09/06/2026
সাহাবাদের জীবন থেকে - ০১
সায়্যিদুনা আবু বকর সিদ্দীক (রা.) (ওফাত: ১৩ হিজরি)
ইবনে আসাকির রহঃ আসমায়ী রহঃ থেকে বর্ণনা করেন,
যখন কেউ হযরত আবু বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) প্রশংসা করত, তিনি বলতেন:
আয় আল্লাহ! আপনি আমাকে আমার চেয়ে বেশি চেনেন। আর আমি আমাকে (যারা আমার প্রশংসা করছে ) তাদের থেকে বেশি জানি। হে আমার মালিক! আপনি আমাকে তাদের ধারণার অধিক উত্তম বানিয়ে দিন, তারা জানেনা এমন সকল ভুলগুলোর জন্য আমাকে মাফ করে দিন, আর তাদের প্রশংসার কারণে দয়াকরে আমাকে পাকড়াও করবেন না।
সূত্র: তারীখুল খুলাফা, ৮৬ - ইমাম সুয়ূতী রহঃ (ও:৯১১)
প্রাসঙ্গিক:
হযরত আবু বকর রা. এর এই সৎ ও সরল উক্তি বা প্রশংসার উপযুক্ত না হবার স্বীকারোক্তি কেবল অতুলনীয় বিনয়ের দৃষ্টান্তই নয়, সাথে সাথে আমাদের আকাবির বা পূর্বসূরীগণ কেমন ছিলেন তার বাস্তব নমুনা ও বটে। হযরত সিদ্দীকে আকবর রা: এর এই উক্তিটির বিশ্লেষন করতে গেলে ছোট কলেবরের একটা পুস্তিকা লেখা যেতে পারে। না, বাড়িয়ে বলছিনা।
প্রশংসা করার মাসআলা কী? কার প্রশংসা করা যাবে? কী বিষয়ে প্রশংসা করা যাবে? কী অবস্থায় করা যাবে? কার প্রশংসা করা যাবেনা, প্রশংসিত ব্যক্তির প্রতিক্রিয়া কেমন হওয়া উচিত? এগুলো আলোচনা করতে গেলে পুস্তিকা দীর্ঘ করাও সম্ভব।
যাইহোক, সর্দারে বনি আদম রাসূলে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি বা সাল্লাম এর সর্বাধিক প্রিয় এই সাহাবীর উপরোক্ত উক্তির কয়েকটি শিক্ষণীয় দিক উল্লেখ করে এই পোস্টটির ইতি টানছি।
[ভালো লাগলে শেয়ার করতে পারেন। যদি না ভালো লাগে বা কোনো ভুল দৃষ্টিগোচর হয়, দয়া করে ভুলের জায়গাটা ধরিয়ে দিয়ে মেইল করবেন। ভুল শুধরে নেয়ার বা সময় করে জবাব দেয়ার চেষ্টা করবো]
ফাওয়ায়েদ:
১: হযরত আবু বকর সিদ্দীক রা. এর দৃষ্টি ও মনোযোগ সর্বদা মহান আল্লাহ তায়ালার দিকে নিবদ্ধ থাকতো। হজরতের এই বাক্য থেকে যা স্পষ্ট "আয় আল্লাহ! আপনি আমাকে আমার চেয়ে বেশি চেনেন।"।
আল্লাহ তায়ালার বিধান এবং তার স্মরণকে সবসময় সামনে রাখতে চাই আমরা। কিন্তু কাজের সময় বা বলতে পারেন সঠিক সময় তা আমরা নিয়মিতই ভুলে যাই। সবকাজে আল্লাহর স্মরণকে সামনে রাখা এই সিফাত টি অর্জন করতে নিরবিচ্ছিন্ন মুজাহাদা করা আর আল্লাহ তায়ালার অপার অনুগ্রহ পাওয়া ছাড়া সম্ভব না। যারা জানেন, তারা তো জানেনই, আর যারা বোঝেন, (বড়রা বলেন) তাদের সংখ্যা খুবই নগন্য। জি, এটাই মাকামে ইহসান।
২: হযরত সিদ্দীক রা: নিজের প্রতি সৎ ও নির্লোভ দৃষ্টি রাখতেন। নিজেকে প্রশংসার উপযুক্ত মনে করতেন না। এমন গুনের প্রশংসা নিতে তিনি প্রস্তুত ছিলেন না যে গুনকে তিনি নিজের মনে করতেন না।
বড়দের কাছে শুনেছি, মাকামে ইহসান এর একটা দুর্লভ বৈশিষ্ট হলো, আল্লাহর দয়ায় এই মাকামে যারা অধিষ্টিত হন তারা আল্লাহ তায়ালার একান্ত নৈকট্য লাভ করার কারণে সকল গুনের মালিক এবং দাতা সম্মন্ধে তাদের নির্ভুল এলম ও মারিফাত লাভ হয়। তারা নিজেদের মধ্যে যোগ্যতা দেখেন না আর পবিত্র শরীয়তের তাকাজা ছাড়া তারা কখনো কথায় বা কাজে নিজেকে গুণী বলে প্রকাশ করেন না।
নিজের যোগ্যতা বা দোষগুনের অবস্থা সবচাইতে ভালো জানে ব্যক্তি নিজে। এটা ভিন্ন কথা কেউ যদি নিচু ও অসৎ হয়, তাহলে মানুষের কাছে নিজেকে ভালো জাহির করতে করতে একসময় তার অন্তরচোখ দৃষ্টিহীন ও কপট হয়ে যেতে পারে। আল্লাহ হেফাজত করুন। আমীন।
৩: হযরত সিদ্দীক রা: নিজেকে গুনাহগার মনে করতেন এবং আল্লাহ তায়ালার ক্ষমার আশায় থাকতেন। বলা বাহুল্য, নবীদের সর্দার রাসূলে খোদা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সবচেয়ে কাছের সাহাবীর মর্যাদা আল্লাহ তায়ালার কাছে অনেক বেশি। কুরআনে পাকে তার প্রশংসা, অগণিত হাদিসে তার ফজিলত বর্ণিত হবার পরও তিনি নিজেকে গুনাহগারই মনে করতেন। কিন্তু কেন?
জবাব টিও বেশ গভীর, যার অনেক গুলো আশ্চর্য দিক আছে। আপাতত একটা কথা বুঝে নিতে পারি, আল্লাহ তায়ালা ও তার রাসূল সিদ্দীকে আকবর রা: এর প্রশংসা ও জান্নাতি হবার সুসংবাদ দেয়ার পেছনে একটা কারণই যথেষ্ট, সেটা হলো তিনি আমাদের মতো নন, তার জ্ঞান, চিন্তাধারা, ও বিবেচনার ধরণ আমাদের মতো ছিলোনা।
ভুল ক্ষমা হয়ে যাবার সম্ভাবনা বা সুসংবাদ মানে এই নয় যে ভুলগুলো ভুলে যেতে হবে বা অতীতের ভুলের কথা মনে করে অনুতাপ হবে না। যদি কখনো সুযোগ হয় এ বিষয়ে বিস্তারিত বলা যেতে পারে।
প্রকাশ পাওয়া ভুলগুলো ইচ্ছেকৃত হোক বা অনিচ্ছায় হোক, স্বার্থ-কেন্দ্রিক হোক বা গবেষণাগত, অথবা গুনাহ নয় এমন অনুত্তম কাজকে ভুল বা গুনাহ মনে করেই হোক না কেন, আকাবীরগণ নিজেদের ভুলগুলো ভুলে যান না।
আকাবির
06.09.2026
#সাহাবাদের_জীবন ু_বকর #ইসলামিক_শিক্ষা #বিনয় #আত্মশুদ্ধি #ইসলামিকপোস্ট