06/03/2026
শেখ মুজিব ফেডারেল পাকিস্তান চেয়েছে। উনি পাকিস্তান আন্দোলন করা মানুষ, ফেডারেল পাকিস্তানের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী, ফেডারেল পাকিস্তান চাওয়াই স্বাভাবিক তারজন্য। বরং না চাওয়াটাই অস্বাভাবিক হতো। এইজন্যই ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণটাও "জয় পাকিস্তান" শব্দ দিয়েই শেষ হয়েছে। শেখ মুজিব ২৬শে মার্চেও স্বাধীন বাংলাদেশ চেয়েছেন কি-না এই প্রশ্ন নিয়ে ঐতিহাসিকরাও আসলে সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারে নাই। বেশিরভাগেরই মত তিনি ২৫শে মার্চ ক্র্যাকডাউন আসার আগপর্যন্ত ইউনাইটেড পাকিস্তান চেয়েছেন এবং সেটির প্রধানমন্ত্রী হতে চেয়েছেন। ক্র্যাকডাউন আসার পর উনি এরেস্ট হন, তারপর থেকে তো আর তার মনের কথা কেউ জানে না। আমরাও জানিতে পারি নাই, তাই অনুমান নির্ভর কিছু বলবো না।
তবে সত্য এই যে, বাংলাদেশের জন্য ৭ই মার্চ গুরুত্বপূর্ণ। বক্তব্যে স্বাধীনতার ঘোষণা ছিলো না সত্য, কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের আগে এইটাই শেষ বড় জমায়েত বলে এইটার একটা আলাদা গুরুত্ব সবসময়ই ছিলো এবং আছে। ৭০এর নির্বাচনে ভাসানীর ন্যাপ না আসায় পূর্ববাংলার গণতান্ত্রিক লড়াইয়ে শেখ মুজিব একচ্ছত্র নেতা হিসেবে উঠে আসেন। তাকে সামনে রেখেই আন্দোলন সংগ্রাম চলেছে পুরোনো সময়। এরফলেই শেখ মুজিব পুরো ৭১ জেলে থাকার পরেও সবাই তাকে ফুলের মালা দিয়ে নিজেদের নেতৃত্ব ছেড়ে তাকে প্রধানমন্ত্রী বানায়। কিন্তু যারা তাকে প্রধানমন্ত্রী বানায় উনি তাদেরকেই মাইনাস করে রাজনীতিগুলো সাজিয়েছেন। এর ধারাবাহিকতাই রক্ষীবাহিনী-বাকশাল- ৭৪ এর দুর্ভিক্ষ ডেকে এনেছিলো।
শেখ মুজিব আসলে বাংলাদেশের রাজনীতির একটা গ্রে ক্যারেক্টার। একদিকে তার সাংগঠনিক দক্ষতা আর নেতৃত্বের আপনি প্রশংসা করতে বাধ্য, তেমনি শাসনভারে আসার পর দেশ-দল-জনগনের সাথে বেঈমানীর ইতিহাসও আমাদের মনে তরতাজা। আর শেখ মুজিবকে মানুষ ভালোবাসবে নাকি ঘৃণা করবে এই কনফিউশনে ফেলে। কেউ তাকে ভালোবাসে, কেউ ঘৃণা করে, কিন্তু ইগনোর করতে পারে না। এইখানেই শেখ মুজিবের গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠা। আর তিনি অবিসংবাদিত নেতা ছিলেন ৭১ এ (সে উনি স্বাধীনতা চান বা ফেডারেল পাকিস্তান চান) উনি ৭১ এর পোস্টারবয়। এইটা থেকে কেউ তারে খারিজ করে নাই। আপনি একলাইনে শেখ মুজিবকে ভ্যানিশ করে দিতে পারেন না বা হিরো বানাইতে পারেন না।এইটাই সম্ভবত শেখ মুজিবকে এতো বেশি রেলিভ্যান্ট করেছে।