AMYAS Foundation

AMYAS Foundation Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from AMYAS Foundation, Nonprofit Organization, Dhaka.

“AMYAS Foundation is dedicated to building a better society through social awareness, ethical and moral values, strong family development, and faith-based guidance.”

🌷আপনি কি জানেন? সূরা নূরের ৩১ নং আয়াতে নারীদের জন্য কী কী নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে?📖  সূরা নূর, আয়াত ৩১ (বাংলা অনুবাদ)“...
01/06/2026

🌷আপনি কি জানেন?
সূরা নূরের ৩১ নং আয়াতে নারীদের জন্য কী কী নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে?

📖 সূরা নূর, আয়াত ৩১ (বাংলা অনুবাদ)

“আর মুমিন নারীদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে সংযত রাখে, তাদের লজ্জাস্থানের হেফাজত করে, সাধারণত যা প্রকাশ থাকে তা ছাড়া তাদের সৌন্দর্য প্রদর্শন না করে, এবং তারা যেন তাদের ওড়না দ্বারা বক্ষদেশ আবৃত করে রাখে। তারা যেন তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে তাদের স্বামী, পিতা, শ্বশুর, পুত্র, স্বামীর পুত্র, ভাই, ভাইয়ের পুত্র, বোনের পুত্র, নিজ সম্প্রদায়ের নারী, অধিকারভুক্ত দাসী, যৌনকামনামুক্ত পুরুষ সেবক এবং নারীদের গোপন বিষয় সম্পর্কে অজ্ঞ শিশু ব্যতীত। আর তারা যেন এমনভাবে পদচারণা না করে যাতে তাদের গোপন অলংকার প্রকাশ পেয়ে যায়। হে মুমিনগণ! তোমরা সবাই আল্লাহর দিকে তওবা কর, যাতে তোমরা সফল হতে পার।”
(সূরা নূর: ৩১)

🌷 এই আয়াতে নারীদের জন্য নির্দেশনাসমূহ

১.দৃষ্টি সংযত রাখা।

২. লজ্জাস্থানের হেফাজত করা।

৩. সৌন্দর্য ও সাজসজ্জা প্রকাশ না করা।

৪.ওড়না দিয়ে বক্ষদেশ আবৃত রাখা।

৫. মাহরাম ব্যতীত অন্যদের সামনে সৌন্দর্য প্রকাশ না করা।

৬.এমনভাবে চলাফেরা না করা যাতে গোপন অলংকার প্রকাশ পায়।

৭. শালীনতা ও পবিত্রতা বজায় রাখা।

৮.আল্লাহর দিকে তওবা করা।

আল্লাহ আমাদের সবাইকে তাঁর বিধান মেনে চলার তাওফীক দান করুন। আমিন।
#কুরআন_আমাদের_গাইডলাইন

19/05/2026
জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিন: বছরের সেরা ১০টি দিন ও আমাদের করণীয় রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "জিলহজ মাসের প্রথম দশ দিনের চেয়ে ...
18/05/2026

জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিন: বছরের সেরা ১০টি দিন ও আমাদের করণীয়

রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "জিলহজ মাসের প্রথম দশ দিনের চেয়ে আল্লাহর নিকট প্রিয় এবং মহৎ আর কোনো দিন নেই।"
(সহীহ বুখারী)

রমজানের শেষ ১০ রাত যেমন বরকতময়, জিলহজের প্রথম ১০ দিনও দিনের দিক থেকে বছরের সবচেয়ে সেরা ও মর্যাদাপূর্ণ। অবহেলায় এই মহা মূল্যবান সময়টি যেন হাতছাড়া না হয়ে যায়, সেজন্য আসুন আমরা এই ১০টি আমল করার চেষ্টা করি:

জিলহজের প্রথম ১০ দিনের বিশেষ আমলসমূহ:

১. নখ, চুল ও পশম না কাটা:

যারা কোরবানি করার নিয়ত করেছেন, তারা জিলহজ মাসের চাঁদ দেখার পর থেকে কোরবানি করা পর্যন্ত নিজের নখ, চুল বা গোঁফ-দাড়ি কাটা থেকে বিরত থাকুন। (এটি মুস্তাহাব আমল)।

২. বেশি বেশি জিকির ও তাসবীহ পড়া:

এই দিনগুলোতে আল্লাহর বড়ত্ব ও প্রশংসা বেশি বেশি উচ্চারণ করা সুন্নত। বিশেষ করে:

সুবহানাল্লাহ (Subhanallah)
আলহামদুলিল্লাহ (Alhamdulillah)
লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ (La ilaha illallah)
আল্লাহু আকবার (Allahu Akbar)

৩. তাকবিরে তাশরিক বলা:
৯ই জিলহজ ফজর থেকে ১৩ই জিলহজ আসর পর্যন্ত প্রত্যেক ফরজ সালাতের পর একবার এই তাকবির বলা ওয়াজিব:

"আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, ওয়া লিল্লাহিল হামদ।"

৪. প্রথম ৯ দিন রোজা রাখা:

১ থেকে ৯ই জিলহজ পর্যন্ত সম্ভব হলে সবগুলো রোজা রাখা অনেক সওয়াবের কাজ।
ইউ
৫. আরাফার দিনের রোজা (সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ):

বিশেষ করে ৯ই জিলহজ (আরাফার দিন) একটি রোজা রাখার ফজিলত অপরিসীম। নবীজী (সা.) বলেছেন, এই একটি রোজা বিগত এক বছর এবং আগামী এক বছরের গুনাহ মাফ করে দেয়। (সহীহ মুসলিম)।

৬. বেশি বেশি তাওবা ও ইস্তিগফার করা:

জীবনের ছোট-বড় সব গুনাহের জন্য আল্লাহর কাছে খাঁটি মনে ক্ষমা চাওয়া।

৭. সামর্থ্য থাকলে কোরবানি করা:

১০, ১১ বা ১২ই জিলহজ আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি করা।

৮. ফরজ নামাজ ও নফল ইবাদত বাড়ানো:

পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামায়াতের সাথে পড়ার পাশাপাশি তাহাজ্জুদ, ইশরাক ও চাশতের নামাজ পড়ার চেষ্টা করা।

৯. বেশি বেশি সদকা (দান-সদকা) করা:

এই দিনগুলোতে দান করার সওয়াব অন্য সাধারণ দিনের চেয়ে অনেক বেশি।

১০. গুনাহের কাজ থেকে নিজেকে দূরে রাখা:

চোখ, কান, জিহ্বা ও হাতকে সব ধরনের পাপ কাজ (যেমন: গীবত, মিথ্যা, হিংসা) থেকে হেফাজত করা।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে এই বরকতময় দিনগুলোর পূর্ণ মর্যাদা রক্ষা করার এবং বেশি বেশি নেক আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

পোস্টটি শেয়ার করে অন্যদেরও মনে করিয়ে দিন, সদকায়ে জারিয়ার সওয়াব লাভ করুন!

 #কুরআন_আমাদের_গাইডলাইন || পর্ব: ০২বিষয়: সূরা বাকারা — জীবনের পূর্ণাঙ্গ সংবিধান 📖আসসালামু আলাইকুম। আমাদের ফেসবুক সিরিজের...
16/05/2026

#কুরআন_আমাদের_গাইডলাইন || পর্ব: ০২
বিষয়: সূরা বাকারা — জীবনের পূর্ণাঙ্গ সংবিধান 📖

আসসালামু আলাইকুম। আমাদের ফেসবুক সিরিজের আজকের দ্বিতীয় পর্বে আপনাকে স্বাগতম। প্রথম পর্বে আমরা কুরআনের সূচনা বা সূরা ফাতেহা নিয়ে কথা বলেছিলাম। আজ আমরা প্রবেশ করছি মহাগ্রন্থ কুরআনের সবচেয়ে দীর্ঘ এবং অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সূরা— 'সূরা বাকারা'-তে।

মাদানি জীবনের শুরুতে অবতীর্ণ ২৮৬ আয়াতের এই বিশাল সূরাটি কেবল একটি সূরা নয়, এটি একজন মানুষের ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনের এক পূর্ণাঙ্গ সংবিধান।

আসুন, এই সূরার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ৫টি দিক আজ সংক্ষেপে জেনে নিই:

১. ঈমানের মূল ভিত্তি ও ৩ শ্রেণির মানুষ
সূরার শুরুতেই (১-২০ আয়াত) আল্লাহ তাআলা পুরো মানবজাতিকে তিনটি স্পষ্ট ভাগে ভাগ করেছেন:

মুত্তাকি (বিশ্বাসী): যারা না দেখেই গায়েবের প্রতি বিশ্বাস রাখে।

কাফির (অবিশ্বাসী): যারা সত্য জানার পরও তা অস্বীকার করে।

মুনাফিক (কপটচারী): যারা মুখে এক আর অন্তরে আরেক।

এখানে আমাদের জন্য আত্মোপলব্ধির সুযোগ রয়েছে— আমরা আসলে কোন দলে?

২. বনি ইসরাইলের ইতিহাস ও 'বাকারা' (গাভী) নামকরণের রহস্য

এই সূরায় ইহুদি জাতির (বনি ইসরাইল) হঠকারিতা, অবাধ্যতা এবং আল্লাহর নেয়ামত অস্বীকার করার দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। একটি হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে আল্লাহ তাদের একটি গাভী জবাই করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু তারা সহজ নির্দেশটিকে নানা প্রশ্ন করে জটিল বানিয়ে ফেলেছিল। এখান থেকে আমাদের শিক্ষা: "আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের নির্দেশ পাওয়া মাত্রই কোনো অজুহাত ছাড়া তা মেনে নেওয়া।"

৩. মানবজাতির সৃষ্টি ও শয়তানের চ্যালেঞ্জ
হযরত আদম (আ.)-এর সৃষ্টি, ফেরেশতাদের সিজদা এবং ইবলিসের অহংকারের ঘটনা এই সূরায় বর্ণিত হয়েছে। এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়, শয়তান আমাদের প্রকাশ্য শত্রু এবং অহংকারই ছিল তার পতনের মূল কারণ।
৪. জীবনের নিয়মনীতি ও সামাজিক বিধান

সূরা বাকারাকে ইসলামের 'আইনি কাঠামো' বলা যায়। এতে অত্যন্ত বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়েছে:
অর্থনীতি: সুদের ভয়াবহতা (যা আল্লাহর বিরুদ্ধে যুদ্ধের শামিল) এবং হালাল ব্যবসার গুরুত্ব। ঋণের লেনদেন লিখে রাখার তাগিদ।
পরিবার: বিয়ে, তালাক, মোহরানা, এতিমের অধিকার এবং উত্তরাধিকারী সংক্রান্ত স্পষ্ট নিয়ম।

ইবাদত:
রোজা, হজ এবং কিবলা পরিবর্তনের (বায়তুল মুকাদ্দাস থেকে কাবা শরিফ) ঐতিহাসিক ঘটনা।

৫. দুটি মহিমান্বিত উপহার: আয়াতুল কুরসি ও শেষ দুই আয়াত
আয়াতুল কুরসি (আয়াত ২৫৫): কুরআনের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আয়াত, যা পাঠ করলে শয়তান ও অনিষ্ট থেকে আল্লাহর বিশেষ হেফাজত পাওয়া যায়।

শেষ দুই আয়াত (২৮৫-২৮৬): যা রাতের বেলা পাঠ করলে যেকোনো মুমিনের জন্য (হেফাজত ও ইবাদত হিসেবে) যথেষ্ট। এর শেষ আয়াতেই রয়েছে সেই বিখ্যাত সান্ত্বনা: "আল্লাহ কারো ওপর এমন কোনো কষ্ট চাপিয়ে দেন না, যা তার সাধ্যের বাইরে।"

আজকের পর্বের মূল শিক্ষা (Takeaway):
সূরা বাকারা আমাদের শেখায়, ইসলাম শুধু কিছু আনুষ্ঠানিক ইবাদতের নাম নয়। এটি ব্যবসা, সমাজ, পরিবার এবং মনস্তাত্ত্বিক জীবনের প্রতি পদে পদে আল্লাহকে ভয় করে চলার এক জীবন্ত গাইডলাইন।

পরবর্তী পর্বে আমরা পবিত্র কুরআনের ৩ নম্বর সূরা অর্থাৎ 'সূরা আলে ইমরান' নিয়ে আলোচনা করব ইনশাআল্লাহ।

আজকের পর্বটি আপনার কেমন লাগলো, কমেন্টে জানান এবং টাইমলাইনে শেয়ার করে অন্যদেরও পড়ার সুযোগ করে দিন।

জান্নাতের অন্যতম একটি গুপ্তধন: "লা হাওলা ওয়ালা কুয়াতা ইল্লা বিল্লাহ" দৈনন্দিন জীবনে আমরা অনেক সময় হতাশ হয়ে পড়ি , ইবনুল...
13/05/2026

জান্নাতের অন্যতম একটি গুপ্তধন:

"লা হাওলা ওয়ালা কুয়াতা ইল্লা বিল্লাহ"

দৈনন্দিন জীবনে আমরা অনেক সময় হতাশ হয়ে পড়ি ,
ইবনুল কাইয়্যিম (রহ.)-এর মতে, কঠিন কাজ সহজ করতে এবং বিপদ মোকাবিলা করতে এই দোয়ার প্রভাব বিস্ময়কর।
জান্নাতের চারাগাছ: এটি জান্নাতে নিজের
জন্য গাছ রোপণ করার সমতুল্য। (মুসনাদে
আহমাদ)
অসহায়ত্ব দূর করে: যখনই কোনো কাজ কঠিন মনে হবে, এটি পাঠ করলে আল্লাহর বিশেষ সাহায্য নেমে আসে।

📝 অর্থ: "আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত (গুনাহ থেকে) ফিরে আসার এবং (ইবাদত করার) শক্তি কারো নেই।"

আসুন, প্রতিদিনের ব্যস্ততায় আমরা অন্তত কয়েকবার এই শক্তিশালী কালিমাটি পাঠ করি এবং আল্লাহর ওপর নিজেদের সপে দেই।

#লা_হাওলা_ওয়ালা_কুয়াতা_ইল্লা_বিল্লাহ

শিরোনাম: হারিয়ে যাওয়া একটি সুন্নাত যা আমাদের জীবন বদলে দিতে পারে! আমরা অনেক সময় ছোট ছোট আমলগুলো অবহেলা করি, অথচ এই আমলগু...
10/05/2026

শিরোনাম: হারিয়ে যাওয়া একটি সুন্নাত যা আমাদের জীবন বদলে দিতে পারে!

আমরা অনেক সময় ছোট ছোট আমলগুলো অবহেলা করি, অথচ এই আমলগুলোর মধ্যেই লুকিয়ে থাকে অশেষ শান্তি ও সওয়াব। এমনই একটি অবহেলিত বা ‘হারিয়ে যাওয়া’ সুন্নাত হলো— প্রতি সোমবার রোজা রাখা।

কেন এই দিনটি এতো স্পেশাল?

রাসূল (সা.)-কে যখন সোমবারের রোজা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলো, তিনি দুটি চমৎকার কারণ জানিয়েছিলেন:

১. এই দিনে তিনি পৃথিবীতে এসেছেন।
২. এই পবিত্র দিনেই তাঁর ওপর পবিত্র কুরআন নাজিল শুরু হয়েছে। (সহীহ মুসলিম)

ভাবুন তো, প্রিয় নবীর প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের এর চেয়ে সুন্দর উপায় আর কী হতে পারে? তিনি নিজেই এই দিনে রোজা রেখে আল্লাহর শোকর আদায় করতেন।

"আল্লাহ প্রায় সূরা তে উল্লেখ করেছেন তোমরা অল্পই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর । "

কাজেই সপ্তাহের এ দিনটি বিশেষভাবে—
🌷শুকরিয়া আদায়
🌷 দোয়া কবুল করানো , কেননা একমাত্র দোয়াই পারে ভাগ্যকে পরিবর্তন করতে।
🌷 এবং ক্ষমা প্রাপ্তির মাধ্যমে আল্লাহর প্রিয় বান্দা হওয়ার সুযোগ লুফে নিন ।

আসুন, মৃতপ্রায় এই সুন্নাতটিকে আমরা আমাদের জীবনে আবার জ্যান্ত করি। ইনশাআল্লাহ, আগামী সোমবার থেকেই শুরু হোক আমাদের নতুন পথচলা।

#রাসূলের_সুন্নাত #ইসলাম #রোজা

পোস্টের শিরোনাম: ১১৪ সূরা সিরিজ - পর্ব ০১: সূরা আল-ফাতিহাআলহামদুলিল্লাহ! আজ থেকে শুরু করছি পবিত্র কুরআনের প্রতিটি সূরার ...
04/05/2026

পোস্টের শিরোনাম: ১১৪ সূরা সিরিজ - পর্ব ০১: সূরা আল-ফাতিহা
আলহামদুলিল্লাহ! আজ থেকে শুরু করছি পবিত্র কুরআনের প্রতিটি সূরার সারমর্ম, উল্লেখযোগ্য শিক্ষা ও ফযীলত নিয়ে একটি ধারাবাহিক সিরিজ। প্রথম পর্বে থাকছে ‘উম্মুল কুরআন’ বা কুরআনের জননী— সূরা আল-ফাতিহা।
📖 সূরার পরিচয়:
নাম: আল-ফাতিহা (সূচনা বা ভূমিকা)।
অবতীর্ণ: মাক্কী সূরা (হিজরতের পূর্বে মক্কায় নাযিল হয়েছে)।
আয়াত সংখ্যা: ০৭টি।
নামকরণের কারণ:
‘ফাতিহা’ শব্দের অর্থ উন্মোচনকারী বা শুরু। যেহেতু এই সূরা দিয়ে পবিত্র কুরআন শুরু হয়েছে, তাই একে সূরা আল-ফাতিহা বলা হয়।
📝 সূরার সারমর্ম:
এই সূরাটি মূলত আল্লাহর প্রশংসা এবং তাঁর কাছে সঠিক পথের জন্য একটি দোয়া। এটি বান্দা ও আল্লাহর মধ্যে একটি কথোপকথন। এতে আল্লাহর একত্ববাদ (তাওহীদ), পরকাল এবং কেবল আল্লাহর কাছেই সাহায্য চাওয়ার বিষয়টি স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।
✨ উল্লেখযোগ্য দিক:
এই সূরায় আমরা আল্লাহর কাছে ‘সিরাতাল মুস্তাকীম’ বা সরল পথের প্রার্থনা করি। এটি এমন এক পথ, যাতে চলেছেন নবী-রাসূল ও নেককার বান্দারা। এটি আমাদের অহংকার ত্যাগ করে বিনয়ী হতে শেখায়।
💎 বিশেষ ফযীলত:
১. এই সূরাটি সালাতের অবিচ্ছেদ্য অংশ; এটি ছাড়া নামায কবুল হয় না।
২. একে ‘সূরাতুশ শিফা’ বা রোগমুক্তির সূরা বলা হয়। সহীহ হাদীস অনুযায়ী, এটি পাঠ করে ফুঁ দিলে ইনশাআল্লাহ বিভিন্ন শারীরিক অসুস্থতা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। (বুখারী: ৫০০৭)
৩. আল্লাহ তাআলা এই সূরাটিকে নিজের এবং বান্দার মধ্যে দুই ভাগে ভাগ করে নিয়েছেন।
🌿 শিক্ষা:
প্রতিটি কাজ আল্লাহর প্রশংসা দিয়ে শুরু করা এবং যেকোনো প্রয়োজনে অন্যের উপর ভরসা না করে সরাসরি আল্লাহর সাহায্য চাওয়া।
#কুরআনের_আলো #সূরা_আল_ফাতিহা

23/04/2026

কবরের সেই নীরবতায় যে সূরাটি হবে আপনার পরম বন্ধু!
অনেকেই একটি গভীর প্রশ্ন করেন— "সূরা মুলক-এ তো সরাসরি কবরের কথা উল্লেখ নেই, অথচ এই সূরাটি কেন কবরের আজাব মাফ করে দেয়? এর বিশেষত্ব কোথায়?"
আসুন, আজকের দিনে একটু গভীরে চিন্তা করি। দ্বীন ইসলাম কেবল কিছু নিয়ম বা শব্দের সমষ্টি নয়, এটি একটি জীবনবোধ। সূরা মুলক কেন অনন্য, কেন এটি আল্লাহর কাছে এত প্রিয়, চলুন তা বুঝে নেওয়ার চেষ্টা করি।
১. কেন এতে কবরের কথা নেই, তবুও এটি আজাব মাফ করে?
সূরা মুলক সরাসরি কবরের দৃশ্যের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়ের ওপর আলোকপাত করে— আর তা হলো 'স্রষ্টা ও সৃষ্টির সম্পর্ক'।
সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতি: এই সূরার মূল সুর হলো 'মুলক' বা রাজত্ব। সূরাটি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, এই মহাবিশ্বের একমাত্র অধিপতি আল্লাহ। যখন একজন মানুষ রাতে ঘুমানোর আগে এই সূরাটি পড়ে, সে আসলে আল্লাহকে তার জীবনের মালিক হিসেবে স্বীকার করে নেয়।
দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন: সূরাটির শুরুতেই বলা হয়েছে, আল্লাহ জীবন ও মৃত্যু সৃষ্টি করেছেন কেবল আমাদের পরীক্ষার জন্য। যে ব্যক্তি এই সত্যটি হৃদয়ে গেঁথে নেয়, সে পাপের পথে পা বাড়াতে ভয় পায়। আর যার জীবন পাপমুক্ত, তার জন্য কবরের আজাব হওয়ার কারণই তো থাকে না!
২. এই সূরার 'মুজিযা' বা অলৌকিকত্ব কোথায়?
এই সূরার মুজিযা এর শব্দে নয়, এর 'পরিবর্তনকারী শক্তিতে'।
"তিনিই সেই সত্তা, যিনি আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীকে সৃষ্টি করেছেন..." (সূরা মুলক: ১)
এটি পড়ার সময় যখন মানুষ সৃষ্টির বিশালতা নিয়ে ভাবে, তখন তার ভেতরের অহংকার চূর্ণ হয়ে যায়। আল্লাহকে চেনার এই মাধ্যমটিই হলো সবচেয়ে বড় মুজিযা। এটি আপনাকে কেবল ভয় দেখায় না, বরং আপনার মনে আল্লাহর প্রতি ভালোবাসার বীজ বপন করে দেয়। যে অন্তরে আল্লাহর মহিমা থাকে, সেই অন্তরকে কবরের অন্ধকার স্পর্শ করতে পারে না।
৩. কেন মহান রাব্বুল আলামিন একে অনন্য করলেন?
মহান আল্লাহ এই সূরাটিকে মানুষের জন্য একটি 'সুরক্ষাকবচ' হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। হাদিসে একে বলা হয়েছে 'প্রতিরক্ষাকারী' বা 'বাঁচনাকারী'। এর পেছনের রহস্য হলো:
এটি একটি অঙ্গীকার: আপনি প্রতিদিন রাতে আল্লাহর কাছে নিজের আনুগত্যের শপথ পুনর্নবীকরণ করছেন।
এটি প্রশান্তির উৎস: দুনিয়ার সমস্ত অস্থিরতা ভুলে সূরাটি পড়ার সময় মানুষ যখন আল্লাহর রাজত্বের কথা ভাবে, তার অবচেতন মন প্রশান্তিতে ভরে যায়। এই প্রশান্ত আত্মাটিই মৃত্যুর পর কবরের কঠিন সময়ে তার সঙ্গী হয়।
আপনার জন্য বার্তা:
দ্বীন ইসলাম মানেই ভয় পাওয়া নয়, দ্বীন ইসলাম মানে স্রষ্টাকে চেনা। আপনি যদি সূরা মুলক-এর অর্থ বুঝে পড়েন, তবে দেখবেন এটি আপনাকে একজন নতুন মানুষে রূপান্তর করছে। এটি আপনাকে মনে করিয়ে দেয়— আপনি কার সৃষ্টি, আপনার গন্তব্য কোথায় এবং আপনার প্রকৃত মালিক কে।
যিনি আপনার মালিককে চিনে নেন, মহান আল্লাহ তাঁকে কখনো একা ছেড়ে দেন না—না দুনিয়ায়, না কবরে।
আজ রাত থেকেই শুরু করুন। অর্থসহ পড়ার চেষ্টা করুন। দেখবেন, আপনার জীবনের অস্থিরতাগুলো কেমন ধীরস্থির হতে শুরু করেছে। ✨
#সূরা_মুলক #দ্বীন_ইসলাম #প্রশান্তি #ইসলামিক_অনুপ্রেরণা #কুরআনের_আলো

22/04/2026

কেন রাসূল (সা.)-এর ওপর দরুদ পাঠ করা জরুরি? একটি অন্তরের আবেদন
আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর দরুদ পাঠ করা কোনো সাধারণ রুটিন বা নিয়ম নয়; এটি মুমিন হৃদয়ের ভালোবাসার সবচেয়ে বড় প্রমাণ। আমরা যখন বলি 'সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম', তখন আসলে আমরা আমাদের রবের কাছে প্রিয় নবীর মর্যাদা বৃদ্ধির প্রার্থনা করি। কেন এই আমলটি আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হওয়া উচিত, আসুন তা গভীরভাবে অনুধাবন করি:
১. আল্লাহর নির্দেশের প্রতি আত্মসমর্পণ
আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনের সূরা আল-আহযাবে স্পষ্টভাবে নির্দেশ দিয়েছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ এবং তাঁর ফেরেশতারা নবীর প্রতি দরুদ প্রেরণ করেন। হে মুমিনগণ, তোমরাও তাঁর প্রতি দরুদ ও সালাম পাঠাও।" (আয়াত ৫৬)।
এখানে লক্ষণীয়, আল্লাহ নিজে যা করেন, আমাদেরকেও তা করতে বলেছেন। অর্থাৎ, এটি সরাসরি খোদাতাআলার সাথে একটি স্বর্গীয় সংযোগ স্থাপনের উপায়।
২. রাসূল (সা.)-এর সান্নিধ্য লাভ
কিয়ামতের সেই ভয়াবহ দিনে, যখন প্রত্যেকে নিজের নাজাত নিয়ে চিন্তিত থাকবে, রাসূল (সা.) আমাদের জন্য সুপারিশ (শাফায়াত) করবেন। রাসূল (সা.) বলেছেন, "কিয়ামতের দিন মানুষের মধ্যে সেই ব্যক্তিই আমার সবচেয়ে কাছে থাকবে, যে আমার ওপর সবচেয়ে বেশি দরুদ পাঠ করেছে।" (তিরমিজি)। তাহলে, জান্নাতে তাঁর পাশে থাকার আকাঙ্ক্ষা থাকলে দরুদ পড়ার কোনো বিকল্প নেই।
৩. সকল সমস্যার সমাধান ও দুশ্চিন্তা মুক্তি
সহাবী উবাই ইবনে কাব (রা.) একবার রাসূল (সা.)-কে জিজ্ঞেস করেছিলেন, "আমি আমার সমস্ত দোয়া যদি আপনার ওপর দরুদ পাঠে ব্যয় করি, তবে কেমন হবে?" নবীজি (সা.) জবাবে বলেছিলেন, "তাহলে তোমার সব চিন্তা দূর হয়ে যাবে এবং তোমার গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।" (তিরমিজি)। যাদের জীবনে অশান্তি বা পেরেশানি আছে, দরুদ তাদের জন্য শ্রেষ্ঠ ওষুধ।
৪. পাপ মোচন ও রহমতের বৃষ্টি
রাসূল (সা.) বলেছেন, "যে ব্যক্তি আমার ওপর একবার দরুদ পাঠ করবে, আল্লাহ তার ওপর দশটি রহমত নাযিল করবেন, তার দশটি গুনাহ মাফ করবেন এবং তার মর্যাদাকে দশগুণ বাড়িয়ে দেবেন।" (নাসায়ি)। এমন লাভজনক ব্যবসার সুযোগ আর কোথাও নেই।
আমাদের করণীয়: কীভাবে অভ্যাসে পরিণত করবেন?
আমরা যদি চাই প্রিয় নবীর প্রতি ভালোবাসা আমাদের হৃদয়ে জীবন্ত থাকুক, তবে আজ থেকেই আমাদের ছোট কিছু পরিকল্পনা গ্রহণ করা উচিত:
দিনের শুরু ও শেষে: ফজরের নামাজের পর এবং মাগরিবের পর অন্তত ১০০ বার দরুদ পাঠের নিয়ম করুন।
যাতায়াতের সময়: রিকশায় বা বাসে বসে থাকার সময় অযথা ফোনে সময় নষ্ট না করে মনে মনে দরুদ পড়তে থাকুন।
অপেক্ষা করার সময়: কোনো মিটিংয়ে বা লাইনে দাঁড়ানোর সময় দরুদ হতে পারে আপনার সেরা সঙ্গী।
জুমা মোবারক: জুমার দিন রাসূল (সা.)-এর ওপর দরুদ পাঠের গুরুত্ব অপরিসীম। এই দিন দরুদের সংখ্যা বাড়িয়ে দিন।
আসুন, একটি অঙ্গীকার করি:
আমাদের জবান হোক দরুদে সিক্ত। নবীজীর (সা.) প্রতি ভালোবাসা যেন কেবল মুখে সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং প্রতিটি কাজে ও চিন্তায় প্রতিফলিত হয়।
اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ، إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ
اللَّهُمَّ بَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ، إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ
অর্থ: হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মদ (সা.) এবং তাঁর বংশধরদের ওপর রহমত বর্ষণ করুন, যেমনভাবে আপনি ইব্রাহিম (আ.) এবং তাঁর বংশধরদের ওপর রহমত বর্ষণ করেছিলেন। নিশ্চয়ই আপনি অতি প্রশংসিত ও মহিমান্বিত।
হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মদ (সা.) এবং তাঁর বংশধরদের ওপর বরকত নাজিল করুন, যেমনভাবে আপনি ইব্রাহিম (আ.) এবং তাঁর বংশধরদের ওপর বরকত নাজিল করেছিলেন। নিশ্চয়ই আপনি অতি প্রশংসিত ও মহিমান্বিত।

ছোট ছোট দরুদগুলো মুখস্থ করা খুব সহজ এবং যাতায়াতের পথে বা কাজের ফাঁকে পড়ার জন্য এগুলো দারুণ। নিচে এমন কিছু সংক্ষিপ্ত ও ফজিলতপূর্ণ দরুদ দেওয়া হলো:
১. সবচেয়ে সহজ ও প্রচলিত দরুদ
এটি ছোট হলেও এর মর্যাদা অনেক বিশাল। আল্লাহর ফেরেশতারাও এটি পাঠ করেন।
আরবি: صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
উচ্চারণ: সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।
অর্থ: আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন।
রেফারেন্স: এটি পবিত্র কুরআনের সূরা আল-আহযাব (আয়াত ৫৬)-এর নির্দেশ অনুযায়ী সবচেয়ে বেশি পঠিত দরুদ।

সুরা মু'মিনূন আয়াত —১১৮
10/04/2026

সুরা মু'মিনূন আয়াত —১১৮

Address

Dhaka

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when AMYAS Foundation posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share