20/09/2021
* হযরত সােলাইম ইবনে ঈসা (রহঃ) বলেন, আমি হামযা বিন হাবীব। যাইয়াত (রহঃ) এর নিকট পৌছে তাকে মাটিতে গড়াগড়ি দিয়ে কাঁদতে দেখলাম।
আমি বললাম, আল্লাহর পানাহ, কেন আপনি এভাবে কাদতেছেন?
তিনি বললেন, দিবাগত রাতে আমি স্বপ্নে দেখেছি যে, কিয়ামত কায়েম হয়েছে এবং কোরআনের ক্বারীগণকে ডাকা হয়েছে এবং উপস্থিত লােকদের মধ্যে আমিও একজন।
আমি একজন ঘােষণাকারীকে খুবই মিষ্টি সুরে ঘােষণা করতে শুনতে পেলাম, কেবলমাত্র তারাই প্রবেশ করতে পারবে, যারা কোরআনের উপর আমল করেছে।”
এটা শুনে আমি পিছন দিকে থাকলাম। গায়েব হতে আওয়াজ এল । হামযা বিন হাবীব যাইয়্যাত কোথায়? আমি বললাম, লাব্বাইক, হে আল্লাহর দায়ী লাব্বাইক (হাজির)।
একজন ফেরেশতা দ্রুত আমার নিকট এসে বলল, এভাবে বল, লাব্বাইকা, আল্লাহুম্মা লাব্বাইকা, ফেরেশতা যেভাবে বলল, আমিও সেভাবেই বললাম।
অতঃপর আমি একটি ঘরে প্রবেশ করলাম, সেখানে ক্বারীদের গুণগুণ আওয়াজ শুনতে পেলাম। আমি ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে থেমে গেলাম এবং একজন লােককে বলতে শুনতে পেলাম, ভয়ের কোন কারণ নেই, পড় এবং উপরে উঠিতে থাক। আমি উপরে উঠতে থাকলাম। হঠাৎ আমি নিচের দিকে তাকিয়ে দেখতে পেলাম যে, আমি একটি সাদা মতির মিম্বারে বসা আছি, যার একটি সিঁড়ি লাল ইয়াকুত পাথরের এবং অপরটি সবুজ জমরূদ পাথরের ।
আমাকে বলা হল, পড় এবং উপরে চড়, আমি উপরে চড়লাম। আমাকে আর বলা হল, সূরা আল আন'আম পড়। আমি পড়লাম, তবে আমি বুঝতে পারছিলাম না কাকে আমি শুনাচ্ছিলাম। এমনকি আমি ষাটটি আয়াত পড়িয়া -- ............. পর্যন্ত পৌছিলাম। তিনি বললেন, হে হামযা! আমি কি বান্দাহদের উপর প্রতাপশালী নই? আমি বললাম, হ্যা, অবশ্যই ।
তিনি বললেন, সত্যই বলেছ। তুমি পড়,
আমি সূরা আল আরাফ পড়তে লাগলাম এমনকি শেষ পর্যন্ত পৌছিয়া সিজদার জন্য ঝুকতে মনস্থ করলাম। আমাকে বলা হল, থাম, থাম, তুমি পড়া চালু রাখ, কিন্তু সিজদা করাে না। হে হামযা, তােমাকে এ ক্বিরা'আত কে শিখিয়েছে?
আমি বললাম, সােলায়মান।
তিনি বললেন, ঠিকই পড়াইয়াছে,
আবার জিজ্ঞেস করলেন, সােলায়মানকে কে পড়াইয়াছে ?
আমি বললাম, ইয়াহইয়া,
তিনি বললেন, ইয়াহইয়াও ঠিকই পড়াইয়াছে।
জিজ্ঞেস করলেন, ইয়াহইয়া কার নিকট পড়িয়াছে? আমি বললাম, আবু আবদির রহমান এর নিকট।
তিনি বললেন, আবু আবদির রহমান কার নিকট পড়িয়াছে?
আমি বললাম, রাসূলের চাচাতাে ভাই হযরত আলী (রাঃ)এর নিকট।
তিনি বললেন, আলী-ঠিকই বলেছে।
তিনি বললেন, আলী (রাঃ)-কে কে পড়াইয়াছে?
আমি বললাম, আপনার প্রিয় রাসূল (সাঃ)।
তিনি বললেন, আমার নবী ঠিকই বলেছেন,
তবে আমার নবীকে কে পড়াইয়াছে?
আমি বললাম, হযরত জিবরাঈল (আঃ)।
জিজ্ঞেস করলেন, জিবরাঈলকে কে পড়াইয়াছে?
আমি তখন চুপ করে থাকলাম।
তিনি বললেন, হে হামযা, তুমি বল, আপনি।
আমি বললাম, আমি তাে ভালভাবে বলতে পারছি না। তিনি বলেন, বল আপনি।
আমি বললাম 'আপনি'।
তিনি বলেন, হে হামযা, সত্যই বলেছ।
হে হামযা, কোরআন ওয়ালাদের হক, বিশেষ করে যখন তারা কোরআনের উপর আমল করবে-অশেষ বা অপরিসীম রয়েছে। হে হামযা, কোরআন আমার কথা বা কালাম। কোরআন ওয়ালাদের মত আমি আর কাউকে ভালবাসি না।
হে হামযা, আমার নিকট আস।
আমি তাঁর নিকটবর্তী হলাম।
মহান আল্লাহ্ তাআলা তাঁর কুদরতী হাত অতি মূল্যবান খুশবুতে ডুবালেন এবং আমার শরীরে মেখে দিলেন। অতঃপর বললেন, হে হামযা, শুধুমাত্র তােমার সাথেই আমার এ আচরণ সীমাবদ্ধ নয়, বরং যারাই তােমার সাথে কমবেশী সামঞ্জস্য রাখবে এবং যারাই তােমার তেলাওয়াতের অনুরূপ তেলাওয়াত করবে এবং শুধুমাত্র আমারই সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্য রাখবে, তাদের জন্য আমি প্রচুর নিয়ামত গােপন রেখেছি। অতএব কোরআন ওয়ালাদেরকে আমি যে রকম মহব্বত করি, ভালবাসি, তা তুমি বন্ধুবান্ধবকে জানিয়ে দাও, কোরআন ওয়ালারাই হল সর্বশ্রেষ্ঠ ।
হে হামযা, আমার ইজ্জত, শান-সম্মান ও বুজুর্গির কসম, যে অন্তরে কোরআন মুখস্থ রয়েছে, যে জিহ্বা কোরআন তেলাওয়াত করেছে, যে কান কোরআনের তেলাওয়াত শুনেছে, যে চোখ কোরআন দেখেছে, আমি কখনও তাদেরকে আগুনের জাহান্নামের আযাব বা শাস্তি দিব না। আমি বললাম, ‘সােবহানাকা ইয়া রাব্বি।
তিনি বললেন, হে হামযা, কোরআনের তেলাওয়াত-কারী হাফেজরা কোথায়? আমি তাদের অপেক্ষায় আছি। যতক্ষণ না কিয়ামতের দিন তারা আমার সাথে সাক্ষাৎ করবে। আর যখন তারা আমার সাথে সাক্ষাৎ করবে, প্রতিটি আয়াতের বিনিময়ে আমি তাদের একটি করে দরজা, মানমর্যাদা বাড়িয়ে দেব।
এরপরও কি তােমরা আমাকে তিরস্কার করবে, কেন আমি কান্নাকাটি করি? কেন আমি মাটিতে গড়াগড়ি দেই।
সুবহানাল্লহ, এটি একটি মোবারক স্বপ্ন, এই স্বপ্ন টিতে ক্বোরআন মুখাস্তকারী, তিলাওয়াতকারী, শিক্ষাদানকারী, কোরআনের সাথে মোহাব্বত কারী, ক্বোরানের উপর আমল কারী সকলের জন্য রয়েছে সুসংবাদ, তাই আসুন আমরা সবাই আল কুরআনের সাথে সম্পর্ক করি, বেশি বেশি তেলাওয়াত করি, এর উপর আমল করি, আল কুরআন মুখস্ত করি, এর প্রচার প্রসারে আত্মনিয়োগ করি,
মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে এর উপর আমল করার তৌফিক দান করুন আমিন