শহীদ ওসমান হাদি ফাউন্ডেশন

শহীদ ওসমান হাদি ফাউন্ডেশন শহীদ ওসমান হাদীর জীবনদর্শন ও মানবিক আদর্শ বাস্তবায়নে একটি অলাভজনক চ্যারিটেবল ফাউন্ডেশন। শিক্ষা, সেবা ও ইনসাফের পথে আমাদের পথচলা।

শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদীর স্বপ্ন ও আদর্শকে সমুন্নত রাখার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত একটি অলাভজনক সেবামূলক প্রতিষ্ঠান। ওসমান হাদি তাঁর সারাজীবন ন্যায়, ইনসাফ এবং মানবিক মূল্যবোধের কথা বলে গেছেন। তাঁর সেই অসমাপ্ত কাজগুলোকে এগিয়ে নিতে এবং আর্তমানবতার সেবায় কাজ করে যাওয়াই এই ফাউন্ডেশনের মূল লক্ষ্য।

আমাদের লক্ষ্য:

- মেধাবী ও সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের শিক্ষা সহায়তা প্রদান।

- আর্তমানবতার সেবায় মানবিক কার্যক্র

ম পরিচালনা।

- শহীদ ওসমান হাদীর স্মৃতি সংরক্ষণ ও তাঁর আদর্শ প্রচার।

- একটি ন্যায়ভিত্তিক ও সুন্দর সমাজ গঠনে তরুণদের অনুপ্রাণিত করা।


শহীদের রক্ত কখনো বৃথা যায় না; আমরা তাঁর আদর্শকে ধারণ করে এগিয়ে যেতে চাই।

06/06/2026

ইনকিলাব মঞ্চ বনাম হাদি পরিবার
আজকের এই আলোচিত-সমালোচিত বিষয়টি বুঝতে হলে আমাদের ওসমান গনি, ওসমান হাদি এবং জাবের — এই তিনটা ক্যারেক্টার নিয়ে জানতে হবে।
যদিও আজকের কথাগুলো নিয়ে আরও লেখা হয়েছে, তবুও আজকের বিষয়টি বুঝতে সহায়ক হবে তাই উল্লেখ করছি।
প্রথমত,
ওসমান গনি: পরিবারের সর্বকনিষ্ঠ এবং সর্বাধিক আদর ও ভালোবাসার নাম। তার পূর্বে যিনি পরিবারের সবচেয়ে ছোট এবং স্নেহের জায়গাটা দখল করে ছিলেন তিনি মাসুমা আপা। স্বভাবতই বোনদের একটা ছোট ভাইয়ের সখ একটু বেশিই থাকে। তাইতো বড় দুই ভাই থাকা সত্ত্বেও তিনি মনে মনে খোদার দরবারে একটা ছোট ভাইয়ের কামনা করতেন। খোদাও তার এই নিষ্পাপ চাওয়াকে ফিরিয়ে দিতে পারলেন না এবং তাঁদের পরিবারে ওসমান গনির আগমন হলো।
পরিবারের সবাই কতটা খুশি হয়েছেন তার সকলের তুলনায় মাসুমা আপু সেদিন বেশি খুশি হয়েছিলেন।
খোদা তা'য়ালা তার প্রার্থনা শুনেছেন এর জন্য তিনি হয়তো এজন্য খোদার দরবারে শুকরিয়া আদায় করতে কার্পণ্য করেননি।
যেই ভাইকে তিনি প্রার্থনায় চেয়েছেন তাঁকে স্বভাবতই সবার থেকে বেশি আদর যত্নে নিজ হাতে লালন পালন করবেন এটাই স্বাভাবিক। আপা পড়ালেখায় অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন এবং ঘরের ছোট মেয়ে হওয়ায় জিদও ছিল অনেক। মাসুমা আপা যদি কোনো কিছু বলতো তবে সেটা তিনি করা অবধি দমতেন না। এজন্যই পরিবারের বাকি দুই বোন পড়াশোনা থামিয়ে দিলেও এক প্রকার জিদ করেই পড়ালেখা চালিয়ে যান।
ঘরের দুই কনিষ্ঠ সদস্যের মাঝে আবেগের গভীরতা এবং মিল সেদিন বুঝতে পেরেছিলাম যেদিন কাকা অর্থাৎ তাঁদের বাবা ইন্তেকাল করলেন। পিতার মৃত্যুতে সর্বাধিক শোক পান মাসুমা আপা এবং বলতে গেলে আপা মানসিকভাবে ভারসাম্য হারানোর উপক্রম হয়েছিলেন।
একই কাতারে ছিলেন ওসমান ভাই। আমি তখন পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র ছিলাম তাই আমার স্মরণে আছে কাকাকে কবরে রাখার পর ওসমান ভাই এতোটাই ভেঙে পড়েন যে তিনি কবর ছেড়ে কিছুতেই যেতে চাইছিলেন না। তাঁকে এখানেই থাকার ব্যবস্থা করে দিতে হবে। এক পর্যায়ে এমন হলো যে তাকে দুদিন গ্রামের বাড়িতে রাখার সিদ্ধান্ত হলো। কিন্তু মানসিকভাবে আরো ভেঙে পড়ার ভয়ে পরে তা হয়ে ওঠেনি। ওসমান ভাইকে দুই-তিন জনে ধরে প্রায় চ্যাংদোলা করে জোরপূর্বক নিয়ে যেতে হয়।
পিতার মৃত্যুর পরে মাসুমা আপু দীর্ঘ সময় অত্যন্ত অসুস্থ ছিলেন। তাকে শান্ত রাখতে পারতেন শুধু ওসমান গনি।
আপাও তার পিতার শোক ভুলে ছিলেন ওসমান গনিকে দেখে দেখে।
ওসমান ভাই বাড়িতে এলে তার সাথে যতটুকু সময় থেকেছি তাতে সবচেয়ে বেশি মাসুমা আপুর ফোন কল আসতে দেখেছি। কিছুক্ষণ পরপর কল দিয়ে জিজ্ঞেস করতো, "ওসমান গনি কই তুই?"
এমন হলো যে আমি তার ফোন আসলে আগেই ধারণা করতে পারতাম যে আপা কল দিয়েছে।
বাসায় কি রান্না হবে?
তিনি আজকে কি খেতে চাচ্ছেন?
এসব ছোট খাটো বিষয় থেকে শুরু করে রাজনৈতিক সকল আলোচনা-সমালোচনা সব চলতো তাঁদের মাঝে।
আবার ওসমান ভাই ও ছিলেন এমন যেকোনো বিষয়ে ছোট আপাকে জিজ্ঞেস করা ছাড়া করতেন না।
তাঁরা দুই ভাইবোন যেনো তাঁদের ঘরের ভেতরে আরেক কোরাম।
পরিবারের যেকোনো সিদ্ধান্তে তাঁদের মতামত সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হতো।
দ্বিতীয়ত,
জাবের: জাবের ভাই হলেন ওসমান ভাইয়ের জন্মস্থান নলছিটির এবং বলতে গেলে পাশাপাশি এলাকার সন্তান।
তিনিও ছোটবেলা থেকে মেধাবী ছিলেন। ভাইয়ের সাথে সম্ভবত নেছারাবাদে বসে তার সাক্ষাৎ হয়। একই এলাকার সন্তান এবং একই মাদ্রাসার ছোট ভাই হিসেবে সখ্যতা গড়ে ওঠে যা পরবর্তীতে বন্ধুত্যে রূপ নেয়।
আমি যখন জাবের ভাইকে চিনি তখন আমার মনে হতো জাবের ভাই ওসমান ভাইয়ের আপন ছোট ভাই।
ঢাকা থেকে একসাথে আসা-যাওয়া, চলাফেরা সবকিছুতেই যেনো জাবের ভাই সাথেই থাকতেন।
পরিবারও জাবের ভাইকে পরিবারের অংশ হিসেবে ধরে নেয়।
তৃতীয়ত,
ওসমান হাদি: ওসমান ভাই ছোটবেলা তুখর মেধাবী এবং সৃজনশীল যার ফলে তার প্রিয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নেছারাবাদে নিজের অবস্থান করে নেন।
তার মেধার পরিচয় বহন করে তার এক ক্লাসমেইটদের পড়ানোর বিষয়টিতে।
ভাইয়ের দীর্ঘ ঢাকার জীবনে সম্পূর্ণ আলাদা একটা পরিচয় তৈরি করে ফেলেছিলেন। নিজের আলাদা একটা জগৎ। যদিও তার এই রূপটা তার কাছের মানুষগুলো যারা তার মতোই দেশপ্রেম, সৃজনশীলতা এবং বুদ্ধিভিত্তিক রাজনীতি বুঝতেন।
ভাইয়ের দেশপ্রেম এবং ফ্যাসিবাদবিদ্বেষী মনোভাব এবং ফ্যাসিবাদের জুলুমের বিরুদ্ধে লেখা 'লাভায় লালশাক পূবের আকাশ' বইয়ে দেখতে পাবেন তার শব্দের বোমা।
এরপর জুলাই আসে। ভাই এই আন্দোলনে কতটা সরব ছিলেন তা যারা তার প্রথম ফেসবুক আইডিতে যুক্ত ছিলেন তারা জানেন।
জুলাইয়ে ভাই দিন রাত রাস্তায় থেকেছেন এবং প্রতি মুহূর্তের আপডেট দিয়েছেন আমাদের।
জুলাই-পরবর্তী সময়ে ভাই দেখলেন যে জুলাইকে নিয়ে নামে বেনামে নানা সংগঠন তৈরি হলেও এদের কার্যক্রম জুলাইকে বাঁচিয়ে রাখতে ব্যর্থ হবে। কাউকে না কাউকে তো এই শহীদদের আত্মত্যাগকে বাঁচিয়ে রাখতেই হবে।
সেই চিন্তা থেকেই ভাই প্রতিষ্ঠা করলেন "ইনকিলাব মঞ্চ"।
সঙ্গী হিসেবে তিনি খুঁজে নিলেন বন্ধুতুল্য জুনিয়র জাবের ভাইকে। আরও ছিলেন জুমা, ফাহিম, মিসবাহ, রায়হান প্রমুখ।
প্রাথমিক পর্যায়ে ইনকিলাব মঞ্চের প্রোগ্রামগুলোতে তেমন লোক আসতো না, অধিকাংশই পরিচিত ভাই ব্রাদার থাকতো।
কিন্তু এই সময়ে ভাই যাদের কাছে পেয়েছিলেন তাঁদেরকে তিনি নিজ সন্তানের মতো যত্ন করে আগলে রাখতেন ফলে এই পোলাপানগুলো ভাইয়ের কাছে সবচেয়ে আপনজন হয়ে ওঠে।
এদেরকে নিজ হাতে খাইয়ে দেওয়া থেকে শুরু করে পোলাপানগুলোর কাপড় পর্যন্ত ধুয়ে দিতে দ্বিধা করতেন না।
তার এই ভালোবাসা পেয়ে এরা ওসমান ভাইয়ের পরিবারের অংশ বনে গেলো।
তারা ওসমান ভাইকে তাদের অভিভাবক বানিয়ে নিলো।
নিজেদের ভবিষ্যৎ চিন্তা বাদ দিয়ে তারা ভাইয়ের সাথে দেশ ও মানুষের জন্য কাজ করতে লাগলো।
এর প্রমাণ আপনারা ভাইয়ের অনেক বক্তব্যে বিশেষ করে নির্বাচনের ঘোষণা দেবার পর তার প্রচার প্রচারণা চালানোর কার্যক্রম দেখে অনেকেই উপলব্ধি করেছেন।
এই পোলাপানগুলো খেয়ে না খেয়ে খেটেছে। কোনো স্বার্থ নাই, কোনো বেতন নাই।
শুধু ভাইয়ের ভালোবাসায় এরা নিজেদের সব ভুলে গিয়ে সেন্টারে পড়ে থাকতো।
ধরে নিতে পারেন যদি ভাই আরও পঞ্চাশ বছর বাঁচতেন তবে তিনি নিঃসন্দেহে এদেরকে নিয়েই চলতেন।
এজন্যই তিনি যখন একাধিক হত্যার হুমকি পাচ্ছিলেন তখন এক বক্তব্যে তার অবর্তমানে ইনকিলাব মঞ্চ এবং এই পোলাপানগুলোকে আগলে রাখতে বলেছিলেন।
তারপর ভাই যখন গুলিবিদ্ধ হলেন তখন সম্ভবত দ্বিতীয় ফোন কলটা আমি আপাকে করেছিলাম সত্যতা যাচাইয়ের জন্য।
আপা চিৎকার করে কেঁদে ওঠলেন এবং আমাকে আরও খবরাখবর নিতে বললেন।
মুহূর্তেই খবর ছড়িয়ে পড়ল দেশে। আপা খবর শুনেই কান্নাকাটি শুরু করেন এবং এক পর্যায়ে তাঁকে ধৈর্য ধারণ করাতে ব্যর্থ হলে তাকে নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন। যারা তাঁকে তখন দেখেছেন তারা জানবেন আপা তখন পাগলপ্রায় অবস্থায় কোনোমতে গায়ে বোরখা ও ওড়না পেঁচিয়ে তাও হয়তো কেউ পড়িয়ে দিয়েছেন।
এমতাবস্থায় ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে যান। ওদিকে মেজো ভাই পাশে বসা অবস্থায়, আপন ছোট ভাইয়ের মাথায় গুলি আড়পার হয়ে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটে।
যার সাথে মাত্রই হাসি-ঠাট্টা করছিলেন, মুহূর্তেই সেই ছোট ভাইয়ের তাজা রক্তে ভিজে যাওয়া ভাইয়ের অবস্থাটা একবার চিন্তা করুন।
হয়তো আর একটা গুলি চললে তিনিও মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তেন।
এই রকম ঘটনা মানুষকে কতটা ট্রমায় ফেলতে পারে এটা কেবল তারাই বুঝবেন যারা এমনটা বা এর কাছাকাছি কোনো অবস্থার সম্মুখীন হয়েছেন।
আপা ঢাকা পৌঁছেই এভারকেয়ারে ভাইয়ের কাছে বসে রইলেন। তাঁকে কোনোভাবেই ভাই থেকে আলাদা করা যাচ্ছে না। খাওয়া দাওয়া সব ভুলে ভাইয়ের কাছে পড়ে রইলেন যতক্ষণ না পর্যন্ত ভাইকে সিঙ্গাপুর নেওয়ার জন্য বের না করা হয়।
ওদিকে ওমর ভাই, ভাইয়ের উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশের বিভিন্ন হাসপাতালে কথা বলছিলেন।
যদিও তিনি তখন ট্রমার ভিতরে থেকেও নিজেকে শান্ত রাখার এবং দায়িত্বশীল ভাইয়ের পরিচয় দিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন।
এমতাবস্থায় তৃতীয় এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ছিলেন জাবের ভাই।
থানা থেকে কাউকে বাদী হয়ে মামলা করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
এক বোন হাসপাতালে ভাইয়ের কাছে থেকে কিছুতেই নড়তে বিমুখ; অন্যদিকে এক ভাই যার কাঁধে, শরীরে এখনও আপন ছোট ভাইয়ের রক্ত শুকিয়ে লেগে আছে।
এই বাদে কেবল একজন সহযোদ্ধা ছিলেন জাবের ভাই।
যিনি তার সহযোদ্ধাকে হারিয়ে একা হয়ে গিয়েছেন। এখন তার মননে মগজে কেবল এই চিন্তা — কিভাবে তাঁর সহযোদ্ধাকে বাঁচাবেন, কিভাবে দেশের ক্ষিপ্ত হাদি প্রেমিদের শান্তনা দেবেন, কিভাবে ভাইয়ের উপর হওয়া হামলার প্রতিবাদ করবেন — এই নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে।
ভেতরে পরিবার সামলাচ্ছিলেন চিকিৎসার দিক, আর বাহির সামলাতে লাগলেন জাবের ভাই।
পরিবারের এই শোকাবহ অবস্থায় এই মামলা করার বিষয়টি তিনি নিজে বাদী হয়ে মামলা করেন।
এবং সে পরিস্থিতিতে এটা আসলেই একটা সঠিক সিদ্ধান্ত এবং দায়িত্বশীল সহযোদ্ধার পরিচয় দেন জাবের ভাই।
এতে পরিবারের কারোরই কোনো দ্বিমত ছিলো না।
আর এতোদিন পর্যন্ত এ নিয়ে কারোরই কোনো সংকোচ ছিলো না।
সেদিন যখন মমতা ব্যানার্জি ভাইয়ের হত্যায় ভারতের যুক্ত থাকার বিষয়টি উল্লেখ করেন তার পর পরই এই কথাটি ছড়িয়ে পড়ে।
এখন আপনাদের কাছে আমার প্রশ্ন: আপনি কাকে দোষারোপ করবেন?
একজন বোনকে যার অবস্থা তখন পাগলপ্রায়, নাকি একজন ভাইকে যিনি ভাইয়ের রক্ত লাগা শরীরে পাথর হয়ে আছেন?
নাকি একজন সহযোদ্ধাকে যিনি তার বন্ধু, সহযোদ্ধা এবং অভিভাবককে হারিয়ে নিঃসঙ্গ হয়ে গিয়েছেন?
তিনি জানেন এর পরবর্তী টার্গেট হয়তো তিনি হবেন।
এখানেই সংস্থা একটা কঠিন চাল চেলেছে — আপন ভাইয়ের প্রতিষ্ঠিত সংগঠন এবং বিশ্বস্ত লোকগুলোকে আপন ভাই-বোনের বিরুদ্ধে দাঁড় করিয়ে দিয়ে।
তাঁরা চায় পরিবারের সাথে যেনো প্রতিষ্ঠানের একটা দূরত্ব সৃষ্টি হয়, আর এই দূরত্বের মাঝে দাঁড়িয়ে তারা আমাদের এই লড়াইকে ভেস্তে দিবে।
তাঁদের করা প্লান কিছুটা কাজ করলেও পরে তা ব্যর্থ হয় এবং পরিবার থেকে মাসুমা আপা তাকে দমে না গিয়ে কোনোমতে নিজেকে সামলে নিয়ে লড়াই — ভাই হত্যার বিচারের দাবিতে সরব হয়ে ওঠেন এবং একই সাথে তার ভাইয়ের রেখে যাওয়া সাংস্কৃতিক লড়াইটাকে চালিয়ে নিতে শুরু করেছেন।
এই দেখে সংস্থার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে, কিন্তু তারাও তো মাঝপথে থামবার না, তাই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে — কখনো এই বিষয়, তো কখনো ওই বিষয়।
সামনে আরো চলবে। আরো কঠিন চেষ্টা চালাবে এই লড়াইকে বন্ধ করে দিতে।
আমরা যারা হাদি প্রেমি আছি আমাদের মনে রাখতে হবে: ইনকিলাব মঞ্চ তাদের প্রতিষ্ঠাতা এবং সহযোদ্ধার হত্যার বিচারের চেষ্টা করছে, একইসাথে ইনকিলাব মঞ্চের যে কাজ — দেশের অভ্যন্তরে হওয়া অন্যায়ের প্রতিবাদ করা — সেটা তারা করছে।
আর তার বোন মাসুমা হাদি তার ভাই হত্যার ন্যায় বিচার এবং একজন বিপ্লবীকে হত্যার প্রতিবাদের লড়াই লড়ছেন।
তাঁদের লক্ষ্য, লড়াইয়ের জায়গা এক, কিন্তু তাঁদের অবস্থান ভিন্ন।
তারা অভিন্ন। আমাদের লড়াই অভিন্ন।
পরিবার এবং প্রতিষ্ঠানকে পৃথক করে বা তাঁদের আলাদা করে নয়, বরং আপনি যেখানে সুযোগ পান সেখান থেকেই এই লড়াই লড়ুন — এটাই হবে বিপ্লবী ওসমান হাদির প্রতি আপনার ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ।
ইনকিলাব জিন্দাবাদ। Mmd Sherajul Islam

06/06/2026

অমিত শাহরা হাদিকে ঠিকই চিনেছিল কিন্তু এদেশের কিছু নাদান সাংবাদিক/বুদ্ধিজীবী (যারা নজরুলের কবরের পাশে হাদির কবর দেখে অবাক হয়েছেন) তারা এখনও চিনতে পারে নাই। মমতাকে রাজসাক্ষী ধরে অমিত শাহর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে হাদি হত্যার মামলা করা উচিত।

এই মতলববাজ ও ভারতের পদলেহী সাংবাদিক,বিনোদনজগতের কথিত তারকা ও বুদ্ধিজীবীদের নিজ নিজ জায়গা থেকে পরিত্যাগ করুন,ইগনোর করুন। এরা চরিত্রগতভাবে অত্যন্ত শঠ। মাঝে মাঝে নিজের অবস্থান ধরে রাখার জন্যে আপনাদের খুশি করার জন্যে চটকদার/ সত্য কথা বলেন! তখন তাদের এসব কথাকে নিজের জন্যে প্রয়োজনীয় জ্ঞান করে লাইক/শেয়ার/কমেন্ট করে প্রচার করবেন না! তাতে এই মতলববাজেরা নতুন লাইফ পেয়ে আবারও দেশপ্রেমিক ব্যক্তি বা গ্রুপের চরিত্র হননের সুযোগ পায়। কাজেই এদেরকে পুরাপুরি ইগনোর করুন!
Minar Rashid

06/06/2026

হাদি হ/ত্যা/র পাপ তারা হজম করতে পারছে না,,,
, #শহীদ_ওসমান_হাদি_ফাউন্ডেশন

06/06/2026

হাদি, কে হাদির বক্তব্য কোথাও না কোথাও, মানুষকে টা"চ" করছে,
হাদির বক্তব্য দিল্লির দাদাবাবুদের মসনদ কেঁপে উঠতো, দিল্লির দালালদের টা"চ" করতো হাদির বক্তব্য,,
এজন্যই তারা হাদিকে সরিয়ে দিয়েছে,,
#শহীদ_ওসমান_হাদি_ফাউন্ডেশন,

05/06/2026

Another Friday without Justice,,, 😢😢
, #শহীদ_ওসমান_হাদি_ফাউন্ডেশন

05/06/2026


শহীদ হাদির বিচারের দাবিতে সবাইকে এক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলনে নামতে হবে। ইনকিলাব মঞ্চ আর হাদির পরিবারের মধ্যে কোন ধরনের বিভাজন থাকতে পারবে না।
ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হবার পর থেকেই খুনি চক্র ইনকিলাব মঞ্চের জাবের, জুমা, বোরহানকে পরিবারের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিছে। ইনকিলাব মঞ্চ হাদির রাজনৈতিক সংগঠন আর পরিবার দুইটা আলাদা বিষয়।

আমি ইনকিলাব মঞ্চের লিয়াজোঁ উইং এর কো-অর্ডিনেটর এবং হাদির সহযোদ্ধা ভাই। হাদি শহীদ হওয়ার পরে ইনকিলাব মঞ্চ হাদির পরিবারকে ইগনোর করার চেষ্টা করছে। পরবর্তীতে পরিবার বলতে স্ত্রী-সন্তান এবং মাকে endorse করার চেষ্টা করছে। বাস্তবে ওসমানের পরিবার বলতে স্ত্রী-সন্তান, বাবা-মা, ভাই-বোন সবাই। বাংলাদেশে নিরাপত্তাহীনতার কারনেই ওসমানের পরিবার নিয়ে আমি ইংল্যান্ডে আসার চেষ্টা করছি। পরিবার রাজি হয়নি আমি একা আসছি। ওসমানের মত শক্তিমান মানুষকে হত্যা করছে, তাকে নিরাপত্তা দিতে পারে নাই! আমার নিরাপত্তা কে দিবে? সরকার আমাকে নিরাপত্তা দিলে আমি ঢাকায় ফিরে হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে রাজপথে আন্দোলন করবো।

লাস্ট দুই দিন যে ন্যারেটিভ তৈরি হইছে, "নিরাপত্তার কারনে রক্তের সম্পর্কের কেও বাদি হতে চাইনি" এটা সত্যি না। কিন্তু জাবের বা ইনকিলাব মঞ্চের কেও এটা ডিফেন্স করে নাই। বাধ্য হয়েই আমার আপু বিষয়টা সামনে আনছে। দেখেন- ভাই-বোনরা যদি বাদি হতে না চাই, তাহলে ওসমান হাদির স্ত্রী বাদি হবে। সেও যদি না চাই তাহলে ওসমান হাদির মা বাদি হবে। জাবের বাদি হইছে এটা কোন সমস্যা ছিলো না, সমস্যা হইলো জাবেরকে হিরো বানাতে গিয়ে শহীদ ওসমান হাদির পরিবারকে চরমভাবে অপমানিত করা। আসুন বাংলাদেশ পন্থী সব মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে হাদি হত্যার বিচার আদায় করি। হাদি বাংলাদেশের স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্বের রেড লাইন। Sharif Omar Hadi

05/06/2026

হাদির ভাইকে নিয়ে নতুন ধোঁয়াশা! ওমর হাদির বিষয়ে স্পষ্ট বার্তা দিলেন বড় বোন মাসুমা হাদি |
, #শহীদ_ওসমান_হাদি_ফাউন্ডেশন,

05/06/2026

শহীদ ওসমান হাদি হ/ত্যা/র বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল,,
, , #শহীদ_ওসমান_হাদি_ফাউন্ডেশন

হাদি হ/ত্যার বিচার চাই✊
05/06/2026

হাদি হ/ত্যার বিচার চাই✊

05/06/2026

আমি আমার ভাইয়ের মামলার বাদি
নিয়ে কিছুই বলতে চাচ্ছিলাম না। কারণ এর চেয়েও অনেক ভয়ংকর
ষড়যন্ত্র চালিয়েছে আমাদের পরিবারের বিরুদ্ধে। সেই বিষয়েও এখন অব্দি আমি মুখ খুলিনি। শুধুমাত্র আমার ভাইয়ের জন্য।

আমি মুখ খুললে সবার একটাই প্রশ্ন সামনে আসবে যে, আমার ভাইয়ের আসেপাশে যারা থাকে, তার পরিবারকে নিয়ে এই ভয়ংকর ষড়যন্ত্রে কীভাবে লিপ্ত হতে পারে! কিন্তু দুই দিন ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় আমার ভাইয়ের
মামলার বাদী হওয়া নিয়ে যে পরিমাণ নোংরামি হচ্ছে, বাধ্য হয়ে আজকে সম্পূর্ণ বিষয়টা পরিষ্কার করলাম।

আমার ভাই যেদিন গুলিবিদ্ধ হলো, সেই সংবাদ শোনা মাত্র আমি ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেই, এবং সরাসরি এভার কেয়ার হাসপাতালে চলে যাই। হাসপাতালে যাওয়ার পর থেকে এক মিনিটের জন্য আমি হাসপাতাল ছেড়ে বাসায় যাওয়া তো দূরের কথা ওসমান গণিকে ছেড়ে ১ মিনিটের জন্য আমি নিচতলায় পর্যন্ত যাইনি।

এখন আমার প্রশ্ন প্রশাসনের লোক এভার কেয়ারে এসে জাবেরের কাছ থেকে সাইন নিল কেন? আর আমি উপস্থিত থাকাকালীন জাবের সাইন দিবে কেন? এ নিয়ে আমি বহুবার প্রশ্ন করেছি। আমাকে বুঝানো হয়,যে ওমরের কাছে নাকি গিয়েছিল, ওমর বলছে এখন আমারা চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত। চিকিৎসা সম্পন্ন হলে এই বিষয়গুলো দেখা যাবে। চিকিৎসা ব্যতীত এই মুহূর্তে আর কিছু ভাবতে পারছিনা।

উল্লেখ্য যে, এধরনের অতি গুরুত্বপূর্ণ ফৌজদারী মামলায় বাদীর ঘরে স্বাক্ষর আগে-পরে করা নিয়ে কোন আইনি জটিলতা নেই । এমনকি বাদীপক্ষ থানায় মামলা না করলেও পুলিশ উক্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে সকল প্রকার আইনি কার্যক্রম চালাতে পারে।

আমি জানতে চাই ঐ মুহূর্তে ওমরের মানসিক অবস্থা কী সেটা সবারই অনুভব করার কথা।ওসমান গণির রক্তে ওমর ফারুক রক্তাক্ত ছিল। কারণ একই রিক্সায় দুই ভাই। বুলেট যদি আর একটা বের হতো ওমর হাদিও
ওখানেই আমার ওসমান গণির মতো হয়ে যেতো।

ওমরের গায়ে পোশাকে এমনকি ওর হাতে যে ঘড়িটা ছিল সেটিতেও ওসমান গণির রক্তের দাগ শুকিয়ে ছিল। ওসমান গণিরে যেদিন সিঙ্গাপুর নিবে সেই দিন সকালে ওমর এভার কেয়ারে বসে গোসল করে এবং ঘড়িতে যে রক্তের দাগ ছিল তা পরিষ্কার করে।

মামলার বাদির ব্যাপারে কার কাছে বলছে কে বলছে যে, আমরা নিরাপত্তার জন্য বাদি হতে চাই না। এটা পরিষ্কার করতে হবে। জাবের যদি আমার নলছিটির
ছেলে না হতো, তা কোন প্রশ্ন ছিল না। কারণ আমার ওসমান গণির সাথে যারা দীর্ঘ দিন চলাফেরা করছে, এমন কোন লোক নাই যারা জানেনা ওসমান গণির জীবনে তার ছোট আপু কতটা জড়িয়ে। এবং তার ছোট আপু ওসমান গণির জন্য জীবন দিতে এক সেকেন্ড চিন্তা করেনা। সেই ছোট আপুর কাছে না এসে কার অনুমতি নিয়ে জাবের মামলার বাদি হলো,এটা পরিষ্কার করতে হবে।

আর একটা প্রসঙ্গ খুব পরিষ্কার করা দরকার। ওমর হাতে যেই ঘড়িটা পড়ে ওটা আরও ৫ বছর আগে কেনা যার তখন দাম ছিল বাংলাদেশী ১৭ হাজার টাকা, ২০১৬ সালে সে যেই ব্লেজার পরতো তার মূল্য ৩০ হাজার টাকা। ২০১৬ সালে যে মোবাইলটা ব্যবহার করতো তখন ওটার মূল্য ছিল ৭০ হাজার টাকা। শুধু এই তিনটা জিনিসের হিসাব দিতে বাধ্য হলাম এইজন্য যে, না বুঝে কেউ নোংরামি করার চেষ্টা করবেন না ।

এখন আসি চিকিৎসার ব্যাপারে কিছু বলি। আমার ভাই যখন এভার কেয়ারে তখন অনেকেই আমার ভাইয়ের চিকিৎসার দায়িত্ব নিতে চেয়েছেন। আমরা পারিবারিক ভাবে কেউ তাতে সম্মতি জানাইনি। আমার ওসমান গণিকে দেশের বাহিরে নেয়ার জন্য সর্বপ্রথম ওমর ব্যক্তিগতভাবে উদ্যোগ নেয়। এবং ওসমান হাদির সকল মেডিকেলের ডকুমেন্ট প্রথমে সিঙ্গাপুর পাঠায়, সিঙ্গাপুর থেকে তারা রিজেক্ট করে দেয়। এরপর ওমর থাইল্যান্ডে মেডিকেলের ডকুমেন্ট পাঠালে তারা গ্রহণ করে। ওমর ব্যক্তিগত অর্থায়নে থাইল্যান্ডের জন্য ৫২লক্ষ্য টাকা দিয়ে এয়ার এ্যাম্বুলেন্স কর্নফার্ম করে এবং আমার সামনে এসে দাড়িয়ে টিকিট দেখিয়ে বলে, আর কাঁদিস না,চিকিৎসার অভাবে ওসমান গনিরে আমারা হারাইতে দিবনা।

আল্লাহ যদি হায়াত রাখে ওসমান গনি ফিরে আসবে। চিকিৎসার কোন ত্রুটি রাখবো না। ওমরের এই সিদ্ধান্ত সরকার জানার পরে সরকার ওসমান হাদির চিকিৎসার দায়িত্ব নেয়। এবং সরকার দ্বিতীয় দফায়
ওসমান গণির মেডিকেলের কাগজপত্র সিঙ্গাপুর পাঠালে তারা গ্রহণ করে। এবং ওসমান গনি কে সিঙ্গাপুর নেয়া হয়। আর আমি ওসমান গনির সাথে এবার কেয়ার থেকে এই প্রথম বের হই।

আমি এ গুলো কিছুই কাউকে জানাতে চাইনি। কারণ আমার জন্য ওসমান গণিকে হারিয়ে বেঁচে থাকা কতো কঠিন হয়ে যাচ্ছে সেটা আল্লাহ ছাড়া দুনিয়ার বুকে কারো বোঝা সহজ নয়। কিন্তু বাধ্য হলাম এই জন্য যে, একজন বিপ্লবীকে সম্মান করতে হলে তার পরিবারকে নিয়ে কীভাবে এত মিথ্যাচার করা যায়। সম্মান করতে নাই পারেন, কিন্তু কিছু না জেনে অসম্মান করার অধিকার কোথায় পেলেন! Masuma Hadi

Address

Rampura
Dhaka
1219

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when শহীদ ওসমান হাদি ফাউন্ডেশন posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share