Dhaka Forum of Thought and Civilization

Website

Dhaka Forum of Thought and Civilization || সভ্যতা নগরী হিসেবে ঢাকাকে বিনির্মাণের প্রত্যয়ে ||

Discovering Heritage Through Firsthand ExperienceDFTC’s Cultural Tour-02 was designed as an educational and experiential...
23/09/2026

Discovering Heritage Through Firsthand Experience

DFTC’s Cultural Tour-02 was designed as an educational and experiential initiative aimed at fostering a deeper engagement with Bangladesh’s history, cultural heritage and historical identity through firsthand exploration.

At Ahsan Manzil, participants had the opportunity to explore the history of the Nawabs of Dhaka while examining the architectural, political and cultural significance of this historic landmark. The experience provided a meaningful context for understanding the historical development of Dhaka and the broader cultural heritage of Bangladesh.

Through initiatives such as this, DFTC seeks to encourage the younger generation to move beyond conventional forms of historical learning and engage directly with the sites, narratives and cultural traditions that constitute Bangladesh’s heritage. By facilitating experiential learning and heritage engagement, we aspire to nurture greater historical awareness, cultural appreciation and a sense of responsibility toward preserving and transmitting our shared heritage to future generations.

কালচারাল ট্যুর–০২ | ঐতিহাসিক আহসান মঞ্জিল যে জাতি তার ইতিহাসকে জানে না, সে তার বর্তমানের ভিত্তি এবং ভবিষ্যতের সম্ভাবনাকে...
22/09/2026

কালচারাল ট্যুর–০২ | ঐতিহাসিক আহসান মঞ্জিল

যে জাতি তার ইতিহাসকে জানে না, সে তার বর্তমানের ভিত্তি এবং ভবিষ্যতের সম্ভাবনাকেও যথাযথভাবে উপলব্ধি করতে পারে না।

ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে সরাসরি অভিজ্ঞতার মাধ্যমে জানার, বোঝার এবং নতুন প্রজন্মের মধ্যে তার প্রতি দায়বদ্ধতা তৈরির একটি বুদ্ধিবৃত্তিক ও শিক্ষামূলক উদ্যোগ হিসেবে নবাবি আমলের ঢাকার সাক্ষ্য বহনকারী ঐতিহাসিক প্রাসাদ আহসান মঞ্জিলে ‘কালচার ট্যুর-০২’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুড়িগঙ্গার তীরে দাঁড়িয়ে থাকা গোলাপি আভায় উদ্ভাসিত এই ঐতিহাসিক প্রাসাদ ঢাকার নবাব পরিবারের ইতিহাসের পাশাপাশি উনিশ ও বিশ শতকের সন্ধিক্ষণে ঢাকার সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও নগরজীবনের নানা অধ্যায়ের সাক্ষ্য বহন করে। এর স্থাপত্য, প্রাসাদজীবনের স্মৃতি এবং ঐতিহাসিক পরিসর আমাদের সামনে তুলে ধরে একটি পরিবর্তনশীল নগরের গল্প।

এই সফর তাই কেবল একটি ঐতিহাসিক স্থাপনা পরিদর্শনের মধ্য দিয়েই সীমাবদ্ধ ছিল না। বিভিন্ন ইভেন্টের মধ্য দিয়ে অংশগ্রহণকারীরা আহসান মঞ্জিলের ইতিহাস, নবাবি আমলে ঢাকার নগরজীবন, স্থাপত্য, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের আন্তঃসম্পর্ককে সরাসরি জানার ও অনুভব করার সুযোগ পেয়েছেন।

আমরা বিশ্বাস করি, একটি জাতির আত্মপরিচয় তার ইতিহাসচর্চা, ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং সাংস্কৃতিক স্মৃতিকে ধারণ করার মধ্য দিয়েই সমৃদ্ধ হয়।

‘কালচার ট্যুর-০২’ সেই উপলব্ধির পথেই আমাদের আরেকটি পদক্ষেপ। আহসান মঞ্জিলের প্রাঙ্গণ থেকে আমরা ফিরে দেখেছি নবাবি ঢাকার ইতিহাস, নগরজীবনের বিবর্তন এবং আমাদের সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকারের নানা স্তর।

সভ্যতাগত উত্তরাধিকারকে জানার পথে আমাদের এই যাত্রায় সঙ্গে থাকা সকল অংশগ্রহণকারীকে আন্তরিক ধন্যবাদ।

ঐতিহাসিক আহসান মঞ্জিলে অনুষ্ঠিতব্য কালচারাল ট্যুর–০২-এর রেজিস্ট্রেশনের শেষ সময় আগামীকাল, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬।ইতিহাস ও ঐতি...
20/09/2026

ঐতিহাসিক আহসান মঞ্জিলে অনুষ্ঠিতব্য কালচারাল ট্যুর–০২-এর রেজিস্ট্রেশনের শেষ সময় আগামীকাল, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬।

ইতিহাস ও ঐতিহ্যের শেকড় অনুসন্ধানীরা এই সুযোগটি হাতছাড়া করতে না চাইলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপনার রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করুন।

(রেজিস্টেশন লিংক কমেন্টে দেওয়া হয়েছে।)

কালচারাল ট্যুর-০২ | ঐতিহাসিক আহসান মঞ্জিলনবাবি আমলের ঢাকার সাক্ষ্য বহনকারী ঐতিহাসিক প্রাসাদ আহসান মঞ্জিল সফরে আমাদের ইভে...
19/09/2026

কালচারাল ট্যুর-০২ | ঐতিহাসিক আহসান মঞ্জিল

নবাবি আমলের ঢাকার সাক্ষ্য বহনকারী ঐতিহাসিক প্রাসাদ আহসান মঞ্জিল সফরে আমাদের ইভেন্টসমূহ-
১. হেরিটেজ ওয়াক
২. হেরিটেজ টক
৩. কুইজ
৪. হেরিটেজ হিস্টোরিটেলিং
৫. গ্রুপ ফটো
৬. ঐতিহ্য রক্ষার শপথ
৭. সনদ বিতরণ, নাস্তা গ্রহণ ও সমাপনী

যেখান থেকে আমাদের সাথে যুক্ত হবেন- আহসান মঞ্জিলের গেট (আমরা কেবল আপনাকে প্রবেশের টিকেট প্রদান করবো।)

বিস্তারিত-
২২ সেপ্টেম্বর, মঙ্গলবার
বিকেল ৩.৩০ থেকে ৬.০০ টা পর্যন্ত
ঐতিহাসিক আহসান মঞ্জিল
ডেলিগেট ফি ২০০৳
বিকাশ- 01703-068108 (সেন্ডমানি)

রেজিস্ট্রেশনের শেষ সময়: ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
যেকোনো প্রয়োজনে যোগাযোগ- 01703-068108, 01974-306093

(রেজিস্টেশন নিশ্চিত করতে কমেন্টে দেওয়া গুগল ফরম পূরণ করুন।)

কালচারাল ট্যুর-০২ | ঐতিহাসিক আহসান মঞ্জিলএকটি শহরের ইতিহাস কেবল বইয়ের পাতার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। তার স্থাপত্য, জনজীবন...
18/09/2026

কালচারাল ট্যুর-০২ | ঐতিহাসিক আহসান মঞ্জিল

একটি শহরের ইতিহাস কেবল বইয়ের পাতার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। তার স্থাপত্য, জনজীবন, সংস্কৃতি ও সামাজিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়েও তার ইতিহাস পাঠ করা যায়। ঢাকা সেই অর্থে একটি জীবন্ত ইতিহাসের নগরী। যেখানে কয়েক শতাব্দীর রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের নানা স্তর আজও ছড়িয়ে রয়েছে।

ঢাকার ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো এই দীর্ঘ যাত্রার গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য বহন করে। এর মধ্যে আহসান মঞ্জিল বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। বুড়িগঙ্গার তীরে অবস্থিত এই ঐতিহাসিক প্রাসাদ ঢাকার নবাব পরিবারের ইতিহাসের সঙ্গে উনিশ ও বিশ শতকের সন্ধিক্ষণে ঢাকার সামাজিক ও নগরজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের প্রতিনিধিত্ব করে।

এই ঐতিহাসিক স্থাপনাকে কেন্দ্র করে DFTC আগামী ২২ সেপ্টেম্বর আয়োজন করছে কালচারাল ট্যুরের ২য় পর্ব। ইট-পাথরের এই প্রাসাদ বহন করে শতাব্দীর ইতিহাস, ক্ষমতার উত্থান-পতন, শিল্প-স্থাপত্যের সৌন্দর্য এবং ঢাকার সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকারের অনন্য সাক্ষ্য।

এই আয়োজন তাই কেবল একটি ঐতিহাসিক স্থাপনা পরিদর্শন নয়। একইসাথে সরাসরি স্থাপনার ভেতরে গিয়ে ইতিহাস, স্থাপত্য, নগরসভ্যতা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের আন্তঃসম্পর্ককে বোঝার একটি অভিজ্ঞতাভিত্তিক শিক্ষামূলক উদ্যোগ।

তাই আসুন, আমরা ইতিহাসের কাছে ফিরে যাই। এই ফিরে যাওয়া কেবল অতীতকে দেখার জন্য নয়, বরং ভবিষ্যৎকে আরও দৃঢ় ভিত্তির ওপর দাঁড় করানোর জন্য।

সফরের বিবরণ-
২২ সেপ্টেম্বর, মঙ্গলবার
বিকেল ৩.৩০ থেকে ৬.০০ টা পর্যন্ত
ঐতিহাসিক আহসান মঞ্জিল
ডেলিগেট ফি ২০০৳
বিকাশ- 01703-068108 (সেন্ডমানি)

(রেজিস্টেশন নিশ্চিত করতে কমেন্টে দেওয়া গুগল ফরম পূরণ করুন।)

মোতাহের হোসেন চৌধুরীর সাহিত্যিক জীবন দীর্ঘ ছিল না এবং তাঁর প্রকাশিত রচনাও সংখ্যায় সীমিত। কিন্তু তাঁর গুরুত্ব তাঁর চিন্তা...
18/09/2026

মোতাহের হোসেন চৌধুরীর সাহিত্যিক জীবন দীর্ঘ ছিল না এবং তাঁর প্রকাশিত রচনাও সংখ্যায় সীমিত। কিন্তু তাঁর গুরুত্ব তাঁর চিন্তার গভীরতা ও স্বাতন্ত্র্যে। তিনি এমন এক সময়ে লিখেছেন, যখন সমাজে ধর্মীয় রক্ষণশীলতা, সামাজিক সংকীর্ণতা ও স্বাধীন চিন্তার মধ্যে নানা টানাপোড়েন চলছিল। সেই সময়ে তিনি মানুষকে যুক্তি দিয়ে ভাবতে, সংস্কৃতিকে গভীরভাবে উপলব্ধি করতে এবং শিক্ষার মাধ্যমে প্রকৃত মনুষ্যত্ব অর্জনের কথা বলেছেন। তাঁর চিন্তার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল মানুষ। তাই তাঁকে শুধু একজন প্রাবন্ধিক হিসেবে দেখলে তাঁর অবদান পুরোপুরি বোঝা যায় না। তিনি ছিলেন বাংলা ভাষার একজন গুরুত্বপূর্ণ মুক্তচিন্তার লেখক, মানবতাবাদী ও সংস্কৃতিচিন্তক। তাঁর ‘সংস্কৃতি-কথা’ বাংলা মননশীল প্রবন্ধ সাহিত্যের একটি উল্লেখযোগ্য রচনা হিসেবে এখনও পাঠ ও আলোচনার বিষয়।

১৯০৩ সালের ১ এপ্রিল, তৎকালীন নোয়াখালী জেলার কাঞ্চনপুর গ্রামে জন্ম নেওয়া মোতাহের হোসেন চৌধুরী বেড়ে উঠেছিলেন এমন এক সময়ের মধ্যে, যখন বাঙালি মুসলমান সমাজে আধুনিক শিক্ষা, স্বাধীন চিন্তাধারা, ধর্ম, সংস্কৃতি ও আত্মপরিচয়ের প্রশ্ন নতুনভাবে সামনে আসছিল। তাঁর পিতা সৈয়দ আবদুল মজিদ চৌধুরী ছিলেন একজন সাব-রেজিস্ট্রার। শৈশব ও শিক্ষাজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময় তিনি কুমিল্লায় অতিবাহিত করেন। কুমিল্লা ইউসুফ হাইস্কুল ও কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজে পড়াশোনার পর তিনি বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন এবং ১৯৪৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় এমএ ডিগ্রি অর্জন করেন।

কিন্তু মোতাহের হোসেন চৌধুরীর প্রকৃত পরিচয় কোনো একাডেমিক ডিগ্রি কিংবা শিক্ষকতার পেশায় সীমাবদ্ধ নয়। তিনি ছিলেন মুক্তবুদ্ধির সাধক, সংস্কৃতিচিন্তক, প্রাবন্ধিক এবং মানবতাবাদী চিন্তার প্রতিনিধি। তাঁর চিন্তার কেন্দ্রে ছিল, মানুষের জীবনকে কীভাবে আরও সুন্দর, পরিশীলিত ও অর্থবহ করা যায়।

বিশ শতকের তৃতীয় দশকে ঢাকাকে কেন্দ্র করে যে মুসলিম সাহিত্য সমাজ ও বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের বিকাশ ঘটেছিল, মোতাহের হোসেন চৌধুরী তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত হন। কাজী আবদুল ওদুদ, আবুল হুসেন, কাজী মোতাহার হোসেন, আবুল ফজল ও আবদুল কাদিরসহ একদল মননশীল মানুষের সঙ্গে তিনি যুক্ত ছিলেন এই মুক্তবুদ্ধির পরিবেশে। তাঁদের উদ্দেশ্য ছিল বাঙালি মুসলমান সমাজে জ্ঞান, যুক্তি, সাহিত্য ও মুক্তচিন্তার চর্চাকে আরও বিস্তৃত করা। ‘শিখা’ পত্রিকাকে ঘিরে গড়ে ওঠা এই বুদ্ধিবৃত্তিক পরিমণ্ডল পরবর্তী সময়ে বাঙালি মুসলিম সমাজের চিন্তার ইতিহাসে বিশেষ গুরুত্ব লাভ করে।

তাঁর চিন্তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোর একটি ছিল সংস্কৃতি। সংস্কৃতিকে তিনি কেবল সাহিত্য, সংগীত, শিল্প কিংবা বাহ্যিক রুচির বিষয় হিসেবে দেখেননি। তাঁর কাছে সংস্কৃতি ছিল মানুষের ভেতরের পরিবর্তনের একটি প্রক্রিয়া, যার সঙ্গে চিন্তা, রুচি, সৌন্দর্যবোধ, মানবিকতা ও জীবনযাপনের উৎকর্ষের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। প্রেম, কল্যাণ ও সৌন্দর্যচেতনাকে তিনি সংস্কৃতিচিন্তার অন্যতম ভিত্তি মনে করতেন।

এই চিন্তার সবচেয়ে শক্তিশালী প্রকাশ পাওয়া যায় তাঁর ‘সংস্কৃতি-কথা’ গ্রন্থে। বইটি তাঁর জীবদ্দশায় প্রকাশিত হয়নি; মৃত্যুর পর বাংলা একাডেমি থেকে এটি প্রকাশিত হয়। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা খুব বেশি নয়। ‘সংস্কৃতি-কথা’র পাশাপাশি ‘সভ্যতা’ ও ‘সুখ’ নামে দুটি অনুবাদ/রূপান্তরধর্মী গ্রন্থও প্রকাশিত হয়। ‘সভ্যতা’ ক্লাইভ বেলের Civilization এবং ‘সুখ’ বার্ট্রান্ড রাসেলের The Conquest of Happiness অবলম্বনে রচিত।

কিন্তু বইয়ের সংখ্যা কম হওয়া তাঁর চিন্তার পরিসরকে ছোট করেনি। বরং তাঁর গদ্যের শক্তি ছিল তার মননশীলতা, স্বচ্ছতা ও জীবনঘনিষ্ঠতায়। তিনি মানুষের সামনে এমন কিছু প্রশ্ন রেখেছেন, যেগুলো কোনো নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আটকে থাকে না। জ্ঞান কি মানুষকে সত্যিই মানবিক করে? সভ্যতা কি শুধু বস্তুগত উন্নতির নাম? সংস্কৃতি কি কেবল বিনোদন? মানুষের জীবনের প্রকৃত সৌন্দর্য কোথায়?

তাঁর ‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধে শিক্ষার এই বৃহত্তর অর্থটি বিশেষভাবে সামনে আসে। তাঁর চিন্তায় শিক্ষা কেবল তথ্য বা জ্ঞান অর্জনের বিষয় নয়, এর সাথে শিক্ষার সঙ্গে মানুষের মনুষ্যত্বের বিকাশের সম্পর্কও রয়েছে। তাঁর চিন্তার অন্যতম দিক হলো, মানুষের জীবসত্তার পাশাপাশি একটি মানবসত্তা রয়েছে, আর সেই মানবসত্তাকে বিকশিত করার কাজেই শিক্ষা ও সংস্কৃতির গভীর ভূমিকা রয়েছে।

তাঁর সাহিত্যচিন্তায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও প্রমথ চৌধুরীর প্রভাব লক্ষ্য করা যায়। তবে তিনি কেবল তাঁদের অনুসরণ না করে, তাঁদের সাহিত্যিক ও মানবতাবাদী উত্তরাধিকারকে নিজের যুক্তিবোধ এবং জীবনদর্শনের সঙ্গে মিলিয়ে একটি স্বতন্ত্র চিন্তার জগৎ নির্মাণ করেছিলেন। তাঁর গদ্যে একদিকে যুক্তির দীপ্তি, অন্যদিকে জীবন ও সৌন্দর্যের প্রতি গভীর আকর্ষণ দেখা যায়।

কর্মজীবনে মোতাহের হোসেন চৌধুরী শিক্ষকতাকে বেছে নিয়েছিলেন। কুমিল্লা ইউসুফ হাইস্কুলে সহকারী শিক্ষক হিসেবে তাঁর পেশাগত জীবন শুরু হয়। পরে কলকাতার ইসলামিয়া কলেজে শিক্ষকতা করেন এবং দেশভাগের পর চট্টগ্রাম কলেজে বাংলা বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। চট্টগ্রাম কলেজে তাঁর সহকর্মী ও বন্ধুদের মধ্যে কথাসাহিত্যিক আবুল ফজলও ছিলেন।

১৯৫৬ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামে, চট্টগ্রাম কলেজে অধ্যাপনাকালেই মোতাহের হোসেন চৌধুরী মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর সময় তাঁর বয়স হয়েছিল মাত্র ৫৩ বছর। তাঁর মৃত্যুর পূর্বে তাঁর কোনো প্রকাশিত বই ছিল না। পরবর্তীকালে তাঁর রচনা সংকলিত ও প্রকাশিত হওয়ার মাধ্যমে বাংলা সাহিত্য তাঁর চিন্তার একটি বৃহত্তর উত্তরাধিকার লাভ করে।

আজ মোতাহের হোসেন চৌধুরীকে স্মরণ করা তাই শুধু একজন সাহিত্যিককে স্মরণ করা নয়; বরং মানুষকে আরও মূল্যবোধসম্পন্ন করে তোলার সেই দীর্ঘ বুদ্ধিবৃত্তিক সাধনাকে স্মরণ করা। তাই ঢাকা ফোরাম অব থ্যট এন্ড সিভিলাইজেশন (DFTC) গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছে বাংলার মুক্তবুদ্ধি, সংস্কৃতিচিন্তা ও মনুষ্যত্বের এক নীরব সাধক মোতাহের হোসেন চৌধুরীকে।

সোনারগাঁও পাঠচক্র | ২৭তম চক্রঢাকা ফোরাম অব থ্যট এন্ড সিভিলাইজেশন (DFTC)-এর উদ্যোগে সোনারগাঁও পাঠচক্রের ২৭তম চক্র অনুষ্ঠি...
17/09/2026

সোনারগাঁও পাঠচক্র | ২৭তম চক্র

ঢাকা ফোরাম অব থ্যট এন্ড সিভিলাইজেশন (DFTC)-এর উদ্যোগে সোনারগাঁও পাঠচক্রের ২৭তম চক্র অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মসনদ-এ-আলা ঈশা খাঁ’র ৪২৭তম মৃত্যুবার্ষিকী স্মরণে তাঁর সমাধির সামনে অনুষ্ঠিত হয় বিশেষ এই পাঠচক্র। ডিএফটিসির উত্তরা জোনের কো-অর্ডিনেটর হাসিবুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই চক্রের আলোচক ছিলেন ফোরামের প্রেসিডেন্ট জনাব শফিকুল ইসলাম। তিনি পূর্বনির্ধারিত আলোচ্য বিষয় “ঈশা খাঁ ও ভাটি বাংলা: সমাজ ও সভ্যতার ঐতিহাসিক পর্যালোচনা”-এর উপর আলোচনা করেন।

আলোচনায় ভাটি বাংলার সমাজ ও সভ্যতার বিকাশ, নদী ও ভূপ্রকৃতির প্রভাব, অর্থনীতি, জনপদ ও নৌ-বাণিজ্যের সঙ্গে রাজনৈতিক শক্তির সম্পর্ক এবং ঈশা খাঁর সময়ের সামাজিক-সভ্যতাগত বাস্তবতা নিয়ে আলোচনা করা হয়।

ঈশা খাঁকে স্মরণ কেবল ইতিহাসের অতীত মনে করা নয়, এর সাথে উপলব্ধি হয় একটি জনগোষ্ঠীর রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সামাজিক বিন্যাস, অর্থনৈতিক বাস্তবতা, সাংস্কৃতিক বিকাশ এবং সভ্যতাগত অভিযাত্রার সম্মিলিত স্মৃতির সাথে পরিচয় হওয়া। কারণ যে জাতি তার ইতিহাস জানে না, সে তার বর্তমানের ভিত্তি এবং ভবিষ্যতের সম্ভাবনাকেও যথাযথভাবে উপলব্ধি করতে পারে না।

তাই ইতিহাসকে কেবল অতীতের ঘটনাপঞ্জি হিসেবে নয়, বরং বর্তমানকে বোঝা এবং ভবিষ্যৎ নির্মাণের পথ অনুসন্ধানের একটি মাধ্যম হিসেবে পাঠ করাই আমাদের এই আয়োজনের উদ্দেশ্য।

সবশেষে তাঁর কবর জেয়ারত এবং রূহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাতের মধ্য দিয়ে আয়োজন সমাপ্ত হয়।

ইতিহাসের পাতায় কিছু মানুষ চিরকাল ভাস্বর হয়ে থাকেন। সময় তাঁদের শরীরকে মাটির কাছে ফিরিয়ে দেয়, কিন্তু তাঁদের কর্ম, সংগ্রাম ...
17/09/2026

ইতিহাসের পাতায় কিছু মানুষ চিরকাল ভাস্বর হয়ে থাকেন। সময় তাঁদের শরীরকে মাটির কাছে ফিরিয়ে দেয়, কিন্তু তাঁদের কর্ম, সংগ্রাম ও স্বপ্ন একটি ভূখণ্ডের স্মৃতির সঙ্গে মিশে থাকে। তাঁরা হয়ে ওঠেন একটি জনপদের সুদীর্ঘ আত্মপরিচয়ের অংশ। বাংলার ইতিহাসে মসনদ-ই-আলা ঈশা খাঁ তেমনই এক নাম।

ঈশা খাঁ কে কেবল একজন সামন্তশাসক, বারো ভূঁইয়ার নেতা কিংবা যোদ্ধা হিসেবে দেখলে তাঁর ইতিহাসের একটি অংশ হয়তো জানা হবে; কিন্তু তাঁর সময়ের বাংলা, বিশেষত নদী-নালা, খাল-বিল ও ভাটি অঞ্চলের অসংখ্য জনপদ নিয়ে গড়ে ওঠা সভ্যতাকে সঙ্গে নিয়ে পাঠ করলে ইতিহাসে ঈশা খাঁর ভিন্ন এক তাৎপর্য আমাদের সামনে উন্মোচিত হয়।

ঈশা খাঁ ১৭ এপ্রিল ১৫৩৬ সালে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি এমন এক সময়ে বেড়ে ওঠেন, যখন বাংলার রাজনৈতিক দিগন্ত দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছিল। সুলতানি বাংলার উত্তরাধিকার, আফগান শক্তির উত্থান-পতন এবং মুঘল সালতানাতের বিস্তার—সব মিলিয়ে ষোড়শ শতকের বাংলা ছিল রাজনৈতিক পুনর্বিন্যাসের এক উত্তাল সময়। দিল্লি ও আগ্রাকেন্দ্রিক মোঘল সালতানাত বাংলার ওপর নিজের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে, অন্যদিকে বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলের স্থানীয় শাসক ও ভূঁইয়ারা নিজেদের রাজনৈতিক অস্তিত্ব রক্ষায় প্রতিরোধ গড়ে তুলছেন। নদী, হাওর, বিল ও জলাভূমিতে বিভক্ত পূর্ব বাংলার ভূগোলও এই রাজনৈতিক বাস্তবতাকে অন্য রকম করে তুলেছিল।

ঈশা খাঁর জীবনের শুরুটিও ছিল নানা উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে। তাঁর পিতা সুলায়মান খান ১৫৪৭ সালে নিহত হওয়ার পর ঈশা খাঁ ও তাঁর ভাইকে তুর্কিস্তানের বণিকদের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছিল বলে ঐতিহাসিক বর্ণনায় পাওয়া যায়। পরবর্তীতে চাচা কুতুবউদ্দিন তাঁদের ফিরিয়ে আনেন। ১৫৬৩ সালে বাংলায় ফিরে এসে ঈশা খাঁ কিছু সময় গৌড়ের প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এরপর ১৫৬৪ সালে তিনি সরাইলের জমিদার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন। এখান থেকেই তাঁর রাজনৈতিক উত্থানের নতুন অধ্যায় শুরু হয়।

তবে ঈশা খাঁর উত্থানকে কেবল ব্যক্তিগত ক্ষমতা অর্জনের ইতিহাস হিসেবে দেখলে তাঁর ভূমিকার অনেক গুরুত্বপূর্ণ দিক আড়ালে থেকে যায়। তিনি যে ভূখণ্ডে শক্তি গড়ে তুলেছিলেন, সেটি ছিল বাংলার সবচেয়ে জটিল ও বৈচিত্র্যময় জলভূমির একটি অঞ্চল। মেঘনা, ব্রহ্মপুত্র, শীতলক্ষ্যা, বানার এবং অসংখ্য শাখা নদী, হাওর ও জলাভূমি মিলিয়ে ভাটি অঞ্চল ছিল একইসঙ্গে কঠিন ও সম্ভাবনাময় এক ভূগোল। বছরের দীর্ঘ একটি সময় যেখানে স্থলপথের চেয়ে জলপথই ছিল মানুষের চলাচলের প্রধান মাধ্যম। ঈশা খাঁ এই ভূগোলকে শুধু বসবাসের পরিবেশ হিসেবে দেখেননি; রাজনৈতিক ও সামরিক শক্তির অংশ হিসেবেও ব্যবহার করেছিলেন।

১৫৭৫ সালে বাংলায় মোঘল কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা আরও জোরালো হয়। কিন্তু পূর্ব বাংলা তখনও পুরোপুরি মোঘলদের নিয়ন্ত্রণে আসেনি। বারো ভূঁইয়াদের সঙ্গে মোঘলদের সংঘাতও অব্যাহত ছিল। খানজাহান হোসেন কুলি খান, ওয়াজির খান ও শাহবাজ খানের মতো মোঘল সেনাপতিরা একের পর এক অভিযান পরিচালনা করেন। কিন্তু ভাটি অঞ্চলের প্রতিরোধ সহজে ভেঙে দেওয়া সম্ভব হয়নি।

এই পরিস্থিতিতে ঈশা খাঁ ক্রমেই মোঘলবিরোধী প্রতিরোধের অন্যতম প্রধান নেতা হয়ে উঠতে থাকেন। ১৫৭৫ সালের সংঘাতগুলোতে তাঁর সামরিক দক্ষতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। মোঘল বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে গিয়ে তিনি বুঝেছিলেন, ভাটির যুদ্ধ স্থলভূমির যুদ্ধের মতো নয়। নদী ও জলাভূমির প্রবাহ, বর্ষার পানি, নৌপথের পরিবর্তন এবং স্থানীয় মানুষের ভূগোল-জ্ঞান—সবকিছুকেই যুদ্ধকৌশলের অংশ করে তুলতে হয়।

এই বাস্তবতার সবচেয়ে বড় প্রকাশ ঘটে মোঘলদের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ সংঘর্ষে। সুলতান আকবর বাংলার ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার জন্য একের পর এক সেনাপতি পাঠালেও ভাটি অঞ্চলে ঈশা খাঁর প্রতিরোধ সহজে পরাজিত করা সম্ভব হয়নি। কিশোরগঞ্জের হাওর ও জঙ্গলবাড়িকে কেন্দ্র করে তাঁর বিস্তৃত রাজনৈতিক পরিসর গড়ে ওঠে। যুদ্ধ পরিচালনা ও প্রতিরক্ষার জন্য হাজিগঞ্জ, শেরপুর, দেওয়ানবাগসহ বিভিন্ন স্থানে তিনি সুরক্ষিত দুর্গ নির্মাণ করেন।

ঈশা খাঁর শক্তির মূল জায়গাটি কেবল দুর্গ কিংবা সৈন্যবাহিনীর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, তাঁর আসল শক্তি ছিল মানুষ ও ভূগোলের সঙ্গে তাঁর গভীর সম্পর্ক। বর্ষাকালে যখন বিস্তীর্ণ ভাটি অঞ্চল পানিতে ডুবে যেত, তখন সেই জলরাশিই হয়ে উঠত তাঁর প্রতিরক্ষার প্রাকৃতিক দেয়াল। তাঁর নৌবাহিনী মেঘনা, ব্রহ্মপুত্র, বানার ও শীতলক্ষ্যার জলপথে চলাচল করত। অপরিচিত ভূখণ্ডে মোঘল বাহিনীর জন্য যে নদী ও জলাভূমি ছিল বিপদ, ঈশা খাঁর বাহিনীর কাছে সেটিই ছিল পরিচিত পথ।

১৫৭৫ সালে সুলতান আকবর বাংলা জয় করলেও পূর্ব বাংলা মোঘলদের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসেনি। বারো ভূঁইয়াদের তীব্র প্রতিরোধের কারণে মোঘলদের সাথে যুদ্ধ লেগেই থাকত। এই পরিস্থিতিতে ঈশা খাঁকে পরাজিত ও বারো ভূঁইয়াদের দমন করতে সুলতান আকবর তাঁর প্রধান সেনাপতি মানসিংহকে বাংলায় পাঠান। মানসিংহ ঢাকার কাছাকাছি ডেমরায় অবস্থান নিয়ে অভিযানের প্রস্তুতি নেন।

মোঘলদের সঙ্গে সংঘর্ষের এই ধারাবাহিকতায় ঈশা খাঁ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিজয় অর্জন করেন। ১৫৯৬ সালে মাসুম খান কাবুলির সঙ্গে সম্মিলিত বাহিনী নিয়ে তিনি মোঘল সেনাপতি দুর্জন সিংয়ের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেন। এই যুদ্ধে দুর্জন সিং নিহত হন এবং মোঘল বাহিনী বড় ধরনের পরাজয়ের মুখে পড়ে। একপর্যায়ে মানসিংহের সাথে দ্বৈরথে ঈশা খাঁ অনন্য বীরত্ব প্রদর্শন করেন। লোকগাথা অনুযায়ী, যুদ্ধে মানসিংহ পরাজিত হলেও ঈশা খাঁ তাঁর সাথে দিল্লি যাত্রা করেন। মূলত মানসিংহের স্ত্রী বিশেষভাবে অনুরোধ করেছিলেন যেন ঈশা খাঁ দিল্লি যান, কারণ মানসিংহ পরাজিত হয়ে একা ফিরলে সুলতান আকবর তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দিতে পারতেন। ঈশা খাঁর বীরত্ব ও মহত্ত্বে মুগ্ধ হয়ে সুলতান আকবর তাঁকে ‘মসনদ-ই-আলা’ উপাধিতে ভূষিত করেন এবং ২৬টি পরগনা দান করেন। পরবর্তীতে এই পরগনাগুলোই তাঁর রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের ভিত্তি হয়ে ওঠে।

ঈশা খাঁর জীবনের এই অধ্যায়টি গুরুত্বপূর্ণ শুধু তাঁর রাজনৈতিক মর্যাদার কারণে নয়। কারণ ষোড়শ শতকের বাংলার রাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা হলো, কেন্দ্রীয় সালতানাত এবং আঞ্চলিক শক্তির সম্পর্ক সবসময় কেবল যুদ্ধের মধ্য দিয়ে নির্ধারিত হয়নি। কখনো প্রতিরোধ, কখনো সমঝোতা, আবার কখনো রাজনৈতিক স্বীকৃতির মধ্য দিয়ে সেই সম্পর্ক নতুন রূপ পেয়েছে। ঈশা খাঁ সেই পরিবর্তনশীল রাজনীতির একজন শ্রেষ্ঠ প্রতিনিধি।

তাঁর রাজনৈতিক চিন্তার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল ভাটি অঞ্চলের সমাজ ও জনজীবনের সঙ্গে ক্ষমতার সম্পর্ক। কিশোরগঞ্জের হাওর ও জঙ্গলবাড়িকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা তাঁর শক্ত অবস্থান কেবল কয়েকটি দুর্গ বা পরগনার সমষ্টি ছিল না। নদী ও হাওরনির্ভর মানুষের জীবন, নৌবাণিজ্য, কৃষি এবং স্থানীয় ভূগোলের ওপর দাঁড়িয়েই তাঁর রাজনৈতিক শক্তি বিস্তার লাভ করেছিল। ফলে ঈশা খাঁর ইতিহাস পড়তে গেলে শুধু যুদ্ধের ইতিহাস পড়লেই হয় না; পড়তে হয় সেই সমাজের ইতিহাসও, যে সমাজ তাঁকে শক্তি দিয়েছিল।

এই জায়গাতেই ঈশা খাঁকে বাংলার ইতিহাসে নতুনভাবে দেখার প্রয়োজন রয়েছে। তাঁকে কেবল ‘আঞ্চলিক শক্তির উত্থানকারী বীর’ হিসেবে স্মরণ করলে তাঁর ঐতিহাসিক ভূমিকার একটি অংশই সামনে আসে। তাঁর জীবন আমাদের সামনে তুলেধরে একটি বিশেষ ভূখণ্ডের রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতা, যেখানে নদী ছিল যোগাযোগের পথ, হাওর ছিল জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং স্থানীয় ভূগোল ছিল রাজনৈতিক স্বাধীনতার অন্যতম ভিত্তি।

ঈশা খাঁর মৃত্যুও তাঁর জীবনের মতোই বাংলার ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ। ১৫৯৯ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর কাতরাবো থেকে বন্ধু ফজল গাজীর চৌড়া দুর্গের দিকে যাওয়ার পথে কালীগঞ্জের বাখতারপুরে তাঁর মৃত্যু হয়। সেখানেই তাঁকে সমাহিত করা হয়। প্রায় ছয় দশকের জীবনে তিনি যে রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তুলেছিলেন, তাঁর মৃত্যুর পর সেটি তাঁর উত্তরসূরিদের হাতে নতুন রূপ নেয়।

ঈশা খাঁর মৃত্যুর পর তাঁর পুত্র মুসা খান ২৬টি পরগনাসহ ঢাকা ও ময়মনসিংহের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে নিজের রাজনৈতিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেন। মুসা খানও তাঁর পিতার মতো সুরক্ষিত দুর্গ ও সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করেন। তাঁর সদর দপ্তর ছিল সোনারগাঁও পরগনার কাতরাপুরে এবং যাত্রাপুরে ছিল আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষিত ঘাঁটি। অর্থাৎ, ঈশা খাঁর নির্মিত রাজনৈতিক কাঠামো তাঁর মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে শেষ হয়ে যায়নি; বরং তা পরবর্তী প্রজন্মের রাজনৈতিক সংগ্রামের ভিত্তি তৈরি করেছিল।

এই সময় ঢাকার ইতিহাসও নতুন এক পর্যায়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল। ১৬০২ সালে রাজা মানসিংহ তাঁর সদর দপ্তর ঢাকায় নিয়ে আসেন। এর আগে তাঁর সদর দপ্তর ছিল ভাওয়াল গড়ে। ঢাকেশ্বরী মন্দিরের আশপাশে তাঁর অবস্থান এবং সৈন্যদের উর্দু বাজার এলাকায় থাকার কথা ইতিহাসে উল্লেখ পাওয়া যায়। ঢাকা তখনও রাজধানী হয়নি, একজন থানেদারের অধীনে একটি থানা হিসেবেই তার প্রশাসনিক পরিচয় ছিল।

ঈশা খাঁর ইতিহাস তাই শুধু ষোড়শ শতকের একটি সামরিক প্রতিরোধের ইতিহাস নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে ভাটি বাংলার সমাজ, নদী ও জলাভূমিনির্ভর সভ্যতা, স্থানীয় ক্ষমতার কাঠামো, বাণিজ্যপথ, দুর্গনির্মাণ, নৌযুদ্ধ এবং মোঘল সালতানাতের সঙ্গে বাংলার আঞ্চলিক শক্তির সম্পর্ক।

আজকের বাংলাদেশকে বুঝতেও তাই ঈশা খাঁকে নতুন করে পড়ার প্রয়োজন আছে। কারণ একটি জাতির ভবিষ্যৎ নির্মাণের জন্য শুধু তার রাজনৈতিক ইতিহাস জানা যথেষ্ট নয়, এর সাথে জানতে হয় তার সমাজ কীভাবে গড়ে উঠেছে, কোন ভূগোল তার মানুষকে তৈরি করেছে, কোন মূল্যবোধ তাকে শক্তি দিয়েছে এবং কোন ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতা তার রাজনৈতিক চেতনাকে নির্মাণ করেছে।

ঈশা খাঁ সেই অনুসন্ধানের একটি গুরুত্বপূর্ণ দরজা। তাঁর জীবন আমাদের অতীতের দিকে ফিরিয়ে নেয়, কিন্তু কেবল অতীতকে স্মরণ করার জন্য নয়, একইসাথে নিজেদের সমাজ, সভ্যতা ও রাজনৈতিক অস্তিত্বকে নতুন করে বোঝার জন্য।

চারশ বছরেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেছে। মেঘনা-ব্রহ্মপুত্রের জলধারা বদলেছে, হাওরের অনেক পথ বদলে গেছে, জঙ্গলবাড়ির চারপাশে বদলে গেছে জনপদ। কিন্তু সেই ভূখণ্ডের ইতিহাস এখনও আমাদের সামনে একটি প্রশ্ন রেখে যায়— একটি জাতি তার নিজের ভূগোল, সমাজ ও ইতিহাসকে কতটা বুঝে তার ভবিষ্যৎ নির্মাণ করতে পারে? ঈশা খাঁর জীবন সেই প্রশ্নেরই এক দীর্ঘ ঐতিহাসিক প্রতিধ্বনি।

আজ তাঁর ৪২৭তম মৃত্যুবার্ষিকীতে ঢাকা ফোরাম অব থ্যট এন্ড সিভিলাইজেশন (DFTC) ভাটি অঞ্চলের এই বীরকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছে।

সোনারগাঁও পাঠচক্র | ২৭ তম চক্রএকটি জাতির ভবিষ্যৎ নির্মাণের জন্য তার অতীতকে গভীরভাবে অনুধাবন করা প্রয়োজন। কারণ ইতিহাস কেব...
15/09/2026

সোনারগাঁও পাঠচক্র | ২৭ তম চক্র

একটি জাতির ভবিষ্যৎ নির্মাণের জন্য তার অতীতকে গভীরভাবে অনুধাবন করা প্রয়োজন। কারণ ইতিহাস কেবল অতীতের ঘটনাপঞ্জি নয়; একটি জনগোষ্ঠীর রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সামাজিক বিন্যাস, অর্থনৈতিক বাস্তবতা, সাংস্কৃতিক বিকাশ এবং সভ্যতাগত অভিযাত্রার সম্মিলিত স্মৃতি। তাই যে জাতি তার ইতিহাসকে জানে না, সে তার বর্তমানের ভিত্তি এবং ভবিষ্যতের সম্ভাবনাকেও যথাযথভাবে উপলব্ধি করতে পারে না।

আমরা যদি বিশ্বসভ্যতায় অবদান রাখার মতো একটি আত্মসচেতন ও শক্তিশালী জাতি হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে চাই, তবে আমাদের নিজস্ব ভূখণ্ডের ইতিহাস, সমাজ ও সভ্যতার বিকাশকে নতুন করে পাঠ করা জরুরি। বিশেষত, যেসব ঐতিহাসিক পর্ব ও ব্যক্তিত্ব আমাদের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন, তাঁদেরকে প্রচলিত বর্ণনার বাইরে গিয়ে গবেষণা ও বিশ্লেষণের আলোকে পুনর্পাঠ করা প্রয়োজন।

এই বোধ থেকেই ঢাকা ফোরাম অব থ্যট এন্ড সিভিলাইজেশন (DFTC) মসনদ-এ-আলা ঈশা খাঁ’র ৪২৭তম মৃত্যুবার্ষিকী স্মরণে আয়োজন করছে একটি বিশেষ আলোচনা সভা।

বাংলার ইতিহাসে মসনদ-এ-আলা ঈশা খাঁ একটি গুরুত্বপূর্ণ ও বহুমাত্রিক ঐতিহাসিক চরিত্র। তাঁকে কেবল একজন সামরিক নেতা কিংবা রাজনৈতিক প্রতিরোধের প্রতীক হিসেবে দেখলে তাঁর সময় ও সমাজের পূর্ণাঙ্গ চিত্রটি অনুধাবন করা সম্ভব নয়। ঈশা খাঁর সময়ের ভাটি অঞ্চল ছিল নদীভিত্তিক ভূপ্রকৃতি, জনপদ, কৃষি, নৌ-বাণিজ্য, স্থানীয় ক্ষমতাকাঠামো ও সাংস্কৃতিক বিন্যাসের এক স্বতন্ত্র ঐতিহাসিক পরিসর।

তাই আমরা এই পাঠচক্রে ব্যক্তির জীবনীর পাশাপাশি অনুসন্ধান করতে চাই—ভাটি অঞ্চলের সমাজ; সমাজ ও সভ্যতার ওপর নদী ও ভূপ্রকৃতির প্রভাব; অর্থনীতি, জনপদ ও বাণিজ্যের সঙ্গে রাজনৈতিক শক্তির সম্পর্ক; এবং ঈশা খাঁর নেতৃত্ব ও সময়ের সঙ্গে ভাটি অঞ্চলের সামাজিক-সভ্যতাগত বিকাশের সম্পর্ক।

এবারের আলোচনার বিষয় : “ঈশা খাঁ ও ভাটি বাংলা: সমাজ ও সভ্যতার ঐতিহাসিক পর্যালোচনা”
আলোচক : শফিকুল ইসলাম
(প্রেসিডেন্ট, ঢাকা ফোরাম অব থ্যট এন্ড সিভিলাইজেশন)

তারিখ : ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সময় : বিকেল ৪.০০ টা
স্থান : ঈসা খাঁ’র সমাধি, কালীগঞ্জ, গাজীপুর (কেউ না চিনলে/আমাদের সাথে যেতে চাইলে পেইজের ইনবক্সে মেসেজ করুন।)

ইতিহাসের পুনর্পাঠ, সভ্যতার অন্বেষণ ও ভবিষ্যতের চিন্তা থেকেই আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রায়াস।

Address

Dhaka

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Dhaka Forum of Thought and Civilization posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share