16/08/2026
গিরগিটির রঙ বদল: সুবিধাবাদী সাংবাদিক মাহমুদুল হক সুজন। দল যায় দল আসে সুজন গিরগিটির রঙ বদলে থেকে যায় চেয়ারে।
সাংবাদিকতার নেপথ্যে রাজনীতির সুবিধাবাদী খেলা—যার জ্বলন্ত উদাহরণ বিটিভির বিট রিপোর্টার মাহমুদুল হক সুজন। একসময় তিনি ছিলেন সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের অঘোষিত 'পিএস' এবং প্রেস উইংয়ের মূল চাবিকাঠি। নিজের এলাকা রাজশাহীর বাঘার পীরগাছায় নিজ দায়িত্বে চালাতেন আওয়ামী লীগের দপ্তর। এমনকি বাঘা-চারঘাট এলাকায় বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীদের তালিকা তৈরি করে শাহরিয়ার আলমের হাতে তুলে দেওয়ার মূল কারিগরও ছিলেন এই সুজন। অথচ আজ ক্ষমতার পটপরিবর্তনের সাথে সাথে তিনি বনে গেছেন মস্ত বড় বিএনপি নেতা!
সুজনের পরিচয় কেবল সাংবাদিকতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। সচিবালয়ে তার হাত ধরেই চলত ঠিকাদারি ও টেন্ডারবাজির বিশাল নেটওয়ার্ক। বাঘায় চাকরির নিয়োগ বাণিজ্য থেকে শুরু করে দলীয় ভারসাম্য রক্ষা—সবকিছুই হতো তার ইশারায়। অভিযোগ রয়েছে, ক্ষমতার দাপটে তিনি ভারতীয় দূতাবাস এবং বিভিন্ন মহলের সাথে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রক্ষা করে চলতেন এবং প্রতি মাসেই নিয়মিত ভারত সফরে যেতেন।
একসময় আওয়ামী লীগ সরকারের গুণকীর্তন করতে গিয়ে শেখ হাসিনা ও শাহরিয়ার আলমের ভূয়সী প্রশংসা করে পোস্ট দিতেন সুজন। সরকারবিরোধী সাধারণ মানুষের কণ্ঠ স্তব্ধ করতে সোশ্যাল মিডিয়ায় তাদের বিরুদ্ধে কাউন্টার দিতেন। কিন্তু ৫ই আগস্টের পর শুরু হয় তার আসল রূপ বদলের খেলা! অতীতের সেই 'লীগ প্রেমী' পোস্টগুলো একে একে ডিলেট করে কিছুদিন আত্মগোপনে থাকেন। এরপর সুকৌশলে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা ও বিএনপি নেতাদের সাথে ছবি আপলোড করে নিজেকে আবার মূলধারায় ভাসিয়ে তোলেন।
আগে যিনি শাহরিয়ার আলমকে প্রধান অতিথি করে অনুষ্ঠান করতেন, সেপ্টেম্বর মাস থেকে সেই সুজনই এখন ঢাকার বিএনপি নেতাদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলেছেন। স্থানীয় বৈশাখী মেলায় শাহরিয়ার আলমের জায়গায় স্থান করে নেন বিএনপি নেতা আবু সাঈদ চাঁদ। স্থানীয় বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, ঢাকায় কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে যোগাযোগ ও কল রেকর্ড দেখিয়ে সুজন এলাকায় নিজের প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করছেন এবং স্থানীয় বিএনপিতে কোন্দল ও গ্রুপিং তৈরি করছেন। এমনকি এই বিএনপির পরিচয়ের আড়ালে আওয়ামী লীগের সাবেক নেতাকর্মীদের 'শেলেটার' দেওয়ার গুরুতর অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
একসময় যিনি বিএনপি নেতাকর্মীদের ঘরে থাকতে দেননি, আজ তিনি নিজেই বিএনপির বডিগার্ড সেজে ক্ষমতা উপভোগ করতে মরিয়া! সাংবাদিকদের পেশাগত নীতি বিক্রি করে দলীয় চাটুকারিতা আর গিরগিটির মতো রঙ বদলানো এই মাহমুদুল হক সুজনরা থেকে যায় চেয়ারে।