12/01/2026
ফরিদপুর মেরিন ইনিস্টিউটের হোস্টেলে জুনিয়র শিক্ষার্থীদের ওপর সিনিয়র শিক্ষার্থীরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়েছে। এ সময় হোস্টেলের জানালা, দরজা ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়।
হামলায় আহত অবস্থায় সাতজন শিক্ষার্থীকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজে হাসপাতালে নেওয়া হয়। বর্তমানে দুজন চিকিৎসাধীন রয়েছে। তাঁদের মাথায় আঘাত রয়েছে।
গতকাল রোববার দিবাগত রাত ২টার দিকে ফরিদপুর শহরতলির চুনাঘাটা এলাকায় অবস্থিত ইনস্টিটিউট অব মেরিন টেকনোলজির আবাসিক ছাত্র হোস্টেলে এ ঘটনা ঘটে।
আহত ব্যক্তিদের মধ্যে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির তৃতীয় বর্ষের চতুর্থ সেমিস্টারের মেরিন টেকনোলজি বিভাগের শিক্ষার্থী আমিরুল ইসলাম (১৮), নিরব হোসেন (১৯) ও জুনায়েদ হোসেন (১৯)। এ ছাড়া একই শ্রেণির হাসিন, সজিব ও খতিবুল ইসলাম এবং শিপ বিল্ডিং বিভাগের আরও চারজন আহত হন। তাঁদের উদ্ধার করে রাতেই ফরিদপুর মেডিকেলে নেওয়া হলে চারজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।
আহত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, মেরিন টেকনোলজি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ষষ্ঠ সেমিস্টারের শিক্ষার্থী পিয়াস, আদনান, কাউছার, নাঈম, বিল্লাল, ইমনসহ ২০ থেকে ৩০ জন শিক্ষার্থী অতর্কিতভাবে জুনিয়র শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালান। এ ছাড়া ক্যাম্পাসে র্যাগিং প্রথা ও মাদক সেবন বন্ধ করার ক্ষোভে তাঁরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আহত শিক্ষার্থীরা। এমনকি তাঁদের বাথরুমে আটকিয়ে নির্যাতন চালানো হয়।
পূর্ব পরিকল্পিতভাবে লাঠিসোঁটা, লোহা ও স্টিলের পাইপ নিয়ে আমাদের ওপর অতর্কিতভাবে হামলা করেন। রুমের দরজা ভেঙে আমাদের প্রত্যেককে তাঁরা নির্মমভাবে পিটিয়েছেন। কয়েকজনের মাথা ফেটে রক্ত বের হলেও তাঁরা হামলা বন্ধ করেননি। আমাদের প্রতিটি রুমের জানালা, দরজা, খাট ভেঙে ফেলেছেন। এমনকি টাকাপয়সাও নিয়ে গেছেন।’
বিগত ২ বছর থেকে তাঁরা নিয়মিত আমাদের সঙ্গে ঝামেলা বাধিয়ে আসছেন। আমরা ক্যাম্পাসে র্যাগিং বন্ধ করায় এবং মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলায় আমাদের বিভিন্ন সময় টর্চারও করে আসছেন সিনিয়ররা। বিষয়টি স্যারদের জানালে তাঁরা আরও বেশি হুমকি-ধমকি দেন। এমনকি স্যাররাও কোনো পদক্ষেপ নেননি।’
এ বিষয়ে ইনস্টিটিউট অব মেরিন টেকনোলজির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রকৌশলী মোহাম্মদ খোরশেদ আলমের মোবাইল ফোন একাধিকবার কল করা হলেও তিনি তা ধরেননি।
ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ প্রশিক্ষক প্রকৌশলী হারুন অর রশিদ আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আমি ছুটিতে আছি। যতটুকু জেনেছি, এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত শেষে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম আজকের পত্রিকাকে বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। শিক্ষার্থী বা প্রতিষ্ঠানের কেউ থানায় এখনো অভিযোগ করেননি।
(Collected)