11/10/2026
সম্প্রতি কাটনারপাড়া নারী উন্নয়ন সংস্থা (KNUS)-এর নির্বাহী পরিচালক জনাব লতিফা ইয়াছমিন লভলী বগুড়া জেলার সারিয়াকান্দি উপজেলায় মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। তৃণমূল মানুষের সঙ্গে তাঁর নিবিড় সম্পর্ক, সাধারণ মানুষের প্রতি গভীর মমত্ববোধ এবং মানুষের জীবনমান উন্নয়নে তাঁর আন্তরিক অঙ্গীকার তাঁকে একজন সত্যিকারের জনসম্পৃক্ত উন্নয়নকর্মী হিসেবে পরিচিত করেছে। তিনি এমন একজন মানুষ, যিনি মাটির কাছাকাছি থাকেন, মানুষের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং তাঁদের সংগ্রাম, স্বপ্ন ও সম্ভাবনাকে উন্নয়ন কার্যক্রমের কেন্দ্রে স্থান দেন। সফরকালে তিনি স্থানীয় জনগোষ্ঠী, বিশেষত পিছিয়ে পড়া ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর সদস্যদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করেন এবং বিভিন্ন সচেতনতামূলক প্রচারাভিযান ও কমিউনিটি সভায় অংশগ্রহণ করেন। এ সময় তিনি তাঁদের দৈনন্দিন জীবনের চ্যালেঞ্জ, সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রতিবন্ধকতা, জীবিকা নির্বাহের সংগ্রাম এবং একটি উন্নত ভবিষ্যৎ গড়ার প্রত্যাশা সম্পর্কে জানার চেষ্টা করেন। পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন আয়বর্ধক ও জীবিকাভিত্তিক কার্যক্রম পরিদর্শন করেন, তাঁদের অর্জন ও অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করেন এবং কার্যক্রম বাস্তবায়নে বিদ্যমান সমস্যা ও সম্ভাবনা সম্পর্কে ধারণা নেন। তাঁর এই প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে, KNUS-এর উন্নয়ন দর্শনে মানুষের অভিজ্ঞতা, মতামত ও বাস্তব চাহিদার গুরুত্ব অপরিসীম। কমিউনিটি পর্যায়ের কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে তিনি KNUS সারিয়াকান্দি উপজেলার কর্মীদের সঙ্গে একটি মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণ করেন। সভায় চলমান কার্যক্রমের অগ্রগতি, মাঠপর্যায়ে অর্জিত অভিজ্ঞতা, বাস্তবায়নসংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ এবং কার্যক্রমের গুণগত মান আরও উন্নত করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। তিনি কর্মীদের পেশাদারিত্ব, পারস্পরিক সহযোগিতা, জবাবদিহি, দায়িত্বশীলতা এবং জনগণের প্রতি সংবেদনশীলতা বজায় রেখে কাজ করার নির্দেশনা প্রদান করেন। একই সঙ্গে তিনি মাঠপর্যায়ের বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা গ্রহণ, সমস্যা সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ এবং উপকারভোগীদের জন্য আরও মানসম্মত ও টেকসই সেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি KNUS-এর লক্ষ্য, মূল্যবোধ ও উন্নয়ন-অঙ্গীকার ধারণ করে আরও গতিশীলভাবে কাজ করতে এবং নারীর ক্ষমতায়ন, সুবিধাবঞ্চিত মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও কমিউনিটির সক্ষমতা বৃদ্ধিতে কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। নির্বাহী পরিচালকের এই সফর একদিকে যেমন স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে সংস্থার সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করেছে, অন্যদিকে তেমনি মাঠপর্যায়ের কর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা, দায়িত্ববোধ ও কাজের প্রতি অঙ্গীকার জোরদার করেছে।