13/03/2026
মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ, বীর বিক্রম-এর বর্ণাঢ্য জীবনের বিস্তারিত বিবরণ নিচে দেওয়া হলো:
প্রাথমিক জীবন ও শিক্ষা
জন্ম: তিনি ১৯৩৯ সালের ২৯ অক্টোবর ভোলার লালমোহনে জন্মগ্রহণ করেন।
পরিবার: তাঁর বাবা আজহার উদ্দিন আহমদ একজন চিকিৎসক ছিলেন এবং পাকিস্তান আমলের প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
শিক্ষা: তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে মাস্টার্স ডিগ্রি সম্পন্ন করেন এবং পরবর্তীতে পাকিস্তান মিলিটারি একাডেমি থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।
ক্রীড়াঙ্গনে সাফল্য
রাজনীতি ও সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার আগে তিনি একজন তুখোড় অ্যাথলেট ও ফুটবলার ছিলেন।
দ্রুততম মানব: ১৯৬৪ থেকে ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত টানা তিন বছর তিনি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের 'দ্রুততম মানব' হিসেবে রেকর্ড গড়েছিলেন।
ফুটবল ক্যারিয়ার: তিনি পাকিস্তান জাতীয় ফুটবল দলের নিয়মিত সদস্য ছিলেন এবং ১৯৬৭ সালে আন্তর্জাতিক অভিষেক হয়। ১৯৬৮ সালে তিনি পাকিস্তান জাতীয় দলের অধিনায়কত্ব করেন।
সম্মাননা: ফুটবলে তাঁর অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৪ সালে তিনি ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা থেকে 'ফিফা অর্ডার অফ মেরিট' সম্মাননা লাভ করেন।
সামরিক জীবন ও মহান মুক্তিযুদ্ধ
কমিশন: ১৯৬৮ সালে তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ১ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট হিসেবে কমিশন লাভ করেন
কামালপুর যুদ্ধ: ১৯৭১ সালের ৩১ জুলাই জামালপুরের কামালপুরে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে এক ভয়াবহ সম্মুখযুদ্ধে তিনি নেতৃত্ব দেন। এই যুদ্ধে তাঁর অসামান্য বীরত্বের জন্য বাংলাদেশ সরকার তাঁকে 'বীর বিক্রম' খেতাবে ভূষিত করে।
অবসর: দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেন এবং পরবর্তীতে মেজর পদমর্যাদায় অবসর গ্রহণ করেন।
রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব
নির্বাচনী ইতিহাস: তিনি ভোলা-৩ আসন থেকে মোট সাতবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। ১৯৮৬ ও ১৯৮৮ সালে জাতীয় পার্টি থেকে নির্বাচিত হলেও পরবর্তীতে স্বতন্ত্র ও বিএনপিতে যোগ দিয়ে সংসদ সদস্য হন।
মন্ত্রিত্ব:
খালেদা জিয়ার সরকারে তিনি বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী (১৯৯৬) এবং পরবর্তীতে পাটমন্ত্রী ও পানিসম্পদ মন্ত্রী (২০০১-২০০৬) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
২০২৬ সালের নতুন মন্ত্রিসভায় তিনি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত হন
বর্তমান অবস্থান: ১২ মার্চ ২০২৬ তারিখে তিনি ১৩শ জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত হন এবং একই দিনে মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছে শপথ গ্রহণ করেন।