21/10/2025
কল্যাণ রাষ্ট্র:
আধুনিক কল্যাণ রাষ্ট্র হলো এমন একটি রাষ্ট্র যেখানে সরকার তার জনগণের সামাজিক ও অর্থনৈতিক কল্যাণ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি সমান সুযোগ, সম্পদের ন্যায়সঙ্গত বণ্টন এবং ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধা প্রদানের উপর ভিত্তি করে গঠিত, যেখানে রাষ্ট্র তার নাগরিকদের খাদ্য, বস্ত্র, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং সামাজিক নিরাপত্তার মতো মৌলিক চাহিদা পূরণের দায়িত্ব নেয়।
প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ:
জনগণের কল্যাণ সাধন: কল্যাণ রাষ্ট্রের মূল উদ্দেশ্যই হলো জনগণের সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করা।
সামাজিক নিরাপত্তা: রাষ্ট্র জনগণের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করে।
মৌলিক চাহিদা পূরণ: এটি নাগরিকদের খাদ্য, বস্ত্র, শিক্ষা, চিকিৎসা এবং বাসস্থানের মতো মৌলিক চাহিদা পূরণের ব্যবস্থা করে।
সম্পদের ন্যায়সঙ্গত বণ্টন: রাষ্ট্র তার সম্পদকে সমাজের সকলের মধ্যে ন্যায়সঙ্গতভাবে বন্টন করার চেষ্টা করে।
সমান সুযোগ: এটি সকলের জন্য সমান সুযোগ তৈরি করার উপর জোর দেয়।
সামাজিক সমস্যা সমাধান: এই রাষ্ট্রগুলো সামাজিক সমস্যা, যেমন দারিদ্র্য, বেকারত্ব ইত্যাদি সমাধানে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে।
আধুনিক কল্যাণ রাষ্ট্রের উদ্ভব ও বিকাশ
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: ১৯ শতকের শেষ এবং ২০ শতকের শুরুতে অর্থনৈতিক বৈষম্য ও সামাজিক অসাম্য বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এই ধারণাটির বিকাশ ঘটে।
গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর উইলিয়াম বেভারিজের সুপারিশে ব্রিটিশ কল্যাণ রাষ্ট্র সামাজিক বীমা ব্যবস্থা চালু করে, যা আধুনিক কল্যাণ রাষ্ট্রের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
উদাহরণ: সুইডেনকে প্রায়শই প্রথম আধুনিক কল্যাণ রাষ্ট্র হিসেবে গণ্য করা হয়, যেখানে ১৯৪০-এর দশক থেকে কল্যাণমূলক নীতি গ্রহণ করা হয়।