08/10/2025
𝗕𝗶𝗼𝗰𝗼𝗺𝗽𝘂𝘁𝗲𝗿
অদৃশ্য সেই কোষের মাঝে, লুকিয়ে আছে ক্ষমতা,
আগামীর পথে খুলে যাবে, নতুন এক মহাকাব্য।
হ্যাঁ ঠিকি বলছি,বলছিলাম বায়োকম্পিউটারএর কথা।বায়োকম্পিউটার হলো এক ধরনের কম্পিউটার ব্যবস্থা, যেখানে প্রচলিত সিলিকন চিপ বা ইলেকট্রনিক সার্কিটের বদলে জীবন্ত কোষ, প্রোটিন, ডিএনএ বা মানব মস্তিষ্কের নিউরন ব্যবহার করা হয় তথ্য প্রক্রিয়াকরণের জন্য। যদি মানব মস্তিষ্কের বৈশিষ্ট্য বিশিষ্ট একটি কম্পিউটার তৈরি হলে বিষয়টি হবে চমৎকার।
প্রচলিত কম্পিউটার কেবল বাইনারি কোড (০ ও ১) এর মাধ্যমে তথ্য প্রক্রিয়া করে। কিন্তু একটি মস্তিষ্ককোষ বা নিউরন একসঙ্গে হাজার হাজার সংকেত পাঠাতে পারে। যেখানে মানুষের মস্তিষ্কে প্রায় ৮৬ বিলিয়ন নিউরন আছে, যেখানে প্রতিটি নিউরন প্রায় ১০০০ সংযোগ তৈরি করতে পারে।অর্থাৎ, একটি জীবন্ত মস্তিষ্ক এর কম্পিউটার বর্তমানের সবচেয়ে শক্তিশালী সুপারকম্পিউটারের চেয়েও লক্ষ গুণ বেশি কার্যকর হতে পারে।
২০২৩ সালে অর্গানয়েড প্রযুক্তি ব্যবহার করে করা এক গবেষণায় দেখা গেছে, মাত্র ৮ লক্ষ মস্তিষ্ককোষের একটি বায়োকম্পিউটার সাধারণ কম্পিউটারকে অতিক্রম করে একটি সহজ গেম (পং) খেলতে শিখেছে।যুক্তরাষ্ট্রের এক জরিপে বলা হয়েছে, মানব মস্তিষ্কে প্রতি সেকেন্ডে গড়ে ১ কোয়াড্রিলিয়ন (১০¹⁵) অপারেশন সম্পাদিত হয়, যা বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত সুপারকম্পিউটার Fugaku-এর থেকেও অনেক বেশি।আর, গবেষণায় জানা গেছে, প্রচলিত ডেটা সেন্টার বছরে প্রায় ২০০ টেরাওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ ব্যবহার করে, যেখানে মস্তিষ্ক মাত্র ২০ ওয়াট শক্তি ব্যবহার করেই একই রকম প্রসেসিং করে।অর্থাৎ, বায়োকম্পিউটার এ এই সকল বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান থাকবে , যা হতে পারে যুগান্তকারী AI কে ছারিয়ে যাবে।
বায়োকম্পিউটার নিঃসন্দেহে এক অনন্য বৈজ্ঞানিক বিস্ময়, যা মানবজাতিকে নতুন এক ভবিষ্যতের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। সিলিকনের সীমাবদ্ধতা পেরিয়ে মস্তিষ্ককোষের অশেষ ক্ষমতা ব্যবহার করে তৈরি হচ্ছে এমন এক প্রযুক্তি, যা চিকিৎসা, গবেষণা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দুনিয়ায় বিপ্লব আনতে পারে।কিন্তু প্রশ্ন হলো—আমরা কি এই শক্তিকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারব, নাকি একদিন শক্তিটাই আমাদের নিয়ন্ত্রণ করবে?”
Hafsa
Team CURIOVERSE