21/09/2026
প্রেস বিজ্ঞপ্তি:
আশুলিয়ায় S.SUHI Industrial Park Ltd.-এ গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডে ৭ জনের প্রাণহানি ও কমপক্ষে ১৪ জন আহত: দায়ীদের দ্রুত বিচার, আহতদের উন্নত চিকিৎসা ও ক্ষতিগ্রস্তদের ন্যায়সঙ্গত ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে হবে।
ঢাকার আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় Pretty Group-এর S.SUHI Industrial Park Ltd., জামগড়া, আশুলিয়া, সাভার, ঢাকা-এ গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডে ৭ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু এবং কমপক্ষে ১৪ জন আহত হওয়ার ঘটনায় বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল ওয়ার্কার্স ফেডারেশন (BGIWF) গভীর শোক ও ক্ষোভ প্রকাশ করছে।
২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সন্ধ্যায় সংঘটিত এই ভয়াবহ ঘটনায় শ্রমজীবী মানুষসহ সাধারণ মানুষের প্রাণহানি ও গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, কারখানা চত্বরে একটি কাভার্ড ভ্যান থেকে গ্যাস সিলিন্ডার নামানোর সময় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে এবং পরবর্তীতে আগুন ছড়িয়ে পড়ে।
এ ধরনের শিল্প দুর্ঘটনা কোনোভাবেই শুধুমাত্র “দুর্ঘটনা” বলে দায় এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। গ্যাস সিলিন্ডার পরিবহন, সংরক্ষণ, আনলোড, ব্যবহার এবং কারখানা এলাকায় এর নিরাপদ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, মালিকপক্ষ ও দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের কোনো ধরনের অবহেলা, অনিয়ম বা নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘন ছিল কি না—তা নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য তদন্তের মাধ্যমে অবিলম্বে নির্ধারণ করতে হবে।
বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল ওয়ার্কার্স ফেডারেশন (BGIWF) স্পষ্টভাবে বলতে চায়, শ্রমিকের জীবন কোনোভাবেই উৎপাদন ব্যয় বা ব্যবসায়িক স্বার্থের চেয়ে কম মূল্যবান নয়। কর্মক্ষেত্রে নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করা মালিকপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষের আইনগত ও নৈতিক দায়িত্ব।
বাংলাদেশ ইতোমধ্যে ILO-এর Occupational Safety and Health Convention, 1981 (No. 155) এবং Promotional Framework for Occupational Safety and Health Convention, 2006 (No. 187) অনুমোদন করেছে; এ দুটি কনভেনশন ২০ নভেম্বর ২০২৬ থেকে বাংলাদেশের জন্য কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।
এই মর্মান্তিক ঘটনায় BGIWF-এর পক্ষ থেকে নিম্নলিখিত দাবিসমূহ জানানো হচ্ছে—
১. নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে।
বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ, গ্যাস সিলিন্ডার সরবরাহ, পরিবহন ও আনলোড ব্যবস্থা, নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন এবং দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের অবহেলা বা আইন লঙ্ঘন ছিল কি না—তা দ্রুত তদন্ত করে তদন্ত প্রতিবেদন জনসম্মুখে প্রকাশ করতে হবে।
২. দায়ী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।
তদন্তে মালিকপক্ষ, ব্যবস্থাপনা, গ্যাস সরবরাহকারী, পরিবহনকারী বা অন্য কোনো ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠানের অবহেলা, দায়িত্বহীনতা বা আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে। কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে দায়মুক্তি দেওয়া যাবে না।
৩. আহত সকল শ্রমিক ও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির সর্বোচ্চ মানের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে।
আহতদের চিকিৎসার সম্পূর্ণ ব্যয় দায়িত্বশীল পক্ষকে বহন করতে হবে। গুরুতর দগ্ধ ও আহতদের প্রয়োজন অনুযায়ী বিশেষায়িত বার্ন ইউনিটে উন্নত চিকিৎসা, প্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচার, ওষুধ, পুনর্বাসন এবং দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে।
৪. নিহতদের পরিবারকে অবিলম্বে যথাযথ ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন দিতে হবে।
নিহতদের পরিবারকে শুধু তাৎক্ষণিক আর্থিক সহায়তা নয়, তাদের ভবিষ্যৎ জীবন-জীবিকা বিবেচনায় নিয়ে প্রযোজ্য জাতীয় আইন, আন্তর্জাতিক শ্রমমান এবং কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু ও ক্ষতির ক্ষেত্রে স্বীকৃত ক্ষতিপূরণ নীতিমালা অনুযায়ী পূর্ণাঙ্গ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
৫. আহতদের শারীরিক ক্ষতির পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে হবে।
যেসব শ্রমিক স্থায়ীভাবে কর্মক্ষমতা হারিয়েছেন বা ভবিষ্যতে কর্মক্ষমতা হ্রাসের শিকার হবেন, তাদের চিকিৎসা, পুনর্বাসন, আয়-ক্ষতি ও স্থায়ী অক্ষমতার বিষয় বিবেচনায় নিয়ে যথাযথ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
৬. নিহত ও আহতদের পরিবার ও ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে আলোচনা করে ক্ষতিপূরণের পরিমাণ নির্ধারণ করতে হবে।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মতামত উপেক্ষা করে একতরফাভাবে কোনো ক্ষতিপূরণের অঙ্ক নির্ধারণ করা যাবে না। ক্ষতিপূরণ প্রদানের পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।
৭. আশুলিয়াসহ দেশের সব শিল্পপ্রতিষ্ঠানে জরুরি নিরাপত্তা পরিদর্শন করতে হবে।
গ্যাস সিলিন্ডার, বয়লার, বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা, অগ্নিনিরাপত্তা, জরুরি বহির্গমন পথ এবং অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবস্থাপনা নিয়ে অবিলম্বে বিশেষ পরিদর্শন পরিচালনা করতে হবে। ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
আমরা মনে করি, একটি প্রাণহানি কোনো পরিসংখ্যান নয়—প্রতিটি নিহত শ্রমিকের পেছনে রয়েছে একটি পরিবার, একটি জীবিকা এবং একটি ভবিষ্যৎ। তাই শুধু ক্ষতিপূরণ দিয়ে দায় শেষ করার সুযোগ নেই। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন, দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং ভবিষ্যতে একই ধরনের প্রাণহানি প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
আমরা সরকার, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এবং সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি—S.SUHI Industrial Park Ltd.-এর এই মর্মান্তিক ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের বিচার, আহতদের উন্নত চিকিৎসা এবং নিহত ও আহতদের পরিবারকে ন্যায়সঙ্গত ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত বিষয়টি কোনোভাবেই চাপা দেওয়া বা শুধুমাত্র প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না।
শ্রমিকের নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও মালিকপক্ষের দায়িত্ব। এই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার জন্য জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।
বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল ওয়ার্কার্স ফেডারেশন (BGIWF)
ঢাকা, বাংলাদেশ
তারিখ: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬