16/09/2025
এসো প্রিয় নবীজির সীরাত চর্চা করি ➤ ১৯
আকাবার বায়আত
হজের মৌসুম, কা’বার প্রাঙ্গণে নানা জাতির মানুষের ভিড়। ইয়াসরিবের (মদিনার) কিছু তরুণ মক্কার বাতাসে ভেসে আসা কুরআনের সুরে থমকে দাঁড়ালেন। কারণ এ সুরে ছিল সত্যের ঘোষণা, তাওহীদের আহ্বান।
প্রথম আকাবা:
নবুওয়াতের দ্বাদশ বর্ষ (৬২১ খ্রিষ্টাব্দ)। আকাবার গিরিপথে নীরব রাতের অন্ধকারে বারোজন ইয়াসরিববাসী প্রিয় নবীজির হাতে হাত রেখে বায়আত গ্রহন করলেন। শর্ত ছিল শিরক ত্যাগ, চুরি-ব্যভিচার থেকে বিরত থাকা, সন্তান হত্যায় লিপ্ত না হওয়া, অপবাদ ও গুনাহ থেকে বাঁচা। যেন পবিত্র আত্মাকে নতুন প্রতিজ্ঞায় বাঁধা হলো।
তাঁদের সাথে শিক্ষক হিসেবে প্রেরণ করলেন মুস’আব ইবন উমাইর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) কে। তিনি ইয়াসরিবে গিয়ে খেজুরবনের ছায়াতলে কুরআনের আলো ছড়িয়ে দিলেন। তাঁর দাওয়াতে সাড়া দিলেন একজন প্রভাবশালী নেতা সা’দ ইবন মুআয রা.। তাঁর ইসলাম গ্রহণে পুরো গোত্র যেন ঢেউ খেলে উঠলো, ইয়াসরিবে বেগবান নদীর মতো প্রবাহিত হতে শুরু করলো ইসলাম।
দ্বিতীয় আকাবা:
এক বছর পর, নবুওয়াতের ১৩তম বর্ষ (৬২২ খ্রিষ্টাব্দ)। আবারও হজের মৌসুম, আকাবার রাত। এবার ৭৩ জন পুরুষ ও ২ জন নারী এসে দাঁড়ালেন ইসলামের পতাকার নিচে। তাঁরা শুধু আনুগত্যের বায়আত গ্রহন করলেন না, বরং প্রতিশ্রুতিও দিলেন, তাঁরা প্রিয় নবীজিকে রক্ষা করবেন যেমন নিজেদেরকে রক্ষা করেন।
রাত গভীর, সবাই নিঃশব্দে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। ইতিহাসের এক গোপন চুক্তি রচিত হলো আকাবার অন্ধকারে, যার আলো ভোরবেলায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করলো।
মদিনার দুয়ার খুলে গেলো
এখন ইয়াসরিব যেন আর কেবল খেজুরবাগানের নগরী নয়, এটি হয়ে উঠলো মদিনাতুন-নবী বা প্রিয় নবীজির নগরী। এখানেই বপন হবে ইসলামী রাষ্ট্রের বীজ, রচিত হবে ভ্রাতৃত্বের ইতিহাস, গঠিত হবে বিশ্বের প্রথম সংবিধান।
☞সীরাত ইবনে হিশাম ২/৩৫-৭৫,
আর-রাহিক্বুল মাখতুম পৃ: ১৪১-১৫৪
২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪৭ হিজরি
১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ইংরেজি।