01/04/2026
“উত্তরাধিকার বঞ্চনা: বাংলাদেশের মুসলিম সমাজের সব চেয়ে বড় অপরাধ “
এই সম্পত্তি চোরদের সামাজিকভাবে প্রত্যাখ্যান ও প্রতিহত করুণ
বাংলাদেশের মুসলিম সমাজে উত্তরাধিকারসূত্রে সম্পত্তি বণ্টন একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয়, সামাজিক ও আইনগত বিষয়। ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী সম্পত্তি বণ্টনের বিধান অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে নির্ধারিত হয়েছে, বিশেষ করে আল-কুরআন-এর সূরা আন-নিসা (৪:৭, ৪:১১, ৪:১২)-এ উত্তরাধিকারীদের নির্দিষ্ট অং উত্তরাধিকার বঞ্চনা: বাংলাদেশের মুসলিম সমাজের সব চেয়ে বড় অপরাধশ নির্ধারণ করা হয়েছে। তবুও বাস্তবতা হলো, বাংলাদেশে বহু ক্ষেত্রে হকদারদের—বিশেষ করে নারী সদস্যদের—তাদের ন্যায্য সম্পত্তির অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়, যা একটি গুরুতর সামাজিক অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
প্রথমত, বিভিন্ন গবেষণা ও জরিপে দেখা যায় যে, গ্রামীণ বাংলাদেশে প্রায় ৬০–৭০% নারী তাদের পৈতৃক সম্পত্তির অংশ বাস্তবে পান না। Bangladesh Bureau of Statistics এবং বিভিন্ন এনজিওর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সামাজিক চাপ, পারিবারিক প্রথা এবং অজ্ঞতার কারণে নারীরা প্রায়ই তাদের অধিকার দাবি করতে পারেন না। অনেক ক্ষেত্রে ভাই বা পুরুষ আত্মীয়রা সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতা ব্যবহার করে নারীদের অংশ থেকে বঞ্চিত করেন।
দ্বিতীয়ত, ধর্মীয় নির্দেশনার ভুল ব্যাখ্যা এবং অজ্ঞতা এই সমস্যাকে আরও জটিল করে তোলে। যদিও ইসলামে নারীকে উত্তরাধিকারে অংশ দেওয়া বাধ্যতামূলক, অনেকেই মনে করেন যে, বিয়ের সময় যৌতুক বা উপহার দেওয়াই যথেষ্ট। কিন্তু এটি সম্পূর্ণ ভ্রান্ত ধারণা, কারণ ইসলামি আইনে উত্তরাধিকার একটি স্বতন্ত্র অধিকার, যা কোনোভাবেই অস্বীকার করা যায় না।
তৃতীয়ত, আইনি কাঠামো থাকা সত্ত্বেও এর কার্যকর প্রয়োগের ঘাটতি রয়েছে। বাংলাদেশে মুসলিম পারিবারিক আইন ও দেওয়ানি আইন উত্তরাধিকার বিষয়ে সুরক্ষা প্রদান করে, কিন্তু বাস্তবে মামলা-মোকদ্দমার দীর্ঘসূত্রতা, খরচ এবং সামাজিক চাপের কারণে ভুক্তভোগীরা প্রায়ই আইনের আশ্রয় নিতে অনীহা প্রকাশ করেন।
এই সমস্যার সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাবও গভীর। নারীরা সম্পত্তির অধিকার থেকে বঞ্চিত হলে তাদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা দুর্বল হয়, যা দারিদ্র্য ও বৈষম্যকে বাড়িয়ে তোলে। একই সঙ্গে এটি সমাজে ন্যায়বিচার ও সাম্যের ধারণাকে ক্ষুণ্ন করে।
সমাধানের জন্য কয়েকটি পদক্ষেপ জরুরি। প্রথমত, ধর্মীয় শিক্ষার সঠিক প্রচার নিশ্চিত করতে হবে, যাতে মানুষ বুঝতে পারে যে উত্তরাধিকার বণ্টন একটি ফরজ দায়িত্ব। দ্বিতীয়ত, আইনের কার্যকর প্রয়োগ এবং সহজলভ্য বিচারব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। তৃতীয়ত, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি ও নারীদের ক্ষমতায়নের মাধ্যমে তাদের অধিকার দাবি করার সক্ষমতা বাড়াতে হবে।
সর্বোপরি, হকদারদের সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করা শুধু একটি সামাজিক অন্যায় নয়, বরং এটি ধর্মীয় ও নৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকেও গুরুতর অপরাধ। একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের জন্য এই প্রথার অবসান অপরিহার্য।