح الدجى".

​"যারা সৎকাজের আদেশ দেন এবং অসৎকাজ থেকে নিষেধ করেন, তারা হলেন দ্বীনের চিকিৎসক। তাদের মাধ্যমেই অসুস্থ অন্তরসমূহ আরোগ্য লাভ করে, পথভ্রষ্ট অন্তরসমূহ হেদায়েত পায়, বিভ্রান্ত অন্তরসমূহ সঠিক পথ খুঁজে পায় এবং বক্র অন্তরসমূহ সোজা (সঠিক) পথে ফিরে আসে। বস্তুত, তারাই হলেন হেদায়েতের উজ্জ্বল নিদর্শন এবং ঘোর অন্ধকারের আলোকবর্তিকা।"​(সূত্র: জামেউল মাসায়েল, ৫ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ২৩৭)

নারীদের প্রধান কাজ কী!?
25/05/2026

নারীদের প্রধান কাজ কী!?

19/05/2026
আল্লাহ তা'আলা সবাইকে আমল করার তৌফিক দান করুন এবং অপরের মাঝে এটি ছড়িয়ে দিই!
17/05/2026

আল্লাহ তা'আলা সবাইকে আমল করার তৌফিক দান করুন এবং অপরের মাঝে এটি ছড়িয়ে দিই!

যিলহজের প্রথম দশক (ফযিলত ও বিধি-বিধান) [বই থেকে বানানো] মূল: শাইখ সালিহ আল মুনাজ্জিদ, শাইখ আহমাদ মুসা জিবরীল। ডিজাইন: Im...
15/05/2026

যিলহজের প্রথম দশক (ফযিলত ও বিধি-বিধান) [বই থেকে বানানো]
মূল: শাইখ সালিহ আল মুনাজ্জিদ, শাইখ আহমাদ মুসা জিবরীল।
ডিজাইন: Imran Shorif Shuvo

07/05/2026

ভালো হওয়ার জন্য এই ভিডিওই যথেষ্ট ইনশাল্লাহ! 🥹
~আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহিমাহুল্লাহ

The "Naqsh-e Jahan Square" in Isfahan, his (the Great Shah Abbas 1) most lasting architectural legacy.​This image is not...
07/04/2026

The "Naqsh-e Jahan Square" in Isfahan, his (the Great Shah Abbas 1) most lasting architectural legacy.

​This image is not just a beautiful view; it is a direct result of Shah Abbas’s grand vision and his centralization policies.

​Religious Power: The magnificent, blue-tiled Masjed-e Shah (Shah Mosque), located at the far end of the square, symbolizing his role as the "Shadow of God."

​State Power: The Ali Qapu Palace (the distinct structure with the elevated wooden terrace on the right), which served as the official gate to the entire palace complex and was a symbol of political absolute power.

​Economic Power: The Qaysariyyeh Bazaar (which is not fully visible in this panoramic view, but its grand portal is at the end opposite the mosque), connecting the wealth of the Silk Road directly to the state.

NB: Shah Abbas I, known as Shah Abbas the Great, was the 5th Safavid Shah of Iran and is generally considered the strongest ruler of the Safavid dynasty. His reign (1588–1629) marked a golden age for Persian art, architecture, and military power.

06/04/2026

মুসলিম বিজ্ঞানীদের অবদানগুলো মূলত ইউরোপীয় রেনেসাঁর ভিত্তি হিসেবে কাজ করলেও, পরবর্তীতে সেগুলো মুসলিম বিশ্বে হারিয়ে যাওয়া এবং ইউরোপে বিকশিত হওয়ার পেছনে বেশ কিছু ঐতিহাসিক কারণ কাজ করেছে।
ইউরোপীয় রেনেসাঁয় মুসলিম বিজ্ঞানীদের অবদান যেভাবে স্থানান্তরিত ও পরে হারিয়ে গেল:

বিশাল অনুবাদ আন্দোলন (১২-১৩ শতক): ইউরোপের টলেডো (স্পেন) এবং সিসিলির মতো কেন্দ্রগুলোতে মুসলিম পণ্ডিতদের আরবি পাণ্ডুলিপিগুলো ল্যাটিন ভাষায় অনূদিত হয়। ইবনে সিনা (চিকিৎসা), আল-খোয়ারিজমি (গণিত) এবং ইবনে আল-হাইসামের (আলোকবিজ্ঞান) মতো বিজ্ঞানীদের কাজগুলো ইউরোপীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পাঠ্যসূচির মূলে পরিণত হয়।

জ্ঞানের সেতু হিসেবে আন্দালুসিয়া (মুসলিম স্পেন): আন্দালুসিয়া ছিল তৎকালীন বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ জ্ঞানকেন্দ্র। ইউরোপীয় খ্রিস্টান পণ্ডিতরা সেখানে গিয়ে মুসলিম বিজ্ঞানীদের কাছ থেকে জ্ঞানার্জন করতেন এবং সেই জ্ঞান নিজের দেশে নিয়ে যেতেন, যা রেনেসাঁ ও পরবর্তীতে বৈজ্ঞানিক বিপ্লবের পথ প্রশস্ত করে।

ঐতিহাসিক বিস্মৃতি (Collective Amnesia): রেনেসাঁর পরবর্তী সময়ে ইউরোপীয় ইতিহাসবিদরা আধুনিক বিজ্ঞানের শিকড় সরাসরি গ্রিক ও রোমান সভ্যতার সাথে জুড়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন এবং মাঝখানের মুসলিম বিজ্ঞানীদের গুরুত্বপূর্ণ অবদানগুলোকে অনেকটা আড়ালে পাঠিয়ে দেন।

মুসলিম বিশ্বে জ্ঞানচর্চার পতন:

মঙ্গোল ও ক্রুসেডারদের আক্রমণ: ১২৫৮ সালে বাগদাদ ধ্বংসের ফলে 'বাইতুল হিকমাহ'-সহ অসংখ্য লাইব্রেরি ও গবেষণাগার চিরতরে হারিয়ে যায়।

রক্ষণশীলতার উত্থান ও পর্যবেক্ষণাগার ধ্বংস: ১৫৮০ সালে ইস্তাম্বুলের বিখ্যাত পর্যবেক্ষণাগারটি (তাকি আল-দিনের তৈরি) তৎকালীন ধর্মীয় নেতৃত্বের প্রভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়, যা মুসলিম বিশ্বের জ্যোতির্বিজ্ঞান গবেষণাকে স্থবির করে দেয়।

প্রযুক্তিতে অনীহা: ইউরোপ যখন ছাপাখানার মাধ্যমে তথ্য ছড়িয়ে দিচ্ছিল, তখন মুসলিম শাসকরা একে 'হারাম' ঘোষণা করে দীর্ঘ ৩০০ বছর পিছিয়ে যায়।

উপনিবেশবাদ: ১৭-১৮ শতকের দিকে ইউরোপীয় শক্তিগুলো প্রযুক্তিতে অনেক এগিয়ে যাওয়ায় তারা মুসলিম দেশগুলোকে উপনিবেশে পরিণত করে। এর ফলে এই অঞ্চলগুলো কেবল কাঁচামাল সরবরাহের উৎস হয়ে দাঁড়ায় এবং নিজস্ব প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন বন্ধ হয়ে যায়।

সংক্ষেপে, মুসলিম বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবিত বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি (Scientific Method) এবং গবেষণালব্ধ জ্ঞান ইউরোপ গ্রহণ করে সেটিকে আরও উন্নত করতে পেরেছিল, কিন্তু মুসলিমরা অভ্যন্তরীণ কোন্দল, প্রযুক্তি গ্রহণে অনীহা এবং রাজনৈতিক বিপর্যয়ের কারণে সেই ধারা বজায় রাখতে পারেনি।

মুসলিম মাদরাসাগুলো একসময় বিজ্ঞান, গণিত এবং ধর্মের সমন্বিত কেন্দ্র থাকলেও পরবর্তীতে কেবল ধর্মীয় শিক্ষার কেন্দ্রে পরিণত হওয়ার পেছনে প্রধানত চারটি কারণ দায়ী:

১. জ্ঞানের বিভাজন (উলুম আদ-দুনিয়া বনাম উলুম আদ-দীন): এক সময় ইবনে সিনা বা আল-বিরুনির মতো পণ্ডিতরা ধর্ম ও বিজ্ঞানকে আলাদা করে দেখতেন না। কিন্তু ধীরে ধীরে একটি ধারণা প্রতিষ্ঠিত হয় যে, কেবল ধর্মীয় জ্ঞানই (পরকালীন মুক্তির জন্য) প্রয়োজনীয়, আর দুনিয়াবি বা বিজ্ঞান চর্চা গৌণ। এর ফলে মাদরাসাগুলোতে বিজ্ঞান ও দর্শনের পাঠ্যসূচি সংকুচিত হয়ে আসে।

২. ইমাম আল-গাজ্জালির দর্শনের অপব্যাখ্যা: অনেকে মনে করেন ইমাম গাজ্জালির 'তহাফুতুল ফালাসিফা' (দার্শনিকদের অসারতা) গ্রন্থটি যুক্তিবাদ ও বিজ্ঞানের পথ রুদ্ধ করেছে। প্রকৃতপক্ষে তিনি দর্শনের নামে নাস্তিকতার বিরোধিতা করেছিলেন, কিন্তু পরবর্তীতে সাধারণ মানুষ এবং অনেক রক্ষণশীল শাসক একে সব ধরণের বিজ্ঞান ও দর্শনের বিরুদ্ধে ফতোয়া হিসেবে গ্রহণ করে।

৩. রাজনৈতিক অস্থিরতা ও পৃষ্ঠপোষকতার অভাব: মাদরাসাগুলো পরিচালনার জন্য সরকারি অনুদান ও ওয়াকফ সম্পত্তির ওপর নির্ভর করতে হতো। আব্বাসীয় খেলাফত দুর্বল হওয়ার পর এবং মঙ্গোলরা বাগদাদ ধ্বংস করার পর জ্ঞানচর্চার কেন্দ্রীয় কাঠামো ভেঙে পড়ে। শাসকরা তখন বিজ্ঞান গবেষণায় টাকা খরচ করার চেয়ে যুদ্ধের জন্য শক্তিশালী সেনাবাহিনী গড়াকে বেশি গুরুত্ব দেন।

৪. ইউরোপীয় আধুনিক শিক্ষার সাথে প্রতিযোগিতা: উপনিবেশিক আমলে (ব্রিটিশ, ফরাসি শাসন) আধুনিক স্কুল ও কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয় যেখানে বিজ্ঞান পড়ানো হতো। এর ফলে মাদরাসাগুলো নিজেদের 'মুসলিম পরিচয়' ও 'ধর্ম' রক্ষার দুর্গ হিসেবে ঘোষণা করে এবং আধুনিক সবকিছুকে (যেমন ইংরেজি শিক্ষা বা বিজ্ঞান) পশ্চিমা প্রভাব মনে করে বর্জন করতে শুরু করে।

৫. ইজতিহাদের দরজা বন্ধ হওয়া: নতুন নতুন সমস্যার উদ্ভাবনী সমাধানের যে পদ্ধতি (ইজতিহাদ) ইসলামে ছিল, তা এক সময় স্থবির হয়ে পড়ে। এতে নতুন কোনো বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের চেয়ে পুরনো কিতাব মুখস্থ করা ও সেগুলোর ব্যাখ্যা করাই মাদরাসা শিক্ষার মূল লক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায়।

মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থা থেকে বিজ্ঞান ও আধুনিক গবেষণা হারিয়ে যাওয়ার ফলে মুসলিম সমাজে যে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাবগুলো পড়েছিল, তা আজও অনুভূত হয়। এর প্রধান প্রভাবগুলো হলো:

বুদ্ধিবৃত্তিক স্থবিরতা ও অনুকরণপ্রিয়তা: নতুন কিছু আবিষ্কার বা গবেষণার (ইজতিহাদ) পরিবর্তে কেবল পুরনো কিতাব মুখস্থ এবং পূর্বসূরিদের ব্যাখ্যা অনুসরণ করার প্রবণতা তৈরি হয়। এতে মুসলিম সমাজ আধুনিক বিশ্বের বৈজ্ঞানিক অগ্রগতির সাথে তাল মেলাতে ব্যর্থ হয়।

দ্বিমুখী শিক্ষাব্যবস্থার সৃষ্টি: সমাজ স্পষ্টভাবে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে—একদল কেবল আধুনিক বা 'দুনিয়াবি' শিক্ষায় শিক্ষিত (যারা ধর্ম থেকে দূরে সরে যায়), আর অন্যদল কেবল ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত (যাদের আধুনিক বিজ্ঞান বা রাজনীতি সম্পর্কে ধারণা কম)। এই শিক্ষা-বিভাজন সমাজে চরম আদর্শিক দ্বন্দ্ব তৈরি করেছে।

অর্থনৈতিক ও সামরিক পরাধীনতা: প্রযুক্তি ও বিজ্ঞানে পিছিয়ে পড়ার কারণে মুসলিম দেশগুলো ইউরোপীয় শক্তির কাছে সামরিকভাবে পরাজিত হয় এবং অর্থনৈতিকভাবে তাদের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। শিল্প বিপ্লবের সুফল তারা ভোগ করতে পারেনি, বরং উপনিবেশে পরিণত হয়েছে।

বিজ্ঞানের প্রতি নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি: দীর্ঘ সময় ধরে বিজ্ঞান চর্চা থেকে দূরে থাকায় সাধারণ মানুষের মনে ধারণা জন্মে যে, বিজ্ঞান মানেই হয়তো ধর্মের বিরোধী কিছু। এই ভুল ধারণার কারণে আধুনিক চিকিৎসা বা প্রযুক্তি গ্রহণে অনেক সময় সামাজিক বা ধর্মীয় বাধার সৃষ্টি হয়।

নেতৃত্বের সংকট: একসময় মুসলিম পণ্ডিতরা একাধারে ধর্মতত্ত্ববিদ ও বিজ্ঞানী ছিলেন (যেমন ইবনে সিনা বা আল-বিরুনি)। কিন্তু শিক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তনের ফলে এমন পূর্ণাঙ্গ নেতৃত্বের অভাব দেখা দেয় যারা একই সাথে আধুনিক বিশ্ব এবং ধর্মীয় মূল্যবোধ বুঝতে সক্ষম।

সংক্ষেপে, এই পরিবর্তনের ফলে মুসলিম বিশ্ব জ্ঞানের উৎপাদক (Producer) থেকে কেবল জ্ঞানের ভোক্তা (Consumer) হিসেবে পরিণত হয়েছে।

বর্তমানে মুসলিম বিশ্বে শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং ধর্মীয় শিক্ষার সাথে বিজ্ঞানের সমন্বয় ঘটানোর বেশ কিছু সফল ও উল্লেখযোগ্য উদাহরণ রয়েছে। এর মধ্যে প্রধান কয়েকটি হলো:

১. আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয় (মিশর): এটি বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন ইসলামি শিক্ষা কেন্দ্র। বিংশ শতাব্দীতে এখানে ব্যাপক সংস্কার করা হয়। এখন এখানে ইসলামি শিক্ষার পাশাপাশি মেডিসিন, ইঞ্জিনিয়ারিং, কৃষি এবং আধুনিক বিজ্ঞান অনুষদ রয়েছে। এখান থেকে পাস করা শিক্ষার্থীরা যেমন শরীয়াহ জানেন, তেমনি তারা পেশাদার ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার হিসেবেও কাজ করছেন।

২. তুরস্কের 'ইমাম হাতিপ' (Imam Hatip) স্কুল: তুরস্কের এই মডেলটি বর্তমানে খুব সফল। এখানে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে সাধারণ আধুনিক কারিকুলামের (বিজ্ঞান, গণিত, ইংরেজি) সাথে সাথে পবিত্র কুরআন, হাদিস এবং আরবি ভাষা পড়ানো হয়। এই স্কুলের ছাত্ররা সরাসরি সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায় এবং আধুনিক তুরস্কের নেতৃত্বে (যেমন বর্তমান প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান) এই স্কুলের ছাত্রদের বড় ভূমিকা রয়েছে।

৩. মালয়েশিয়ার সমন্বিত শিক্ষা ব্যবস্থা: মালয়েশিয়া তাদের জাতীয় শিক্ষানীতিতে ধর্মীয় ও আধুনিক শিক্ষার চমৎকার ভারসাম্য তৈরি করেছে। সেখানে অনেক বেসরকারি ও সরকারি মাদরাসা রয়েছে যেগুলোকে 'ইন্টিগ্রেটেড ইসলামিক স্কুল' বলা হয়। তারা রোবোটিক্স, কোডিং এবং আধুনিক বিজ্ঞানের প্রতিযোগিতায় বিশ্বের দরবারে নাম করছে।

৪. কাতার ও সৌদি আরবের এডুকেশন সিটি: কাতার তাদের 'কাতার ফাউন্ডেশন'-এর মাধ্যমে বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে (যেমন নর্থওয়েস্টার্ন, কার্নেগি মেলন) নিজেদের দেশে নিয়ে এসেছে এবং একই সাথে তারা তাদের নিজস্ব ইসলামি ঐতিহ্য ও গবেষণাকে আধুনিক বিজ্ঞানের সাথে যুক্ত করার চেষ্টা করছে।

৫. বাংলাদেশে কওমি মাদরাসার স্বীকৃতি ও আধুনিকায়ন: বাংলাদেশেও কওমি মাদরাসার সর্বোচ্চ ডিগ্রিকে (দাওরায়ে হাদিস) মাস্টার্সের সমমান দেওয়া হয়েছে এবং অনেক মাদরাসায় এখন কম্পিউটার শিক্ষা ও সাধারণ বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে।

এই পরিবর্তনের ফলে দীর্ঘমেয়াদী লাভ:
শিক্ষিত যুবসমাজ ধর্মীয় মূল্যবোধের পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তিতে দক্ষ হয়ে উঠছে।
ধর্মীয় নেতাদের মধ্যে বিজ্ঞান ও সমসাময়িক বিশ্ব রাজনীতি সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা তৈরি হচ্ছে।
চরমপন্থা বা সংকীর্ণ চিন্তাধারা কমে আসছে এবং গবেষণাধর্মী মানসিকতা তৈরি হচ্ছে।

Address

Gobindapur, Khansama
Dinajpur

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Khansama Upazila Dawah Society posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share