23/11/2025
তারুণ্যের শক্তি, রাষ্ট্র মেরামতের ভিত্তি
তরুণ পেশাজীবীদের সুনির্দিষ্ট ৭ দফা দাবি ফোরাম অফ ইয়াং প্রফেশনালস (FYP) একটি স্বেচ্ছাসেবী ও অরাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম যা বিভিন্ন পেশায় যুক্ত (যেমন: ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, আইনজীবী, উদ্যোক্তা, কৃষি-উদ্যোক্তা, ফ্রিল্যান্সার, সাংবাদিক, শিক্ষক, বেসরকারি চাকুরীজীবী, ও প্রযুক্তি কর্মী) বাংলাদেশি তরুণদের সমন্বয়ে গঠিত। এই ফোরামের মূল লক্ষ্য হলো- দেশের নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে তরুণ সমাজের আশা-আকাঙ্ক্ষা ও পেশাগত চাহিদা তুলে ধরা এবং একটি উন্নত, ন্যায়ভিত্তিক ও বৈষম্যমুক্ত স্বনির্ভর সমাজ প্রতিষ্ঠায় কাজ করা। ফোরাম অফ ইয়াং প্রফেশনালস মনে করে, দেশের ভবিষ্যৎ তৈরি করতে সবচেয়ে বড় শক্তি হলো তরুণরা। বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার ৫৫.৪৬ % (১৫-৫৪ বছর বয়স) তরুন। এই বিশাল জনসংখ্যাকে জন শক্তিতে রূপান্তর করতে পারলে বাংলাদেশ অর্থনীতিতে অত্যন্ত শক্তিশালী দেশে পরিণত হবে। তাই, আমরা দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে তরুণ পেশাজীবীদের সার্বিক উন্নয়নে সরকারের এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কাছে কাছে সুনির্দিষ্ট ৭ দফা দাবি পেশ করছি।
১. কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা
(ক) দেশের ডেমোগ্রাফিকে বিবেচনায় রেখে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করে ক্রমবর্ধমান চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত মানসম্পন্ন (কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রযুক্তি, খাতে) নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করার উদ্যোগ নিতে হবে।
(খ) সরকারি ও বেসরকারি সকল নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। যেকোনে নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির চিরতরে অবসান ঘটাতে হবে।
(গ) দীর্ঘ সময় ধরে বেকার থাকা শিক্ষিত তরুণদের জন্য নির্দিষ্ট নীতিমালার ভিত্তিতে বেকার ভাতা ব্যবস্থা চালু করতে হবে।
(ঘ) চাকরিজীবীদের জন্য মানসম্মত বেতন কাঠামো নিশ্চিত করতে হবে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে নিয়মিত বেতন বৃদ্ধি করতে হবে। চাকরিতে সকল প্রকার বৈষম্য দূর করতে হবে।
২. উদ্ভাবন, উদ্যোক্তা তৈরী, গবেষণা ও স্টার্টআপে অর্থায়ন
(ক) ব্যবসাবান্ধব/ উদ্যোক্তা বান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে।
(খ) তরুণ উদ্যোক্তাদের বাস্তবসম্মত 'স্টার্ট-আপ'-এ সহজ শর্তে, স্বল্প সুদে জামানতবিহীন ঋণ/স্টার্টআপ গ্রান্ট ও বিনিয়োগ সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।
(গ) তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান গবেষণায় তরুণ গবেষকদের জন্য বিশেষ বরাদ্দ, সহজ শর্তে অনুদান এবং সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করতে হবে।
(ঘ) নারী উদ্যোক্তা, কৃষি উদ্যোক্তা ও গ্রামীণ উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ প্রণোদনা ও ব্যবসায়িক ইনকিউবেটর সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।
(ঙ) তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য প্রথম কয়েক বছর করছাড়, ভ্যাট ও শুল্কে ছাড় প্রদান করতে হবে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ (SME) গঠনে ঋণ ও বিনিয়োগ সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।
৩. দক্ষতা উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণ
(ক) দ্রুত পরিবর্তনশীল শ্রম-বাজারে তরুণদের যুগপোযোগী দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করতে মানসম্মত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নিশ্চত করতে হবে। এজন্য পেশাভিত্তিক পর্যাপ্ত আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
(খ) যেকোনো ডিসিপ্লিন থেকে পাস করে বের হওয়া তরুণদের জন্য সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় পেশাগত পরামর্শ (Mentorship) এবং কর্মজীবনের শুরুতেই গাইডলাইন দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।
(গ) বিদেশে বিশেষ প্রশিক্ষণ দিয়ে স্বল্পদক্ষ কর্মীদের রপ্তানীর ব্যবস্থা করতে হবে যাতে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে চাকুরীর সুযোগ পায়।
৪. সামাজিক নিরাপত্তা
(ক) তরুণ নারী পেশাজীবীদের সন্তানদের জন্য শিশু পরিচর্যা কেন্দ্র এবং পরিবার ও কর্মসংস্থানের ভারসাম্য নিশ্চিত করতে উপযুক্ত ছুটি ও সুবিধা প্রদান নিশ্চত করতে হবে।
(খ) পেশাজীবী/কর্মজীবী তরুণদের জন্য স্বাস্থ্যবীমা সুবিধা এবং মানসম্মত ও সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে।
(গ) তরুণদের পেশাজীবীদের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে মানসম্মত আবাসন ও পরিবহন সুবিধা নিশ্চিত করতে।
(ঘ) প্রতিটি অঞ্চলে খেলাধুলা ও সুস্থ সংস্কৃতি চর্চার পরিবেশ তৈরি করা এবং সকল উদ্যোগে টেকসই ও পরিবেশবান্ধব নীতি নিশ্চিত করতে হবে।
৫. ফ্রিল্যান্সারদের স্বীকৃতি ও ডিজিটাল নিরাপত্তা
(ক) ফ্রিল্যান্সিং খাতকে আনুষ্ঠানিকভাবে পেশাগত স্বীকৃতি দিতে হবে এবং তাদের জন্য অনলাইন ও ডিজিটাল সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।
(খ) ডিজিটাল লেনদেন ও অনলাইন ব্যবসায়ের জন্য সহায়ক নীতি, দ্রুতগতির নেটওয়ার্ক এবং ফ্রিল্যান্সারদের জন্য সহজ লাইসেন্স ও সরলীকৃত কর কাঠামো প্রবর্তন করা।
(গ) ই-রেমিট্যান্স সহজে ও শুল্কমুক্তভাবে দেশে আনার ব্যবস্থা করতে হবে।
৬. সুশাসন, ন্যায়বিচার ও আইনগত সুরক্ষা
(ক) ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতে সকল স্তরে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
(খ) সকল পেশাজীবীর জন্য আইনগত নিরাপত্তা এবং কর্মক্ষেত্রে যেকোনো পেশাগত বৈষম্য বা হেনস্থার বিরুদ্ধে কার্যকর আইনি ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
(গ) দলীয় প্রভাবমুক্ত রেখে পেশাজীবী সংগঠনগুলোকে তাদের সদস্যদের স্বার্থরক্ষায় ভূমিকা পালনের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে।
৭. নীতি নির্ধারণে অংশগ্রহণ
(ক) সরকারি নীতিমালা, বিশেষ করে যুব-নীতি, তৈরিতে তরুণ পেশাজীবীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও মতামত নিশ্চিত করা এবং তাদের সমস্যা ও প্রয়োজন বুঝে নীতি প্রণয়ন করতে হবে।
(খ) সকল প্রকার হয়রানি বন্ধ করে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় তরুণদের নির্ভয়ে অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করা।
তারুণ্যের হাত ধরে ফোরাম অফ ইয়াং প্রফেশনালস-এর সঙ্গে আধুনিক দেশ গড়ার আন্দোলনে যোগ দিন।
প্রকাশনায়:
ফোরাম অফ ইয়াং প্রফেশনালস (FYP)