17/09/2026
ইতিহাসের পাতায় কিছু মানুষ চিরকাল ভাস্বর হয়ে থাকেন। সময় তাঁদের শরীরকে মাটির কাছে ফিরিয়ে দেয়, কিন্তু তাঁদের কর্ম, সংগ্রাম ও স্বপ্ন একটি ভূখণ্ডের স্মৃতির সঙ্গে মিশে থাকে। তাঁরা হয়ে ওঠেন একটি জনপদের সুদীর্ঘ আত্মপরিচয়ের অংশ। বাংলার ইতিহাসে মসনদ-ই-আলা ঈশা খাঁ তেমনই এক নাম।
ঈশা খাঁ কে কেবল একজন সামন্তশাসক, বারো ভূঁইয়ার নেতা কিংবা যোদ্ধা হিসেবে দেখলে তাঁর ইতিহাসের একটি অংশ হয়তো জানা হবে; কিন্তু তাঁর সময়ের বাংলা, বিশেষত নদী-নালা, খাল-বিল ও ভাটি অঞ্চলের অসংখ্য জনপদ নিয়ে গড়ে ওঠা সভ্যতাকে সঙ্গে নিয়ে পাঠ করলে ইতিহাসে ঈশা খাঁর ভিন্ন এক তাৎপর্য আমাদের সামনে উন্মোচিত হয়।
ঈশা খাঁ ১৭ এপ্রিল ১৫৩৬ সালে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি এমন এক সময়ে বেড়ে ওঠেন, যখন বাংলার রাজনৈতিক দিগন্ত দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছিল। সুলতানি বাংলার উত্তরাধিকার, আফগান শক্তির উত্থান-পতন এবং মুঘল সালতানাতের বিস্তার—সব মিলিয়ে ষোড়শ শতকের বাংলা ছিল রাজনৈতিক পুনর্বিন্যাসের এক উত্তাল সময়। দিল্লি ও আগ্রাকেন্দ্রিক মোঘল সালতানাত বাংলার ওপর নিজের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে, অন্যদিকে বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলের স্থানীয় শাসক ও ভূঁইয়ারা নিজেদের রাজনৈতিক অস্তিত্ব রক্ষায় প্রতিরোধ গড়ে তুলছেন। নদী, হাওর, বিল ও জলাভূমিতে বিভক্ত পূর্ব বাংলার ভূগোলও এই রাজনৈতিক বাস্তবতাকে অন্য রকম করে তুলেছিল।
ঈশা খাঁর জীবনের শুরুটিও ছিল নানা উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে। তাঁর পিতা সুলায়মান খান ১৫৪৭ সালে নিহত হওয়ার পর ঈশা খাঁ ও তাঁর ভাইকে তুর্কিস্তানের বণিকদের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছিল বলে ঐতিহাসিক বর্ণনায় পাওয়া যায়। পরবর্তীতে চাচা কুতুবউদ্দিন তাঁদের ফিরিয়ে আনেন। ১৫৬৩ সালে বাংলায় ফিরে এসে ঈশা খাঁ কিছু সময় গৌড়ের প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এরপর ১৫৬৪ সালে তিনি সরাইলের জমিদার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন। এখান থেকেই তাঁর রাজনৈতিক উত্থানের নতুন অধ্যায় শুরু হয়।
তবে ঈশা খাঁর উত্থানকে কেবল ব্যক্তিগত ক্ষমতা অর্জনের ইতিহাস হিসেবে দেখলে তাঁর ভূমিকার অনেক গুরুত্বপূর্ণ দিক আড়ালে থেকে যায়। তিনি যে ভূখণ্ডে শক্তি গড়ে তুলেছিলেন, সেটি ছিল বাংলার সবচেয়ে জটিল ও বৈচিত্র্যময় জলভূমির একটি অঞ্চল। মেঘনা, ব্রহ্মপুত্র, শীতলক্ষ্যা, বানার এবং অসংখ্য শাখা নদী, হাওর ও জলাভূমি মিলিয়ে ভাটি অঞ্চল ছিল একইসঙ্গে কঠিন ও সম্ভাবনাময় এক ভূগোল। বছরের দীর্ঘ একটি সময় যেখানে স্থলপথের চেয়ে জলপথই ছিল মানুষের চলাচলের প্রধান মাধ্যম। ঈশা খাঁ এই ভূগোলকে শুধু বসবাসের পরিবেশ হিসেবে দেখেননি; রাজনৈতিক ও সামরিক শক্তির অংশ হিসেবেও ব্যবহার করেছিলেন।
১৫৭৫ সালে বাংলায় মোঘল কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা আরও জোরালো হয়। কিন্তু পূর্ব বাংলা তখনও পুরোপুরি মোঘলদের নিয়ন্ত্রণে আসেনি। বারো ভূঁইয়াদের সঙ্গে মোঘলদের সংঘাতও অব্যাহত ছিল। খানজাহান হোসেন কুলি খান, ওয়াজির খান ও শাহবাজ খানের মতো মোঘল সেনাপতিরা একের পর এক অভিযান পরিচালনা করেন। কিন্তু ভাটি অঞ্চলের প্রতিরোধ সহজে ভেঙে দেওয়া সম্ভব হয়নি।
এই পরিস্থিতিতে ঈশা খাঁ ক্রমেই মোঘলবিরোধী প্রতিরোধের অন্যতম প্রধান নেতা হয়ে উঠতে থাকেন। ১৫৭৫ সালের সংঘাতগুলোতে তাঁর সামরিক দক্ষতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। মোঘল বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে গিয়ে তিনি বুঝেছিলেন, ভাটির যুদ্ধ স্থলভূমির যুদ্ধের মতো নয়। নদী ও জলাভূমির প্রবাহ, বর্ষার পানি, নৌপথের পরিবর্তন এবং স্থানীয় মানুষের ভূগোল-জ্ঞান—সবকিছুকেই যুদ্ধকৌশলের অংশ করে তুলতে হয়।
এই বাস্তবতার সবচেয়ে বড় প্রকাশ ঘটে মোঘলদের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ সংঘর্ষে। সুলতান আকবর বাংলার ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার জন্য একের পর এক সেনাপতি পাঠালেও ভাটি অঞ্চলে ঈশা খাঁর প্রতিরোধ সহজে পরাজিত করা সম্ভব হয়নি। কিশোরগঞ্জের হাওর ও জঙ্গলবাড়িকে কেন্দ্র করে তাঁর বিস্তৃত রাজনৈতিক পরিসর গড়ে ওঠে। যুদ্ধ পরিচালনা ও প্রতিরক্ষার জন্য হাজিগঞ্জ, শেরপুর, দেওয়ানবাগসহ বিভিন্ন স্থানে তিনি সুরক্ষিত দুর্গ নির্মাণ করেন।
ঈশা খাঁর শক্তির মূল জায়গাটি কেবল দুর্গ কিংবা সৈন্যবাহিনীর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, তাঁর আসল শক্তি ছিল মানুষ ও ভূগোলের সঙ্গে তাঁর গভীর সম্পর্ক। বর্ষাকালে যখন বিস্তীর্ণ ভাটি অঞ্চল পানিতে ডুবে যেত, তখন সেই জলরাশিই হয়ে উঠত তাঁর প্রতিরক্ষার প্রাকৃতিক দেয়াল। তাঁর নৌবাহিনী মেঘনা, ব্রহ্মপুত্র, বানার ও শীতলক্ষ্যার জলপথে চলাচল করত। অপরিচিত ভূখণ্ডে মোঘল বাহিনীর জন্য যে নদী ও জলাভূমি ছিল বিপদ, ঈশা খাঁর বাহিনীর কাছে সেটিই ছিল পরিচিত পথ।
১৫৭৫ সালে সুলতান আকবর বাংলা জয় করলেও পূর্ব বাংলা মোঘলদের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসেনি। বারো ভূঁইয়াদের তীব্র প্রতিরোধের কারণে মোঘলদের সাথে যুদ্ধ লেগেই থাকত। এই পরিস্থিতিতে ঈশা খাঁকে পরাজিত ও বারো ভূঁইয়াদের দমন করতে সুলতান আকবর তাঁর প্রধান সেনাপতি মানসিংহকে বাংলায় পাঠান। মানসিংহ ঢাকার কাছাকাছি ডেমরায় অবস্থান নিয়ে অভিযানের প্রস্তুতি নেন।
মোঘলদের সঙ্গে সংঘর্ষের এই ধারাবাহিকতায় ঈশা খাঁ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিজয় অর্জন করেন। ১৫৯৬ সালে মাসুম খান কাবুলির সঙ্গে সম্মিলিত বাহিনী নিয়ে তিনি মোঘল সেনাপতি দুর্জন সিংয়ের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেন। এই যুদ্ধে দুর্জন সিং নিহত হন এবং মোঘল বাহিনী বড় ধরনের পরাজয়ের মুখে পড়ে। একপর্যায়ে মানসিংহের সাথে দ্বৈরথে ঈশা খাঁ অনন্য বীরত্ব প্রদর্শন করেন। লোকগাথা অনুযায়ী, যুদ্ধে মানসিংহ পরাজিত হলেও ঈশা খাঁ তাঁর সাথে দিল্লি যাত্রা করেন। মূলত মানসিংহের স্ত্রী বিশেষভাবে অনুরোধ করেছিলেন যেন ঈশা খাঁ দিল্লি যান, কারণ মানসিংহ পরাজিত হয়ে একা ফিরলে সুলতান আকবর তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দিতে পারতেন। ঈশা খাঁর বীরত্ব ও মহত্ত্বে মুগ্ধ হয়ে সুলতান আকবর তাঁকে ‘মসনদ-ই-আলা’ উপাধিতে ভূষিত করেন এবং ২৬টি পরগনা দান করেন। পরবর্তীতে এই পরগনাগুলোই তাঁর রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের ভিত্তি হয়ে ওঠে।
ঈশা খাঁর জীবনের এই অধ্যায়টি গুরুত্বপূর্ণ শুধু তাঁর রাজনৈতিক মর্যাদার কারণে নয়। কারণ ষোড়শ শতকের বাংলার রাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা হলো, কেন্দ্রীয় সালতানাত এবং আঞ্চলিক শক্তির সম্পর্ক সবসময় কেবল যুদ্ধের মধ্য দিয়ে নির্ধারিত হয়নি। কখনো প্রতিরোধ, কখনো সমঝোতা, আবার কখনো রাজনৈতিক স্বীকৃতির মধ্য দিয়ে সেই সম্পর্ক নতুন রূপ পেয়েছে। ঈশা খাঁ সেই পরিবর্তনশীল রাজনীতির একজন শ্রেষ্ঠ প্রতিনিধি।
তাঁর রাজনৈতিক চিন্তার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল ভাটি অঞ্চলের সমাজ ও জনজীবনের সঙ্গে ক্ষমতার সম্পর্ক। কিশোরগঞ্জের হাওর ও জঙ্গলবাড়িকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা তাঁর শক্ত অবস্থান কেবল কয়েকটি দুর্গ বা পরগনার সমষ্টি ছিল না। নদী ও হাওরনির্ভর মানুষের জীবন, নৌবাণিজ্য, কৃষি এবং স্থানীয় ভূগোলের ওপর দাঁড়িয়েই তাঁর রাজনৈতিক শক্তি বিস্তার লাভ করেছিল। ফলে ঈশা খাঁর ইতিহাস পড়তে গেলে শুধু যুদ্ধের ইতিহাস পড়লেই হয় না; পড়তে হয় সেই সমাজের ইতিহাসও, যে সমাজ তাঁকে শক্তি দিয়েছিল।
এই জায়গাতেই ঈশা খাঁকে বাংলার ইতিহাসে নতুনভাবে দেখার প্রয়োজন রয়েছে। তাঁকে কেবল ‘আঞ্চলিক শক্তির উত্থানকারী বীর’ হিসেবে স্মরণ করলে তাঁর ঐতিহাসিক ভূমিকার একটি অংশই সামনে আসে। তাঁর জীবন আমাদের সামনে তুলেধরে একটি বিশেষ ভূখণ্ডের রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতা, যেখানে নদী ছিল যোগাযোগের পথ, হাওর ছিল জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং স্থানীয় ভূগোল ছিল রাজনৈতিক স্বাধীনতার অন্যতম ভিত্তি।
ঈশা খাঁর মৃত্যুও তাঁর জীবনের মতোই বাংলার ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ। ১৫৯৯ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর কাতরাবো থেকে বন্ধু ফজল গাজীর চৌড়া দুর্গের দিকে যাওয়ার পথে কালীগঞ্জের বাখতারপুরে তাঁর মৃত্যু হয়। সেখানেই তাঁকে সমাহিত করা হয়। প্রায় ছয় দশকের জীবনে তিনি যে রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তুলেছিলেন, তাঁর মৃত্যুর পর সেটি তাঁর উত্তরসূরিদের হাতে নতুন রূপ নেয়।
ঈশা খাঁর মৃত্যুর পর তাঁর পুত্র মুসা খান ২৬টি পরগনাসহ ঢাকা ও ময়মনসিংহের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে নিজের রাজনৈতিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেন। মুসা খানও তাঁর পিতার মতো সুরক্ষিত দুর্গ ও সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করেন। তাঁর সদর দপ্তর ছিল সোনারগাঁও পরগনার কাতরাপুরে এবং যাত্রাপুরে ছিল আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষিত ঘাঁটি। অর্থাৎ, ঈশা খাঁর নির্মিত রাজনৈতিক কাঠামো তাঁর মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে শেষ হয়ে যায়নি; বরং তা পরবর্তী প্রজন্মের রাজনৈতিক সংগ্রামের ভিত্তি তৈরি করেছিল।
এই সময় ঢাকার ইতিহাসও নতুন এক পর্যায়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল। ১৬০২ সালে রাজা মানসিংহ তাঁর সদর দপ্তর ঢাকায় নিয়ে আসেন। এর আগে তাঁর সদর দপ্তর ছিল ভাওয়াল গড়ে। ঢাকেশ্বরী মন্দিরের আশপাশে তাঁর অবস্থান এবং সৈন্যদের উর্দু বাজার এলাকায় থাকার কথা ইতিহাসে উল্লেখ পাওয়া যায়। ঢাকা তখনও রাজধানী হয়নি, একজন থানেদারের অধীনে একটি থানা হিসেবেই তার প্রশাসনিক পরিচয় ছিল।
ঈশা খাঁর ইতিহাস তাই শুধু ষোড়শ শতকের একটি সামরিক প্রতিরোধের ইতিহাস নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে ভাটি বাংলার সমাজ, নদী ও জলাভূমিনির্ভর সভ্যতা, স্থানীয় ক্ষমতার কাঠামো, বাণিজ্যপথ, দুর্গনির্মাণ, নৌযুদ্ধ এবং মোঘল সালতানাতের সঙ্গে বাংলার আঞ্চলিক শক্তির সম্পর্ক।
আজকের বাংলাদেশকে বুঝতেও তাই ঈশা খাঁকে নতুন করে পড়ার প্রয়োজন আছে। কারণ একটি জাতির ভবিষ্যৎ নির্মাণের জন্য শুধু তার রাজনৈতিক ইতিহাস জানা যথেষ্ট নয়, এর সাথে জানতে হয় তার সমাজ কীভাবে গড়ে উঠেছে, কোন ভূগোল তার মানুষকে তৈরি করেছে, কোন মূল্যবোধ তাকে শক্তি দিয়েছে এবং কোন ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতা তার রাজনৈতিক চেতনাকে নির্মাণ করেছে।
ঈশা খাঁ সেই অনুসন্ধানের একটি গুরুত্বপূর্ণ দরজা। তাঁর জীবন আমাদের অতীতের দিকে ফিরিয়ে নেয়, কিন্তু কেবল অতীতকে স্মরণ করার জন্য নয়, একইসাথে নিজেদের সমাজ, সভ্যতা ও রাজনৈতিক অস্তিত্বকে নতুন করে বোঝার জন্য।
চারশ বছরেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেছে। মেঘনা-ব্রহ্মপুত্রের জলধারা বদলেছে, হাওরের অনেক পথ বদলে গেছে, জঙ্গলবাড়ির চারপাশে বদলে গেছে জনপদ। কিন্তু সেই ভূখণ্ডের ইতিহাস এখনও আমাদের সামনে একটি প্রশ্ন রেখে যায়— একটি জাতি তার নিজের ভূগোল, সমাজ ও ইতিহাসকে কতটা বুঝে তার ভবিষ্যৎ নির্মাণ করতে পারে? ঈশা খাঁর জীবন সেই প্রশ্নেরই এক দীর্ঘ ঐতিহাসিক প্রতিধ্বনি।
আজ তাঁর ৪২৭তম মৃত্যুবার্ষিকীতে ঢাকা ফোরাম অব থ্যট এন্ড সিভিলাইজেশন (DFTC) ভাটি অঞ্চলের এই বীরকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছে।