20/03/2026
কীভাবে কাটাবেন ঈদের রাত?
ঈদ যেমন আমাদের মাঝে আনন্দ নিয়ে আগমন করে তেমনি ঈদ আমাদের মাঝে অনেক রহমত, বরকত হাসিলের মোক্ষম সুযোগ নিয়েও আগমন হয়৷ তাই ঈদ শুধু আনন্দ-উৎসবের মাধ্যমেই উদযাপন করা উচিত নয় বরং আল্লাহর নৈকট্য অর্জন ও তার সাথে সম্পর্কের বন্ধন মজবুত মাধ্যমেও ঈদ উদযাপন করা উচিত৷ ঈদের রাতে ইবাদাত-বন্দেগির ফজিলত, গুরুত্ব ও মর্যাদা অনেক। এ ব্যাপারে অনেক হাদিসের বর্ণিত হয়েছে৷ ঈদের রাতের বড় প্রাপ্তি হলো, এ রাতে দোয়া কবুল করা হয়। কোনো দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না। বরং আল্লাহতায়ালার দরবারে তা সরাসরি কবুল হয়। তাই এ রাতের গুরুত্ব ও ফজিলত অপরিসীম।
ফুকাহায়ে কেরামও দুই ঈদের রাতে জাগ্রত থাকাকে সুন্নত লিখেছেন। তাই এ রাতের বিশেষ কদর করা উচিত। এ রাতের গুরুত্ব ও ফজিলত অপরিসীম।
প্রথম ফজিলত: ঈদের রাতে ইবাদতের মাধ্যমে জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যায়৷
عن معاذ بن جبل -رضي الله عنه- قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((من أحيا الليالي الخمس وجبت له الجنة، ليلة التروية، وليلة عرفة، وليلة النحر،وَلَيْلَة الْفطر وليلة النصف من شعبان)) .
হযরত মুয়াজ ইবনে জাবাল (রা.) থেকে বর্ণিত। রাসূল (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি পাঁচটি রাত (ইবাদতের উদ্দেশ্যে) জাগ্রত থাকবে তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যাবে। তারবিয়ার রাত (জিলহাজ্জ মাসের ৮ তারিখের রাত), আরাফার রাত, কুরবানী দিবসের রাত এবং ঈদুল ফিত্বরের রাত ও শবে বরাতের রাত। আত তারগীব ওয়াত তারহীব লিল আসবাহানী-১/২৪৮, লিল মুনজেরী-২/৯৮, হাদীস-১৬৫৬
দ্বিতীয় ফজিলত: ঈদের রাতে কৃত দোয়া ফিরিয়ে দেয়া হয় না। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) বর্ণনা করেন, যে ব্যক্তি জুমার রাত, রজব মাসের প্রথম রাত, অর্ধ শাবানের রাত এবং দুই ঈদের রাতসহ এ পাঁচ রাতে কোনো দোয়া করে; সে রাতে তার কোনো আবেদনই ফিরিয়ে দেয়া হয় না। (মুসান্নাফে আবদুর রাজ্জাক, হাদিস : ৭৯২৭)
তৃতীয় ফজিলত: ঈদের রাতে ইবাদতকারীর অন্তর কিয়ামতের দিন মরবে না।
عَنْ أَبِي أُمَامَةَ، عَنْ النَّبِيِّ – صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ -، قَالَ:”مَنْ قَامَ لَيْلَتَيْ الْعِيدَيْنِ مُحْتَسِبًا لِلَّهِ، لَمْ يَمُتْ قَلْبُهُ يَوْمَ تَمُوتُ الْقُلُوبُ”
হযরত আবূ উমামা (রা.) রাসূল (সা.) থেকে বর্ণনা করেন। যে ব্যক্তি ঈদুল ফিত্বর এবং ঈদুল আযহার রাতে (সাওয়াবের নিয়তে, ইবাদতের উদ্দেশ্যে) জাগ্রত থাকবে, সে ব্যক্তির হৃদয় ঐ দিন মৃত্যুবরণ করবে না যেদিন অন্য হৃদয়গুলো মৃত্যুবরণ করবে। (অর্থাৎ কিয়ামতের দিবসে তার কোন ভয় থাকবে না)। ইবনে মাজা-২/৬৫৮, হাদীস-১৭৮২।
عَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «مَنْ صَلَّى لَيْلَةَ الْفِطْرِ وَالْأَضْحَى، لَمْ يَمُتْ قَلْبُهُ يَوْمَ تَمُوتُ الْقُلُوبُ»
لَمْ يَرْوِ هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ ثَوْرٍ إِلَّا عُمَرُ بْنُ هَارُونَ، تَفَرَّدَ بِهِ: جَرِيرٌ
হযরত উবাদা (রা.) থেকে বর্ণিত। রাসূল (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি ঈদুল ফিত্বর এবং ঈদুল আযহার রাত্রি নামায রত থাকবে, সে ব্যক্তির হৃদয় ঐদিন মৃত্যুবরণ করবে না যেদিন অন্য হৃদয়গুলো মৃত্যুবরণ করবে। আল মুজামুল আওসাত-১/৫৭, হাদীস-১৫৯।
কী ইবাদত করবেন ঈদের রাতে?
উল্লেখিত হাদিসগুলোতে ঈদের রাতের যে সব ফজিলতের কথা বলা হয়েছে এগুলোর মধ্যে কোনটিতে বিশেষ কোনো ইবাদত করার কথা বলা হয়নি। তাই এই রাতে সাধ্যানুসারে নফল নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির-আযকার, ইস্তিগফার এবং দোয়া-মুনাজাতে মশগুল থাকা উচিত।
বরকতময় এই রজনিতে অযথা কাজে লিপ্ত হওয়া, বাজারে-মার্কেটে ঘুরাঘুরি করা, সাংসারিক কাজে অধিক ব্যস্ত হয়ে ইবাদতের ব্যাপারে গাফেল থাকা উচিত নয়৷
আল্লাহ আমাদেরকে পবিত্র ঈদুল ফিত্বর আনন্দ ও ইবাদতের মাধ্যমে কাটানোর তাওফিক দান করুন। আমিন।
~ উস্তাদ হযরত মাওলানা মুফতি তাওহীদুল ইসলাম আজহারি (হাফি.)
সিনিয়র মুহাদ্দিস : ইন্টারনেট মাদরাসা,
ফ্যাকাল্টি অফ পোস্ট গ্রাজুয়েট স্টাডিজ এন্ড রিচার্স, হাদীস ও উলূমুল হাদীস ডিপার্টমেন্ট, আল-আজহার ইউনিভার্সিটি, মিশর।