21/09/2026
কবি জসীম উদ্দীন হল সংসদের উদ্যোগে নির্মিত ‘পল্লী তোরণ’ গেটের শুভ উদ্বোধন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি জসীম উদ্দীন হলে প্রথমবারের মতো হল সংসদের উদ্যোগে হলের আনুষ্ঠানিক প্রবেশদ্বার ‘পল্লী তোরণ’ নির্মাণ করা হয়েছে। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম ও হল সংসদের নেতৃবৃন্দ গেটটির উদ্বোধন করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ডাকসুর ক্যারিয়ার উন্নয়ন সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম, কবি জসীম উদ্দীন হল সংসদের ভিপি মোহাম্মদ ওসমান গনি, এজিএস হিজবুল্লাহ আল হিজুলসহ হল সংসদের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে হল সংসদের এজিএস হিজবুল্লাহ আল হিজুল বলেন, “আমরা কবি জসীম উদ্দীন হল সংসদ দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে এ পর্যন্ত ১৩০টিরও বেশি কাজ বাস্তবায়ন করেছি। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো এই নান্দনিক গেট স্থাপন, হলের মসজিদে এসি স্থাপন, জিমনেশিয়াম ও কম্পিউটার ল্যাব স্থাপন এবং রিডিং রুমে এসি স্থাপনসহ আরও অনেক কাজ।”
তিনি বলেন, এসব কাজ বাস্তবায়নে সহযোগিতা করার জন্য হলের শিক্ষার্থীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। একই সঙ্গে গেট নির্মাণে অর্থায়নকারী আব্দুল কাদির মোল্লা এবং অন্যান্য কাজে সহযোগিতাকারীদের প্রতিও তিনি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।
ডাকসুর ক্যারিয়ার উন্নয়ন সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম বলেন, “আমি এই হলের শিক্ষার্থী ছিলাম। আমাদের হলের শিক্ষার্থীদের একটি স্বতন্ত্র পরিচয় ছিল না। আত্মীয়-স্বজন এলে তাদের হলের নাম বলতে হতো, না হলে তারা চিনতে পারতেন না। হল সংসদকে ধন্যবাদ, তারা এমন সুন্দর একটি কাজ সম্পন্ন করেছে।”
তিনি আরও বলেন, “এ ছাড়া হলের শিক্ষার্থীদের জন্য তারা এক বছরে অনেক কাজ করেছে। আবাসন সংকট দূর করা, জিমনেশিয়াম করা, রিডিং রুম ও মসজিদে এসি স্থাপনসহ অনেক কাজ তারা করেছে।”
অনুষ্ঠানে কবি জসীম উদ্দীন হল সংসদের ভিপি মুহাম্মদ ওসমান গণী হল প্রশাসনের প্রতিনিধিদের উপস্থিত না থাকার বিষয়টি তুলে ধরে বলেন, “হলের সম্মানিত প্রাধ্যক্ষ ও আবাসিক শিক্ষকদের উপস্থিত থাকার কথা ছিল। বারবার ফোন দেওয়ার পরও তারা কোনো রেসপন্স করেননি। এটা আমাদের জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক ও দুঃখজনক।”
তিনি আরও বলেন, “দীর্ঘ ৫০ বছরেও এই হলে কোনো গেট ছিল না। আমরা বাইরে থেকে স্পন্সর এনে শিক্ষার্থীদের কল্যাণে এই গেট স্থাপন করেছি। প্রশাসন ধরে নিয়েছে, যেহেতু হল সংসদ ও ডাকসু মিলে এই কাজ করেছে, তাই তাদের আসা উচিত হবে না। ৪০ হাজার শিক্ষার্থীর জানা উচিত, প্রশাসনের একটি অংশ হয়েও ডাকসু এবং হল সংসদকে কীভাবে ইগনোর করা হয়।”
ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, “৫০ বছর ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন শিক্ষার্থীদের পরিচয় দেওয়ার জন্য একটি গেট স্থাপন করতে পারেনি। বাধ্য হয়ে আমাদের এই কাজ করতে হয়েছে। মাত্র এক বছরে হল সংসদ দেখিয়েছে কীভাবে ইশতেহারের বাইরের কাজও বাস্তবায়ন করতে হয়।”
ছাত্রদলের সমালোচনা করে সাদিক কায়েম বলেন, “আমরা গড়ার কাজ করব আর তোমরা ভাঙবে। সম্প্রতি একাত্তর হলে আমাদের গেমস রুমের নামফলক তারা ভেঙেছে। জাহাঙ্গীরনগরে মেডিকেলের আধুনিকায়নের পর সেখানেও তারা ভাঙচুর চালিয়েছে। তাদের কাজ ভাঙা, আর আমাদের কাজ গড়া। বিগত ৫৫ বছর ধরে বাংলাদেশের লিডারশিপ এই ভাঙার কাজেই জড়িত ছিল। আমরা মাত্র এক বছর সময় পেয়েছি এবং গড়ে দেখিয়েছি।”
ডাকসুর এক বছরের কার্যক্রম তুলে ধরে সাদিক কায়েম বলেন, “আমরা শিক্ষার্থীদের আবাসিক, একাডেমিক ও আইনি সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি জিমনেশিয়াম, রিডিং রুমে এসি ও মসজিদে আধুনিক সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করেছি। জব ফেয়ারের মাধ্যমে ৪০০-এর বেশি শিক্ষার্থীর চাকরির ব্যবস্থা করেছি।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা কেউ চেয়ার আঁকড়ে থাকতে চাই না। দ্রুত সময়ের মধ্যে ডাকসু নির্বাচনের রূপরেখা ঘোষণা করার জন্য আমি বারবার ভিসি মহোদয়কে বলেছি। তবে আমরা আশঙ্কা করছি, বিগত বিএনপি সরকার যেমন নব্বইয়ের পর ছাত্র সংসদ নির্বাচন বন্ধ করে গণরুম-গেস্টরুম কালচার তৈরি করেছিল, তার প্রতিচ্ছবি এখন আবার দেখা যাচ্ছে।”
অনুষ্ঠানে ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম ফিতা কেটে এবং নামফলকের পর্দা উন্মোচন করে ‘পল্লী তোরণ’ গেটের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।