Islamic Revival Front-IRF

Islamic Revival Front-IRF Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Islamic Revival Front-IRF, Community Organization, Dhaka.

নিঃসন্দেহে যমীনের প্রাকৃতিক সম্পদ ও জ্বালানি আল্লাহর দেওয়া নিয়ামতসমূহের মধ্যে অন্যতম। আর তাই জনকল্যাণের নিমিত্তে এসব সম্...
04/09/2026

নিঃসন্দেহে যমীনের প্রাকৃতিক সম্পদ ও জ্বালানি আল্লাহর দেওয়া নিয়ামতসমূহের মধ্যে অন্যতম। আর তাই জনকল্যাণের নিমিত্তে এসব সম্পদের রক্ষণাবেক্ষণ, সুষম বণ্টন এবং জনহিতকর কাজে বিনিয়োগের নিয়মাবলিও আল্লাহর বিধান অনুযায়ী হওয়া আবশ্যক।

সম্পদের অসম বণ্টন, দুর্নীতিবাজ রাঘববোয়ালদের স্বার্থচাতুরতাকে প্রশ্রয় দেয়া, অনর্থক খাতে অপচয় এবং চোখ ফাঁকি দেওয়া প্রজেক্টের আড়ালে লুন্ঠনকান্ড ও অপব্যয়ের দৃষ্টান্তগুলো যেভাবে রাজনৈতিক গোষ্ঠীগুলোর নগ্ন চরিত্রের বহিঃপ্রকাশ তেমনি এটি একটি কাঠামোগত সমস্যাও।

আমরা মনে করি, রাজনৈতিক গোষ্ঠীর প্রতিস্থাপন কখনোই দৃশ্যমান অন্তঃসারশূন্য ব্যবস্থার আমূল রূপান্তরে সক্ষম নয়। এবং সাংস্কারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে না এই বিদ্যমান ব্যবস্থা বদলেছে, আর না কখনো বদলাবে। কেননা নফসের বদল কখনো নিযামের বদল ঘটায় না!

গণমানুষের দুর্ভোগ ও ভোগান্তির সঙ্গে সহাবস্থান এবং একাত্মতা প্রদর্শন করেই আমাদের পর্যালোচনাকে জনসম্মুখে তুলে ধরতে গত ৩০ আগস্ট IRF-এর পক্ষ থেকে রাজধানীর মিরপুর এলাকায় ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা হয়।

31/08/2026
গত শতাব্দীর শুরুর দিকে ইসলামী শাসনের পতনের পর থেকে ইউরোপ এবং আমেরিকার দেশগুলোর মত মুসলিম অধ্যুষিত অঞ্চলগুলোতেও শুরু হয় ল...
28/08/2026

গত শতাব্দীর শুরুর দিকে ইসলামী শাসনের পতনের পর থেকে ইউরোপ এবং আমেরিকার দেশগুলোর মত মুসলিম অধ্যুষিত অঞ্চলগুলোতেও শুরু হয় লিবারেল ডেমোক্রেসির শাসন। ফলত, ইসলামী শাসন তথা শরীয়াহ দ্বারা শাসনের ব্যাপারটি মুসলিমদের নতুন প্রজন্মের কাছে অবাস্তব মনে হতে থাকে। এছাড়াও ইসলাম বিদ্বেষী, ওরিয়েন্টালিস্ট তথা প্রাচ্যবিদদের মিথ্যা প্রোপাগাণ্ডা প্রচারণার ফলে শরীয়াহ শাসন সম্পর্কে ভুল ধারণা নিয়ে গড়ে উঠেছে এবং উঠছে।

বিদ্যমান সেক্যুলার শাসন ব্যবস্থায় সময়ে সময়ে বিভিন্ন জটিলতা দেখা দেয়। গুম, খুন, ধর্ষণ ইত্যাদির বিচার প্রক্রিয়া শেষ হতে লেগে যায় যুগের পর যুগ। এছাড়া, জনগণের উপর অত্যাধিক কর আরোপ, যুলুম, ব্যুরোক্র্যাটদের প্রতিটি কাজে দুর্নীতি- নিত্তনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখানে নেই কোনো নৈতিকতা, নেই কোনো মানবিকতার ছাপ।

ইসলামী শাসনের সৌন্দর্যই এখানে যে এই শাসনের মূল ভিত্তি হলো আল্লাহর প্রতি ভয়। শারঈভাবে বেধে দেওয়া নীতি নৈতিকতা, আল্লাহর নিকট জবাবদিহিতা- এগুলো গুরুত্ব পায় অন্য সব কিছুর চেয়ে। তাই মেকি ভাবে সৎ হওয়ার চেয়ে আল্লাহর নিকট আত্মসমর্পণই হল মূল বিষয়।

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআ'লার কাছে শুকরিয়া যে রাজধানীর
খিলগাঁও এলাকায় ইসলামিক রিভাইভাল ফ্রন্ট (আইআরএফ) এর পক্ষ থেকে আমরা এই বিষয়ে অল্পবিস্তর আলোচনা করতে পেরেছি। মানুষের কাছে আল্লাহর দেওয়া বিধান তথা শরীয়াহ'র সৌন্দর্য ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছি।

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা আমাদের এই কাজকে ক্ববুল করে নিন। (আমীন)

একটি ইনসাফপূর্ন সমাজের দৃষ্টান্ত হল যেখানে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে, মানুষের জান-মাল ও সম্মান নিরাপদ থাকবে, দুর্বল ও অস...
26/08/2026

একটি ইনসাফপূর্ন সমাজের দৃষ্টান্ত হল যেখানে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে, মানুষের জান-মাল ও সম্মান নিরাপদ থাকবে, দুর্বল ও অসহায়রা ন্যায্য অধিকার পাবে এবং ক্ষমতাবানরাও আইনের ঊর্ধ্বে থাকবে না। এমন একটি সমাজের স্বপ্ন মানুষ যুগ যুগ ধরেই দেখে আসছে।

ইসলাম মানুষের ব্যক্তিজীবনের পাশাপাশি সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্যও একটি ন্যায়ভিত্তিক জীবনব্যবস্থার নির্দেশনা দিয়েছে। এই জীবনব্যবস্থা তথা শরীয়াহ শাসিত সমাজের সৌন্দর্য কেবল কিছু আইন বা বিধানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এর কেন্দ্রে রয়েছে ন্যায়বিচার, আমানতদারি, ভাতৃত্ব, মানবিক মর্যাদা, দায়িত্ববোধ, পারস্পরিক সহযোগিতা ও জবাবদিহিতা।

শরীয়াহ শাসিত সমাজ বলতে আমরা কী বুঝি? এর উদ্দেশ্য কী? মানুষের অধিকার ও স্বাধীনতার সঙ্গে এর সম্পর্ক কেমন? একটি সমাজে ন্যায়, নিরাপত্তা ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠায় শরীয়াহর ভূমিকা আসলে কেমন ?

এসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে ইসলামী নবজাগরণ ফ্রন্ট (আইআরএফ) কর্তৃক অয়োজিত হতে যাচ্ছে "শরীয়াহ শাসিত সমাজের সৌন্দর্য" শীর্ষক একটি উন্মুক্ত মাজলিশ।

প্রস্তাবনা-১৩
23/08/2026

প্রস্তাবনা-১৩

সাম্প্রতিক সময়ে আমরা দুটি উদ্বেগজনক ঘটনা ঘটতে দেখেছি।বিগত ১৬ আগস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী, ইসলামী চিন্তক,...
21/08/2026

সাম্প্রতিক সময়ে আমরা দুটি উদ্বেগজনক ঘটনা ঘটতে দেখেছি।

বিগত ১৬ আগস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী, ইসলামী চিন্তক, লেখক ও গবেষক ভাই আসিফ আদনান— বিশ্ববিদ্যালয়ের অমর একুশে হলে আলোচনার আমন্ত্রণ পান। কিন্তু ইসলামবিরোধী বিভিন্ন মহল থেকে চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে তার বক্তব্য সংক্ষিপ্ত করতে বাধ্য করা হয়। এবং গণমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়াতে তাকে নিয়ে নানা অপপ্রচার, মিথ্যা অপবাদ এবং গুঞ্জন রটানো হতে থাকে। বামপন্থী, সেক্যুলার ও উগ্র ইসলামবিরোধী শক্তি তাকে ঘিরে নোংরা অপপ্রচার করতে থাকে। দুঃখজনকভাবে ইসলামের সাথে সম্পর্কের দাবীদার কিছু ব্যক্তিদেরকেও এই হীন কর্মসূচীতে (Smear Campaign) সোল্লাসে অংশ নিতে দেখা যায়।

সম্প্রতি দেশের অন্যতম ইসলামী প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান সিয়ান পাবলিকেশন্সের আয়োজনের আহুত স্পিকার হিসেবে পাকিস্তানের জনপ্রিয় ইসলামী অ্যাক্টিভিস্ট ত্বহা ইবনে জলিলকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। নির্ধারিত সময়ে বাংলাদেশে পৌছালে এয়ারপোর্টে তাঁকে অন্যায়ভাবে আটকে রাখা হয়। এবং পরবর্তীতে ইসলামপন্থীদের তাৎক্ষনিক সরব প্রতিবাদের মুখে তাকে দেশে প্রবেশ করতে দেয়া হয়। পাশাপাশি, আরো জানা যায় যে, এই সেমিনারে ত্বহা ইবনে জলিল ও আসিফ আদনানকে বক্তা হিসেবে রাখার দরুন পিএসসি কনভেনশন সেন্টার থেকে সেমিনার আয়োজনে আপত্তি জানানো হয়।

এ দুটো ঘটনা থেকে সুস্থ-স্বাভাবিক যে কারো মনে কিছু খোলামেলা প্রশ্নের উদয় হওয়াটা মোটেও অস্বাভাবিক নয়-

এদেশ কি প্রকৃত অর্থে আসলেই মুসলিমদের দেশ! এদেশে ইসলামের পক্ষে বলার স্বাধীনতা কি আসলেই আছে? আওয়ামীলীগের পতন হলেও, ইসলামপন্থীদের জন্য প্রতিকূল পরিবেশের অবসান কি আদৌ হয়েছে? আমরা মনে করি, সাম্প্রতিক ঘটনাবলীর সচেতন পর্যবেক্ষক নিজেই উত্তর খুজে নিতে পারে।

পাশাপাশি, এদেশের সেক্যুলারদের অসততা ও দ্বিচারিতা কতটা গভীর, তাও সাম্প্রতিক ঘটনা দুটি থেকে স্পষ্ট।

তারা স্পষ্টভাবে দেখিয়ে দিল - যে বাকস্বাধীনতার বয়ান তারা আওড়ায়, তা ফাঁকা বুলি ছাড়া কিছুই নয়। যাকে-তাকে সন্ত্রাসী, জঙ্গি ইত্যাদি ট্যাগ দিয়ে না-মানুষ বানানোর মাধ্যমে দমন করার সকল প্রক্রিয়াকে বৈধ সাব্যস্ত করার এসব টালবাহানা বিচ্ছিন্ন কিছু নয়।

বলাই বাহুল্য, ইসলামী শরিয়াহ ব্যতীত ব্রিটিশদের রেখে যাওয়া এই সেক্যুলার ব্যবস্থা মুসলমানদের জান-মাল-সম্পদ-ইজ্জত রক্ষা করতে - কখনোই সক্ষম না; বরং এ প্রতিষ্ঠিত ব্যবস্থা মুসলমানদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে অন্যায় হস্তক্ষেপ করতে বদ্ধপরিকর। আমাদের কোনো সন্দেহ নেই যে, এই ব্যবস্থা ক্রমাগত ইসলাম ও ইসলামের স্বপক্ষের শক্তিকে কোনঠাসা করতেই থাকবে এবং একটি সংকীর্ণ বলয়ের মাঝে নিয়ে আসতে চাইবে।

আমরা সেক্যুলার রাজনৈতিক দলগুলো ও সাংস্কৃতিক অক্ষের কাছে সততা বা ইনসাফের আশা করি না। আমরা জানি কাঠামোগত ও মূলগত কারণেই এই ব্যবস্থা ইসলামের চেতনা মিটিয়ে দিতে চাইবে। তা হয়তো এখনই পুরোপুরি বোঝা না গেলেও, অচিরেই বিভিন্ন ঘটনার মাধ্যমে আরো স্পষ্ট হয়ে উঠবে। ইতিমধ্যেই আসিফ আদনান বা সিয়ান প্রকাশনীর উপর হওয়া আচরণগুলো উপসর্গ হিসেবে প্রকাশ পাচ্ছে।

আমরা বুঝতে পারি, এসব কিছুর উদ্দেশ্য মূলত আপসহীন ইসলামি দাওয়াতি কন্ঠস্বরগুলোকে থামিয়ে দেয়া। কিন্তু আলহামদুলিল্লাহ, তা আগেও হয়নি। ভবিষ্যতেও হবে না, বি ইয নিল্লাহ।

আমরা আমাদের নেককার ভাইদের বিরুদ্ধে ইসলামের শত্রুদের হীন চক্রান্ত এবং ছদ্মবেশী সুবিধাবাদীদের মিথ্যাচারের তীব্র নিন্দা জানাই।

আমরা সেক্যুলারদের ষড়যন্ত্রের শিকার আমাদের নেককার ভাইদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করছি। আল্লাহ তা'আলা ভাইদেরকে নিরাপত্তার চাদরে আচ্ছাদিত রাখুন, সত্যের উপর অবিচল রাখুন। আল্লাহর ইচ্ছা ও অনুমতিতে আমরা তাদের পাশেই আছি।

আমরা বারবারই বলে এসেছি, চূড়ান্তভাবে এই সংকটের সমাধান সেক্যুলার ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন ঘটিয়ে ইসলাম কায়েমের মাধ্যমেই কেবল সম্ভব। আর এটা জানা কথা যে- সেই গন্তব্যে পৌঁছার আগ অবধি আমাদেরকে নিন্দা, অপবাদ, বন্দীত্বসহ সর্ববিধ নিপীড়নের মোকাবিলা করতেই হবে।আমরা যা বলার তা মূলত সেক্যুলারদের কূপমন্ডুকতা ও হঠকারিতাকে মানুষের সামনে স্পষ্ট করার লক্ষ্যেই বলছি।

আমরা মনে করি, এই দীর্ঘ সফরের শুরুতে ইসলামের ওপর আক্রমণ ঠেকাতে - এদেশের ঈমানদারদের জন্য কাঠামোগত ইসলামবিদ্বেষের স্বরূপকে চেনা এবং সেক্যুলারদের চিহ্নিত শত্রু হিসেবে আলাদা করে দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি গণমানুষের জন্য ইসলামের জন্য জীবন উৎসর্গকারী উলামায়ে কেরাম, দাঈ ইলাল্লাহ ও ইসলামপন্থীদের পাশে দাঁড়ানোও একই রকম গুরুত্বপূর্ণ।

وَالَّذِيْنَ كَفَرُوْا بَعْضُهُمْ اَوْلِيَآءُ بَعْضٍ ؕ اِلَّا تَفْعَلُوْهُ تَكُنْ فِتْنَةٌ فِي الْاَرْضِ وَفَسَادٌ كَبِيْرٌ ؕ
"আর যারা কুফরী করে, তারা একে অপরের বন্ধু। যদি তোমরা তা না কর, তাহলে যমীনে ফিতনা ও বড় ফাসাদ হবে।" (সুরা আনফাল, ৮:৭৩)

সচেতন ও অগ্রগামী মুসলিম ভাই ও বোনদের উদ্দেশে আমরা বলতে চাই,

আপনারা সচেতন হোন। আল্লাহর সন্তুষ্টির লক্ষ্যে দ্বীনের পুনরুত্থান এবং নিজেদের হারানো স্বাধীনতা পুনরুদ্ধারের এই দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়ায় উগ্র জাতীয়তাবাদ, সেক্যুলারিজম ও গণতন্ত্রের প্রবঞ্চনা থেকে নিজেদের দূরে রাখুন, ঈমানের দাবীতে ঐক্যবদ্ধ থাকুন। ইসলামের জন্য কাজ করে যাওয়া নেককার ব্যক্তিদের পাশে থাকুন।

আল্লাহ রাব্বুল 'আলামীন মু'মিনদের জন্য যথেষ্ট হোন।

সারা দেশে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের দরুন বিগত বেশ কিছুদিন ধরে জনগণ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। শহর থেকে গ্রাম—সর্বত্রই বি...
19/08/2026

সারা দেশে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের দরুন বিগত বেশ কিছুদিন ধরে জনগণ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। শহর থেকে গ্রাম—সর্বত্রই বিদ্যুতের চাহিদা ও সরবরাহের ভারসাম্যহীনতায় স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত হচ্ছে।

পাশাপাশি অনেক প্রত্যক্ষ সাক্ষীর ভাষ্যমতে, জুন ও জুলাই মাসের বিদ্যুৎ বিলের পরিমাণ অন্যান্য মাসের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণেরও বেশি ছিল। ফলে সকল শ্রেণির মানুষের পাশাপাশি মধ্যবিত্ত এবং নিম্নবিত্ত জনগোষ্ঠীর জন্য বিষয়টি অসহনীয় হয়ে উঠছে।

বাংলাদেশে সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে ২০২৬ সহ ২০২২ ও ২০২৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট মারাত্মক আকার ধারণ করেছিল। এর মধ্যে ২০২২ সালে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট ও ডলার সংকটের জেরে এবং জাতীয় গ্রিডের বিপর্যয়ে দেশের একটি বড় অংশ দীর্ঘ সময় অন্ধকারে ছিল।

এছাড়া ২০২৩ সালে তীব্র দাবদাহ ও এলএনজি আমদানিতে বিধিনিষেধের কারণে এক দশকের মধ্যে অন্যতম ভয়াবহ বিদ্যুৎ সংকট তৈরি হয়েছিল।

দেশীয় গণমাধ্যমের ভাষ্যমতে, বর্তমান জ্বালানি সংকটের মূল কারণ গ্যাস সরবরাহের স্বল্পতা। এই ঘাটতি হঠাৎ তৈরি হয়নি। বিগত আওয়ামী লীগ সরকার নিজস্ব উৎস থেকে গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদনের ব্যাপারটিকে যথেষ্ট গুরুত্ব না দিয়ে ক্রমেই আমদানিনির্ভর হয়ে উঠেছিল।

তাদের পরিকল্পনার অন্যতম অংশ ছিল ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) এবং ল্যান্ড-বেজড রি-গ্যাসিফিকেশন প্ল্যান্ট স্থাপন। এখন দেখা যাচ্ছে, এর কোনোটিই প্রত্যাশামাফিক কার্যকর হয়নি।

মহেশখালীতে মাত্র দুটি এফএসআরইউ রয়েছে। এর ফলে অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে প্রয়োজন অনুযায়ী বাইরের উৎস থেকে গ্যাস আমদানি করা সম্ভব হচ্ছে না। অন্যদিকে, নিজস্ব উৎস থেকে গ্যাস উৎপাদন বাড়ানোর জন্য গত ১০–১১ বছরে যেসব উদ্যোগ ও পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, সেগুলোও কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন করতে পারেনি।

অর্থাৎ, বলাই বাহুল্য যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট তৈরি হওয়াটা যেমন দীর্ঘমেয়াদি ফলাফল, তেমনই এর স্থায়ী সমাধানও সাময়িক কোনো পদক্ষেপের মাধ্যমে সম্ভব নয়।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানির সাথে জাতীয় অর্থনৈতিক কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ যোগসূত্র আছে। এক্ষেত্রে মনে রাখা দরকার, বর্তমান সরকার নিও-লিবারেল বা নব্য উদারনৈতিক অর্থনীতির দিকে ঝুঁকছে। এটি এমন এক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মতাদর্শ, যা মুক্তবাজার, বেসরকারিকরণ, ব্যবসা-বাণিজ্যে সরকারি নিয়ন্ত্রণমুক্তি (Deregulation) এবং সরকারি ব্যয় সংকোচনের ওপর জোর দেয়।

এই অতিমাত্রায় বেসরকারিকরণ বা মুক্তবাজার অর্থনীতি শুনতে ভালো মনে হলেও, বাস্তবে এটি সুনির্দিষ্ট মুনাফালোভী পুঁজিপতি গোষ্ঠীর স্বার্থ হাসিলই সবচেয়ে বেশি করে। বাজারের ওপর সরকার বা অন্য কোনো নৈতিক কাঠামোর নিয়ন্ত্রণ থাকে না, ফলে জনগণের সুবিধা-অসুবিধা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কোনো অথোরিটি পাওয়া যায় না।

ফলত, করপোরেট মাফিয়াদের ইচ্ছানুসারে নির্ধারিত হয় বাজারমূল্য। তাছাড়া বৈশ্বিক অভিজ্ঞতা আমাদের বলে, এ পদ্ধতির অনিয়ন্ত্রিত মুক্তবাজার অর্থনৈতিক কাঠামোতে একচেটিয়া সিন্ডিকেট তৈরিতে ভূমিকা রাখে।

অর্থাৎ, একটি বিষয় সহজেই প্রতীয়মান হয় যে, আমাদের জাতীয় সংকট খুব শীঘ্রই সমাধান হওয়ার মতো নয়। বরং পরিস্থিতি জনগণের জন্য আরও প্রতিকূল হয়ে উঠবে বলেই মনে হচ্ছে। এই সামগ্রিক ভোগান্তি ও সংকটময় পরিস্থিতিতে ইসলামপন্থীদের নিজস্ব মূল্যায়ন থাকা দরকার।

সমাধানের আগে সংকটের পেছনে কয়েকটি মৌলিক বিষয়ে আলোকপাত করা দরকার, যা বিগত কয়েক দশক থেকে আমাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে:

১। আমদানিনির্ভর জ্বালানি খাত
২। রাষ্ট্রীয় অব্যবস্থাপনা, নিয়ন্ত্রণহীনতা ও অসম বণ্টন
৩। মুক্তবাজার অর্থনীতি (নব্য উদারনৈতিক)
৪। অতিমাত্রায় নগরায়ন ও শিল্পায়ন
৫। আধুনিক এককেন্দ্রিক শাসনকাঠামো
৬। বস্তুবাদী দর্শনের ভিত্তিতে নাগরিকসত্তা গঠন
৭। সম্পদের মালিকানা-সংক্রান্ত অস্পষ্ট অবস্থান

মুক্তবাজার অর্থনীতি এবং সিন্ডিকেট-সংক্রান্ত সমস্যার বিপরীতে, অতীতে আমরা দেখেছি একদল সেক্যুলার সমাজতন্ত্র-ঘেঁষা মডেল তথা অর্থনৈতিক সেক্টরের অধিক মাত্রায় সরকারিকরণের নীতি গ্রহণ করেছিল। যার ফলে এই খাত ব্যবসায়ীদের বদলে আমলাতন্ত্রের লুটেরা ও বিত্তবানদের হাতে চলে যায়।

আমরা বলতে চাচ্ছি, এই দীর্ঘমেয়াদি সমস্যার সমাধান কেবল পশ্চিমা নীতি-আদর্শের ঢালাও অনুকরণে সম্ভব নয়। আমরা যে সমাধানের কথা বলব, তা এই ব্যবস্থা তার কাঠামোগত কারণেই করতে পারবে না কিংবা করতে ইচ্ছুক হবে না।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত দেশের মূল অর্থনৈতিক কাঠামো এবং রাষ্ট্রীয় দর্শনেরই গাঠনিক প্রয়োগ মাত্র। সমস্যার গোড়া চিহ্নিতকরণের জন্য নিচের প্রশ্নগুলোর সমাধান করা জরুরি।

১. সম্পদের মালিকানা কার এবং কতটুকু? সেটা কে নির্ধারণ করবে?
২. সম্পদ ও অর্থনীতির উদ্দেশ্য কী হবে? এবং সেটা কে ঠিক করবে?
৩. শাসক এবং শাসিতের সম্পর্ক কী হবে? এবং সেটা কে ঠিক করবে?

ইসলাম এই প্রশ্নগুলোর উত্তর যেভাবে দিতে পারে, পুঁজিবাদ বা সমাজতন্ত্র তার সম্পূর্ণ বিপরীত উত্তর দেয়। ফলে এখানে জনগণের ভোগান্তি কেবল অব্যবস্থাপনাগত বিষয়েই সীমাবদ্ধ নেই। বরং এটি একটি আদর্শিক ও দর্শনগত প্রশ্নে পরিণত হয়েছে। অর্থাৎ, লুটেরা ও সিন্ডিকেট সমস্যার সমাধানও কোনো না কোনোভাবে আদর্শিক প্রশ্নের সাথে সংযুক্ত।

তাই, আমরা মনে করি এ সমস্যার চূড়ান্ত ফয়সালা ইসলামী মূলনীতিকে আঁকড়ে ধরার মাধ্যমেই করা সম্ভব। শাসকগোষ্ঠী ও সংশ্লিষ্ট পক্ষসমূহের উচিত আল্লাহর বিধানের কাছে আত্মসমর্পণ করা এবং মানুষের হক মানুষকে ফিরিয়ে দেওয়া, সম্পদের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করা।

মহান আল্লাহ বলেন:
کَیۡ لَا یَکُوۡنَ دُوۡلَۃًۢ بَیۡنَ الۡاَغۡنِیَآءِ مِنۡکُمۡ ؕ وَمَاۤ اٰتٰىکُمُ الرَّسُوۡلُ فَخُذُوۡہُ ٭ وَمَا نَہٰىکُمۡ عَنۡہُ فَانۡتَہُوۡا ۚ وَاتَّقُوا اللّٰہَ ؕ اِنَّ اللّٰہَ شَدِیۡدُ الۡعِقَابِ ۘ
“...যাতে তা তোমাদের মধ্যে যারা বিত্তবান, তাদের মধ্যেই কেবল আবর্তিত না হয়। আর রাসূল তোমাদের যা দেন তা গ্রহণ করো এবং যা থেকে নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো। আর আল্লাহকে ভয় করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ শাস্তিদানে কঠোর।” (সূরা হাশর, ৭)

আমরা এও মনে করি, যদি জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের এই অসহনীয় সংকটের আশু সমাধান নিশ্চিত করা সম্ভব না হয়, নিশ্চয়ই তা জনরোষকে আরও তীব্র করবে। আর তা হওয়াই স্বাভাবিক। মানুষের ওপর যুলুম করে ক্ষমতার স্বাদ বেশিদিন ভোগ করা সম্ভব নয়।

সম্মানিত উলামায়ে কেরাম ও ইসলামপন্থীদের নিকট আমাদের আহ্বান,

আপনারা মানুষকে সঠিক দিকনির্দেশনা দিন, তাদের পাশে দাঁড়ান। মানুষকে ঈমান ও সবরের শিক্ষা দিন। বৈষয়িক উন্নতির পাশাপাশি আখিরাতমুখী হওয়ার দীক্ষা দিন। নিজের প্রয়োজনের পাশাপাশি অন্যের প্রয়োজনে এগিয়ে আসার সবক দিন। দৈনন্দিন সংকটের পাশাপাশি সামগ্রিকভাবে সেক্যুলার শাসনব্যবস্থার আধিপত্যের সংকট থেকে জাতির উত্তরণে ইসলামের করণীয় সবিস্তারে বর্ণনা করুন।

আমরা এদেশের মানুষের কাছে আহ্বান জানাই,

আপনারা নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হোন। নিত্যদিনের সংকটকে কেবল বিচ্ছিন্ন সমস্যা মনে না করে, সামগ্রিক লেন্সে দেখার চেষ্টা করুন। আজকের সমস্যা কাটিয়ে ওঠার পাশাপাশি কালকের সংকটের কথাও ভাবুন এবং সঠিক প্রক্রিয়ায় অগ্রসর হোন। জাতির প্রকৃত কল্যাণকামীদের পাশে এসে জড়ো হোন। অন্যথায় আন্দোলন ও আত্মত্যাগের ফলাফল আবারও লুণ্ঠিত হবে, যা আমরা এবার কেউই চাই না।

আল্লাহ তা’আলা সকলের জন্য সহজ করে দিন। (আমীন)

প্রস্তাবনা-১২
15/08/2026

প্রস্তাবনা-১২

Address

Dhaka

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Islamic Revival Front-IRF posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share