Dhaka Forum of Thought and Civilization

Dhaka Forum of Thought and Civilization || বসবাসযোগ্য ঢাকা বিনির্মাণের প্রত্যয়ে ||

🌙 ঈদে মিলাদুন্নবী ﷺ সন্ধ্যা || ১৪৪৮ হিজরীঈদে মিলাদুন্নবী ﷺ আমাদের সংস্কৃতির অন্যতম অনুষঙ্গ। হিজরী রবিউল আউয়াল মাসের ১২ ত...
21/08/2026

🌙 ঈদে মিলাদুন্নবী ﷺ সন্ধ্যা || ১৪৪৮ হিজরী

ঈদে মিলাদুন্নবী ﷺ আমাদের সংস্কৃতির অন্যতম অনুষঙ্গ। হিজরী রবিউল আউয়াল মাসের ১২ তারিখে মানবতার মুক্তির দূত হজরত মুহাম্মদ (স.)-এর আগমনকে স্মরণ করে মুসলিম উম্মাহর মাঝে গড়ে উঠেছে এক অভিন্ন সাংস্কৃতিক ধারা, যা ঈদে মিলাদুন্নবী ﷺ নামে পরিচিত।

সমগ্র মানবতার নিকট অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ এই দিনকে কেন্দ্র করে হজরত পয়গম্বর ﷺ-এর জীবন, শিক্ষা ও আদর্শের আলোকে আখলাক, আদালত ও মারহামাতের ভিত্তিতে একটি ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক সভ্যতা বিনির্মাণের প্রত্যয়ে ঢাকা ফোরাম অব থ্যট এন্ড সিভিলাইজেশন (DFTC) আয়োজন করতে যাচ্ছে—

‘ঈদে মিলাদুন্নবী ﷺ সন্ধ্যা—১৪৪৮ হিজরী’

📅 ২৫ আগস্ট, ২০২৬ (মঙ্গলবার)
🕢 সন্ধ্যা ৭:৩০ ঘটিকা
📍 উত্তরা ০৬ নং সেক্টর, ১১ নং রোড, ১৩ নং বাসা
(ইসলামী চিন্তা ও গবেষণা ইন্সটিটিউট অফিস)

আয়োজনে থাকছে—
• হামদ
• কাওয়ালী
• কবিতা পাঠ
• আলোচনা
• নাতে রাসুল (সা.)
• দুরুদ ও সালাম
• তবারক বিতরণ

ডেলিগেট ফি: ২৯০ টাকা
বিকাশ, নগদ, রকেট: 01703-068108 (Send Money)

📝 অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে কমেন্টে দেওয়া গুগল ফর্ম পূরণ করুন।

সেমিনার স্থগিত সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি !আজ, ১৯ আগস্ট ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিতব্য “আখলাক, আদলত ও মারহামাতের পয়গাম্বর হিসেবে মুহা...
19/08/2026

সেমিনার স্থগিত সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি !

আজ, ১৯ আগস্ট ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিতব্য “আখলাক, আদলত ও মারহামাতের পয়গাম্বর হিসেবে মুহাম্মাদ (সা.)” শীর্ষক সেমিনারটি অনিবার্য কারণবশত স্থগিত করা হয়েছে।

সেমিনারটির পরবর্তী তারিখ, সময় ও স্থান নির্ধারণপূর্বক যথাসময়ে সকলকে অবহিত করা হবে।

সাময়িক এই অসুবিধার জন্য সকলের নিকট আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত ও ক্ষমাপ্রার্থী। আপনাদের সহযোগিতা ও আন্তরিকতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

মিলাদুন্নবী ﷺ ১৪৪৮ হিজরী উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত“আখলাক, আদালত ও মারহামাতের পয়গাম্বর হিসেবে মুহাম্মাদ (সা.)” শীর্ষক সেমিনা...
18/08/2026

মিলাদুন্নবী ﷺ ১৪৪৮ হিজরী উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত
“আখলাক, আদালত ও মারহামাতের পয়গাম্বর হিসেবে মুহাম্মাদ (সা.)” শীর্ষক সেমিনারে আলোচনা রাখবেন-

হাসান আল ফিরদাউস
(সীরাত গবেষক, লেখক ও সমাজচিন্তক)

আসুন, আমরা হজরত পয়গম্বর ﷺ-কে একজন অনুকরণীয় আদর্শ হিসেবে, জীবন গঠনের মানদণ্ড হিসেবে জানার ও অনুসরণ করার উদ্দেশ্যে একত্রিত হই।

বাংলার মুসলিম সমাজে আধুনিক জ্ঞানচর্চা, সাংবাদিকতা, সাহিত্য ও আত্মপরিচয়ের বিকাশে মাওলানা মোহাম্মদ আকরম খাঁ এক বহুমাত্রিকত...
18/08/2026

বাংলার মুসলিম সমাজে আধুনিক জ্ঞানচর্চা, সাংবাদিকতা, সাহিত্য ও আত্মপরিচয়ের বিকাশে মাওলানা মোহাম্মদ আকরম খাঁ এক বহুমাত্রিকতার নাম। সাংবাদিক, সম্পাদক, সাহিত্যিক, আলেম ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে তিনি তাঁর দীর্ঘ শতবর্ষী জীবনের প্রায় প্রতিটি অধ্যায়কে সম্পৃক্ত করেছিলেন একটি বৃহত্তর সামাজিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক জাগরণের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে। উপমহাদেশের মুসলমান সমাজ যখন শিক্ষা, আত্মবিশ্বাস ও রাজনৈতিক চেতনার নানা সংকটে নিমজ্জিত, তখন আকরম খাঁ তাঁর কলমকে পরিণত করেছিলেন জাগরণের হাতিয়ারে। সংবাদপত্রকে তিনি সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহারের পাশাপাশি জাতির চিন্তা ও আত্মপরিচয় নির্মাণের একটি শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান হিসেবে ব্যবহার করেছেন। বাংলা সাংবাদিকতার ইতিহাসে তাঁর উত্তরাধিকার তাই কেবল একটি সংবাদপত্র প্রতিষ্ঠার ইতিহাস নয়, বরং একটি সমাজের আত্মসচেতন হয়ে ওঠার ইতিহাস।

মাওলানা আকরম খাঁ ১৮৬৮ সালের ৭ জুন, পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার হাকিমপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগ তাঁর জীবনে বিস্তৃত ছিল না। কিন্তু সীমিত প্রাতিষ্ঠানিকতার গণ্ডি তাঁর জ্ঞানানুসন্ধিৎসাকে কখনো আবদ্ধ করতে পারেনি। আরবি, বাংলা, উর্দু, ফারসি ও সংস্কৃত ভাষায় তাঁর গভীর অনুশীলন এবং ইসলাম, ভারতীয় মুসলমানদের ইতিহাস ও সংস্কৃতি সম্পর্কে ব্যাপক জ্ঞান তাঁকে স্বশিক্ষিত মনীষীর এক বিরল প্রতিভায় পরিণত করে। জ্ঞানের জন্য তাঁর এই নিরন্তর অনুসন্ধান পরবর্তী জীবনে সাংবাদিকতা, সাহিত্য, ইতিহাস ও ধর্মতত্ত্বের বিচিত্র ক্ষেত্রে সৃষ্টিশীলতার ভিত্তি নির্মাণ করে।

সাংবাদিকতার মধ্য দিয়ে অল্প বয়সেই তাঁর কর্মজীবনের সূচনা হয়। আহলে হাদিস ও মোহাম্মদী আখবারে কাজের পর তিনি ‘মোহাম্মদী’ ও ‘আল-এসলাম’-এর সম্পাদনার সঙ্গে যুক্ত হন। পরবর্তীতে ‘জামানা’ ও ‘সেবক’ প্রকাশের মাধ্যমে তিনি সংবাদপত্রকে আরও সক্রিয় সামাজিক ও রাজনৈতিক ভূমিকার দিকে নিয়ে যান। ‘সেবক’-এর মাধ্যমে অসহযোগ ও স্বদেশী আন্দোলনের পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় পত্রিকাটি নিষিদ্ধ হয় এবং সরকারবিরোধী সম্পাদকীয় লেখার কারণে তাঁকে গ্রেপ্তারও হতে হয়। সাংবাদিকতার প্রতি তাঁর এই দায়বদ্ধতা প্রমাণ করে, তাঁর কাছে কলম ছিল বিশ্বাস ও সংগ্রামের প্রতীক।

১৯৩৬ সালের অক্টোবরে তাঁর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় দৈনিক ‘আজাদ’। তৎকালীন বাংলা ভাষার সংবাদপত্রের জগতে এটি ছিল গুরুত্বপূর্ণ একটি ঘটনা। ‘আজাদ’ দ্রুত মুসলিম বাংলার রাজনৈতিক ও সামাজিক চেতনা নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মুসলমান সমাজের অধিকার, শিক্ষা, রাজনৈতিক আত্মপরিচয় এবং সমকালীন নানা প্রশ্নে পত্রিকাটি একটি শক্তিশালী জনমত গঠনের ক্ষেত্রও তৈরি করে। বাংলার সাংবাদিকতার ইতিহাসে ‘আজাদ’-এর প্রতিষ্ঠা তাই কেবল সংবাদপত্র প্রকাশের ঘটনা নয়; এটি ছিল একটি আত্মসচেতন সমাজের কণ্ঠস্বরকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার প্রয়াস। আকরম খাঁর এই সাংবাদিক উত্তরাধিকার তাঁকে মুসলিম বাংলার সাংবাদিকতার অন্যতম পথিকৃৎ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

সাংবাদিকতার পাশাপাশি তাঁর রাজনৈতিক জীবনও ছিল বহুমাত্রিক। তাঁর রাজনৈতিক চিন্তার কেন্দ্রে ছিল বাঙালি মুসলমানদের স্বার্থ ও অধিকার রক্ষার জন্য আপোশহীন সংগ্রাম । ১৯০৬ সালে ঢাকায় মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার সময় তিনি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন এবং সংগঠনটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব হিসেবে ভূমিকা রাখেন। আবার ১৯১৮ থেকে ১৯২৪ সাল পর্যন্ত খেলাফত ও অসহযোগ আন্দোলনের সঙ্গেও সম্পৃক্ত ছিলেন। ১৯২০ সালে ঢাকার আহসান মঞ্জিলে অনুষ্ঠিত খেলাফত সম্মেলনে তিনি খেলাফত কমিটির সেক্রেটারি নির্বাচিত হন এবং তৎকালীন উসমানীয় খেলাফতের সমর্থনে অর্থসংগ্রহ ও জনসচেতনতা সৃষ্টিতে কাজ করেন। তাঁর রাজনৈতিক জীবনের পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, তিনি সময়ের রাজনৈতিক বাস্তবতা ও মুসলিম সমাজের স্বার্থকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করতেন।

তাঁর রাজনৈতিক চিন্তার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতির প্রতি অগাধ বিশ্বাস। ১৯২২ সালে চিত্তরঞ্জন দাশের স্বরাজ্য পার্টি এবং ১৯২৩ সালের বেঙ্গল প্যাক্টের প্রতি তাঁর সমর্থন ছিল সেই বিশ্বাসেরই বহিঃপ্রকাশ। পরবর্তীতে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ও রাজনৈতিক বাস্তবতার পরিবর্তনের ফলে তিনি কংগ্রেস ও স্বরাজ্য পার্টির প্রতি আস্থা হারান এবং ধীরে ধীরে মুসলিম রাজনীতির দিকে অধিকতর মনোযোগী হন। এই পরিবর্তনশীল রাজনৈতিক যাত্রা তাঁকে তাঁর সময়ের জটিল ভারতীয় রাজনীতির একজন প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণকারী ও পর্যবেক্ষকে পরিণত করেছিল।

তবে মাওলানা আকরম খাঁকে কেবল সাংবাদিক বা রাজনীতিক হিসেবে দেখলে তাঁর প্রকৃত বুদ্ধিবৃত্তিক ব্যাপ্তি অনুধাবন করা সম্ভব নয়। তাঁর সাহিত্যকর্মের পরিসর ছিল বিস্তৃত এবং তাঁর লেখার প্রধান লক্ষ্য ছিল মুসলমান সমাজকে নিজের ধর্ম, ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সামাজিক বাস্তবতা সম্পর্কে সচেতন করে তোলা। ‘সমস্যা ও সমাধান’, ‘মোস্তফা-চরিত’, ‘আমপারার বঙ্গানুবাদ’, ‘মোসলেম বঙ্গের সামাজিক ইতিহাস’, ‘তাফসীরুল কোরআন’, ‘মুক্তি ও ইসলাম’, ‘বাইবেলের নির্দেশ ও প্রচলিত খ্রিষ্টান ধর্ম’সহ তাঁর বহু গ্রন্থ বাংলা ভাষায় সমাজচিন্তার একটি স্বতন্ত্র সাহিত্যভাণ্ডার নির্মাণ করে।

তাঁর ‘মোস্তফা-চরিত’ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। হজরত মুহাম্মদ ﷺ-এর জীবন ও আদর্শকে বাংলাভাষী পাঠকের সামনে উপস্থাপনের ক্ষেত্রে গ্রন্থটি গুরুত্বপূর্ণ প্রয়াস। বিস্তৃত কলেবরের এই গ্রন্থে তিনি নবীজির জীবনকে ইতিহাস, যুক্তি ও ভক্তির সমন্বয়ে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। প্রায় নয়শ পৃষ্ঠার এই গ্রন্থ আজও তাঁর সাহিত্যিক ও গবেষণামূলক শ্রমের ব্যাপ্তির সাক্ষ্য বহন করে।

একইভাবে ‘মোসলেম বঙ্গের সামাজিক ইতিহাস’ ছিল তাঁর ইতিহাস-অনুসন্ধানী মননের গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশ। এই গ্রন্থে তিনি বাংলার মুসলমান সমাজের সামাজিক অবস্থা, ঐতিহাসিক বিকাশ, অধঃপতনের কারণ এবং বিভিন্ন ধর্মীয়-সাংস্কৃতিক প্রভাব বিশ্লেষণ করেছেন। ইতিহাসকে তিনি নিছক অতীতের বিবরণ হিসেবে না দেখে, এর সাথে অতীতের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে একটি সমাজের বর্তমানকে বোঝা এবং ভবিষ্যতের পথ নির্ণয়ের চেষ্টা করেছেন। তাঁর ইতিহাসচর্চার এই বৈশিষ্ট্য তাঁকে নিছক তথ্যসংগ্রাহক না করে একজন সমাজচিন্তক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।

কোরআন ও ইসলামী জ্ঞানচর্চার ক্ষেত্রেও তাঁর অবদান ছিল বিস্তৃত। ‘তাফসীরুল কোরআন’-এর পাঁচ খণ্ড এবং কোরআনের বিভিন্ন অংশের বাংলা অনুবাদের মাধ্যমে তিনি ধর্মীয় জ্ঞানকে বাংলাভাষী সাধারণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করেন। তাঁর লেখায় ইসলাম কেবল ব্যক্তিগত আচার-অনুষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে বরং মূল্যবোধ, সমাজ, ইতিহাস ও চিন্তাজগতকে উপলব্ধির একটি বিস্তৃত দৃষ্টিভঙ্গি হিসেবে প্রতিফলিত হয়েছে।

তিনি এমন এক সময়ে জন্মেছিলেন, যখন ঔপনিবেশিক শোষণ, শিক্ষাগত পশ্চাৎপদতা, রাজনৈতিক অধিকারহীনতা এবং সামাজিক পরিবর্তনের অভিঘাতে বাংলার মুসলমান সমাজ এক নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি হচ্ছিল। তিনি এই সংকটকে মোকাবিলা করতে সংবাদপত্র, সাহিত্য, রাজনীতি ও ধর্মীয় জ্ঞানচর্চার মাধ্যমে পরিবর্তন করার চেষ্টা করেছেন। তাঁর কলম তাই কখনো ইতিহাস, কখনো ধর্ম, কখনো রাজনীতি, কখনো সমাজ নিয়ে বিরতিহীনভাবে লিখে গেছে। তিনি সমগ্র জীবনব্যাপী বাঙালি জনগোষ্ঠী কীভাবে নিজের আত্মপরিচয়, মর্যাদা ও ভবিষ্যৎ নির্মাণ করবে?-এই প্রশ্নের সমাধান করতে সংগ্রাম করেছেন।

এই কারণেই মাওলানা আকরম খাঁর জীবন আজও আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর জীবন আমাদের শিক্ষা দেয়, কলম যখন জ্ঞান, সত্য ও দায়িত্ববোধের সঙ্গে যুক্ত হয়, তখন তা একজন ব্যক্তির কণ্ঠস্বরকে অতিক্রম করে একটি সমাজের বিবেকের ভাষায় পরিণত হয়।

১৯৬৮ সালের ১৮ আগস্ট মাওলানা মোহাম্মদ আকরম খাঁ ইন্তেকাল করেন। এক শতাব্দীর বিস্তৃত জীবন যেন ঔপনিবেশিক ভারত থেকে বিভক্ত বাংলা এবং পরবর্তী পূর্ব পাকিস্তান পর্যন্ত এক দীর্ঘ ইতিহাসের জীবন্ত সাক্ষ্য। সাংবাদিকতা ও মুসলিম সমাজের জাগরণে তাঁর অসামান্য অবদানের জন্য ১৯৮১ সালে তাঁকে মরণোত্তর একুশে পদকে সম্মানিত করা হয়।

ঢাকা ফোরাম অব থ্যট এন্ড সিভিলাইজেশন (DFTC) মাওলানা মোহাম্মদ আকরম খাঁর ৫৮তম মৃত্যুবার্ষিকীতে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছে এই মনীষীকে। যিনি তাঁর শতবর্ষী জীবনের দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে বাংলা ভাষা, সাংবাদিকতা, সাহিত্য, ইতিহাস ও ইসলামী জ্ঞানচর্চায় রেখে গেছেন এক বিস্তৃত ও বহুমাত্রিক উত্তরাধিকার। ইতিহাসের পাতা তাঁকে একজন সাংবাদিক বা সম্পাদক হিসেবে স্মরণ করতে পারে। কিন্তু একটি জাতির জাগরণের ইতিহাস তাঁকে স্মরণ করবে, পতনোন্মুখ সমাজকে আত্মসচেতন করে তোলার অন্যতম অগ্রনায়ক হিসেবে।

মহানবী হযরত মুহাম্মদ ﷺ-এর আগমন মানব ইতিহাসে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তনের সূচনা করে। অজ্ঞতা, বৈষম্য, সহিংসতা, জুলুম ও অবিচারে ন...
17/08/2026

মহানবী হযরত মুহাম্মদ ﷺ-এর আগমন মানব ইতিহাসে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তনের সূচনা করে। অজ্ঞতা, বৈষম্য, সহিংসতা, জুলুম ও অবিচারে নিমজ্জিত সমাজে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ন্যায়, মানবমর্যাদা, জ্ঞান, সহনশীলতা, সামাজিক সম্প্রীতি এবং মূল্যবোধের এক অনন্য আদর্শ। তাঁর শিক্ষা ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র ও সভ্যতা নির্মাণের জন্য এক চিরন্তন দিকনির্দেশনা।

আজকের বিশ্বে নৈতিক অবক্ষয়, সামাজিক বিভাজন, অসহিষ্ণুতা, যুদ্ধ, পরিবেশগত সংকট এবং মানবিক মূল্যবোধের অবনতির প্রেক্ষাপটে মহানবী ﷺ-এর জীবন ও আদর্শকে অনুধাবন করার মধ্য দিয়েই কেবল এই সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের কাছে হযরত মুহাম্মদ ﷺ-এর জীবনীকে মারহামাতভিত্তিক সমাজ গঠন এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের অনুকরণীয় উপমা হিসেবে উপস্থাপন করা প্রয়োজন।

মুহাম্মাদ ﷺ-এর আখলাক তাঁর জীবনের সবচেয়ে উজ্জ্বল বৈশিষ্ট্যগুলোর একটি। কীভাবে একজন ভালো মানুষ হয়ে উঠতে হয়, কীভাবে অন্যের অধিকারকে সম্মান করতে হয় এবং কীভাবে ক্ষমতা ও সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও বিনয়ী ও দয়ালুর ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়া যায়, তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে মুহাম্মাদ ﷺ হলেন অনুসরণীয় ও অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব।

কোনো ব্যক্তি, গোত্র কিংবা ক্ষমতার প্রতি পক্ষপাতদুষ্ট না হয়ে সমাজ/রাষ্ট্রে আদালত প্রতিষ্ঠা, সৃষ্টিজগতের প্রতি মারহামাতের দৃষ্টি এবং এতিম, অসহায়, দরিদ্র, প্রতিবেশী, নারী, শিশু—সমাজের প্রতিটি প্রান্তিক মানুষের প্রতি তাঁর যে দায়িত্ব ও মমত্ববোধ, তা আমাদের জীবনে বাস্তবায়ন করা উচিত।

সর্বোপরি, একজন অনুকরণীয় আদর্শ হিসেবে, জীবন গঠনের মানদণ্ড হিসেবে হযরত পয়গম্বর ﷺ-কে জানার ও অনুসরণ করার উদ্দেশ্যে মিলাদুন্নবী ﷺ উপলক্ষে ঢাকা ফোরাম অব থ্যট এন্ড সিভিলাইজেশন (DFTC) আয়োজন করতে যাচ্ছে হযরত মুহাম্মাদ ﷺ-এর জীবন ও আদর্শের ওপর বিশেষ সেমিনার। তাঁর আখলাক, আদালত ও মারহামাতের আলোকে ব্যক্তি, সমাজ ও সমকালকে নতুন করে দেখার প্রয়াসই হবে এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।

সেমিনার শিরোনাম— ‘আখলাক, আদালত ও মারহামাতের পয়গাম্বর হিসেবে মুহাম্মাদ (সা.)’

📅 তারিখ: ১৯ আগস্ট, ২০২৬
📍 স্থান: ৮০৩ নং কক্ষ, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র, বাংলামোটর, ঢাকা-১০০০
🕰️ সময়: বিকেল ৪.০০ টা

(সবার জন্য উন্মুক্ত)

16/08/2026

ঐতিহাসিক মসজিদ সফর ও জুমার আলাপ-০১ | তারা মসজিদ

পুরান ঢাকার ব্যস্ত অলিগলির আড়ালে দাঁড়িয়ে থাকা তারা মসজিদ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক মসজিদ সফর ও জুমার আলাপের প্রথম পর্বের আকর্ষণীয় মুহুর্তগুলো..।

নিজের শিকড়ের কাছে ফিরে যাওয়ার এ পথচলা অব্যাহত থাকুক।

ঐতিহাসিক মসজিদ সফর ও জুমার আলাপ-০১ | তারা মসজিদঐতিহ্যের সান্নিধ্যে সমাপ্ত হলো ঐতিহাসিক মসজিদ সফর ও জুমার আলাপের প্রথম পর...
14/08/2026

ঐতিহাসিক মসজিদ সফর ও জুমার আলাপ-০১ | তারা মসজিদ

ঐতিহ্যের সান্নিধ্যে সমাপ্ত হলো ঐতিহাসিক মসজিদ সফর ও জুমার আলাপের প্রথম পর্ব। পুরান ঢাকার ব্যস্ত অলিগলির আড়ালে দাঁড়িয়ে থাকা ঐতিহাসিক তারা মসজিদ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এ আয়োজন ছিলো ইতিহাস, ঐতিহ্য ও আত্মপরিচয়ের সঙ্গে আমাদের নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেয়ার সূচনা।

ইতিহাসের নীরব সাক্ষী এই মসজিদের স্থাপত্য, অলংকরণ ও শতবর্ষের স্মৃতির সান্নিধ্যে আমরা ফিরে দেখেছি আমাদের নগরসভ্যতার এক অনন্য অধ্যায়। মসজিদের ইতিহাস ও স্থাপত্য সম্পর্কে জানার পাশাপাশি পবিত্র জুমার দিনে একই কাতারে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায়ের মাধ্যমে আমরা অনুভব করেছি ঐতিহ্য ও আধ্যাত্মিকতার এক সুন্দর সমন্বয়।

ঢাকার ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে জানা, সংরক্ষণ ও নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার প্রত্যয়ে ঢাকা ফোরাম অব থ্যট এন্ড সিভিলাইজেশন (DFTC)-এর এই যাত্রার প্রথম পর্বে যারা অংশ নিয়েছেন, সহযোগিতা করেছেন এবং আমাদের সঙ্গে সময়কে স্মরণীয় করে তুলেছেন, তাদের সবার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা।

নিজের শিকড়ের কাছে ফিরে যাওয়ার এ পথচলা অব্যাহত থাকুক।

সোনারগাঁও পাঠচক্র | ২৭ তম চক্রমানুষের সৌন্দর্যবোধ, সৃজনশীলতা এবং নির্মাণশৈলীর মধ্যে একটি সভ্যতার আত্মপরিচয় প্রতিফলিত হয়।...
13/08/2026

সোনারগাঁও পাঠচক্র | ২৭ তম চক্র

মানুষের সৌন্দর্যবোধ, সৃজনশীলতা এবং নির্মাণশৈলীর মধ্যে একটি সভ্যতার আত্মপরিচয় প্রতিফলিত হয়। ইসলামী সভ্যতার শিল্পকলা, স্থাপত্য ও অলংকরণ সেই আত্মপরিচয়ের এক অনন্য প্রকাশ।

শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ইসলামী সভ্যতার বিস্তৃত ভূখণ্ডে শিল্প ও স্থাপত্য স্থানীয় ঐতিহ্য, প্রযুক্তি, প্রকৃতি ও সংস্কৃতির সঙ্গে মিথস্ক্রিয়ার মধ্য দিয়ে বিকশিত হয়েছে। জ্যামিতিক নকশা, আরাবেস্ক, ক্যালিগ্রাফি, গম্বুজ, খিলান, জালি, আলো-ছায়া ও বাগান পরিকল্পনার মতো নানা উপাদান মিলে সৌন্দর্যবোধ, আধ্যাত্মিকতা ও নন্দনতত্ত্বের এক স্বতন্ত্র ভাষা তৈরি করেছে।

ইসলামী শিল্প ও স্থাপত্যের বৈশিষ্ট্য কীভাবে বিভিন্ন অঞ্চল ও সংস্কৃতির সঙ্গে মিথস্ক্রিয়ার মধ্য দিয়ে বিকশিত হয়েছে? কীভাবে গণিত ও জ্যামিতি নন্দনের ভাষায় পরিণত হয়েছে? কীভাবে ক্যালিগ্রাফি, আরাবেস্ক, আলো-ছায়া ও স্থাপত্যের বিন্যাস একটি স্বতন্ত্র সৌন্দর্যবোধ নির্মাণ করেছে? আর এই দীর্ঘ ঐতিহ্য আজকের শিল্প, স্থাপত্য ও নন্দনচিন্তায় আমাদের জন্য কী বার্তা বহন করে?

এসব প্রশ্নকে সামনে রেখে ঢাকা ফোরাম অব থ্যট এন্ড সিভিলাইজেশন (DFTC)-এর সোনারগাঁও পাঠচক্রের ২৭তম চক্র অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি প্রাঙ্গণে।

আলোচনার বিষয় : “শিল্পকলা, স্থাপত্য ও অলংকরণে ইসলামী সভ্যতা : সৃজনশীলতা, রুচিশীলতা ও স্বাতন্ত্র্যের ঐতিহাসিক বিকাশ”

আলোচক : কাজী সালমা বিনতে সলিম
(লেখক, গবেষক ও সম্পাদক এবং ডিএমডি, ইসলামী চিন্তা ও গবেষণা ইন্সটিটিউট)

তারিখ : ১৫ আগস্ট, ২০২৬
সময় : বিকেল ৩.০০ টা
স্থান : টিএসসি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

ঐতিহ্যকে নতুন করে পাঠ করা, সৌন্দর্যের ভাষাকে অনুধাবন করা এবং ইসলামী সভ্যতার সৃজনশীল উত্তরাধিকার নিয়ে ভাবনার এই আয়োজনে আপনিও অংশ নিন।

ঐতিহাসিক মসজিদ সফর ও জুমার আলাপ-০১ | ঐতিহাসিক তারা মসজিদকিছু স্থাপনা দাঁড়িয়ে থাকে সময়ের সাক্ষী হয়ে। তাদের দেয়ালে জমে থাক...
11/08/2026

ঐতিহাসিক মসজিদ সফর ও জুমার আলাপ-০১ | ঐতিহাসিক তারা মসজিদ

কিছু স্থাপনা দাঁড়িয়ে থাকে সময়ের সাক্ষী হয়ে। তাদের দেয়ালে জমে থাকে বহু প্রজন্মের পদচিহ্ন, তাদের নীরবতায় মিশে থাকে অগণিত মানুষের প্রার্থনা, আর তাদের স্থাপত্যের ভাঁজে ভাঁজে লুকিয়ে থাকে একটি শহরের অতীত। পুরান ঢাকার ব্যস্ত অলিগলির ভেতর দাঁড়িয়ে থাকা তারা মসজিদ তেমনই এক জীবন্ত ইতিহাস। যার পুরোনো ইটের গায়ে নীলাভ অলংকরণ, তারার নকশা আর শান্ত মিহরাব আজও আমাদের পূর্বপুরুষদের শতবর্ষী স্থাপত্যের নিঃশব্দ ঐতিহ্য বহন করে।

পুরান ঢাকার ব্যস্ত অলিগলির আড়ালে দাঁড়িয়ে থাকা এই মসজিদ শুধু ইবাদতের স্থান হিসেবেই বিবেচিত নয়। এটি আমাদের নগরসভ্যতা, ইসলামী স্থাপত্য, সংস্কৃতি ও বহু প্রজন্মের স্মৃতির এক অনন্য সাক্ষ্য।

ইতিহাসের সেই নীরব সাক্ষীর কাছে যেতে, তার স্থাপত্যের ভাষা পড়তে, তার দেয়ালে জমে থাকা সময়কে অনুভব করতে এবং জুমার পবিত্রতায় নিজেদের ঐতিহ্যের সঙ্গে নতুন করে সম্পর্ক স্থাপন করতে আগামী শুক্রবার ঢাকা ফোরাম অব থ্যট এন্ড সিভিলাইজেশন (DFTC)-এর উদ্যোগে তারা মসজিদ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে “ঐতিহাসিক মসজিদ সফর ও জুমার আলাপ”-এর প্রথম পর্ব।

পবিত্র জুমার দিনে শহরের কোলাহল পেরিয়ে আমরা মিলিত হবো একটি প্রাচীন মসজিদের ছায়ায়। সেখানে থাকবে মসজিদের ইতিহাস ও স্থাপত্য নিয়ে জানার সুযোগ, থাকবে পুরান ঢাকার ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার অবকাশ এবং একই কাতারে দাঁড়িয়ে জুমার নামাজ আদায়ের পবিত্র মুহূর্ত।

অনুষ্ঠান সূচি-
১৪ আগস্ট, শুক্রবার
দুপুর ১২.৩০ থেকে ২.৩০ পর্যন্ত
ঐতিহাসিক তারা মসজিদ

ডেলিগেট ফি ২৫০৳
বিকাশ- 01974-306093 (সেন্ডমানি)

বিশেষ দ্রষ্টব্য-
অংশগ্রহণকারী নিজ দায়িত্বে মসজিদে উপস্থিত হবেন এবং নামাজ শেষে আমাদের পরিচালিত ইভেন্টে যুক্ত হবেন। এছাড়া দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা থাকবে।

(রেজিস্টেশন নিশ্চিত করতে কমেন্টে দেওয়া গুগল ফরম পূরণ করুন।)

ইসলামী শিক্ষা-দর্শনের বিকাশ এবং জ্ঞানচর্চাকে নৈতিক ও আধ্যাত্মিক ভিত্তির ওপর পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে অধ্যাপক ড. সৈয়দ আলী আশর...
07/08/2026

ইসলামী শিক্ষা-দর্শনের বিকাশ এবং জ্ঞানচর্চাকে নৈতিক ও আধ্যাত্মিক ভিত্তির ওপর পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে অধ্যাপক ড. সৈয়দ আলী আশরাফ এক অনন্য নাম। শিক্ষাবিদ, দার্শনিক, ইংরেজি সাহিত্যের খ্যাতিমান পণ্ডিত ও চিন্তাবিদ হিসেবে তিনি প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার বিস্তারে অসামান্য অবদান রাখার পাশাপাশি আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থার দর্শন ও উদ্দেশ্য নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করেছেন। জ্ঞানকে ধর্ম, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ থেকে বিচ্ছিন্ন করার প্রবণতার বিপরীতে তিনি এমন এক শিক্ষা-ব্যবস্থার কথা বলেছেন, যা মানুষের বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশের পাশাপাশি তার নৈতিক, আধ্যাত্মিক ও মানবিক উৎকর্ষ নিশ্চিত করবে। এছাড়াও তিনি জ্ঞানের পুনর্জাগরণের জন্য আন্তর্জাতিক অঙ্গণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

১৯২৪ সালের ৩০ জানুয়ারি ঢাকায় এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে তাঁর জন্ম। শৈশব থেকেই জ্ঞানচর্চা ও শিক্ষার প্রতি তাঁর গভীর আগ্রহ গড়ে ওঠে। উচ্চশিক্ষায় তিনি ইংরেজি সাহিত্যকে নিজের প্রধান বিষয় হিসেবে গ্রহণ করেন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে অসাধারণ মেধার পরিচয় দেন। ১৯৪৫ সালে ইংরেজিতে অনার্স পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে প্রথম স্থান অধিকার করেন এবং ১৯৪৬ সালে এম.এ. ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে উচ্চতর শিক্ষার জন্য তিনি কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে গমন করেন এবং সেখান থেকে বি.এ. অনার্স, এম.এ. ও পি.এইচ.ডি. ডিগ্রি লাভ করেন। ইংরেজি সাহিত্য ও পাশ্চাত্য জ্ঞানচর্চার গভীর অনুশীলনের পাশাপাশি ইসলামী দর্শন ও জ্ঞানতত্ত্বের প্রতি গভীর অনুরাগ তাঁর পরবর্তী চিন্তাজগতকে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য প্রদান করেছে।

শিক্ষাজীবন শেষে তাঁর বর্ণাঢ্য শিক্ষকতা ও গবেষণাজীবনের সূচনা হয়। তিনি রাজশাহী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। পরবর্তীতে পাকিস্তানের করাচি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও তিনি জেদ্দার বাদশাহ আবদুল আজিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং নিউ ব্রান্সউইক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিজিটিং প্রফেসর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বিভিন্ন দেশের প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা ও গবেষণার অভিজ্ঞতা তাঁকে একজন খ্যাতিমান সাহিত্যিক, শিক্ষাবিদ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।

অধ্যাপক ড. সৈয়দ আলী আশরাফের চিন্তার অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র ছিল শিক্ষা ও জ্ঞানের ইসলামীকরণ। তিনি মনে করতেন, শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য হলো মানুষের সামগ্রিক সত্তার বিকাশ এবং তাকে আখলাক ও কল্যাণের পথে পরিচালিত করা। তাঁর দৃষ্টিতে আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থায় জ্ঞানকে ধর্মীয় ও মূল্যবোধ থেকে বিচ্ছিন্ন করার ফলে মানুষের বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ ঘটলেও তার নৈতিক ও আধ্যাত্মিক বিকাশ অনেক ক্ষেত্রে উপেক্ষিত হয়েছে। তাই তিনি ইসলামী বিশ্বদৃষ্টির আলোকে শিক্ষা ও জ্ঞানচর্চার একটি সমন্বিত কাঠামো নির্মাণের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।

বিশ্বপরিমণ্ডলে ইসলামী শিক্ষা ব্যবস্থার বিকাশে তাঁর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদানগুলোর একটি ছিল ১৯৭৭ সালে মক্কায় অনুষ্ঠিত ইসলামী শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর প্রথম বিশ্ব সম্মেলনের আয়োজনে নেতৃত্বদান। তিনি এই ঐতিহাসিক সম্মেলনের অর্গানাইজিং সেক্রেটারি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। পরবর্তীতে ইসলামী শিক্ষা নিয়ে অনুষ্ঠিত আরও পাঁচটি বিশ্ব সম্মেলনের সঙ্গেও তিনি প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত ছিলেন। ইসলামাবাদে ১৯৮০, ঢাকায় ১৯৮১, জাকার্তায় ১৯৮২, কায়রোতে ১৯৮৭ এবং দক্ষিণ আফ্রিকায় ১৯৯৭ সালে অনুষ্ঠিত সম্মেলনগুলো ইসলামী শিক্ষা ও জ্ঞানচর্চার একটি বৈশ্বিক বুদ্ধিবৃত্তিক আন্দোলনকে সুসংগঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই ধারাবাহিক উদ্যোগের মাধ্যমে মুসলিম বিশ্বের শিক্ষা-দর্শন ও জ্ঞানতত্ত্ব নিয়ে নতুন করে ভাবনার ক্ষেত্র তৈরি হয়।

আশির দশকের শুরুর দিকে ইসলামী সম্মেলন সংস্থা OIC-এর তত্ত্বাবধানে মক্কায় প্রতিষ্ঠিত World Centre for Islamic Education-এর প্রথম মহাপরিচালক হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করেন। ইসলামী শিক্ষা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গবেষণা, আলোচনা ও নীতিগত চিন্তার বিকাশে এই প্রতিষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। জ্ঞানের ইসলামীকরণ আন্দোলনে ড. ইসমাঈল রাজী আল-ফারুকীর মতো সমকালীন বিশিষ্ট মুসলিম চিন্তাবিদদের সঙ্গে সমান্তরালভাবে তাঁর চিন্তা ও কর্ম এই বুদ্ধিবৃত্তিক আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করে। তাঁদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় মুসলিম বিশ্বের শিক্ষাব্যবস্থাকে ইসলামী বিশ্বদৃষ্টির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার প্রশ্নটি আন্তর্জাতিক একাডেমিক আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পরিণত হয়।

বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা ও জ্ঞানচর্চার ক্ষেত্রেও অধ্যাপক ড. সৈয়দ আলী আশরাফের অবদান বিশেষভাবে স্মরণীয়। তিনি মনে করতেন, শিক্ষা এমন হওয়া উচিত যা মানুষকে দায়িত্বশীল, নৈতিক ও মানবিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলবে। তাঁর এই দর্শনের বাস্তব প্রয়োগের অন্যতম উদ্যোগ ছিল দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা। উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে একটি নৈতিক ও মূল্যবোধভিত্তিক পরিবেশ নির্মাণের প্রত্যয় নিয়ে প্রতিষ্ঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে তাঁর নাম ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাঁর শিক্ষাদর্শন ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ বাংলাদেশের শিক্ষা-চিন্তার পরিসরে একটি স্বতন্ত্র ধারা নির্মাণে ভূমিকা রাখে।

সাহিত্য, শিক্ষা, দর্শন ও ইসলামী চিন্তার সমন্বয়ে তাঁর বুদ্ধিবৃত্তিক পরিসর ছিল বহুমাত্রিক। পাশ্চাত্য জ্ঞান ও সাহিত্য সম্পর্কে গভীর জ্ঞান থাকা সত্ত্বেও তিনি অন্ধ অনুকরণের পরিবর্তে ইসলামী বিশ্বদৃষ্টির আলোকে আধুনিক জ্ঞানকে মূল্যায়ন ও পুনর্বিন্যাসের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। ফলে তাঁর চিন্তায় ছিল জ্ঞানের গভীরতা এবং আখলাক ও আধ্যাত্মিকতার প্রতি দৃঢ় প্রত্যয়।

১৯৯৮ সালের ৭ আগস্ট লন্ডনে অধ্যাপক ড. সৈয়দ আলী আশরাফ ইন্তেকাল করেন। পরবর্তীতে ১০ আগস্ট তাঁকে দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে দাফন করা হয়। ঢাকা ফোরাম অব থ্যট এন্ড সিভিলাইজেশন (DFTC) তাঁর ২৮তম মৃত্যুবার্ষিকীতে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছে এই চিন্তাবিদ ও শিক্ষাবিদকে।

Address

Dhaka

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Dhaka Forum of Thought and Civilization posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share