13/05/2026
বাংলাদেশের বার্ষিক বাজেটে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (ICT) খাতে রপ্তানি বৃদ্ধির পাশাপাশি স্থায়ী প্রবৃদ্ধি বজায় রাখতে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে:
১. কর ও প্রণোদনা সংক্রান্ত নীতি:
আইসিটি খাতে কর অবকাশ: সফটওয়্যার, আইটি সার্ভিস ও বিপিও (BPO) খাতের জন্য কর অবকাশের সময়সীমা বাড়ানো।
রপ্তানির উপর নগদ প্রণোদনা: আইসিটি রপ্তানির ক্ষেত্রে নগদ সহায়তার হার বৃদ্ধি করা ।
বিদেশি বিনিয়োগে কর ছাড়: আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোকে স্থানীয়ভাবে অফিস স্থাপন ও দক্ষতা উন্নয়নে উৎসাহিত করতে কর ছাড় প্রদান।
২. দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন:
বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ কর্মসূচি: সরকারি সহায়তায় সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট, সাইবার সিকিউরিটি, এআই, ডেটা সায়েন্স ইত্যাদিতে তরুণদের জন্য প্রশিক্ষণ কর্মসূচি।
ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সহযোগিতা: বিশ্ববিদ্যালয় ও আইটি কোম্পানিগুলোর মধ্যে যৌথ প্রকল্প ও ইন্টার্নশিপ চালু করার জন্য বাজেট বরাদ্দ।
ফ্রিল্যান্সার উন্নয়ন কর্মসূচি: বিশ্বমানের প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদেরকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তোলা।
৩. অবকাঠামো ও প্রযুক্তি সহায়তা:
হাই-টেক পার্ক উন্নয়ন: নতুন হাই-টেক পার্ক স্থাপন ও বিদ্যমান পার্কগুলোতে ইনসেনটিভ বৃদ্ধি।
ডেটা সেন্টার ও ক্লাউড অবকাঠামোতে বিনিয়োগ: আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ইনফ্রাস্ট্রাকচার তৈরি, যাতে আইটি রপ্তানির পরিবেশ আরও সহায়ক হয়।
ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী করা: হাই স্পিড কানেক্টিভিটি সুনিশ্চিত করতে বাজেট বরাদ্দ।
৪. বাজার সম্প্রসারণ ও ব্র্যান্ডিং:
আইসিটি পণ্যের আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ: স্থানীয় কোম্পানিগুলোর আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণে সরকারি সহযোগিতা ও অর্থায়ন।
বাংলাদেশ আইটি ব্র্যান্ডিং: “Digital Bangladesh” এর নতুন রূপায়ণ করে বিদেশে ব্র্যান্ডিং কার্যক্রমে বাজেট বরাদ্দ।
ট্রেড কমিশনার বা ICT অ্যাটাশে নিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি বাজারে।
৫. নীতিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা:
‘এক্সপোর্ট রেডি’ স্টার্টআপ সাপোর্ট স্কিম চালু: যেসব স্টার্টআপ আন্তর্জাতিক মানে পৌঁছাতে চায়, তাদের জন্য সহজ লোন ও প্রশিক্ষণ।
এক্সপোর্ট লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া সহজীকরণ: আইটি সার্ভিস রপ্তানির ক্ষেত্রে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানো।
এভাবে বার্ষিক বাজেটে কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি ও কার্যকর বরাদ্দ নিশ্চিত করলে বাংলাদেশ আইসিটি রপ্তানিতে অভাবনীয় অগ্রগতি অর্জন করতে পারবে এবং দীর্ঘমেয়াদী প্রবৃদ্ধি বজায় রাখতে পারবে।
বাংলাদেশ থেকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সুপার স্কিল্ড তরুণ পেশাজীবীরা দিন দিন বিদেশমুখী হচ্ছে, বিশেষ করে যেসব দেশ “ডিজিটাল নোমাড ভিসা” বা বিশেষ অভিবাসন সুবিধা দিচ্ছে তাদের প্রতি। এর ফলে দেশ হারাচ্ছে মূল্যবান মানবসম্পদ ও রপ্তানিযোগ্য সেবা শক্তি।
এই প্রেক্ষাপটে বার্ষিক বাজেটে কী ধরণের নীতিগত পরিবর্তন ও পদক্ষেপ দরকার তা নিচে তুলে ধরা হলো:
🔶 প্রতিযোগিতা মোকাবেলার কৌশল ও নীতিগত পরিবর্তন
১. ঘরে বসেই বৈশ্বিক সুযোগ – “ডিজিটাল বাংলাদেশ নোমাড প্রোগ্রাম” চালু
বাংলাদেশে বসেও বৈশ্বিক ক্লায়েন্টের সাথে কাজ করার পরিবেশ তৈরি করতে হবে।
আইটি পেশাজীবীদের জন্য কাজ ও বসবাস উপযোগী হাব বা ‘ডিজিটাল ওয়ার্ক ভিলেজ’ গড়ে তোলা, যেখানে থাকবে হাইস্পিড ইন্টারনেট, কর ছাড় সুবিধা, কমিউনিটি ও রিক্রিয়েশনাল সুবিধা।
স্টার্টআপ ও ফ্রিল্যান্সারদের জন্য স্বল্প সুদে ঋণ ও ট্যাক্স ইনসেনটিভ চালু।
২. আন্তর্জাতিক সুযোগ দেশে আনার উদ্যোগ
বিদেশি আইটি কোম্পানিকে দেশে অফিস খোলার জন্য বিশেষ সুবিধা (Tax Holiday, Fast-track services) প্রদান, যাতে তারা এখান থেকেই দক্ষ জনবল নিয়োগ করে কাজ করাতে আগ্রহী হয়।
সরকার নিজেরাই আন্তর্জাতিক প্রকল্প আনতে পারে এবং দেশীয় ট্যালেন্ট দিয়ে এক্সিকিউশন করাতে পারে — Public-Private Export Projects.
৩. ফিজিক্যাল মাইগ্রেশন বনাম ভার্চুয়াল মাইগ্রেশন – ভারসাম্য আনয়ন
ডিজিটাল নোমাড ভিসা দিলে তারা বিদেশে থেকে বৈদেশিক মুদ্রা আনতে পারে, কিন্তু বাংলাদেশ থেকে গেলে তা হয়ে যায় ব্রেইন ড্রেইন।
এর বিকল্প হিসেবে চালু করা যেতে পারে “বাংলাদেশ টেক ট্যালেন্ট ভিসা”, যেখানে বিদেশি কোম্পানি বাংলাদেশের তরুণদের নিয়োগ করতে পারবে কিন্তু কাজ করতে হবে এখানেই।
৪. Stay & Thrive in Bangladesh – উদ্যোক্তা ও ক্যারিয়ার সুযোগ
আইটি পেশাজীবীদের জন্য দেশে করমুক্ত রপ্তানি আয়ের সর্বোচ্চ সীমা বৃদ্ধি।
সফল ফ্রিল্যান্সার ও টেক উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ও ভর্তুকি প্রোগ্রাম।
সরকারের রিক্রুটমেন্ট ও পলিসি মেকিংয়ে তরুণ টেক এক্সপার্টদের অন্তর্ভুক্তি।
৫. উন্নত জীবনযাত্রা ও সামগ্রিক পরিবেশ উন্নয়ন
শুধু চাকরি নয়, থাকতে হবে উন্নত শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও বিনোদন সুবিধা, যা তরুণদের দেশের মধ্যেই থাকার উৎসাহ দেবে।
আইটি জোনে স্মার্ট সিটি মডেল চালু করে কর্ম ও জীবন একত্রে সুবিধাজনক করে তোলা।
🔷 সংক্ষেপে প্রস্তাবিত বাজেট কাঠামো:
# মানবসম্পদ উন্নয়ন
Global standard কোর্সে ভর্তুকি,
Talent Retention Grant
# নীতিমালা ও ইনসেনটিভ
Tax holiday,
Freelancers’ Tax Card,
Remote work infrastructure
# বিদেশি বাজার আকর্ষণ
B2B matchmaking,
IT Company setup accelerator
# পরিবেশ উন্নয়ন
Smart IT zones,
Health-insured tech parks
# Recognition ও Brand
Tech Excellence Awards,
Global ambassador program
এই নীতিগত পরিবর্তনগুলো বাজেটের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করলে বাংলাদেশ শুধু ICT রপ্তানি বাড়াতে পারবে না, বরং দেশের মেধাবী তরুণদের ধরে রাখতেও সক্ষম হবে।
Written by: Engr Rafel kabir
BNP Media Cell Bangladesh Nationalist Party-BNP ইঞ্জিনিয়ার শাহরিন ইসলাম তুহিন Tarique Rahman