23/06/2025
আজ ২২ জুন ২০২৪, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপর আরোপিত ১৫ শতাংশ কর আরোপ ও ইউনাটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের উপর ন্যাক্কারজনক পুলিশি হামলার প্রতিবাদে "নো ট্যাক্স অন এডুকেশন" এর ব্যানারে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ইস্ট-ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি সংলগ্ন আফতাবনগর গেটে মিছিল পরবর্তী বিক্ষোভ সমাবেশ করেন। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড ইউনিভার্সিটি শিক্ষার্থী হাদিউজ্জামান আসাদ
ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি শিক্ষার্থী কাফসিরুল কাব্য, পূনম শাহরিয়ার নির্ঝর, সালসাবিল, ইউল্যাবের শিক্ষার্থী ফাত্তাহ সিয়াম, নর্দান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মারুফ হাসান, ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী প্রত্যয় বড়ুয়া, সাউথ ইস্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী শোয়াইব, ইউডার নাবিন আবতাহি, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আহমেদ আতিফ আবরার সৈয়দ আবদুল্লাহ জাবির। সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন ২০১৫ সালেন ভ্যাট আন্দোলনের সংগঠক ফারহান হাবিব ও মিঠু মোহাম্মদ। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী তানজিমুর রহমান রাফি।
সমাবেশ থেকে শিক্ষার্থীরা বলেন, অবিলম্বে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপর পুনরায় ১৫ শতাংশ কর আরোপের সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হবে।
গণ অভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার বৈষম্যহীন বাংলাদেশের যে আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছিলো এই রায় সেই গণ আকাঙ্খার পরিপন্থী। এর মধ্য দিয়ে সরকার শিক্ষাকে পণ্য হিসেবে দেখানোর প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করেছে। আওয়ামী ফ্যাসিস্ট আমলের ছাত্রস্বার্থবিরোধী একটি সিদ্ধান্তকে অভ্যুত্থান পরবর্তী সরকার বাস্তবায়ন করবে– ছাত্রসমাজ এটা কিছুতেই মেনে নেবে না। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুসারে, এসব প্রতিষ্ঠান অলাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে উচ্চশিক্ষা বিস্তারের কথা বলে গড়ে তোলা হয়েছে। তাহলে সেখানে কর আরোপের সিদ্ধান্ত আসে কীভাবে?
বলা হচ্ছে, যে ১৫ শতাংশ কর আদায় করা হবে এর প্রভাব সরাসরি শিক্ষার্থীদের উপর পড়বে না। কিন্তু বাস্তবতা হলো, এই করের টাকা বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শিক্ষার্থীদের কাছ থেকেই আদায় করবে। ফলে শিক্ষার খরচ আগের তুলনায় আরও বৃদ্ধি পাবে। এমনিতেই পর্যাপ্ত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অভাবে দেশের লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থী প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানে পড়তে বাধ্য হয়। নতুনভাবে কর আরোপ করলে মধ্যবিত্ত -নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তানরাও উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সুযোগ থেকে আরও বেশি বঞ্চিত হবে।
শিক্ষা মানুষের মৌলিক এবং মানবিক অধিকার। যখন এর উপর কর আরোপ করা হয়, তখন এটা নিশ্চিত হয় সরকার মানুষকে শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত করতে চায়।"
শিক্ষার্থীরা আরো বলেন, "ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির গণতান্ত্রিক আন্দোলনে যে প্রক্রিয়ায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের হামলার ঘটনায় যুক্ত পুলিশের শাস্তির আয়তায় আনতে হবে। এবং অতিসত্বর অবৈধ বহিষ্কারাদেশ তুলে নিয়ে শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক দাবি মেনে নিতে আহ্বান জানাচ্ছি। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মত প্রকাশের অধিকারসহ গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিতে প্রশাসনের স্পষ্ট উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।"
আমাদের দাবি সমূহ :
১। অবিলম্বে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপর আরোপিত ১৫% কর বাতিল করতে হবে। শিক্ষার উপর কোন কর আরোপ করা চলবে না।
২। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুযায়ী অলাভজনক প্রতিষ্ঠান কীভাবে মুনাফা করে তার তদন্ত করতে হবে। এই অবৈধ আয় বাজেয়াপ্ত করতে হবে। শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি কমাতে হবে।
৩। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে টিউশন ফি নির্ধারণে অভিন্ন নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে, শিক্ষাবীদ-বুদ্ধিজীবী এবং ছাত্র প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে কমিটি করে এই নীতিমালা করতে হবে।
৪। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মান এবং উচ্চশিক্ষার শর্ত পূরণে ইউজিসি ও সরকারের কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।