31/07/2026
কাফির রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব গ্রহণের বিধান:
উত্তর প্রদানে শাইখুনা আবু মুহাম্মাদ আল-মাকদিসি
প্রশ্ন:
আমার প্রশ্নটি হলো অমুসলিমদের দেশে নাগরিকত্ব গ্রহণ প্রসঙ্গে। বিশেষ করে মার্কিন (আমেরিকান) নাগরিকত্ব দেশ নিয়ে। আমি বর্তমানে এর জন্য আবেদন করতে সক্ষম। অবশ্য, যদি এর উত্তর এই না হয় যে এটি একটি কুফরি কাজ।
উল্লেখ্য যে, এই দেশের প্রতি আনুগত্য ও নিষ্ঠার শপথ গ্রহণ করতে হয়। আর আমি জানি যে অনেক যুবক শপথের সময় ঠোঁট নাড়েন বা কুরআন তিলাওয়াত করেন। তবে আমি জানি না, এটি তাদেরকে আল্লাহর ক্রোধ থেকে রক্ষা করবে কি না?
অনুগ্রহ করে আমাকে এমন উত্তর দিন যা অন্তরকে প্রশান্তি দেয় এবং আল্লাহর আজাব থেকে মুক্তি দেয়।
উত্তর:
নাগরিকত্ব গ্রহণের বিষয়ে আমরা মার্কিন নাগরিকত্ব এবং আমাদের এখানকার মুরতাদ দেশগুলোর নাগরিকত্বের মধ্যে কোনো পার্থক্য দেখি না; বরং উল্টো, এটি জানা কথা যে নাসারা (খ্রিস্টান) মুরতাদদের চেয়ে কম অনিষ্টকারী।
তবে শর্তসাপেক্ষে নাগরিকত্ব জায়িজ,
• প্রথম শর্ত: এই নাগরিকত্ব গ্রহণ যেন তা গ্রহণকারী এবং তার সন্তানদের ফিতনা ও দ্বীন হারানোর কারণ না হয়, যেমনটা অনেকের ক্ষেত্রে ঘটেছে।
• দ্বিতীয় শর্ত: তা অর্জনের মধ্যে যেন এমন কোনো কাজ না থাকে যা কুফরি। যেমন কাফিরদের ও তাদের আইনের প্রতি আনুগত্যের শপথ গ্রহণ করা।
আর নাগরিকত্ব পাওয়ার আগে যে যৌথ শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়, সেখানে শপথের শব্দ না বলে কিছু যুবক যে কুরআন তিলাওয়াত করে বা অন্য কিছু বলে ঠোঁট নাড়ায়; তা বিশেষ প্রয়োজনে (জরুরি অবস্থায়) জায়িজ, আল্লাহই ভালো জানেন। কারণ সে কুফরি উচ্চারণ করেনি, বরং তাদেরকে শুধু এমন ধারণা দিয়েছে। এটি সেই ধরনের তাওরিয়াহ এর অন্তর্ভুক্ত, যা কাফিরদের ক্ষেত্রে বৈধ।
হ্যাঁ... যদি কোনো দারুল ইসলাম থাকত, তবে কাফিরদের নাগরিকত্ব গ্রহণ করা জায়িজ হতো না। কিন্তু বাস্তবতা হলো, আমরা যে রাষ্ট্রগুলোর নাগরিকত্ব বহন করি, সেগুলোর কুফরি অবস্থা সবারই জানা। সুতরাং এসব দেশের নাগরিকত্বের ক্ষেত্রে যা প্রযোজ্য, মার্কিন নাগরিকত্বের ক্ষেত্রেও তা-ই প্রযোজ্য। আমার কাছে যা স্পষ্ট হয়েছে এবং এ বিষয়ে আমার জ্ঞানের সীমা অনুযায়ী এটিই আমার মত। আর যদি আপনাদের কাছে এ বিষয়ে আরও স্পষ্ট ব্যাখ্যা থাকে তবে আমাদের জানান, কারণ সত্য অনুসন্ধান করাই আমাদের লক্ষ্য।
আল্লাহ তাঁর নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীদের ওপর দরূদ ও সালাম বর্ষণ করুন।
ওয়াসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।