17/06/2026
🌙 পবিত্র মহররম এর ফজিলত ও আমাদের করণীয় :
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমতুল্লাহ। প্রিয় দ্বীনি ভাই ও বোনেরা, হিজরি নববর্ষের আগমনীর সাথে সাথে আমাদের মাঝে হাজির হয়েছে অত্যন্ত বরকতময় ও সম্মানিত মাস ‘মহররম’।
রাসুলুল্লাহ (সা.) রমজানের পর সর্বোত্তম রোজা হিসেবে এই মহররম মাসের রোজাকেই উল্লেখ করেছেন। এই বরকতময় মাসের ফজিলত এবং আমাদের করণীয় আমলগুলো নিচে সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
মহররম মাসের বিশেষ ফজিলত:
মহররম হলো ইসলামি শরিয়তে ঘোষিত চারটি পবিত্র ও সম্মানিত মাসের একটি। এই মাসে ইবাদতের সওয়াব যেমন অনেক বেশি, তেমনি যেকোনো গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার গুরুত্বও অপরিসীম।
ঐতিহাসিক আশুরার দিন:
মহররমের ১০ তারিখকে ‘আশুরা’ বলা হয়। এই বিশেষ দিনেই আল্লাহ তাআলা হযরত মুসা (আ.) ও তাঁর অনুসারীদের জালিম ফেরাউনের হাত থেকে অলৌকিকভাবে রক্ষা করেছিলেন।
এই মাসের প্রধান আমলসমূহ:
১. আশুরার নফল রোজা রাখা (সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ):
আশুরার দিনের (১০ মহররম) একটি রোজা পূর্ববর্তী এক বছরের গুনাহ মাফ করে দেয় (সুবহানাল্লাহ)। তবে ইহুদিদের সাথে সাদৃশ্য এড়াতে রাসুলুল্লাহ (সা.) ১০ তারিখের সাথে মিলিয়ে আরও একটি রোজা রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।
তাই সবচেয়ে উত্তম হলো '৯ ও ১০ মহররম' অথবা '১০ ও ১১ মহররম' মিলিয়ে মোট ২টি রোজা রাখা।
২. বেশি বেশি তওবা-ইস্তেগফার:
মহররমের দিনগুলো গুনাহ মাফের এক অনন্য সুযোগ। তাই জীবনের ছোট-বড় সব পাপের জন্য আল্লাহর দরবারে বেশি বেশি তওবা ও ইস্তেগফার করুন।
৩. দান-সদকা ও পরিবারের প্রতি উদারতা:
এই মাসে সাধ্যমতো দান-সদকা করুন। পাশাপাশি নিজ পরিবার-পরিজনের জন্য ভালো খাবার বা উত্তম অন্নের ব্যবস্থা করাও একটি প্রশংসনীয় আমল।
৪. নফল ইবাদত বৃদ্ধি করা:
তাহাজ্জুদ, জিকির-আজকার এবং অন্যান্য নফল ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের চেষ্টা করুন।
মহান আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে মহররম মাসের মর্যাদা বোঝার এবং এই পবিত্র দিনগুলোতে বেশি বেশি নেক আমল করার তৌফিক দান করুন। আমিন। 🤲
#মহররম #আশুরা #ইসলামি_আমল #হিজরি_নববর্ষ