09/05/2026
প্রেস রিলিজ | বৈশ্বিক জলবায়ু ধর্মঘট | ০৮ মে, ২০২৬
হেডলাইন: “পরিবেশগত ও জলবায়ু ন্যায়বিচারের দাবিতে কড়াইলে বৈশ্বিক জলবায়ু ধর্মঘট পালন”
৮ইমে, ২০২৬ বিশ্বজুড়ে জলবায়ু ন্যায়বিচারের দাবিতে বৈশ্বিক জলবায়ু ধর্মঘট পালিত হয়েছে। কড়াইল লেকে রিওয়েট প্রজেক্টের ভিতরে প্রচেস্টা ফাউন্ডেশন, সেইভ ফিউচার বাংলাদেশ, আমরাই আগামী, সিডার ইনিশিয়েটিভ, ইয়ুথ ফাউন্ডেশন অফ বাংলাদেশ এবং হেল্প দ্যা নেশন এর সমন্বয়ে বৈশ্বিক জলবায়ু ধর্মঘট পালন করে এক্টিভিস্টদের উদ্বেগ এবং বিভিন্ন দাবি উপস্থাপন করে।
আজকে এমন সময়ে আমরা কড়াইলের গুলশান-বনানী লেকপাড় থেকে বৈশ্বিক জলবায়ু ধর্মঘটে অংশগ্রহণ করেছি যেখানে কড়াইলে হাজারও বাস্তুচ্যুত মানুষ বিভিন্ন পরিবেশগত সংকটের সম্মুখীন হয়ে বসবাস করছে। যারা জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রভাবের শিকার হয়ে নিজ এলাকা ছেড়ে শহরের উক্ত ইনফর্মাল সেটেলমেন্টে বসবাস করছে, যেখানে সাধারণ নাগরিক সুবিধাগুলোও নিশ্চিত হয় না। আমরা সরকারের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই যে, ঢাকা শহরের ইনফর্মাল সেটেলমেন্টগুলোর পরিবেশগত মানোন্নয়ন করা জরুরি। পাশাপাশি সড়ক, ড্রেনেজ, স্যানিটেশন, নিরাপদ পানি ও শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নতি এব করার দিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এখানে যে গুলশান-বনানী লেক আছে সেটির দূষণের উৎসগুলো চিহ্নিত কিন্তু লেক দূষণমুক্ত করার জন্য সমন্বিত ও পরিকল্পিত কোনো পদক্ষেপ লক্ষণীয় নয় তবে বারংবার লেক পরিষ্কারের নামে লেকপাড়ের গাছের বাগান ও সবজির ক্ষেত মাটিচাপা দেওয়া হয়। সাম্প্রতিক রিওয়েট প্রজেক্ট এলাকায় নগর আবাদের সবজি ক্ষেতের একাংশ, ৫৫ কদমতলা উদ্যােগের বাগানের গাছপালার একাংশ মাটি ফেলে নষ্ট করা হয়।
জলবায়ু পরিবর্তনে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম একটি ঝুঁকিপ্রবণ দেশ। ২০০০ থেকে ২০১৯ সালে সংঘটিত জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি বিবেচনায় বৈশ্বিক জলবায়ু ঝুঁকি সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান সপ্তম। বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির সাথে সাথে অতি উচ্চ শক্তিমত্তার দুর্যোগের সংখ্যাবৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশের বিভিন্ন ভৌগলিক এলাকা ইতোমধ্যেই জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্যোগের অভিঘাতে ব্যাপক ক্ষয় ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।
জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সমস্যা ছাড়াও বাংলাদেশ পরিবেশগত সমস্যায় জর্জরিত। বাংলাদেশে ৩২ শতাংশ মৃত্যু পরিবেশ দূষণের সাথে সম্পর্কিত এবং বায়ু দূষণের কারণে বছরে জিডিপির ক্ষতি হয় ৯ শতাংশ। বিভিন্ন প্রকার দূষণজনিত কারণে বাংলাদেশে ২০১৯ সালে ২ লাখ ১৫ হাজার ৮২৪ জনের মৃত্যু হয়। এছাড়াও কয়লার ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়া, দেশজুড়ে বনাঞ্চল উজাড়, পাহাড়-টিলা কাটা, নির্বিচার গাছ কাটা, নদী-খাল- জলাশয়, দখল-দূষণ-ভরাট করা, বন্যপ্রাণী হত্যা, দূর্বল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা রয়েছে। যা বাংলাদেশের পরিবেশ-প্রতিবেশ, এবং জীববৈচিত্র্যের অবনতি ত্বরান্বিত করছে।
প্রচেস্টা ফাউন্ডেশন এর প্রকল্প সমন্বয়কারী, পরিবেশ ও জলবায়ু কর্মী মো: রাকিবুল ইসলাম বলেন, আমরা তরুণ জলবায়ু কর্মীরা সবসময় বলে আসছি যে, রিনিউয়েবল এনার্জি হলো ভবিষ্যত; যার প্রমাণ আমরা এবছর পেয়েছি। আমরা কয়লা ও গ্যাস ভিত্তিক এনার্জির পিছনে ব্যায় করাতে বিশ্বে যুদ্ধের জন্য আমাদের ফল ভোগ করতে হয়েছে। এটা থেকে সরকার কে শিক্ষা নিতে হবে এবং নতুন করে আবারও ভাবতে হবে। এখনই সময় নতুন ভাবে চিন্তা করার তা না হলে সমানে আমাদের জন্য খুবই খারাপ সময় অপেক্ষা করছে।
সেইভ ফিউচার বাংলাদেশ' প্রধান সমন্বয়ক, পরিবেশ ও জলবায়ু ন্যায়বিচার কর্মী নয়ন সরকার বলেন, “আমরা বিগত দিনে টেকসই উন্নয়নের বুলি শুনলেও কাজেকর্মে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য ধ্বংসকারী উন্নয়ন কার্যক্রম দেখেছি যার ফলে বাংলাদেশ এখন পরিবেশগত এবং জনস্বাস্থ্যগত সংকটের সম্মুখীন। বর্তমান সরকারের প্রতি দাবি থাকবে যে, সবার আগে পরিবেশ-প্রতিবেশ এবং জীববৈচিত্র্যের সংরক্ষণ করুন এবং পুনরুদ্ধার করুন; জলবায়ু, পরিবেশগত ও সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে। কড়াইলে বসবাসকারী নাগরিকদের জন্য সকল নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। সরকার যাতে অপরিকল্পিত লেক পরিষ্কার করা থেকে বিরত থাকে আর পরিকল্পিত এবং বিজ্ঞানভিত্তিক যথাযথ উপায়ে যেনো লেক দূষণমুক্ত করতে পদক্ষেপ নেয়; এছাড়াও ভবিষ্যতে লেক পরিষ্কারের নামে আর সবুজায়ন ধ্বংস না হোক। বিদ্যমান সবুজ ও পানি সংরক্ষণে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
এছাড়াও তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রভাবে বাংলাদেশ অন্যতম ক্ষতিগ্রস্ত দেশ। ঘূর্ণিঝড়ের সময় ও তীব্রতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, বন্যার সময়কাল দীর্ঘ হচ্ছে, তাপপ্রবাহ দীর্ঘ হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রভাবে আমাদের মতো উন্নয়নশীলদেশগুলোর ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতির শিকার হতে হচ্ছে। কোথায় জলবায়ু ক্ষতিপূরণ? আমরা জলবায়ু ন্যায়বিচার ও জলবায়ু ক্ষতিপূরণ চাই।
'সিডার ইনেশিয়েটিভ' সহ-প্রতিষ্ঠাতা, ও জলবায়ু কর্মী শরাফত করিম বলেন, বাংলাদেশে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় ফসিল ফুয়েলের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আনার কোনো বিকল্প নেই। সরকারকে এখনই একটি সুনির্দিষ্ট ও দীর্ঘমেয়াদী 'রিনিউয়েবল এনার্জি রোডম্যাপ' প্রণয়ন করতে হবে। আমরা যদি সৌর ও বায়ুবিদ্যুৎসহ অন্যান্য নবায়নযোগ্য উৎসের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারি, তবেই একটি টেকসই ও সবুজ বাংলাদেশ গড়া সম্ভব। আমি মনে করি, এই রোডম্যাপ বাস্তবায়নে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি তরুণ সমাজ ও বেসরকারি খাতের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।
এমতাবস্থায় আজকের বৈশ্বিক জলবায়ু ধর্মঘটের আমাদের দাবিগুলোঃ
১। নবায়নযোগ্য শক্তির দিকে অগ্রসর হতে হবে এবং জীবাশ্ম জ্বালানি বন্ধ করতে হবে।
২। জলবায়ু শরনার্থীদের টেকসই পুর্নবাসন করতে হবে।
৩। পার্বত্য অঞ্চল ও উপকূলীয় অঞ্চলে সুপেয় পানির স্থায়ী সমাধান করতে হবে।
৪। উপকূল জুড়ে টেকসই ব্লক বাঁধ নির্মাণ এবং বনায়ন তৈরি করতে হবে।
৫। উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষদের জীবনমান উন্নয়নে পদক্ষেপ নিতে হবে।
৬। একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক নিষিদ্ধ করতে হবে।
৭। পানি দূষণ, শব্দ দূষণ ও বায়ু দূষণ রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
৮। পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য ক্ষতিকর প্রকল্প এবং দেশজুড়ে পরিবেশ দূষণকারী কার্যক্রম আর গ্রহণ করা যাবে না।
৯। এছাড়াও দেশের পাহাড়-টিলা, বনাঞ্চল, গাছ-পালা, বন্যপ্রাণী এবং নদী, জলাশয় রক্ষা করতে হবে এবং পুনরুদ্ধারে পদক্ষেপ নিতে হবে।
১০। দেশের খাল, জলাশয় ও নদী দূষণমুক্ত করতে পদক্ষেপ নিতে হবে।
ধন্যবাদন্তে,
প্রচেষ্টা ফাউন্ডেশন, সেইভ ফিউচার বাংলাদেশ, আমরাই আগামী, সিডার ইনিশিয়েটিভ, ইয়ুথ ফাউন্ডেশন অফ বাংলাদেশ, ও হেল্প দ্যা নেশন এর জলবায়ু ও পরিবেশ কর্মী বৃন্দ।