29/06/2016
লাইলাতুল কদর কবে?
হজরত আয়েশা রা. সূত্রে বর্ণিত, রাসুল সা.-কে একদা প্রশ্ন হলো শবে কদর কবে? এ বিষয়ে হজরত আয়েশা রা. বলেন, রাসুল সা. বলেছেন, রোজার শেষ দশদিনের বেজোড় রাতে তোমরা শবে কদর অনুসন্ধান কর। (বুখারি শরীফ, ১৯১৩)
কুরআন শরিফে আল্লাহ বলেন, নিঃসন্দেহে আমি লাইলাতুল কদরে কুরআন নাজিল করেছি। আপনি জানেন লাইলাতুল কদর কী? লাইলাতুল কদর হাজার মাসের চেয়ে উত্তম। এই রাতে ফেরেশতাগন ও জিবরাইল প্রভুর অনুমতিক্রমে মঙ্গলময় বস্তু নিয়ে পৃথিবীতে আসেন। এই রাত জুড়ে কল্যাণ বয়ে যায় সূর্যোদ্বয় পর্যন্ত। (সুরা কদর )
তাফসিরে কুরতুবি শরিফে এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, শবে কদর অর্থ ভাগ্য নির্ধারণ রজনী। এ রাতে পরবর্তী এক বছরের অবধারিত বিধিলিপি সংশ্লিষ্ট ফেরেশতা ব্যবস্থাপকের কাছে হস্তান্তর করা হয়। আগামি বছর মানুষের জীবন, মরন, খাদ্য, বৃষ্টির পরিমাণ ইত্যাদি লিখে দেওয়া হয়। চলতি বছর কে হজ করবেন তাও লেখা হয়ে থাকে। ইবনে আব্বাস বলেন, এ কাজের জন্য জিবরাইল, ইসরাফিল, মিকাইল ও আজরাইল চার ফেরেশতা নিযুক্ত থাকেন। রাসুল সা. শবে কদরের গুরুত্ব সম্পর্কে বলেছেন, যে ব্যক্তি মহিমান্বিত রজনী শবে কদরে পূর্ণমনোযোগ ও বিশ্বাসের সঙ্গে ইবাদত করবে আল্লাহ তার গত জীবনের সব অপরাধ ক্ষমা করে দিবেন। (বুখারি, মুসলিম)
অন্যত্র হজরত আয়েশা রা. সূত্রে বর্ণিত, রাসুল সা.-কে একদা প্রশ্ন হলো শবে কদর কবে? এ বিষয়ে হজরত আয়েশা রা. বলেন, রাসুল সা. বলেছেন, রোজার শেষ দশদিনের বেজোড় রাতে তোমরা শবে কদর অনুসন্ধান কর। (বুখারি শরীফ, ১৯১৩)
হজরত ওবায়দা বিন সাবেত রা. বলেন, রাসুল সা. বলেছেন, একদিন কদরের রাত সম্পর্কে বলতে বের হলেন তখন মসজিদে দু’জন ঝগড়া করছেন, এর ফলে রাসুল সা.-এর অন্তর থেকে কদরের সুনির্দিষ্ট তারিখটি মুছে দেওয়া হয়। নবিজি ভুলে যান। (বুখারি শরীফ, ১৯১৯)
হজরত ওবায়দা বিন সামেত এই রাতের পরিচয়ের কথা এভাবে বলেছেন, ভাগ্য নির্ধারণীর এ রাতে আকাশ থেকে কোন উল্কাপিন্ড নিক্ষিপ্ত হয় না। এই দিনের ভোরের আলো প্রখর থাকে না। সকালে পূর্ণিমা চাঁদের মতো স্নিগ্ধ আলো হবে। (শুআবুল ঈমান, হাদীস-৩৬৯৩)
কদরের রাতে যে দোয়া পড়া উচিত- হজরত আয়েশা রা.-এর এমন প্রশ্নের জবাবে রাসুল সা. বলেন, ‘আল্লাহুমা ইন্নাকা আফুউয়ুন তুহিব্বুল আফওয়া, ফা’য়াফু আন্নি’ হে আল্লাহ তুমি ক্ষমাশীল, ক্ষমা পছন্দ কর, সুতরাং আমাকে ক্ষমা করে দাও। (তিরমিজি, ইবনে মাজাহ)
আমরা লাইলাতুল কদর খুঁজি, এই রাতে ইবাদতে ডুব দিই, কিন্তু এই রাত কেন এত সম্মানিত হলো তা আদৌ ভেবে দেখি না। সে কথাই বলেছেন ধর্মের বিপ্লবী সাধক মাওলানা আবুল কালাম আজাদ। ‘আজ চিন্তার বিষয়! আমাদের অবহেলা ও অলসতা কতটা গভীর। আমাদের মানসিকতার কত অধঃপতন হয়েছে। আমরা লাইলাতুল কদরের সন্ধানে উদগ্রীব। কিন্তু এই রাতে যে কুরআন আমাদের দেওয়া হলো সে বিষয়ে আমরা কতই না অজ্ঞ। কুরআন নাজিলের কারণেই এই রাতের মর্যাদা। কুরআন বুকে ধারণ করতে পারলে প্রতিটি রাতই লাইলাতুল কদর হবে।