শিশুর হাসি Child’s Smile

শিশুর হাসি Child’s Smile Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from শিশুর হাসি Child’s Smile, Community Organization, Dhaka.

শিশুর বেচে থাকা, অংশগ্রহন, সুরক্ষা ও বিকাশ নিয়ে আমরা কাজ করি — যেন প্রতিটি শিশু হাসতে পারে।
We work for child survival, participation, protection, and development — so every child can smile.

10/08/2026

লক্ষাধিক শিশুর ঝরে পড়া??
ময়মনসিংহে এক বছরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এক লাখের বেশি শিক্ষার্থী কমে যাওয়ার যে খবর প্রথম আলোয় ছাপা হয়েছে, তা গভীর উদ্বেগের। খবরে দেখা যাচ্ছে, ২০২৫ সালে যেখানে শিক্ষার্থী ছিল ৫ লাখ ৩৮ হাজার ৫৬৮, সেখানে ২০২৬ সালে তা নেমে এসেছে ৪ লাখ ২৫ হাজার ৮২২ জনে। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে কমেছে ১ লাখ ১২ হাজার ৭৪৬ জন শিক্ষার্থী। এই সংখ্যা কেবল পরিসংখ্যান নয়; এর প্রতিটি সংখ্যার পেছনে রয়েছে একটি করে শিশুর শিক্ষা থেকে ছিটকে পড়ার বেদনাদায়ক গল্প।
প্রতিবেদনটি বলছে, অনেক শিশুই দারিদ্র্যের চাপে শ্রমবাজারে ঢুকে পড়ছে। কেউ ঢাকায় গিয়ে কাজ শিখছে, কেউ পরিবারের আয়ে সহায়তা করছে। আবার কেউ কেউ চলে যাচ্ছে কওমি মাদ্রাসা বা বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। বিশেষ করে দরিদ্র পরিবারগুলোর ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, শিক্ষা আর জীবিকার দ্বন্দ্বে জীবিকাই জয়ী হচ্ছে। এতে স্পষ্ট হয়, প্রাথমিক শিক্ষা এখনো সবার জন্য সমানভাবে টেকসই হয়ে ওঠেনি।
ময়মনসিংহের এই চিত্র আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে ঝরে পড়ার হার আবার বাড়ছে এবং কিছু অঞ্চলে তা ৩০ শতাংশের বেশি। ফলে ধারণা করা যায়, দেশের অন্য দরিদ্র জেলাগুলোতেও একই প্রবণতা বিদ্যমান। এভাবে চলতে থাকলে শিক্ষা ক্রমেই শ্রেণিভিত্তিক হয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হবে, যেখানে দরিদ্র শিশুরা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার বাইরে থেকে যাবে।
শুধু দারিদ্র্য নয়, প্রাতিষ্ঠানিক সীমাবদ্ধতাও এই সংকটকে তীব্র করছে। ময়মনসিংহে প্রায় ৫৮ শতাংশ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই, অনেক বিদ্যালয়ে শিক্ষকসংকট রয়েছে, অবকাঠামোও দুর্বল। কোথাও একসঙ্গে একাধিক শ্রেণির পাঠদান চলছে, কোথাও সময়ের আগেই ছুটি দিতে হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে বিদ্যালয় শিক্ষার্থীর কাছে আকর্ষণ হারায়—এটাই স্বাভাবিক।
এই বাস্তবতায় ঝরে পড়া রোধে কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি। দরিদ্র পরিবারের জন্য শর্তসাপেক্ষ নগদ সহায়তা ও উপবৃত্তি কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন, যাতে শিশুকে কাজে পাঠানোর পরিবর্তে বিদ্যালয়ে রাখা যায়। ‘মিড-ডে মিল’ কর্মসূচি সর্বজনীন করা গেলে তা শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বাড়াতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। পাশাপাশি শিক্ষক নিয়োগ, প্রশিক্ষণ ও বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়নে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। অভিভাবকদের সঙ্গে বিদ্যালয়ের যোগাযোগ জোরদার করাও গুরুত্বপূর্ণ।
শিক্ষা কেবল একটি খাত নয়; এটি একটি জাতির ভবিষ্যতের ভিত্তি। যখন একটি শিশু বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়ে, তখন সে শুধু একটি শ্রেণিকক্ষ থেকে নয়, একটি সম্ভাবনাময় জীবনপথ থেকেও সরে যায়। এক বছরে এক লাখের বেশি শিশুর এই হারিয়ে যাওয়া তাই আমাদের জন্য সতর্কবার্তা, যা উপেক্ষা করার সুযোগ আর নেই।

07/08/2026

মেটাকে এবার ৫৭ কোটি ডলার জরিমানা আদালতের।।।।।।।।।।।।
ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মূল প্রতিষ্ঠান মেটাকে ৫৬ কোটি ৭০ লাখ ডলার জরিমানা পরিশোধ করার নির্দেশ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যের একটি আদালত। এ অর্থ শিশু–কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্যসেবা তহবিলে জমা দিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে এসব খুদে ব্যবহারকারীর জন্য ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে বিভিন্ন পরিবর্তন আনতে বলা হয়েছে।
মেটা ইচ্ছাকৃতভাবে এমনভাবে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম তৈরি করেছে, যাতে শিশু–কিশোরেরা এসব প্ল্যাটফর্মে আসক্ত হয়ে পড়ে। পাশাপাশি যৌন হয়রানি থেকে শিশুদের সুরক্ষা দিতেও প্রতিষ্ঠানটি ব্যর্থ হয়েছে।

03/08/2026
25/07/2026

শিশুর মস্তিষ্ক বিকাশে সাহায্য করে যেসব খাবার।।।।
চিনিযুক্ত খাবারের প্রভাব।।
প্রচলিত ধারণা, মিষ্টি খেলে বুদ্ধি বাড়ে। এটি ভুল ধারণা। প্রয়োজনের চেয়ে অতিরিক্ত চিনি খেলে তা শিশুকে আরও চঞ্চল ও আবেগপ্রবণ করে তুলতে পারে।
অতিরিক্ত চিনিযুক্ত খাবার শিশুর রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল করতে পারে। শৈশবেই টাইপ-টু ডায়াবেটিস, ওজন বৃদ্ধি এবং দাঁত ক্ষয় হতে পারে।
যে শিশু বেশি চিনিযুক্ত ও প্রক্রিয়াজাত খাবার খায়, তাদের মস্তিষ্কে হোয়াইট ম্যাটারের পরিমাণ কম থাকে। যা শেখা ও স্মৃতির সঙ্গে জড়িত একটি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল।
শিশুর দরকারি খাবারঃ
শিশুর মস্তিষ্কের ৯০ শতাংশ বৃদ্ধি পাঁচ বছর বয়সের মধ্যে হয়, বিশেষ করে আবেগিক ও সামাজিক দক্ষতা এবং শেখার ভিত্তি। এ সময় পুষ্টির দিকে খেয়াল রাখা জরুরি।
প্রোটিন: শিশুর মস্তিষ্কে নিউরোট্রান্সমিটার উৎপাদনে অবদান রাখে। বাদাম, ডাল, ডিম, দুগ্ধজাত খাবার, মাছ বা চর্বিহীন মুরগির মাংস চমৎকার উৎস।
ওমেগা-থ্রি: শেখার ক্ষমতা ও মস্তিষ্ক গঠনে ওমেগা-থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড–সমৃদ্ধ খাবার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তৈলাক্ত মাছ, তিসিবীজ, মিষ্টিকুমড়ার বীজ খেতে পারেন।
ফোলেট ও ভিটামিন: মস্তিষ্কের রক্ত সঞ্চালন এবং স্নায়বিক বিকাশে এই দুটি ভিটামিন সহায়তা করে। খাদ্যে রাখতে পারেন মসুর ডাল, মুগ ডাল, সবুজ শাকসবজি ইত্যাদি।
ভিটামিন বি: শিশুদের মানসিক ক্লান্তি কমাতে ও মস্তিষ্কের শক্তি বজায় রাখতে ভিটামিন বি সহায়ক। কলা, শস্যদানা, ডাল, ডিম থেকে ভিটামিন বি পাওয়া যায়।
কোলিন: শিশুদের সংকেত আদান-প্রদানে ও স্মৃতিশক্তির জন্য কোলিন–সমৃদ্ধ খাবার গুরুত্বপূর্ণ। সয়াবিন, ডিম, চিনাবাদাম এবং ফুলকপি, বাঁধাকপি, ব্রকলি প্রভৃতি সবজিতে পর্যাপ্ত কোলিন থাকে।
আয়োডিন: শিশুদের জ্ঞান বিকাশে আয়োডিনসমৃদ্ধ খাবার ভূমিকা রাখে। দুগ্ধজাত খাবার, আয়োডিনযুক্ত লবণ, সামুদ্রিক খাবার ও ডিমে আয়োডিন থাকে।
জিঙ্ক: স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগ বাড়াতে জিঙ্কসমৃদ্ধ খাবার গুরুত্বপূর্ণ। ছোলা, কুমড়ার বীজ, লাল মাংস, শস্যদানা ও দুগ্ধজাত খাবারে জিঙ্ক থাকে পর্যাপ্ত।

21/07/2026

একটি বাড়ি: ৬টি শিক্ষা
বাদল সৈয়দ
১৯৮৭- ৯২ সাল।
বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে একটি বাড়িতে টিউশনি করতাম। এ বাড়ির মানুষদের কাছ থেকে আমি কিছু ব্যাপার শিখেছিলাম- যা এখনো আমার জীবনে হীরকখণ্ড হয়ে রয়ে গেছে।
বাড়িটি ছিল আসকারদীঘির পাড়ে।
বেশ ধনী ব্যবসায়ী পরিবার।
সে বাড়িতে পড়াতে গেলে প্রায় প্রতিদিন আমার কয়েকটি অভিজ্ঞতা হতো-
১) গাড়ি বারান্দায় দেখা হতো বাড়ির গৃহকর্তার সাথে। তিনি ছিলেন ছাত্রের দাদা। তিনি তাঁদের পারিবারিক ব্যবসার প্রধান ছিলেন।
আমি যখন যেতাম তখন তিনি গাড়ি বারান্দায় হাঁটতেন। খুবই রাশভারি মানুষ কিন্তু আমাকে দেখলেই এগিয়ে এসে হেসে জিজ্ঞেস করতেন, ‘বাবা, ভালো আছেন?’
তাঁর প্রতিদিন নরম স্বরে করা এ স্নেহ মেশানো প্রশ্ন আমাকে শিখিয়েছিল, বিপুল বিত্ত এবং ক্ষমতা থাকার পরও মানুষ কতটা বিনয়ী ও স্নেহময় হতে পারে।
২) একতলার মুখে দেখা হতো তাঁর মেয়ের সাথে। ছাত্রের ফুপু। সম্ভবত নাম ছিল বনি। আমাকে দেখলেই তিনি এগিয়ে আসতেন। সাথে তাঁর দুটো ফুটফুটে মেয়ে। বনি আপা তাদের মিষ্টি হেসে বলতেন, ‘স্যারকে সালাম দাও। কেমন আছে জিজ্ঞেস করো।‘
ফুটফুটে শিশু দুটো একসাথে হাত কপালে তুলে বলত, 'আসসালামুলাইকুম স্যার। আপনি ভালো আছেন?’
বনি আপা শিখিয়েছিলেন, শিক্ষকের প্রতি কীভাবে সন্তানের মনে শ্রদ্ধা তৈরি করতে হয়।
৩) দোতলার ল্যান্ডিংয়ে দেখা হতো বাড়ির মেজছেলের সাথে। তিনি ছিলেন একটি বিদেশি ব্যাংকের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। সম্ভবত নাম ছিল ইফতেখার। তাঁর সঙ্গে দেখা হলে মাথা ঝাঁকিয়ে বলতেন, ’হোপ দ্যা ডে ওয়াজ ফাইন।‘
তাঁর প্রতিদিনের এই কথাটি একটি ব্যাপার আমার মাথায় গেঁথে দিয়েছিল, তা হচ্ছে, প্রতিটি দিন আসলে আলাদা। অসংখ্য সুন্দর দিন মিলে তৈরি হয় সুন্দর একটি জীবন এবং দিনগুলো সুন্দর করার দায়িত্ব আমার।
৪ ) তিনতলায় সম্ভবত ছাত্রের দাদা-দাদি তাঁদের অবিবাহিত পুত্রকে নিয়ে থাকতেন। এই পুত্র চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তেন। সেই বয়সেই ছিলেন বিখ্যাত সেলিব্রেটি।দেশজোড়া খ্যাতি।
একদিন এই সেলিব্রিটির সাথে চট্টগ্রাম শিল্পকলা একাডেমিতে দেখা হলো। অসংখ্য তরুণ, বিশেষ করে মেয়েরা তাঁকে ঘিরে আছে। আমি পাশ কাটিয়ে চলে আসছি, তিনি ভিড়ের মধ্য থেকে গলা উঁচু করে বললেন, 'কই যাচ্ছেন?'
আমি তখন তাঁদের বাড়িতেই ছাত্র পড়াতে যাচ্ছিলাম। তাই বললাম,'আপনাদের বাসায়। সাজিদকে পড়াতে যাচ্ছি।'
তিনি বললেন, ' দাঁড়ান, আমিও বাসায় যাব। একসঙ্গে যাওয়া যাবে।'
তিনি ড্রাইভ করে তাঁর গাড়িতে আমাকে বাসায় নিয়ে গেলেন। অথচ অতি বিখ্যাত মানুষটির একজন গৃহশিক্ষকের দিকে খেয়াল কোনো দরকার ছিল না।
যতবার দেখা হতো তিনি খুব আন্তরিকভাবে কথা বলতেন। তাতে সেলিব্রিটির উত্তাপ থাকত না।
তাঁর কাছ থেকে শিখেছিলাম- সত্যিকারের খ্যাতি মানুষকে আরো বড় করে। অহংকারী করে না।
৫) চারতলায় ছাত্রের বাবা-মা থাকতেন। তার বাবার নাম ছিল মোহাম্মদ আলি খান। তিনি ছিলেন খুব গম্ভীর টাইপ মানুষ। আমি যখন পড়াতে যেতাম তখন তিনি বাড়ি ফিরতেন। কোনো কথা বলতেন না, কিন্তু মাথা ঝুঁকিয়ে আমার প্রতি সম্মান দেখাতেন।
সে ভঙ্গিই আমাকে শিখিয়েছিল একটি শব্দ উচ্চারণ না করেও কীভাবে মানুষকে সম্মান দেখানো যায়।
৬) সবচেয়ে সুন্দর অভিজ্ঞতা হয়েছিল গ্লোরিয়া ভাবির কাছ থেকে। তিনি আমার ছাত্র সাজিদের মা। ও ইংরেজি মিডিয়ামে পড়ায় জুন মাসে বার্ষিক পরীক্ষা হয়ে যেত। তারপর দুমাসের জন্য স্কুল ছুটি। আমি তখন পড়াতে যেতাম না। কিন্তু ভাবি আমাকে এ দুমাসের বেতন একসঙ্গে দিয়ে দিতেন।
আমি না পড়িয়ে টাকা নিতে সংকোচ করলে তিনি বলতেন, 'ওয়ান্স অ্যা টিচার ইজ অলওয়েজ অ্যা টিচার। পড়াও বা না পড়াও তুমি সাজেদের টিচার। স্কুল বন্ধ বলে কিছুদিন পড়াবে না, এই যা।'
কী অসাধারণ চিন্তা, তাই না?
তাঁর কাছ থেকেই আমি শিখেছি, যিনি একদিনও পড়িয়েছেন তাঁকে আজীবন শিক্ষক মান্য করতে হয়।
এই লেখা পড়তে পড়তে হয়তো আপনি ভাবছেন, এই বাড়ির বিখ্যাত সেলিব্রিটি পুত্রটি কে?
তিনি হচ্ছেন সোলসের বিখ্যাত গায়ক নাসিম আলি খান।
আশি বা নব্বই দশকে সোলস ছিল আমাদের প্রজন্মের ক্রেজ। এর নাম উচ্চারিত হলে বুকে উদ্দাম বাজনা বাজত। এর প্রত্যেক সদস্য ছিলেন তরুণদের স্বপ্নপুরুষ।
আর এই সেলিব্রিটি আমাকে গাড়ি চালিয়ে বাড়ি পৌঁছে দিতেন!
ভাবা যায়!
কিছু কিছু বাড়ি আছে, যা কেবল বাড়ি নয়- একধরনের বাতিঘর।
আসকারদীঘির পাড়ের সেই বাড়িটিও ছিল তাই।
(লেখাটি শেয়ার করা যাবে)

19/07/2026

নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা।
বিচারহীনতার এই সংস্কৃতি আর কত?
প্রথম আলোর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে ময়মনসিংহ জেলার নারী ও শিশু সহিংসতার যে চিত্র ফুটে উঠেছে, তা এককথায় আশঙ্কাজনক। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে কেবল এই জেলাতেই ১০৩টি ধর্ষণের মামলা হয়েছে, যার মধ্যে ৬৪ জন শিশু ও কিশোরী ধর্ষণের শিকার হয়েছে। অর্থাৎ প্রায় ৬৩ শতাংশই শিশু-কিশোরী। গত বছরের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, শিশু ধর্ষণের ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে।
আশঙ্কাজনক এই পরিসংখ্যানের পাশাপাশি আরও হতাশাজনক তথ্য হচ্ছে, উল্লিখিত ১০৩টি ধর্ষণের মামলার মধ্যে মাত্র ১১টির অভিযোগপত্র ও ২টি মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে এবং মাত্র একটির বিচার হয়েছে। অন্যদিকে গত বছরের ১০৬টি মামলার একটিরও রায় হয়নি। বাংলাদেশ রাষ্ট্র তার নাগরিকদের যে ন্যূনতম নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং বিচার পাওয়ার ন্যূনতম নাগরিক অধিকার প্রদান করতে পারছে না, ময়মনসিংহ জেলার এ তথ্য চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে।
কেবল ময়মনসিংহ জেলার চিত্র নয়, বরং সমগ্র দেশের চিত্রও একইভাবে হতাশাজনক। সম্প্রতি হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) জানিয়েছে, গত ছয় মাসে ১ হাজার ৬২১ জন নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এক বছরে নির্যাতনের ঘটনা প্রায় ৫৬ শতাংশ বেড়েছে বলে তারা জানিয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট ও ব্র্যাকের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পদ্ধতিগত প্রতিবন্ধকতা এবং উক্ত প্রতিবন্ধকতাসমূহ নিরসনের কার্যকর উপায় চিহ্নিতকরণ’ শীর্ষক গবেষণায় দেখা গেছে, নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলায় সাজার হার মাত্র ৩ শতাংশ। এর বিপরীতে প্রায় ৭০ শতাংশ মামলায় খালাস পেয়েছেন আসামিরা।
এই পরিসংখ্যানগুলোই আমাদের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং বিচারব্যবস্থার নাজুক দশার প্রমাণস্বরূপ। প্রথম আলোর এই প্রতিবেদনে মেডিক্যাল ও ডিএনএ রিপোর্টের দীর্ঘসূত্রতাকে দায়ী করা হচ্ছে।
এমনকি যেকোনো ঘটনা আলোচিত না হলে তদন্ত থেমে যাওয়ার কথাও সাম্প্রতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনে যেমন উঠে এসেছে, তেমনি এই সংবাদেও দেখা যায়।
বিচারপ্রক্রিয়ার এমন দীর্ঘসূত্রতার কারণে বাংলাদেশে যে বিচারহীনতার সংস্কৃতিও গড়ে উঠেছে, ময়মনসিংহ জেলার নারী ও শিশু সহিংসতার চিত্র তা দেখাচ্ছে। বিচারহীনতা নাগরিকের মনে তীব্র ক্ষোভ এবং বিচারব্যবস্থার প্রতি প্রচণ্ড অনাস্থা তৈরি করছে। এর বিভিন্ন ধরনের বহিঃপ্রকাশ প্রায়ই বাংলাদেশের নাগরিক পরিসরে দেখা যাচ্ছে।
আমরা মনে করি, বিচারহীনতার সংস্কৃতিই নারী ও শিশুদের প্রতি অপরাধের প্রবণতা বৃদ্ধির জন্য দায়ী। কোনোভাবেই বিচারপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতার অজুহাত মেনে নেওয়া যায় না। মেডিক্যাল ও ডিএনএ রিপোর্ট দেওয়ার প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ আধুনিকায়ন করে দীর্ঘসূত্রতার সমস্যাগুলোর সমাধান করতে হবে। এ জন্য প্রয়োজনীয় আইনি ও কাঠামোগত সংস্কারের পদক্ষেপ নিতে হবে।

15/07/2026

দড়িতে বাঁধা আড়াই বছরের মেহেদীর শৈশব। ‘কোনো মানবশিশু কি এভাবে বেড়ে উঠতে পারে’?
বুধবার রাত। ঘড়িতে তখন সাড়ে নয়টা। রাজধানীর সচিবালয় মেট্রোস্টেশন থেকে পল্টন মোড়ের দিকে কিছুটা এগোতেই ফুটপাতে দেখা গেল মানুষের ভিড়। ভিড় ঠেলে এগোতেই চোখে পড়ল ফুটপাতের এক কোণে বসে আছে এক ছোট্ট শিশু।
খালি গা, সামনে একটি ছোট্ট প্লাস্টিকের বাটি। তবে ভিড় জমার কারণ শিশুটি নয়; বরং তার কোমরে থাকা দড়ি। ফুটপাতের লোহার রেলিংয়ের সঙ্গে সেটি বাঁধা রয়েছে।
শিশুটি হামাগুড়ি দিচ্ছে, দাঁড়াচ্ছে, ভিড়ের দিকে এগিয়ে যেতে চেষ্টা করছে। তবে বারবার বাধা পাচ্ছে দড়িতে। চিৎকার করে কেঁদে উঠছে।
বেশ কিছুক্ষণ পরেই একজন নারীকে সেখানে ছুটে আসতে দেখা গেল। হাতে ছেঁড়া বস্তা। তার ভেতর প্লাস্টিকের বোতল। শিশুটি তাঁর। নাম তার মেহেদী, বয়স আড়াই বছর।
কোমরে দড়ি বাঁধা কেন জানতে চাইলে শিশুটির মা বললেন, ‘কী করতাম। বোতল টুকাইতে গেছি। পুলাডা রাস্তার দিকে দৌড় দেয়। বাইন্দা যাওন ছাড়া উপায় আছে?’
কোনো মানবশিশু এভাবে বেড়ে উঠতে পারে? রাষ্ট্রেরও তো একটা দায়িত্ব আছে।’

14/07/2026

শৈশবকালীন মানসিক চাপ।
শৈশবকাল হলো একটি শিশুর জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময় যা জন্ম থেকে পাঁচ বছর বয়স পর্যন্ত স্থায়ী হয়।মানসিক চাপ জীবনের একটি অনিবার্য অংশ। মানুষ খুব অল্প বয়স থেকেই চাপের অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারে। যদিও গড়পড়তা মানুষের জন্য চাপ একটি স্বাভাবিক বিষয়, তবে এটি একটি ছোট শিশুর জীবনে ইতিবাচক বা নেতিবাচক প্রভাব বিস্তারকারী হিসেবে কাজ করতে পারে।

24/06/2026

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাংলাদেশে ১ কোটি ২৭ লাখ শিশুর শিক্ষায় ক্ষতি।
সংঘাত, আর্থ–সামাজিক সংকট ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে ২৫ কোটির বেশি শিশু–কিশোরের শিক্ষা ব্যাহত হচ্ছে। এর মধ্যে বাংলাদেশের ১ কোটি ২৭ লাখ শিশু–কিশোর রয়েছে। একই কারণে বিশ্বের সোয়া ৯ কোটি শিশু স্কুল থেকে পুরোপুরি ছিটকে পড়েছে। গতকাল মঙ্গলবার জাতিসংঘের প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। গবেষণাটি করেছে ‘এডুকেশন ক্যাননট ওয়েট’। এটি বিশ্বের সংকটপূর্ণ অঞ্চলগুলোয় শিশুদের শিক্ষা নিশ্চিত করতে জাতিসংঘের উদ্যোগে গঠন করা একটি বৈশ্বিক তহবিল।
গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাত্র ১৮ মাসের ব্যবধানে সংঘাত ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সংকটের মুখে পড়া শিশুর সংখ্যা ২ কোটি ১০ লাখ বেড়েছে। ফলে বিশ্বব্যাপী এমন শিশুর সংখ্যা পৌঁছেছে আনুমানিক ২৫ কোটি ৮০ লাখে।
প্রতিবেদনে এমন শিশু–কিশোরদের ওপর আলোকপাত করা হয়েছে, যাদের বয়স স্কুলে যাওয়ার। কিন্তু সংঘাত, বাস্তুচ্যূতি, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং দীর্ঘস্থায়ী আর্থ–সামাজিক সংকটের কারণে তাদের শিক্ষা বিঘ্নিত হয়েছে। প্রতিবেদনে দেখা গেছে, এসব কারণে ৯ কোটি ৩০ লাখ শিশু স্কুল থেকে পুরোপুরি ছিড়কে পড়েছে। আর শিক্ষার ক্ষেত্রে সামগ্রিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া ২৫ কোটি ৮০ লাখ শিশুর প্রায় ৬০ শতাংশই মাত্র নয়টি দেশের। দেশগুলো হলো—আফগানিস্তান, বাংলাদেশ, গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, ইথিওপিয়া , মিয়ানমার, নাইজেরিয়া, পাকিস্তান, সুদান ও ইয়েমেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে স্কুলে যাওয়ার বয়সী আনুমানিক ৪ কোটি ২৮ লাখ শিশু রয়েছে। তাদের মধ্যে ১ কোটি ২৭ লাখ শিশুর শিক্ষা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর পেছনে সবচেয়ে বেশি—৯৮ দশমিক ১ শতাংশ দায়ী করা হয়েছে প্রাকৃতিক দুর্যোগকে। আর ১ দশমিক ৯ শতাংশ দায়ী আর্থ–সামাজিক সংকট।

Address

Dhaka

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when শিশুর হাসি Child’s Smile posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share