14/09/2025
জলবায়ু পরিবর্তনে উপকূলীয় এলাকার মানুষ কীভাবে প্রভাবিত হচ্ছে?
১. সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ও বাস্তুচ্যুতি
সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল থেকে প্রায় নয় লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হওয়ার ঝুঁকিতে আছে। তাদের বসবাস ও জীবিকা তাত্ক্ষণিক হুমকির মুখে পড়বে। ১৯৯০-এর দশকের শুরুর পর থেকে বৈশ্বিক সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির গতি দ্বিগুণ হয়েছে এবং বর্তমানে এটি প্রতি বছর গড়ে প্রায় ৪.০ মিলিমিটার করে বাড়ছে
২. প্রাকৃতিক দুর্যোগের বৃদ্ধি
২০২৪ সালের গবেষণা অনুযায়ী, উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষরা জানাচ্ছেন যে মংলা এলাকায় ঘূর্ণিঝড়, লবণাক্ততা এবং নদীভাঙন সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করছে, আর শ্যামনগর এলাকায় ঘূর্ণিঝড়, লবণাক্ততা এবং জলোচ্ছ্বাস সবচেয়ে বড় হুমকি। যদিও Bangladesh বিশ্বব্যাপী মোট গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনের মাত্র ০.৩% উৎপাদন করে, তবুও ২০২৪ সালের World Risk Index অনুসারে জলবায়ুজনিত চরম আবহাওয়ার ঝুঁকিতে বাংলাদেশ নবম স্থানে রয়েছে।
৩. কৃষিতে প্রভাব
সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে যে উপকূলীয় অঞ্চলে জলবায়ুর পরিবর্তনের কারণে চাল উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে — ৬১% গবেষণায় এই প্রভাব উল্লেখ করা হয়েছে। এই অঞ্চলে প্রতি বছর গড়ে তাপমাত্রা ০.০৪°C এবং আর্দ্রতা ০.১৪% হারে বেড়ে চলেছে, যা সরাসরি ফসলের উৎপাদনশীলতা কমিয়ে দিচ্ছে।
৪. লবণাক্ততার অনুপ্রবেশ
লবণাক্ততার অনুপ্রবেশ কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তন, পলিমাটির জমা হওয়া এবং নদীর স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ কমে যাওয়াই এই সমস্যাকে আরও তীব্র করছে। এর ফলে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
৫. উপকূলরেখার পরিবর্তন
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উপকূলরেখা দ্রুত সরে যাচ্ছে। এর ফলে উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষদের জীবন-জীবিকা ক্রমাগত ঝুঁকির মুখে পড়ছে এবং তাদেরকে পরিবর্তিত উপকূলের সাথে মানিয়ে নিতে বারবার বাধ্য হতে হচ্ছে।