06/12/2025
ঘন ঘন ভূকম্পন! তবুও কি আমরা সতর্ক হবো না?
সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের প্রিয় বাংলাদেশে বেশ ঘন ঘন ভূকম্পন অনুভূত হচ্ছে যা অন্যান্য বছরের তুলনায় অনেক বেশী। গত কয়েক দিনে বাংলাদেশে ছোট থেকে মাঝারি বেশ কয়েকটি ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে যা ছিল বেশ উদ্বেগজনক। সুবহানাল্লাহ! এটা শুধু নিছক কোন প্রাকৃতিক কিংবা কাকতালীয় কোন বিষয় নয়। ববং হতে পারে এটা বিশেষ এক সতর্ক বার্তা যা এই সম্প্রদায়ের পাপাচারী ব্যক্তিদের উদ্দেশ্যে প্রেরণ করা হয়েছে। হতে পারে এটা এমন এক সতর্ক বার্তা যা বড় কোন যন্ত্রণাদায়ক আজাবের পূর্বাভাস।
পূর্ববর্তী জনপদবাসীদের উদ্দেশ্যেও আল্লাহ তা'আলা সতর্কবাণী প্রেরণ করেছিলেন। কিন্তু তারা আল্লাহ তা'আলার সতর্কবাণী প্রত্যাখ্যান করেছিল। সেই সাথে তাদের কুফরী, একগুয়েমী ও পথভ্রষ্টতার দরুন আল্লাহ তা'আলার আজাব তাদের উপর অবধারিত হয়েছিল।
আল্লাহ তা’আলার বাণীঃ অতঃপর ভূমিকম্প তাদেরকে হঠাৎ আঘাত হানল আর তারা তাদের ঘরবাড়িতে উপুড় হয়ে পড়ে রইল। (কুরআন ৭:৯১) (https://quran.com/7/91)
এই আয়াতে শু'আইব (আঃ)-এর সম্প্রদায়, অর্থাৎ মাদাইনবাসীদের (আসহাব আল-আইকা) কথা বলা হয়েছে। তারা মাপে ও ওজনে কম দেওয়া, ব্যবসায়ীদের মালামাল লুণ্ঠন করা এবং জমিনে বিপর্যয় সৃষ্টি করার মতো পাপকাজে লিপ্ত ছিল। তারা এক আল্লাহর ইবাদত ছেড়ে গাছপালা ও মূর্তিপূজা করত। মূলত তাদের অবাধ্যতা, কুফরী, একগুয়েমী ও পথভ্রষ্টতার দরুন আল্লাহ তা'আলার আজাব তাদের উপর অবধারিত হয়েছিল। নবী শু'আইব (আঃ)-কে অস্বীকারকারীদের পরিণতি এমন হয়েছিল যেন তারা সেখানে কোনদিন বসবাসই করেনি।
মোটা দাগে, আমাদের সমাজে পূর্ববর্তী কওমের সবধরনের পাপাচার বিদ্যমান। মাপে কম দেওয়া, সুদ-ঘুষ, মদ, যিনা-ব্যভিচার, অশ্লীল ও বেহুদা কথাবার্তা, চোগলখুরী, মানুষকে ঠকানো, শিরক ও কুফরী, আল্লাহ ও তার রাসুল (ﷺ)-এর অবাধ্যতা এমন কোন হীন পাপ কাজ নেই যা এই সমাজে বিদ্যমান নেই। বরং এই সমাজ ও রাষ্ট্র ব্যবস্থা পরিচালিত হয় আল্লাহদ্রোহী আইনের মাধ্যমে। এই সমাজে এমন আইন বিদ্যমান, যে আইনের মারপ্যাঁচে ইসলামের অনেক হারাম বিষয়গুলোকে বৈধ তথা হালাল সাব্যস্ত করা হয়েছে। অপর দিকে মানবরচিত এই আইনের মারপ্যাঁচে ইসলামের হালাল বিষয়গুলোকে কঠিনতর করা হয়েছে।
প্রিয় উম্মাহ, আমাদের উপর আল্লাহর আজাব আপতিত হওয়ার জন্য এই পাপ কাজগুলোই কি যথেষ্ট নয়? আল্লাহর দয়া ও রহমত না থাকলে হয়তো বহুপূর্বেই আমরা ধ্বংস হয়ে যেতাম। এই উম্মতের জন্য আল্লাহর রাসুল (ﷺ)-এর পক্ষ থেকে হেদায়েত, ক্ষমা ও কল্যাণের দোয়া না থাকলে হয়তো বহুপূর্বেই আমরা ধ্বংস হয়ে যেতাম। আল্লাহর জমিনে হয়তো বা এমন কোন নেক বান্দারা রয়েছে যাদের দরুন আল্লাহ তা’আলা আমাদের বাঁচিয়ে রেখেছেন।
পাপাচারীদের উদ্দেশ্যে কিছু কথা, তোমরা এবার থামো। তাওবা ও ইস্তেগফারের মাধ্যমে আল্লাহ তা’আলার দিকে প্রত্যাবর্তন করো। তা না হলে আমাদের দিকে আল্লাহর আজাব ধেয়ে আসতে খুব বেশি সময় লাগবে না।
হে আমাদের রব, আপনি আমাদের পাপের দরুন আমাদের ধ্বংস করে দিবেন না। হে আমাদের রব, আপনি আমাদের তাওবা কবুল করুন এবং আমাদের ক্ষমা করুন।