14/07/2026
আল্লাহ তা’আলা নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যেই এই মহাবিশ্ব সৃষ্টি করেছেন। খেলাচ্ছলে কিংবা নিরর্থক উদ্দেশ্যে তিনি মহাবিশ্ব সৃষ্টি করেননি। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তা’আলা ইরশাদ করেন,
“আর আমি আসমানসমূহ, যমীন এবং এতদোভয়ের মধ্যে যা কিছু আছে তা খেলাচ্ছলে সৃষ্টি করিনি। আমি এ দু’টোকে যথাযথভাবেই সৃষ্টি করেছি, কিন্তু তাদের অধিকাংশই তা জানে না। (সূরা আদ-দুখান । আয়াত ৩৮-৩৯)”
মহাপরাক্রমশালী আল্লাহ তা’আলা এগুলো সৃষ্টি করেই শুধু ক্ষান্ত হননি, বরং সূক্ষ্ম নিয়মে এগুলো পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করে যাচ্ছেন। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তা’আলা ইরশাদ করেন,
“আল্লাহ সব কিছুর স্রষ্টা এবং তিনি সব কিছুর তত্ত্বাবধায়ক। (সূরা আয-যুমার । আয়াত ৬২)”
মহা আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে, আসমান ও জমিনে যা কিছু রয়েছে এসব কিছুই আল্লাহ তা’আলা জিন ও ইনসানের কল্যাণে নিয়োজিত করে রেখেছেন। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তা’আলা ইরশাদ করেন,
“তোমরা কি লক্ষ্য কর না যে, যা কিছু আসমানসমূহে আর যমীনে আছে, আল্লাহ সমস্তই তোমাদের কল্যাণে নিয়োজিত করেছেন এবং তোমাদের প্রতি তাঁর প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য নি‘য়ামাতসমূহ পরিপূর্ণ করে দিয়েছেন? কতক মানুষ জ্ঞান ছাড়াই আল্লাহ সম্বন্ধে বাক-বিতন্ডা করে, তাদের না আছে সঠিক পথের দিশা, আর না আছে কোন আলোপ্রদ কিতাব। (সূরা লুকমান । আয়াত ২০)”
কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছেন, আল্লাহ তা’আলা আমাদের কেন সৃষ্টি করেছেন? যিনি সূক্ষ্ম নিয়মে সুবিশাল আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছে, তিনি কি এমনি এমনিই খেলাচ্ছলে আমাদের সৃষ্টি করেছেন? বস্তুত একটা নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যেই তিনি আমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তা’আলা ইরশাদ করেন,
“আর জিন ও মানুষকে কেবল এজন্যই সৃষ্টি করেছি যে তারা আমার ইবাদাত করবে। (সূরা আয-যারিয়াত । আয়াত ৫৬)”
মহাপরাক্রমশালী আল্লাহ তা’আলা আমাদের জন্য অগণিত প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য নি‘য়ামাতসমূহ দান করেছেন। বিনিময়ে তিনি চান আমরা যেন একনিষ্ঠভাবে ইবাদত করি। আমরা যেন জমিনে তার আদেশ নিষেধগুলো মেনে চলি। তিনি চান, আমরা যেন তার একনিষ্ঠ মুখলিস বান্দাদের অন্তভূক্ত হয়ে যাই। প্রকৃত সত্য হচ্ছে, আল্লাহ তা’আলা আমাদেরকে কেবলমাত্র তার ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছেন, অন্য কোনো ভিন্ন উদ্দেশ্যে নয়।
Follow > Al Aqsa Computers