Al Hadi Foundation

Al Hadi Foundation আল হাদী ফাউন্ডেশন

আর্থ মানবতার সেবায় নিয়োজিত

16/09/2025

এসো প্রিয় নবীজির সীরাত চর্চা করি ➤ ১৯

আকাবার বায়আত

হজের মৌসুম, কা’বার প্রাঙ্গণে নানা জাতির মানুষের ভিড়। ইয়াসরিবের (মদিনার) কিছু তরুণ মক্কার বাতাসে ভেসে আসা কুরআনের সুরে থমকে দাঁড়ালেন। কারণ এ সুরে ছিল সত্যের ঘোষণা, তাওহীদের আহ্বান।

প্রথম আকাবা:
নবুওয়াতের দ্বাদশ বর্ষ (৬২১ খ্রিষ্টাব্দ)। আকাবার গিরিপথে নীরব রাতের অন্ধকারে বারোজন ইয়াসরিববাসী প্রিয় নবীজির হাতে হাত রেখে বায়আত গ্রহন করলেন। শর্ত ছিল শিরক ত্যাগ, চুরি-ব্যভিচার থেকে বিরত থাকা, সন্তান হত্যায় লিপ্ত না হওয়া, অপবাদ ও গুনাহ থেকে বাঁচা। যেন পবিত্র আত্মাকে নতুন প্রতিজ্ঞায় বাঁধা হলো।

তাঁদের সাথে শিক্ষক হিসেবে প্রেরণ করলেন মুস’আব ইবন উমাইর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) কে। তিনি ইয়াসরিবে গিয়ে খেজুরবনের ছায়াতলে কুরআনের আলো ছড়িয়ে দিলেন। তাঁর দাওয়াতে সাড়া দিলেন একজন প্রভাবশালী নেতা সা’দ ইবন মুআয রা.। তাঁর ইসলাম গ্রহণে পুরো গোত্র যেন ঢেউ খেলে উঠলো, ইয়াসরিবে বেগবান নদীর মতো প্রবাহিত হতে শুরু করলো ইসলাম।

দ্বিতীয় আকাবা:
এক বছর পর, নবুওয়াতের ১৩তম বর্ষ (৬২২ খ্রিষ্টাব্দ)। আবারও হজের মৌসুম, আকাবার রাত। এবার ৭৩ জন পুরুষ ও ২ জন নারী এসে দাঁড়ালেন ইসলামের পতাকার নিচে। তাঁরা শুধু আনুগত্যের বায়আত গ্রহন করলেন না, বরং প্রতিশ্রুতিও দিলেন, তাঁরা প্রিয় নবীজিকে রক্ষা করবেন যেমন নিজেদেরকে রক্ষা করেন।

রাত গভীর, সবাই নিঃশব্দে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। ইতিহাসের এক গোপন চুক্তি রচিত হলো আকাবার অন্ধকারে, যার আলো ভোরবেলায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করলো।

মদিনার দুয়ার খুলে গেলো
এখন ইয়াসরিব যেন আর কেবল খেজুরবাগানের নগরী নয়, এটি হয়ে উঠলো মদিনাতুন-নবী বা প্রিয় নবীজির নগরী। এখানেই বপন হবে ইসলামী রাষ্ট্রের বীজ, রচিত হবে ভ্রাতৃত্বের ইতিহাস, গঠিত হবে বিশ্বের প্রথম সংবিধান।

☞সীরাত ইবনে হিশাম ২/৩৫-৭৫,
আর-রাহিক্বুল মাখতুম পৃ: ১৪১-১৫৪

২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪৭ হিজরি
১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ইংরেজি।

10/09/2025

এসো প্রিয় নবীজির সীরাত চর্চা করি ➤ ১৮

ইসরা ও মেরাজ

"আমুল হুয্ন" প্রিয় নবীজির দুঃখের বছরের পর আসমানের থেকে এলো এক অনন্য সান্ত্বনা, আর তা হলো, ইসরা ও মিরাজ। অধিকাংশ আলেমের মতে, এই অলৌকিক ঘটনা সংঘটিত হয় রজব মাসে, নবুওয়াতের দ্বাদশ বর্ষে (৬২১ খ্রিষ্টাব্দে)।

মক্কার মসজিদুল হারামের হাতেমে কা'বা থেকে বুরাক বাহনে শুরু হলো ইসরা। মুহূর্তেই পৌঁছালেন কুদসের মসজিদুল আকসায়। সেখানে সমবেত নবীগণের ইমামতি করলেন প্রিয় নবীজি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)। এ দৃশ্য যেন ঘোষণা দিল, নবুওয়াতের সিলসিলা পূর্ণতা পেলো আমাদের নবীজির হাতেই।

এরপর আসমান ছেদ করে শুরু হলো মিরাজ। প্রতিটি আসমানে ফেরেশতাদের সম্ভাষণ, আর নবীদের সাথে সাক্ষাৎ। প্রথম আসমানে আদম আ., দ্বিতীয়তে ঈসা আ. ও ইয়াহইয়া আ., তৃতীয়তে ইউসুফ আ., চতুর্থে ইদরিস আ., পঞ্চমে হারুন আ., ষষ্ঠে মুসা আ., আর সপ্তম আসমানে ইব্রাহিম আ.। প্রতিটি ধাপ যেন নবুওয়াতের ইতিহাসের জীবন্ত স্বাক্ষ্য।

অবশেষে পৌঁছালেন সিদরাতুল মুনতাহায়। যেখানে কলম থেমে যায়, ফেরেশতারাও আর সামনে অগ্রসর হতে পারে না। সেখানেই প্রিয় নবীজি পেলেন আল্লাহর দিদার ও সরাসরি কথা বলার সৌভাগ্য। উম্মতের জন্য দরদী আমাদের প্রিয় নবীজি আল্লাহর কাছে আবেদন করলেন, "হে আল্লাহ, আমি তো আপনার দিদার নসিব করেছি, সরাসরি কথা বলেছি, আমার উম্মতকেও এ সৌভাগ্য দিন।" আল্লাহ তায়ালা দয়া করে বললেন, হ্যাঁ, অবশ্যই।

উম্মতের জন্য উপহার হিসেবে ফরজ করলেন সালাত। প্রথমে পঞ্চাশ, পরে মুসা আ. এর পরামর্শে ও আল্লাহর অসীম রহমতে তা কমতে কমতে দাঁড়ালো পাঁচে। কিন্তু সওয়াব রয়ে গেলো পঞ্চাশের সমানই। আল্লাহর প্রতিশ্রুতি হলো, আমি তোমার উম্মতের সাথে দিনে পাঁচবার সাক্ষাৎ করবো, কথা বলবো একান্তে, সালাতে।

ভোরে প্রিয় নবীজি যখন মক্কার মানুষকে এ সংবাদ জানালেন, কুরাইশরা ব্যঙ্গ করলো, হাসলো, উপহাস করলো। তারা বললো, "মক্কা থেকে কুদস, তারপর আসমানের সফর, এত অল্প সময়ে কীভাবে সম্ভব?" তখন প্রিয় নবীজি দৃঢ় কণ্ঠে বর্ণনা করলেন বায়তুল মাক্বদিসের দরজা, জানালা ও গঠন, যেন তিনি চাক্ষুষ দেখছেন আর বর্ণনা করছেন।

এই বিদ্রূপের ভিড়েই আবু বকর রা. উচ্চারণ করলেন,
"إن كان قال فقد صدق"
(তিনি যদি এ কথা বলে থাকেন, তবে অবশ্যই সত্য বলেছেন)। এরপর থেকেই ইতিহাস তাঁকে উপহার দিলো অনন্য এক উপাধি "আস-সিদ্দীক"। মক্কাবাসীর বিদ্রূপ ও সন্দেহের কুয়াশা ভেদ করে সত্যের নূর আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠলো।

☞সহিহ বুখারি, কিতাবুস-সালাত,
সীরাত ইবনে হিশাম ১/৪০১-৪০৩,
যাদুল মাআদ ১/১১৩-১২৫।

১৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৭ হিজরি,
১০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ইংরেজি।

09/09/2025

এসো প্রিয় নবীজির সীরাত চর্চা করি ➤ ১৭

আ'মুল হুয্ন, দুঃখের বছর

নবুওয়াতের দশম বর্ষ (৬১৯-৬২০ খ্রি)। এ বছরে প্রিয় নবীজির জীবনে নেমে এলো এমন দুঃখ, যাকে ইতিহাস নাম দিলো আ'মুল হুয্ন বা দুঃখের বছর। এ বছরেই জীবনের সবচেয়ে গভীর আঘাতগুলো একসাথে বরণ করলেন আমাদের প্রিয় নবীজি।

রমাদান মাস। না ফেরার দেশে চলে গেলেন আম্মাজান খাদিজা রা.। তিনি ছিলেন প্রথম ঈমানদার, প্রিয় নবীজির একমাত্র জীবন সঙ্গিনী, হৃদয়ের সাহস, অবলম্বন ও আশ্রয়। প্রতিটি আঘাতের মুহূর্তে যে কণ্ঠ প্রিয় নবীজিকে সাহস দিতো বারবার, বলতো, "হে প্রিয় নবীজি! আল্লাহ আপনাকে কখনো নিরাশ করবেন না" সে কণ্ঠ এবার চিরদিনের জন্য থেমে গেলো। মক্কার প্রতিটি স্মৃতি যেন হাহাকার করতে লাগলো তাঁর জন্য।

রমাদান খাদিজা রা. এর মৃত্যুর মাস শেষ হতেই শাওয়ালে চলে গেলেন প্রিয় চাচা আবু তালিবও। শৈশব থেকে যিনি ছিলেন প্রাচীরের মতো, ঢালের মতো। মক্কার মুশরিকরা যতই বিদ্রূপ করুক, যতই আঘাত দিক, এই এক চাচার ছায়াতেই প্রিয় নবীজির দাওয়াত ছিল নিরাপদ। এবার সেই প্রাচীর ভেঙে গেলো, সেই ছায়া একেবারে মুছে গেলো। তিনি হয়ে গেলেন একা। একেবারে একলা।

পরপর দুটি স্তম্ভ একসাথে ভেঙে পড়লো, আর এ সুযোগে মক্কার মানুষ আরো নিষ্ঠুর হয়ে উঠলো। রাস্তার মোড়ে মোড়ে তির্যক হাসি, মসখরা, বিদ্রূপের ঝড় শুরু হলো। মানুষের হৃদয় যেন পাথরে পরিণত হয়ে গেলো।

তবুও প্রিয় নবীজি থামলেন না। বুক ভরা আশা নিয়ে পা বাড়ালেন তায়েফের পথে। পবিত্র হৃদয়ে স্বপ্ন ছিলো, হয়তো এ শহরের মানুষ সত্যকে গ্রহণ করে আঁকড়ে ধরবে, অন্তত তারা একটু আশ্রয় হলেও দিবে।

কিন্তু বাস্তবতা ছিল একেবারে ভিন্ন, পুরা উল্টো। তারা অবজ্ঞায় ফিরিয়ে দিলো, বিদ্রূপ করলো। শিশু থেকে বড় সবাই নবীজিকে ঘিরে ফেললো, গালিগালাজ করলো, পাগল বলে বলে পাথর নিক্ষেপ করতে লাগলো। প্রিয় নবীজির পা মোবারক রক্তে ভিজলো, স্যান্ডেল রক্তে জমাট বাঁধলো।

ক্লান্ত, আহত, নিসঙ্গ সে রাতে ফেরেশতা জিবরাইল আ. আসলেন, প্রস্তাব দিলেন,"আপনি চাইলে আমি এই শহরকে, পুরা তায়েফকে পাহাড়চাপা দিয়ে ধ্বংস করে দিই"। রাহমাতুল্লিল আলামিন, দয়ার সাগর আমাদের প্রিয় নবীজি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উত্তর দিলেন, "না, আমি আশা রাখি, হয়তো তাদের সন্তানদের মধ্য থেকে এমন মানুষ আসবে যারা একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করবে, উপাসক হবে"।

আহ্ এ কেমন হৃদয়! যেখানে প্রতিশোধের বদলে তার ক্ষমা ও দয়া জয়ী হয়। সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।

☞সীরাত ইবনে হিশাম ১/৪০৪–৪৩০,
আর-রাহিক্বুল মাখতুম পৃ. ১১৫-১২৩।

১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৭ হিজরি,
০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ইংরেজি।

08/09/2025

এসো প্রিয় নবীজির সীরাত চর্চা করি ➤ ১৬

শি'বে আবি তালিবে অবরোধের দীর্ঘ তিন বছর

নবুওয়াতের ৭ম থেকে ৯ম বর্ষে (৬১৭-৬১৯ খ্রি.) মক্কার কুরাইশরা এক অভিশপ্ত চুক্তির দলিল লিখলো। কাবার দেয়ালে টাঙানো হলো দলিলটি। সেই অভিশাপস্বরূপ অঙ্গীকারে ছিলো,"মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীদের সাথে কাহারো কোনো ধরনের সম্পর্ক থাকবে না, না বাণিজ্য, না বিবাহ, না সাহায্য, কিছুই না।" বনি হাশিমের উপর মুহূর্তেই সমাজের সব দরজা বন্ধ হয়ে গেলো।

মুসলিমরা আশ্রয় নিলেন শি'বে আবি তালিবে, শি'বুন মানে গিরিপথ, সরু বা গলি। চারদিকে উঁচু পাহাড়ের দেয়াল, ওপরে জ্বলন্ত মরুভূমির সূর্য। মনে হতো তারা যেন কারাগারে বন্দি।

রাত গভীর হলে শোনা যেতো শিশুদের কান্না, ক্ষুধার তীব্র চিৎকার আকাশকে বিদীর্ণ করে দিতো। বুকের দুধ শুকিয়ে যাওয়া মায়েরা শিশুদের কোলে নিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলতেন। পুরুষরা শক্ত থেকে শক্ততর হতেন, ক্ষুধার জ্বালায় গাল বেয়ে চোখ থেকে অশ্রু গড়িয়ে পড়তো।

খেজুরপাতা সেদ্ধ করে খাওয়া, শুকনো চামড়া ভিজিয়ে চিবোনো, এই করুণ খাদ্যই হয়ে উঠেছিল বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন। আল্লাহ আছেন, তিনি সব দেখছেন, এই বিশ্বাসেই তারা দিন-রাত পার করতে লাগলেন।

হাকিম ইবনে হিজাম, হিশাম ইবনে আমর প্রমুখের কিছু হৃদয়কে আল্লাহ নরম করলেন। রাতের আঁধারে তাঁরা খাবার পৌঁছে দিতেন, সবাই কোনো রকম ভাগাভাগি করে খাইতেন।

অবশেষে এক অলৌকিক ঘটনা ঘটলো। প্রিয় নবীজি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জানালেন, চুক্তির অভিশপ্ত দলিলটিকে দিমক পোকা খেয়ে ফেলেছে।শুধু মাত্র باسمك الله..শব্দটি রয়ে গেছে।

কুরাইশরা বিস্মিত হলো। দলিলটি নামানো হলো, সত্য প্রমাণিত হলো। চুক্তি ভাঙা হলো, দীর্ঘ তিন বছরের অনাহার, ক্ষুধা আর নিদারুণ বঞ্চনা মুসলিমদের শরীর ভেঙে দিলেও মন ভাঙতে পারলো না, তাদের ঈমান আরও মজবুত হলো। এ দিনগুলো ইসলামের ইতিহাসে খোদাই হয়ে রয়ে গেলো।

☞সীরাত ইবনে হিশাম ১/৩৫০-৩৬৩,
আর- রাহিক্বুল মাখতুম পৃ. ১০৯-১১৪।

১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪৭ হিজরি,
০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ইংরেজি।

07/09/2025

এসো প্রিয় নবীজির সীরাত চর্চা করি ➤ ১৫

হাবশায় হিজরত এবং নাজাশির ন্যায়বিচার

নবুওয়াতের পঞ্চম বর্ষ (৬১৫ খ্রি.)। মক্কার পাথুরে রাস্তায় তখন মুসলমানদের রক্ত ঝরছে। নির্যাতন এতটাই তীব্র হয়ে উঠলো যে প্রিয় নবীজি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সাহাবিদের হিজরত করতে নির্দেশ দিলেন। তিনি বললেন, তোমরা হাবশায় যাও। সেখানে এমন এক বাদশাহ আছেন, যিনি কাহারো প্রতি অন্যায় করেন না।

সাহসী সেই যাত্রায় প্রথম দলে বের হলেন ১২ জন পুরুষ ও ৪ জন নারী। যখন তাঁদের নৌকা হাবশার উপকূলে ভিড়লো, ইতিহাসে লেখা হলো প্রথম হিজরতের অধ্যায়। কিছুদিনের মধ্যে দ্বিতীয় দফায় সংখ্যা পৌঁছে গেল আশি-উর্ধ্বে। মক্কা থেকে অনেক প্রিয় মুখ হারিয়ে গেলো।

কুরাইশরা বসে রইলো না। দূত বানিয়ে পাঠালো আমর ইবনুল আস রা. কে(তখনও তিনি মুসলমান হননি)। কুরাইশরা তার সাথে উপঢৌকনও দিয়ে দিলো, আশা ছিলো নাজাশিকে কিনে নেবে। আমর ইবনুল আস রা. নাজাশির দরবারে পৌঁছে অপপ্রচার করলেন, মুহাজিররা নাকি বিদ্রোহী, নিজেদের জাতি-ধর্ম ছেড়ে তাঁরা নতুন এক পথ চেঁছে নিয়েছে।

দরবারে ডাকা হলো মুসলিম প্রতিনিধি জাফর ইবনে আবি তালিব (রা.) কে। দৃঢ় কণ্ঠে তিনি বললেন তাঁদের অবস্থা, "আমরা অন্ধকারে ছিলাম, মূর্তি পূজা করতাম, পাপ করতাম, আল্লাহ আমাদের প্রতি দয়া করে প্রেরণ করলেন তাঁর রাসূল মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে, আমরা সত্য ধর্ম পেয়ে মিথ্যা ধর্ম ত্যাগ করেছি"। এরপর তিনি সূরা মারইয়ামের কিছু আয়াত তিলাওয়াত করে শুনালেন।

দরবার নিস্তব্ধ হয়ে গেলো। নাজাশির চোখ ভিজে উঠলো। তিনি অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে বললেন,"ইসলামের এই আলো, আর আমাদের আলোর উৎস একই।" সাথে সাথে ঘোষণা দিলেন, মুসলমানরা তাঁর রাজ্যে নিরাপদে থাকবে। তাঁদেরকে ফিরিয়ে দেয়া হবে না। কুরাইশের দূতরা লজ্জায় মুখ গুঁজে ফিরে গেলেন।

হাবশায় মুহাজির মুসলিমরা শান্তির নিশ্বাস নিলেন। গির্জার ছাদের নিচে, ন্যায়ের আদালতে কুরআনের শব্দ প্রতিধ্বনিত হলো। এ ছিল ইসলামের ইতিহাসে প্রথমবার সীমান্ত পেরোনো দাওয়াত।

এই হিজরত শুধু নির্যাতিতদের জন্য আশ্রয় ছিল না, বরং এক কৌশলগত বুদ্ধিমত্তার নিদর্শন ছিলো। ইসলাম সীমাবদ্ধ নয়, ইসলামের আলো সীমান্ত চেনে না। ইসলামের দাওয়াত সীমানা ছাড়িয়ে বিশ্বমানবতার বুকে দাগ কাটবে অচিরেই।

☞সীরাত ইবনে হিশাম ১/৩২১-৩৪৫,
আর-রাহিক্বুল মাখতুম পৃ. ১০১–১০৮।

১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪৭ হিজরি,
০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ইংরেজি।

06/09/2025

এসো প্রিয় নবীজির সীরাত চর্চা করি ➤ ১৪

মুশরিকদের নির্যাতন, ঈমানের উপর মুসলমানদের অবিচলতা

প্রকাশ্য দাওয়াতের পর মক্কার রাস্তাঘাটে শুরু হলো নতুন ইতিহাসের অধ্যায়। রক্তাক্ত হলো মক্কার অলিগলি। যে শহর এতদিন গর্ব করত কবিতা আর বংশীয় মর্যাদায়, সেখানে এখন ঈমানদারদের রক্ত ঝরছে মুশরিকদের নির্মম জুলুমে, তাঁদের নির্যাতনে।

বিলাল ইবনে রাবাহ রা.। তিনি একজন কালো দাস, ঈমানের নুরে ভরপুর ছিলো তার অন্তর।
তপ্ত মরুভূমির বালিতে তাঁকে শুইয়ে দেওয়া হলো, বুকের ওপর রাখা হলো বিশাল পাথর।
মুনিবরা নির্যাতন করতো আর চিৎকার করে করে বলতো, "ছাড় তোর ইসলাম! ফিরে আয় আমাদের বাপ-দাদাদের ধর্মে"।
কিন্তু না, বিলাল রা. এর ঠোঁট কেবল একটি শব্দ উচ্চারণ করতো "আহাদ, আহাদ!"
এই শব্দ এমনভাবে তিনি উচ্চারণ করতেন, মনে হতো মরুভূমির নিস্তব্ধতা চিরে বজ্রধ্বনির মতো প্রতিধ্বনিত হতো।

অন্যদিকে সুমাইয়া রা.। বৃদ্ধা নারী, দৃঢ় ঈমানের অধিকারিণী। তাঁকে নির্মমভাবে বর্শার আঘাতে হত্যা করা হলো, তিনি হলেন ইসলামের প্রথম শহীদা। ইয়াসির রা., ছিলেন তাঁর স্বামী। কাফেরদের জুলুমের যন্ত্রণা সহ্য করতে করতে ভেঙে পড়লেন। চলে গেলেন না ফেরার দেশে। আল্লাহর সাক্ষাতে।

খব্বাব ইবনে আল-আরাত রা.। তাঁকে রাখা হলো জ্বলন্ত কয়লার ওপরে। পিঠের চামড়া গলে কয়লার আগুন নিভে গেলো, কিন্তু তাঁর ঈমান নিভলো না। আরও মজবুত হলো। এ করুণ দৃশ্যগুলো মানুষ অবাক হয়ে দেখতো আর বলতো, কীভাবে এমন ধৈর্য সম্ভব! আহ্!

আবু বকর সিদ্দীক রা.। তিনি ছিলেন বিজনেস-ম্যান। ধন-সম্পদের মালিক। দয়া আর করুণায় ভরপুর ছিল তাঁর হৃদয়। তিনি এগিয়ে এসে মুক্ত করলেন বিলাল রা.কে, সাথে মুক্তি পেলো আরও অনেক নির্যাতিত প্রাণ। তাঁদের স্বাধীন করলেন। সবাইকে চিরতরে মুক্ত করে দিলেন।

যত নির্যাতন বেড়েছে, ততই সাহাবিদের ধৈর্য আকাশ ছুঁয়েছে। যেন ধৈর্য, ত্যাগ আর দৃঢ় ঈমানের অদৃশ্য মিনার দাঁড়িয়ে গেছে মক্কার বুকে।

"ইন্না মা'আল উসরি ইউসরা"
(নিশ্চয়ই কষ্টের সাথেই আছে স্বস্তি।)

☞সহিহ বুখারি, কিতাবু মানাক্বিবিল বিলাল রা.,
সীরাত ইবনে হিশাম ১/ ২৯৩–৩১৫,
আর-রাহিক্বুল মাখতুম পৃ. ৯৩–১০১।

১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪৭ হিজরি,
০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ইংরেজি।

05/09/2025

এসো প্রিয় নবীজির সীরাত চর্চা করি ➤ ১৩

সাফা পাহাড়ে উঠে নবীজির আহ্বান এবং প্রকাশ্য দাওয়াত

নবুওয়াতের তৃতীয় বর্ষ (৬১৩ খ্রি.)। নাজিল হলো,
"و أنذر عشيرتك الأقربين"
(হে নবী, আপনার নিকটাত্মীয়দের সতর্ক করুন।)

এই আহ্বানে সাড়া দিয়ে আমাদের প্রিয় নবীজি সাফা পাহাড়ে উঠলেন। নিজ বংশ কুরাইশের লোকদের ডাক দিলেন। তারা একে একে এসে জড়ো হলো। প্রিয় নবীজি প্রথমে তাঁদের সামনে নিজের সত্যবাদিতা ও বিশ্বস্ততার কথা স্মরণ করিয়ে দিলেন। তাঁরা বলল, হ্যাঁ, তুমি তো আল-আমিন! তোমার সব কথায় আমরা বিশ্বাস রাখি।

তখনই নবীজি ঘোষণা করলেন তাওহীদের দাওয়াত। শিরক ছেড়ে এক আল্লাহর ইবাদতের জন্য তাদের আহ্বান জানালেন। মুহূর্তেই শিরকের ভিত কেঁপে উঠলো। উপস্থিতরা হতভম্ব হয়ে একে অপরের দিকে তাকাতে লাগলো। কেউ ফিসফিস করে, কেউ বিমর্ষ হয়ে পড়লো। আর আবু লাহাব ক্রোধে ফেটে পড়ে বলেই উঠল, "তাব্বান লাকা" অভিশাপ তোমার জন্য! সাথে সাথে নাজিল হলো সূরা লাহাব,"তাব্বাত ইয়াদা আবি লাহাব" ধ্বংস হোক আবু লাহাবের হাত। ইতিহাস সাক্ষী, সত্যিই তার ধ্বংস অবধারিত হলো।

মক্কার হাট-বাজারে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়লো। কেউ নবীজিকে বললো কবি, কেউ জাদুকর, কেউবা পাগল। কিন্তু দিনশেষে প্রিয় নবীজির সুমধুর কণ্ঠে কুরআনের তিলাওয়াত ভেঙে দিত তাদের এসব কটূক্তি।

এখন দাওয়াত আর নিভৃত নয়, বরং দিনের আলোয়, মানুষের ভিড়ে, শহরের মাঝখানে, সর্বত্র প্রতিধ্বনিত হতে লাগলো। মক্কার নেতারা তাদের বাণিজ্য ও মর্যাদার অবক্ষয় দেখলো, তারা প্রতিরোধে নেমে এলো, বিরুদ্ধে চলে গেলো। কিন্তু প্রিয় নবীজি থামলেন না। উত্তম ধৈর্য, সদাচরণ আর অবিচল প্রচেষ্টায় চালিয়ে যেতে লাগলেন দীনের দাওয়াত।

সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।

☞সহিহ বুখারি, তাফসিরে সূরা আশ-শুআরা
ইবনে হিশাম ১/২৬১-২৭৬
আর-রাহিকুল মাখতুম ৮৫-৯২

১৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪৭ হিজরি
০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ইংরেজি।

03/09/2025

এসো প্রিয় নবীজির সীরাত চর্চা করি ➤ ১২

প্রথমে যাঁরা ঈমান এনেছিলেন,
দারুল আরক্বাম ছিল ইসলামের প্রথম বিদ্যালয়

ওহী আসার পর প্রথমে ঈমানের আলো জ্বলে উঠল প্রিয় নবীজির ঘরেই। সবার আগে আম্মাজান খাদিজাতুল কুবরা (রা.) বিনা দ্বিধায় ঈমান আনলেন, ইসলাম গ্রহণ করলেন। এরপর একে একে যোগ দিলেন আলী ইবনে আবি তালিব (রা.), যায়েদ ইবনে হারিসা (রা.), প্রিয় নবীজির অন্তরঙ্গ বন্ধু আবু বকর সিদ্দীক (রা.)। আবু বকরের ডাকে ইসলামের পতাকাতলে ছুটে এলেন উসমান ইবনে আফ্ফান (রা), আবদুর রহমান ইবনে আওফ(রা), তালহা ইবনে উবাইদুল্লাহ ও যুবাইর ইবনে আওয়াম (রা.)।

নবুওয়াতের প্রথম তিন বছর (৬১০–৬১৩ খ্রি.) ছিল নীরব দাওয়াতের কার্যক্রম। লক্ষ্য ছিল সুদৃঢ়, কণ্ঠ ছিল সংযত। তখন দারুল আরকাম হয়ে উঠেছিল ইসলামের গোপন পাঠশালা। যেখানে কুরআনের আয়াত নেমে আসত ভোরের শিশিরের মতো স্নিগ্ধ হয়ে। রাতে কা‘বার ছায়ায় তারা দাঁড়িয়ে নামাজ পড়তেন, দিনে নিজেদের সৎ চরিত্রে মানুষকে মুগ্ধ করতেন।

ছোট্ট একটি দল, কিন্তু তাঁদের অন্তরে ছিল সমুদ্রসম ঈমান আর অটল আস্থা। দারুল আরকামেই গড়ে উঠছিল ভবিষ্যৎ ইসলামী রাষ্ট্রের প্রথম ইট। যেখান থেকে ইসলামের আলো ছড়িয়ে ছিল বিশ্বজুড়ে। প্রিয় নবীজি ছিলেন শিক্ষক, সাহাবিরা ছিলেন ছাত্র। ইসলামের প্রথম রূপকাররা নীরবে নিজেদের গড়ে নিচ্ছিলেন এখানে।

শব্দ ছিল কম, কিন্তু প্রভাব ছিল গভীর। চরিত্রের দীপ্তিই ছিল তাদের প্রকৃত পরিচয়। এই ক্ষুদ্র দলই পরবর্তীতে হয়ে ওঠেন সমগ্র বিশ্বমানবতার নেতৃত্বের যোগ্য হয়ে।

সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।

☞সীরাত ইবনে হিশাম ১/২৪৫–২৬০
আর-রাহিক্বুল মাখতুম ৭৭-৮৪।

১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৭ হিজরি,
০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ইংরেজি।

03/09/2025

এসো প্রিয় নবীজির সীরাত চর্চা করি ➤ ১১

প্রথম ওহি, নবুওয়াতের সূচনা

৬১০ খ্রিষ্টাব্দ, রমজানের শেষ দশক, সোমবার রাত, মক্কার জাবালুন-নূরের হিরা গুহা খুব নীরব ছিল। এ
নির্জনতায় গভীর ধ্যানেমগ্ন আমাদের প্রিয় নবীজি। হঠাৎ করে গুহার অন্ধকার আলোকোজ্জ্বল হয়ে উঠলো। জিবরাইল আ. উপস্থিত হলেন। দৃঢ় আলিঙ্গনে নবীজির বুক চেপে ধরলেন, উচ্চারিত হলো আসমানের প্রথম নির্দেশ পড়ুন "ইক্বরা"।

প্রিয় নবীজি বললেন, আমি পড়তে জানি না, দ্বিতীয়, অতঃপর তৃতীয় আলিঙ্গনে প্রিয় নবীজি উচ্চারণ করলেন সূরা আলাকের প্রথম পাঁচ আয়াত। মক্কার নিস্তব্ধতা ছিন্ন করে কুরআনের প্রথম শব্দগুলো পৃথিবীতে নেমে এলো।

কাঁপতে কাঁপতে ফিরে এসে যখন বললেন, জাম্বিলুনি, জাম্বিলুনি। আমাকে ঢেকে দাও। তখন আম্মাজান খাদিজা (রা.) জড়িয়ে ধরলেন, নবীজিকে সান্ত্বনা দিয়ে বলেন, "কখনোই না, আল্লাহ আপনাকে কখনো অসম্মান করবেন না। আপনি সত্যবাদী, আপনি আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করেন, আপনি অসহায়দের সাহায্য করেন, আপনি অভাবীদের সাহায়তা করেন, আপনি অতিথিদের আপ্যায়ন করেন, এবং প্রয়োজনে মানুষের পাশে দাঁড়ান।"

নিয়ে গেলেন চাচাতো ভাই ওয়ারাকা ইবন নওফলের কাছে। বৃদ্ধ ওয়ারাকা বললেন, এ তো সেই নামুসুল আকবার (জিবরাইল আ.)। যিনি মূসা আ. এর সময় ওহী নিয়ে আসতেন। সতর্ক করলেন, হে মুহাম্মদ! তোমার জাতি তোমাকে মক্কা থেকে বের করে দিবে, তবে তুমি যে আলোর যাত্রা শুরু করলে, তা কখনো থেমে থাকবে না।

সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।

সহিহ বুখারি, কিতাব, বাদউল ওহী, হাদিস ৩,
সীরাত ইবনে হিশাম ১/ ২৩৫–২৪৬,
আর-রাহিক্বুল মাখতুম পৃ. ৬৩–৭২।

১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৭ হিজরি।,
০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ইংরেজি।

এসো প্রিয় নবীজির সীরাত চর্চা করি ➤ ১০হাজারুল আসওয়াদ স্থাপনপ্রিয় নবীজি পয়ত্রিশ বছরে পদার্পণ করলেন। কুরাইশরা কা'বা শরীফ পু...
02/09/2025

এসো প্রিয় নবীজির সীরাত চর্চা করি ➤ ১০

হাজারুল আসওয়াদ স্থাপন

প্রিয় নবীজি পয়ত্রিশ বছরে পদার্পণ করলেন। কুরাইশরা কা'বা শরীফ পুনর্নির্মাণে মনোযোগী হলো। কাজ এগোতে লাগল সুশৃঙ্খলভাবে। যখন হাজারুল আসওয়াদ স্থাপনের সময় এলো, শুরু হলো তাদের মাঝে ভয়ঙ্কর দ্বন্দ্ব। প্রতিটি গোত্র চাইলো, এই মর্যাদাপূর্ণ কাজ তাদের হাতেই সম্পন্ন হোক। উত্তেজনা এত বেড়ে গেলো যে, রক্তক্ষয়ের আশঙ্কা দেখা দিলো।

অবশেষে গোত্রপ্রধানরা সিদ্ধান্ত নিলো, আগামীকাল প্রথম যে ব্যক্তি কা'বার দরজা দিয়ে প্রবেশ করবে, তাঁর রায়ই হবে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত, এবং চূড়ান্ত। আল্লাহর ইচ্ছায় প্রথম প্রবেশ করলেন সকলের আস্থাভাজন, বিশ্বস্ত, আমাদের প্রিয় নবীজি মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)।

তাঁকে দেখেই সবাই আনন্দে বলে উঠলো:
"هذا الأمين، و هذا هو صاحب العدل و الإنصاف"
"এ তো আল-আমিন! এ তো হলো ন্যায়বান!"

প্রিয় নবীজি স্বভাবসিদ্ধ প্রজ্ঞা দিয়ে অনন্য এক সমাধান দিলেন। তিনি নিজের চাদর বিছিয়ে তাতে হাজারুল আসওয়াদ রাখলেন, তারপর প্রতিটি গোত্রের প্রতিনিধি চাদরের কিনারা ধরলো। সবাই মিলে পাথরটি নির্দিষ্ট স্থানে তুলে আনলো। অবশেষে প্রিয় নবীজির মুবারক হাতে সেটিকে স্থাপন করলেন।

মুহূর্তের মধ্যেই সম্ভাব্য রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ দূর হয়ে গেল, আর প্রিয় নবীজির ন্যায়বোধ, দূরদর্শিতা ও নেতৃত্বের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লিপিবদ্ধ হলো।

সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।

☞সীরাত ইবনে হিশাম ১/২০৯,
আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া ৩/১৯৫।

১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৭ হিজরি,
০২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ইংরেজি।

31/08/2025

এসো প্রিয় নবীজির সীরাত চর্চা করি ➤ ০৯

খাদিজা রা. এর ব্যবসা পরিচালনা অতঃপর বিবাহ

পঁচিশতম বছরে পৌঁছালেন প্রিয় নবীজি। তখন মক্কার ব্যবসা-বাণিজ্যের জগতে প্রিয় নবীজির সততা, বিশ্বস্ততা ও উজ্জ্বল চরিত্রের খ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছে। কুরাইশের শ্রেষ্ঠ ধনী ও মর্যাদাবান নারী, মার্জিত চরিত্রের অধিকারিণী খদিজা তাঁর বাণিজ্য কাফেলার দায়িত্ব অর্পণ করলেন আমাদের প্রিয় নবীজির হাতে।

কাফেলার সাথে সিরিয়ার উদ্দেশ্যে প্রিয় নবীজি রওনা হলেন। সঙ্গী ছিলেন খদিজার বিশ্বস্ত কর্মচারী মাইসারাহ। সমগ্র সফরজুড়ে মাইসারাহ প্রত্যক্ষ করলেন এক বিরল দৃশ্য, প্রিয় নবীজির প্রতিটি লেনদেনে সততা, প্রতিটি পদক্ষেপে ন্যায়পরায়ণতা, প্রতিটি ব্যবহারে কোমলতা ও প্রজ্ঞার আলো। প্রিয় নবীজি এমনভাবে ব্যবসা পরিচালনা করলেন, যা শুধু লাভই আনলেন না, বরং মুগ্ধ করলেন প্রত্যেককে।

ফেরার পর মাইসারাহ পুরো ঘটনা খদিজাকে জানালেন। তাঁর অন্তর পূর্ণ হলো শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও মুগ্ধতায়। তিনি অনুভব করলেন, এই মানুষ শুধু একজন ব্যবসায়ী নন, তিনি হলেন মানবতার আলোকবর্তিকা। অতঃপর খদিজা স্বয়ং প্রস্তাব পাঠালেন বিয়ের জন্য।

তখন আম্মাজান খদিজা রা. এর বয়স ছিল চল্লিশ, তিনি ছিলেন বিধবা। আর প্রিয় নবীজির বয়স ছিল মাত্র পঁচিশ, তিনি ছিলেন টগবগে তরুণ যুবক। সূচনা হলো এমন এক দাম্পত্য জীবনের, যার ভিত্তি ছিল সততা, আস্থা, পারস্পরিক সম্মান আর ভালোবাসা।

আম্মাজান খদিজা রা.ই প্রথম নারী, যিনি প্রিয় নবীজির জীবনে আশ্রয়, প্রেরণা ও নির্ভরতার বাতিঘর হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। নবুয়তের ভার আসার পরও তিনি-ই হয়ে উঠেছিলেন প্রিয় নবীজির সর্বপ্রথম সান্ত্বনা ও সাহসের উৎস। তাঁদের জীবন এক অনন্য ইতিহাস, যা আজও মানবতার জন্য দিশারী হয়ে আছে।

সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।

☞ আর-রাহীক্বুল মাখতুম পৃ. ৬৩,
আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া ৩/৩৫৯।

০৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৭ হিজরি,
০১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ইংরেজি।

Address

Dhaka

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Al Hadi Foundation posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share