19/08/2026
সরকারের স্বাস্থ্যখাতে ১৮০ দিন ও ন্যাশনাল হেলথ এলায়েন্স (এনএইচএ) এর প্রস্তাবনা
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ১৮০ দিন অতিক্রান্ত হওয়ায় সরকারের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্যখাতে ১৮০ দিনের উন্নয়নমূলক কার্যক্রম তুলে ধরা হয়েছে।
এটার প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ন্যাশনাল হেলথ এলায়েন্স (এনএইচএ) এর আহবায়ক প্রফেসর ডা. শাদরুল আলম ও সদস্য সচিব ডা. মো. আব্দুল আহাদ।
এক যৌথ বিবৃতিতে তারা উল্লেখ করেন,স্বাস্থ্যখাতে উন্নয়নের বিষয়গুলো কয়েকটি সেগমেন্টে আলোচনা করা হয়েছে।যেমন-
১. প্রাথমিক ও প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবায় জোরদার।
২. স্বাস্থ্যখাতে বাজেট বৃদ্ধি
৩. চিকিৎসা সরঞ্জাম ও চিকিৎসা সামগ্রীর শুল্ক কমানো।
৪.e-Health Card ও Digital Health এর কাজ শুরু।
৫. উপজেলা হাসপাতালকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার উদ্যোগ।
৬. আধুনিক ডায়ালাইসিস ও প্যাথলজি সেবা সম্প্রসারণ।উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত ১০ শয্যার ডায়ালাইসিস ইউনিট চালুর কার্যক্রম।
৭. চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী নেওয়ার উদ্যোগ।
৮. শিশুস্বাস্থ্য ও মাতৃস্বাস্থ্য নিশ্চিতের লক্ষ্য বিভিন্ন শিশু হাসপাতাল চালুর উদ্যোগ গ্রহণ ও ক্যান্সার স্ক্রিনিং করা।
৯. শহরাঞ্চলে Primary Healthcare সম্প্রসারণ।
১০. মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় পদক্ষেপ গ্রহণ।
১১. ঢাকা মেডিকেল কলেজকে উন্নত করার উদ্যোগ
ঢাকা মেডিকেল কলেজকে গবেষণা, শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবার দিক থেকে আরও উন্নত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
১২. উপজেলা ও গুরুত্বপূর্ণ সরকারি হাসপাতালে আনসার মোতায়েন।
তারা উভয়ই এসব উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন,উদ্যোগগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় বেশিরভাগ উদ্যোগই “কার্যক্রম শুরু হয়েছে” এবং “পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে” এই পর্যায়ে আছে।বাস্তবিক প্রয়োগ আমরা দেখছি না।তাই এগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণের পাশপাশি ন্যাশনাল হেলথ এলায়েন্স (এনএইচএ) এ মনে করে স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নের লক্ষ্যে অতিস্বত্ত্বর.....
১. পরিবর্তন/উন্নয়নের আশ্বাস নয়,সিদ্ধান্তুগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে।
২. স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী,প্রতিমন্ত্রী,স্বাস্থ্য সচিব সহ সকল নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে ডাক্তার থেকে নিয়োগ দিতে হবে।
৩. উপজেলা হাসপাতালকে প্রকৃত অর্থে ২৪/৭ সেবা উপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে।১০১ শয্যা করলেই হবে না।প্রত্যেক হাসপাতালে বাধ্যতামূলকভাবে ২৪/৭ ইমার্জেন্সী হাসপাতাল সেবা ও প্যাথোলজী সেবা চালু রাখতে হবে।
৪. "জাতীয় রেফারাল সিস্টেম" ও "ই-হেলথ রেকর্ড সিস্টেম"কে কার্যকর করতে হবে।
৫. প্রত্যন্ত অঞ্চলের রোগীরা যাতে বিনা চিকিৎসায় মারা না যায় সেজন্য জরুরি এম্বুলেন্স সেবা চালু রাখতে হবে।
৬. শুধু ডাক্তার নিয়োগ দিলেই হবে না। পাশাপাশি "Rural Retention Policy" গ্রহণ করতে হবে।উপজেলা নিরাপদ কর্মস্থল,থাকার জন্য বাসস্থান এবং ভাতার পরিমাণ বাড়াতে হবে।
৭. শুধু ডাক্তার দিয়েই হাসপাতাল চালানো সম্ভব নয়।তাই ডাক্তারের পাশাপাশি-Nurse,Midwife,Medical Technologist,Physiotherapist,Pharmacist,Radiographer,Emergency Medical Technician,Community Health Worker নিয়োগ প্রদান করতে হবে।
৮. সরকারি হাসপাতালে ঔষধ প্রাপ্তির নিশ্চয়তা দিতে হবে এবং বেসরকারি পর্যায়ে ঔষধের ন্যায্যমূল্য নির্ধারণ করতে হবে।
৯. Health Insurance Policy গ্রহণ করতে হবে।
স্বাস্থ্যখাতে মানুষের out-of-pocket expenditure প্রায় ৭৩%!যা খুবই দু:খজনক এবং Universal Health Coverage-এর অন্তরায়।
১০. Medical Education,Research এ বিনিয়োগ বাড়াতে হবে।
১১. প্রতিটি জেলায় ১০০০ শয্যাবিশিষ্ট বিশেষায়িত হাসপাতাল করতে হবে যাতে ঢাকাকেন্দ্রিক রোগীদের চাপ কমে।
এগুলো ছাড়াও শুরু থেকেই ডক্টরদের পক্ষ থেকে আরও কয়েকটা গুরুত্বপূর্ণ দাবি করা হয়ে আসছে।তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল...
১. ডাক্তারদের সরকারি চাকুরীর পরীক্ষায় বয়স ৩৪ করা।
২. ইন্টার্নী এবং বেসরকারি চিকিৎসকদের বেতন কাঠামো নির্দিষ্ট করা এবং সরকারী পে স্কেলের সাথে সমন্বয় করা।
৩. স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন বাস্তবায়ন করা।
৪. হাসপাতালের ইনডোর এবং ইমার্জেন্সীতে সার্বক্ষণিক "আর্মড স্বাস্থ্য পুলিশ" মেতায়েন করা।
৫. FCPS Part-1,MD/MS এর মত Mid-Term,MCPS,FCPS Final,Mphil,Diploma পরীক্ষার ফি কমানো।
দেশের জনগণের কল্যাণের নিমিত্তে উক্ত দাবিগুলো বাস্তবায়নের জন্য ন্যাশনাল হেলথ এলায়েন্স (এনএইচএ) শুরু থেকেই কাজ করে যাচ্ছে এবং সামনে এগুলো ছাড়াও স্বাস্থ্য পেশাজীবী সংশ্লিষ্ট সকল প্রকার যৌক্তিক দাবি আদায়ে কাজ করে যাওয়ার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করছে।
বার্তাপ্রেরক,
ডা. মো. আব্দুস সালাম
দপ্তর সম্পাদক,
ন্যাশনাল হেলথ এলায়েন্স (এনএইচএ)