29/05/2026
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর উপর চরমপন্থী মহলের অনাকাঙ্ক্ষিত হস্তক্ষেপ ও প্রদর্শনী বন্ধের প্রতিবাদে বাংলাদেশ ফেডারেশন অফ ফিল্ম সোসাইটিজ (BFFS)-এর তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ
বাংলাদেশ ফেডারেশন অফ ফিল্ম সোসাইটিজ (BFFS) অত্যন্ত উদ্বেগ ও ক্ষোভের সাথে লক্ষ্য করেছে যে, ৩০ মে ২০২৬ শনিবার বেলা ৩:০০টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফিল্ম সোসাইটি আয়োজিত অন্নদা সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা তানিম নূর পরিচালিত ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ চলচ্চিত্রের প্রদর্শনীটি চরমপন্থী মহলের ফেসবুক প্রচারণা, উস্কানি এবং মব (Mob) সৃষ্টির হুমকির মুখে স্থগিত করেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার স্থানীয় প্রশাসন। স্বাধীন বাংলাদেশে চলচ্চিত্রের মতো একটি শক্তিশালী গণমাধ্যম ও সাংস্কৃতিক অভিব্যক্তির উপর এমন প্রগতিবিরোধী এবং অগণতান্ত্রিক হস্তক্ষেপের ঘটনায় আমরা তীব্র নিন্দা, প্রতিবাদ ও গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করছি।
চলচ্চিত্র কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়, এটি সমাজের দর্পণ এবং মুক্তচিন্তা ও বাকস্বাধীনতার অন্যতম প্রধান বাহন। কোনো একটি গোষ্ঠীর অন্ধত্ব বা অসহিষ্ণুতার শিকার হয়ে নৈতিকতা শিক্ষার উদাহারণ স্বরুপ এ চলচ্চিত্রটির প্রদর্শনী বন্ধ করে দেয়া সুস্থ সাংস্কৃতিক বিকাশ ও নাগরিক অধিকারের সুষ্পষ্ট পরিপন্থী। সাইবার স্পেসে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালিয়ে এবং মাঠপর্যায়ে মব সংস্কৃতির (Mob Culture) জন্ম দিয়ে একটি শিল্পকর্মের উপর আগ্রাসনের এই অপচেষ্টা দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে স্তব্ধ করার মতো এক ভয়ানক উদাহারণ।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মতো ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক চত্বরে এ ধরনের ঘটনা শিল্পপ্রেমী আপামর জনগণকে চরমভাবে মর্মাহত করেছে। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব যেখানে নাগরিকদের নিরাপত্তা ও মুক্তবুদ্ধির চর্চাকে নির্বিঘ্ন করা, সেখানে উগ্রপন্থী মহলের হুমকিতে প্রদর্শনী স্থগিত করার সিদ্ধান্ত অত্যন্ত হতাশাজনক। এই ধরনের আপসকামিতা মৌলবাদী শক্তিকে ভবিষ্যতে আরও বেশি আস্কারা দেবে বলে আমরা আশঙ্কা প্রকাশ করছি।
এই উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ফেডারেশন অফ ফিল্ম সোসাইটিজ (BFFS)-এর পক্ষ থেকে আমরা প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি যে:
১. অনতিবিলম্বে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ চলচ্চিত্রটি প্রদর্শনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ও নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক।
২. যারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজেদের গণতন্ত্র বিরোধী দাবী করছে, নানবিধ উস্কানি দিয়ে এবং মব তৈরির হুমকি দিয়ে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করেছে এবং চলচ্চিত্রের প্রদর্শনী বন্ধে প্রশাসনকে বাধ্য করেছে, তদন্তপূর্বক তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হোক।
৩. দেশের প্রতিটি অঞ্চলে চলচ্চিত্র সংসদ আন্দোলনসহ যেকোনো সুস্থ সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড যেন কোনো ধরনের ভয়ভীতি বা বাধার সম্মুখীন না হয়, তার স্থায়ী ও প্রাতিষ্ঠানিক নিশ্চয়তা দেওয়া হোক।
আমরা দেশের সকল চলচ্চিত্র সংসদ কর্মী, সংস্কৃতিজন এবং প্রগতিশীল নাগরিকদের এই অপশক্তির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকার এবং সংস্কৃতির মুক্ত আলো ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।