30/11/2022
২৯ নভেম্বর ২০২২
ফেইসবুকে লাফালাফির বর্তমান বিষয় হইতেছে জনৈক ‘ধার্মিক’ পোলার ‘এক্সপোজড’ সেক্সচ্যাট। পোলার নাম আমি ইচ্ছাকৃতভাবে গোপন রাখলাম। আপনারা যদি নাম জাইনা থাকেন, তো ভালো। যদি না জাইনা থাকেন, তো আরও ভালো। এই পোলা ফেইসবুকে ধর্মীয় নৈতিক ফুললতাপাতাময় বাণী দেন। তো উনার বিরুদ্ধে অভিযোগ হইতেছে, উনি নিজের প্রেমিকা রাইখা দশ পনেরোজন মাইয়া বান্ধবীদের সাথে প্রেমের গোবর মাখানো ঢিস্টিং ঢিস্টিং সেক্সচ্যাট করেন, ন্যাংটা ছবি ও ভিডিও চালাচালি করেন, সেই ছবি রেডিট বা বিভিন্ন পর্ন সাইটে আপলোড দেন, উনাদের সাথে নিজের সেক্সুয়াল ফ্যান্টাসি শেয়ার করেন।
তো দিন দুয়েক আগে উনার এই বান্ধবীরা উনার সমস্ত সেক্সচ্যাট ফেইসবুকে পাবলিশ কইরা দেন। বিষয় শুধুমাত্র ভাইরাল হইয়াই শেষ হয় না, উনাগো গুগোল ড্রাইভে শেয়ার করা সমস্ত স্ক্রিনশট কিছুক্ষণের মধ্যে কয়েক মিলিয়ন ভিউ এবং কয়েক হাজার শেয়ার হইয়া ফেইসবুক টপ ট্রেন্ডিং-চার্টে উইঠা যায়। লোকজন ধুমায়ে পোলারে গালিগালাজ শুরু করেন, উনার বক্তব্য লইয়া হাসাহাসি শুরু হয়, অল্প সময়ের মধ্যে বিভিন্ন মিম তৈরি হইয়া বিভিন্ন ট্রোলিং সাইটের মারফত সার্কুলেট হইতে থাকে, মাইয়ারা পোলামানুষ কত খারাপ হয়, আর পোলারা ‘এই পোলা’ কত খারাপ- এই নিয়া বিজ্ঞ মতামত দেওয়া শুরু করেন।
না। আমারে ভুল বুঝবেন না। আমি ঐ পোলা রক্ষা প্রকল্পের অংশ হিসাবে এই লেখা প্রসব করতে পানিতে নামি নাই। আমি লিঙ্গসূত্রে মাইয়া হিসাবে এমনকি কমু না, পোলামানুষ এমনই হন। আমি কমু না, বহুগামিতা মানুষের এভোলুশনারি চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য, [যেইটা অবশ্য সত্য]; আমি কমু না, বিয়া থাকলে পরকীয়া থাকবো, আমি কমু না, সিস্টেম থাকলে সিস্টেম বাগ থাকবো [যেইটাও সত্য]।
আমার বক্তব্য খুব সিম্পল।
তবে মূল বক্তব্যে যাওয়ার আগে আমি আপনাদের মনে করায়ে দিতে চাই যে, সেক্সচ্যাট করা কোনো ফৌজদারি, এবং এমনকি নৈতিক অপরাধও না। দ্বিপাক্ষিক [বা বহুপাক্ষিক] সম্মতিতে একসাথে পঞ্চাশজন বা পঞ্চাশ মিলিয়ন [বা আরও বেশি] প্রাপ্তবয়স্ক সুস্থ মানুষদের মধ্যে সেক্সচ্যাট কোনো অপরাধ না। সেই সেক্সচ্যাটে রসময় গুপ্তিয় মা খালা নানী দাদী সবিতা ভাবী সবার সাথে শুইয়া পড়ার কল্পনা, বা সেক্সুয়ালি আপনারে ‘Two girls in a cup’ [If you know, you know] উত্তেজিত করে কিনা- তা অন্যের মাথাব্যথার বিষয় না। আপনার আমার কাছে সেক্সুয়াল অনেক বিষয় যতই রিপালসিভ হোক না কেন, আপনার সেই আলাপ শুইনা যতই গা ঘিনঘিন করুক না কেন, বমি আসুক না কেন, আপনি এই ধরণের আলাপ শুইনা যতই আশ্চর্য হন না কেন, আমি আপনারে গ্যারান্টি দিয়া বলতে পারি, এই ধরণের প্রচুর ফেটিশ নারী পুরুষ ট্রান্সজেন্ডার সবার মধ্যে কমবেশি আছে। এবং এই ধরণের ফেটিশ খুব অপ্রচলিত বিষয় না। উদাহরণ দেই। আপনারা জাইনা আশ্চর্য হবেন যে, প্রচুর মেয়ের মধ্যে ধর্ষণ সংক্রান্ত ফেটিশ আছে এবং আপনার আশেপাশের প্রচুর পুরুষের মধ্যে নিজের মা সংক্রান্ত, নিজের আপন বোন সংক্রান্ত ফেটিশ আছে। মানুষ সঙ্গত কারণেই এইসব ‘পলিটিকালি ইনকারেক্ট’ ফেটিশের কথা স্বীকার করেন না, কিন্তু তাতে তাদের অস্তিত্ব নাই হইয়া যায় না।
এখন কথা হইলো, এই যে এই পোলা এতোগুলি মাইয়ার সাথে এই সেক্সচ্যাট করছেন, এই যে উনি ন্যাংটা ছবি ও ভিডিও চালাচালি করছেন, তা কি ঐ মাইয়াদের অসম্মতিতে করছেন? তা তো করেন নাই। আমি যদি কারুর সাথে সেক্সচ্যাটে রাজি না হই, তাইলে কিভাবে একজন মানুষ আমার সাথে সেক্সচ্যাট করেন? সেক্সচ্যাট তো ধর্ষণ না, সেক্সচ্যাটে তো সকল ইনভলড পক্ষের সমান শক্তি থাকে। আমি যদি কারুর সাথে ঐ জাতীয় আলাপে রাজি না থাকি, আমি তো কিছু শুরু হওয়ার আগেই ঐ পক্ষরে জানায়ে দিবো, আমি এই আলাপে রাজি না। এবং কেউ যদি আমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে আমার সাথে সেক্সুয়াল আলাপের বিন্দুমাত্র ইঙ্গিত দেন, তো আমি তো সাথে সাথে সেই মানুষরে ব্লক কইরা দিবো। আমি কেন সেই কাজ করি নাই? কেন আমি স্বেচ্ছায় সজ্ঞানে সুস্থ মস্তিষ্কে বিনা প্ররোচনায় নিজের ন্যাংটা ছবি ঐ মানুষরে সাপ্লাই দিয়া এখন যে কোনো কারণেই হোক নিজের নাম গোপন কইরা উনারে এক্সপোজ করবো? সেই নৈতিক অধিকার কি আমার আছে?
নাই।
এইক্ষেত্রে ঐ পোলারে যদি ধরতে হয়, তাইলে ঐ পোলার সাথে তাল দিছেন, এমন প্রতিটা মেয়েরেই তো ধরা উচিত। নাকি?
আমারে বলেন। পুরুষ হিসাবে একসাথে পনেরোজন মেয়ের সাথে ইটিশপিটিশ চালানোও কি ফৌজদারি অপরাধ? ঐ মেয়েরা কয়জনের সাথে একইসাথে একই কাজ করেন, তার কি প্রমাণ আছে কোথাও?
প্লাস। আপনি কি দ্বিপাক্ষিক সম্মতিতে চলা সেক্সচ্যাটরে যৌন নির্যাতন বইলা চালানোর অধিকার রাখেন? যদি না রাখেন, তাইলে কী কারণে এক পক্ষরে বাদ দিয়া অন্য পক্ষরে দোষ দেওয়া হবে?
এ্যালা আসেন আমার মূল বক্তব্যে।
সম্ভবত এইসব রগরগা যৌন আলাপ শুইনা একটা অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আপনাগো চোখ এড়ায়ে গেছে। বিষয়টা হইতেছে, ঐ পোলা সেক্সচ্যাটের সূত্রে প্রাপ্ত মেয়েদের ন্যাংটা ছবি উনাদের সম্মতি ছাড়া বিভিন্ন পর্ন সাইটে আপলোড করছেন। এই অভিযোগ যদি সত্য হয়, তাইলে- এইটা একটা ফৌজদারি অপরাধ। এইটা একটা ভয়ংকর ফৌজদারি অপরাধ।
এ্যালা 'ভিকটিম' আফাগো কাছে আমার প্রশ্ন হইলো, যেই ফৌজদারি অপরাধের জন্য আপনাগো ঐ পোলার বিরুদ্ধে মামলা করার কথা, তা না কইরা আপনারা উনারে পাবলিক শেইমিং করতে নামছেন কী কারণে? ফেইসবুকরে উচ্চ আদালত বানাইতে গেছেন কী কারণে?
ফাত্রামি চোদান নাকি আপনারা?
আচ্ছা। হাজি সাহেবের মুখ খারাপ কইরা আমিই কই কারণটা। কারণটা কী এই যে, এইখানে, এই ঘটনায় আপনার যা ভূমিকা আছে, সেই ভূমিকা যদি আদালতে প্রকাশ পায়, তাইলে পোলার শাস্তি হইলে আপনারও শাস্তি হওয়ার কথা, সুতরাং নিজের দায় এড়াইতে আপনি ফৌজদারি অপরাধের মতো বিষয়রে গিলা খায়ে ফেইলা পোলারে মব ট্রায়ালের সামনে ফালায় দিছেন, কারণ এই কাজ সহজ? কারণ আপনি জানেন, একজন পুরুষরে লুইচ্চা [Whatever that means] প্রমাণ করা সহজ, এবং সেই পুরুষ যদি একইসাথে দশজনের সাথে পুটুরপুটুর চালান, তারে চরিত্রহীন [Whatever that means] বানানো সহজ। কারণ কী এই যে, আপনারা মাইয়াগুলি যে ফেইসবুকে নারী স্বাধীনতার বড় বড় আলাপ দিয়া, মাথায় তিন হাত হিজাব পিন্দা, ‘সেক্স কী জিনিস জানি না, সেক্স কি খায় না মাথায় দেয়?’ বাণী দিয়া ‘এ্যাই না ছিঃ! কী বলো’ মার্কা লজ্জায় লাল নীল বেগুনি হইয়া ডাঙ্গায় বইসা কাৎলা মাছ স্টাইলে খাবি খাইয়া খুব সতীস্বাধ্বী সাইজা ঐ পোলার মতো এক কোটি আম্রিকান সিটিজেনের কান্ধে ভর দিয়া, উনাগো সিংহ রাশি আর আপনার মীন রাশির ঐশ্বরিক গিট্টু দিয়া উনাগো কাছ থিকা দামিদামি ম্যাকের লিপস্টিক আর প্রাডার ঝিনচাক ব্যাগ উপহার নিয়া, উনাগো পয়সায় ওয়েস্টিন আর নর্থএন্ডে বড়লোকি চোদায়া দিনশেষে নিজেগো উত্তমাঙ্গে উত্থান পতনের ন্যাংটা ছবি টোপ হিসাবে ব্যবহার কইরা যে রাঘববোয়াল শিকারের ধান্ধায় পুকুরপাড়ে বইসা থাকেন সারাদিন, সেই সত্য প্রকাশ করার চাইতে একজন মানুষরে মব ট্রায়ালের মুখে ফালায়ে দেওয়া সহজ?
না। আমি বলতেছি না, ঐ পোলা খুব শুদ্ধ পুরুষ।
আমি বলতেছি, ঐ পোলা যতদূর ফাত্রা, আপনারা মাইয়াগুলি তার চাইতে কম ফাত্রা না। এবং ফৌজদারি অপরাধরে মব ট্রায়াল বানানোর জন্য আপনারা উনার চাইতে দুই লাইন বেশি ফাত্রা। এবং দয়া কইরা এখন গান গাওয়া শুরু করবেন না এই বইলা যে, আমি ভিকটিম ব্লেইমিং করতেছি। কারণ আমি মনে করি, [পর্নসাইটে ছবি আপলোড বাদে] আপনারা এই ঘটনায় যুক্ত মাইয়ারা কেউ ভিকটিমই না। এইক্ষেত্রে ভিকটিম যদি কেউ থাকেন, তাইলে তা হবেন একজনই। তিনি ঐ পোলার প্রেমিকা। অবশ্য উনার ব্যাপারেও আমি নিশ্চিত না।
তাই আপনারা ফেইসবুকবাসীরা লাফালাফি থামান। যেই ঘটনার জন্য দুই পক্ষ সমানভাবে দায়ী, সেই ঘটনায় শুধুমাত্র এক পক্ষরে শাস্তি দিয়েন না। এবং ব্যক্তিগত পরিসরে চালাচালি করা ন্যাংটা ছবি পর্ন সাইডে আপলোড করার মতো ফৌজদারি অপরাধরে [যদি ঘইটা থাকে], মব ট্রায়ালের মাধ্যমে খাটো কইরা ফেইলেন না।
'ভিকটিম' আফারা। এই বেলা আবশ্যিকভাবে মাথায় রাখেন, অন্যরে বেশ্যার দালাল হিসাবে রাস্তায় মাইর খাওয়াইতে চাইলে আপনারও বেশ্যা হিসাবে নিজেরে প্রমাণ করার সম্ভাবনা তৈরি হয়।
তাই নিজে দোষী হইলে অন্যের পাছায় আঙুল ঢুকানোর বদ অভ্যাস ছাড়েন।
আর আপনারা যারা ফেইসবুক লাফাইন্না পার্টি। আপনারা অপরাধ আইডেন্টিফাই করতে শিখেন। শিখেন, কোন বিষয় নিয়া সামাজিকভাবে লাফানো জায়েজ, কোন বিষয়ে চুপ থাকা শ্রেয়। যিনি নিজের কল্পনায় নিজের মা’র সাথে যৌন সম্পর্ক করতেছেন, তারে সেই কল্পনা করার সুযোগ দেন। আপনি রাস্তাঘাটে পাবলিক শেইমিং কইরা সেই কল্পনা বন্ধ করতে পারবেন না। বরং সেই কল্পনা আপনি সামাজিকভাবে ছড়ায়ে দিতেছেন আরও বড় পরিসরে। তাই সব বিষয়ে লাফানো শুরু কইরেন না। মানুষের মনের গোপন গহীনে যে বিষ্ঠা আছে, তারে সেই জায়গায় থাকতে দেন। সেই বিষ্ঠা পাবলিক কইরেন না।
কারণ ফেইসবুকরে একটা বিশাল টাট্টিখানা ঐ পোলা বানান নাই, আপনারা লাফাইন্না পার্টিরাই বানাইছেন।
মাথায় রাখেন, বাংলাদেশ একটা রাষ্ট্র। বাংলাদেশ আপনাগো খাপ পঞ্চায়েত না। তাই রাষ্ট্রের নাগরিক হইয়া উঠেন। এবং নাগরিক হিসাবে প্রথম কর্তব্য হিসাবে গ্রামের খাপ পঞ্চায়েতের মোড়ল স্টাইলে মোরাল পোলিসিং ছাড়েন।
বিনীত
নাদিয়া ইসলাম