14/11/2024
> কয়েকজনকে বলতে শুনলাম ময়ুখ পাগলাকে খেয়ে ফেলতে। এটা বোকামী। ভারতীয় ইন্টেলিজেন্স এটাই চায় - একটা রিয়েল লাইফ রিঅ্যাকশন হোক।
ময়ূখের মত বস্তুগুলো এই সাইকেলের একেবারে তলার টিয়ারের মানুষ। এদেরকে ওরা রিপ্লেস করে ফেলবে দাফন করার আগেই। আমাদের চোখ দিতে হবে আরো উপরে।
> ভারতীয় স্ট্রাটেজিমেকারদের খুব সম্ভবতঃ কোনো একটা ধাপ শেষ হয়েছে এবং তারা পরবর্তি ধাপ এই রিপাবলিক টিভিকে দিয়ে শুরু করলো।
আমাদের জানা দরকার, অখন্ড ভারতের ব্যাপারটা ওদের শুধু মাঠ গরমের স্লোগান না। এটা খুবই রিয়েল একটা গোল তাদের জন্য। এই গোলে পৌঁছাতে তাদের খুব নির্দিষ্ট কিছু স্টেপ আছে যা তারা একের পর এক বাস্তবায়ন করে চলেছে।
> যেহেতু সেই ধাপ আগাগোড়া আমাদের জানা নেই তাই আমরা এর আগের অনেকগুলো স্টেপ ইগনোর করে গিয়েছি নিজের অজান্তেই।
> চট্টগ্রাম দখলের হুমকীর মত বাংলাদেশবিরোধী অবস্থান মহারাষ্ট্র ও ইউপির মত জায়গায় খুব কমন ছিলো। তারা ওই এলাকাগুলোতে বাংলাদেশ দখলের ন্যারেটিভ খুব জোরালোভাবে প্রতিষ্ঠিত করে ফেলেছে।
> এবার বাংলাদেশের কাছাকাছি এলাকাগুলোতে শুরু করেছে। ময়ুখের মত ক্রেজি পাবলিককে দিয়ে এসব বলানোর সুবিধা হলো, এতে মিডিয়া কাভারেজ ভালো আসে। যে এসব নিয়ে আগ্রহী ছিলো না সে-ও একবার উঁকি দিয়ে দেখবে।
আর বড় হিন্দু নেতারা উল্টোপাল্টা কথা বলার কারণ হলো, প্রতিটি মিডিয়ায় অন্ততঃ একটা করে নিউজ হবে। কয়েকটা বিশ্লেষণ হবে, কিছু ফলোআপ আর ইন্টারভিউ। তারপর পালটা বক্তব্য। এভাবেই একটা লাউড কিছু বলে ৫০০ গুণ কাভারেজ আদায় করে নেয়।
> বাংলাদেশের হিন্দুদের সিগন্যাল দেওয়া হলো। দেশী হিন্দুরা রাষ্ট্রের মধ্যে আরেক রাষ্ট্র বানিয়ে ফেলেছে। তাদের লাখ লাখ মেম্বারের চ্যানেল-গ্রুপ আছে। এক ক্লিকে আশি হাজার সমমনা হিন্দুকে একসাথে নির্দেশনা দিতে পারে। কোনো মিডিয়ার উপর ডিপেন্ড করা লাগে না।
এতে কী হবে জানেন? চট্টগ্রামের ইস্যু নিয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলবে না, রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা। কিন্তু আদৌ কি প্রকাশ্য বলার প্রয়োজন আছে? সমাবেশ করে যে হিন্দুদের কাছে এই মেসেজটা পৌছে দিতে চাচ্ছিলো, সেটা তারা অলরেডি দিতে পারছে।
আপনাদের ধারণাও নেই এভারেজ হিন্দু বাড়ি আর সার্কেলে কী ধরণের দেশবিরোধী আলোচনা হয়।
আর্মি প্রসংগঃ
> বাংলাদেশ আর্মি নিয়ে আপনার যত অভিযোগই থাক না কেন, এটা অবশ্যই মানবেন, ভারতের বিরুদ্ধে তারা আমাদের ফার্স্ট লাইন অব ডিফেন্স। ভারত যে এতদিন আমাদের দেশ দখল করে নেয়নি, সেটার কারণও এই বাংলাদেশ আর্মি।
> বাংলাদেশের কোন এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম নেই। থাকলেও কাজ খুব একটা হতো না। ধরুন, আমাদের ৫৫তম পদাতিক ডিভিশন ইন্ডিয়া থেকে মাত্র ৫০ কিলো দূরে। এইখানে একদম শর্ট রেঞ্জের মিসাইলগুলো এমনিই পৌছে যাবে। এইভাবে সীমান্তবর্তি ক্যান্টনমেন্টগুলো মিসাইলের বিরুদ্ধে একরকম অসহায়।
> আপনারা লাস্ট এক সপ্তাহ ধরে 'সেকেন্ড পিলখানা' ঘটানোর কথা শুনে থাকবেন। চিটাগং দখলের যেকোনো সিনারিওতে এটাই ভারতের জন্য সবচেয়ে রিয়েলিস্টিক স্ট্রাটেজি হবে।
> সামনে বাংলাদেশে নতুন ক্যু হোক বা সেকেন্ড পিলখানা হোক, সেটা অনেক রক্তক্ষয়ী হতে যাচ্ছে। কারণটা খুবই সিম্পল।
সৈনিক পর্যায়ের সোলজাররা ভারত বিরোধী। কিন্তু মাঝারি থেকে থ্রি বা ফোর স্টার জেনারেল পর্যন্ত অফিসাররা শুধু ভারতপন্থীই না, তারা ভারতেরই তৈরি।
একজন সৈনিকের একমাত্র জব আদেশ পালন করা। সামনের ইমারজেন্সীতে কোন সত্যি ইন্টেল পাওয়ার আগেই অফিসাররা আদেশ দিয়ে দেবে। তার উপরে গুজব ছড়াতে র এর লোকজন শান দিয়ে বসে আছে।
ধরুন কোম্পানি কমান্ডার ভারতপন্থী। সে একটা আদেশ দিলো। তার মধ্যে দুইজন প্লাটুন কমান্ডার দেশপ্রেমিক। এবার নিচের অফিসারদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই বিভক্তি দেখা দেবে।
এই বিভক্তি যেকোনো আর্মির শত্রু।
ইমার্জেন্সিতে আর্মির ডিসিপ্লিন ভেঙ্গে গেলে ইন্ডিয়া এমনিই জিতে গেছে।
> হাসিনা যেই ব্যপকহারে আর্মি ম্যানিপুলেট করেছে, সেইভাবে চাকরি থেকে বাদ দেওয়া যায়নি। এখন আর্মি অফিসার বরখাস্তের জন্য পাবলিক তো আর মানববন্ধন করতে পারে না।
মনে রাখবেন,
ভারত আমাদের এতবড় শত্রু যে তার কাছে এইসব বাম, লীগ, হাসিনা, সেকুলার, এনজিও - এগুলো পিপড়ার মত।
এই ফোকাস যেন না সরে।
✍️ Ahmad Khan