02/06/2026
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আজ আমাদের দৈনন্দিন জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ, নতুন তথ্য জানা বা বিনোদনের জন্য আমরা প্রতিদিন বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করি। তবে সাম্প্রতিক গবেষণাগুলো দেখাচ্ছে, কিছু কিশোর-কিশোরীর ক্ষেত্রে এই ব্যবহার এমন পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে, যেখানে তা আসক্তির মতো আচরণের বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করতে শুরু করে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ইউরোপীয় আঞ্চলিক কার্যালয়ের ২০২৪ সালের একটি প্রতিবেদনে দেখা গেছে, জরিপে অংশ নেওয়া ১১% কিশোর-কিশোরীর মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে এমন কিছু আচরণ লক্ষ্য করা গেছে, যা “problematic social media use” বা সমস্যাজনক ব্যবহারের সঙ্গে সম্পর্কিত। এর মধ্যে রয়েছে বারবার সোশ্যাল মিডিয়া চেক করার প্রবণতা, ব্যবহার কমাতে না পারা, ব্যবহার না করতে পারলে অস্বস্তি অনুভব করা এবং এর কারণে পড়াশোনা বা দৈনন্দিন কাজে প্রভাব পড়া।
তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই ১১% সংখ্যাটি সব কিশোর-কিশোরী সোশ্যাল মিডিয়ায় “আসক্ত” হয়ে গেছে এমন অর্থ বহন করে না। বরং এটি এমন একদল তরুণকে নির্দেশ করে, যাদের ব্যবহারে আসক্তিসদৃশ কিছু লক্ষণ দেখা গেছে এবং যাদের ক্ষেত্রে বিষয়টি নিয়ে সচেতন হওয়া প্রয়োজন।
গবেষকদের মতে, দীর্ঘ সময় ধরে অনলাইনে থাকা, ঘুমের সময় কমে যাওয়া, বাস্তব জীবনের সামাজিক সম্পর্ক থেকে দূরে সরে যাওয়া এবং মানসিক চাপ বা উদ্বেগের মতো বিষয়গুলোর সঙ্গে অতিরিক্ত সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের সম্পর্ক থাকতে পারে। তাই প্রযুক্তিকে পুরোপুরি এড়িয়ে যাওয়ার পরিবর্তে এর স্বাস্থ্যকর ও ভারসাম্যপূর্ণ ব্যবহার শেখাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ের জন্য স্ক্রিন ব্যবহার করা, ঘুমানোর আগে ফোন বা ট্যাবলেট ব্যবহার কমানো, নিয়মিত খেলাধুলা ও শারীরিক কার্যকলাপে অংশ নেওয়া এবং পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে সরাসরি সময় কাটানো ডিজিটাল জীবনের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে।
দিনশেষে, প্রযুক্তি নিজে সমস্যা নয়— বরং সেটি আমরা কীভাবে ব্যবহার করছি, সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সচেতন ও নিয়ন্ত্রিত ব্যবহার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে উপকারী রাখে, আর অতিরিক্ত নির্ভরতা ধীরে ধীরে মানসিক ও সামাজিক সমস্যার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।