The Light of Islam

The Light of Islam Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from The Light of Islam, Charitable organisation, Dhaka.

09/08/2025

গুনাহ বা পাপকাজ ত্যাগের উপকারিতা
(ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম রাহিমাহুল্লাহ, আল-ফাওয়ায়েদ, পৃষ্ঠা: ২৫৫)

১. দুনিয়ার উপকারিতা
সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায় – অন্তরের নূর ও বাহ্যিক আভা বৃদ্ধি পায়। 📖 "যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তাকে (পাপ থেকে) মুক্তির পথ দিবেন।" (সূরা আত-তালাক: ২)

মানুষের অন্তরে মর্যাদা লাভ করে – মানুষ তাকে সম্মান করে।

পূর্বের ক্ষতিসাধনকারীদের কাছ থেকেও নিরাপত্তা পায় – অন্যরা সাহায্য ও সমর্থন করে।

গীবত থেকে সুরক্ষা – মানুষ তার ইজ্জত নষ্ট করতে পারে না।

মানুষ তাকে সাহায্য ও ভালোবাসার জন্য প্রতিযোগিতা করে – তার সাহচর্য পেতে চায়।

মানুষ ও জিনদের মধ্যের শয়তানরা দূরে সরে যায় – অন্তরের শান্তি পায়।

দুনিয়া তার চোখে তুচ্ছ হয়ে যায় – অপচয় ও অহংকার থেকে মুক্তি পায়।

আল্লাহ তাকে অন্তরের সুখ ও প্রশান্তি দান করেন – যা পাপে লিপ্ত অবস্থায় সে পেত না। "যে ব্যক্তি সৎকাজ করে, পুরুষ হোক বা নারী, এবং সে ঈমানদার – আমি তাকে অবশ্যই সুন্দর জীবন দান করব।" (সূরা আন-নাহল: ৯৭)

২. আখিরাতের উপকারিতা

আল্লাহ তার দুআ কবুল করেন। রাসূল ﷺ বলেছেন: "যে ব্যক্তি হারাম খাদ্য গ্রহণ করে না, তার দুআ কবুল হয়।" (তিরমিযি, হাদিস: ৬৯৮)

আল্লাহ তাআলার নৈকট্য অর্জিত হয় – তাঁর রহমতের ছায়ায় আসে।

ফেরেশতাদের নৈকট্য লাভ করে – তারা তার জন্য দুআ করে।

মৃত্যুকে ভয় করে না – বরং আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ কামনা করে।

পরকালের মর্যাদা ও রাজত্বের জন্য চেষ্টা করে।

আল্লাহর আনুগত্যের স্বাদ ফিরে পায় – ইবাদতে মিষ্টতা অনুভব করে।

ঈমানের মিষ্টতা লাভ করে – যা নবী ﷺ বর্ণনা করেছেন (বুখারি, মুসলিম)।

আরশ বহনকারী ফেরেশতাদের দুআ লাভ করে। "যারা আরশ বহন করে এবং তার চারপাশে থাকে, তারা তাদের প্রভুকে স্তুতি করে এবং ঈমানদারদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে।" (সূরা গাফির: ৭)

কেরামান কাতিবীন ফেরেশতারা খুশি থাকে – তার জন্য দুআ করে।

জ্ঞান, বুদ্ধি ও ঈমান বৃদ্ধি পায়।

আল্লাহর ভালোবাসা অর্জিত হয় – তাঁর সন্তুষ্টি লাভ করে।

আল্লাহর সাথে সাক্ষাতের আকাঙ্ক্ষা জাগে।

তাওবাহ ও পবিত্র জীবনে সন্তুষ্ট থাকে।

12/06/2025

🌓 ভোগ বনাম শান্তি: মানুষ কীসের পেছনে ছুটছে?
পৃথিবীর সৃষ্টি থেকে আজ পর্যন্ত যত আবিষ্কার হয়েছে—প্রযুক্তি, বিনোদনের উপকরণ, বিলাসবহুল জীবনযাপন—সবকিছুর পেছনে মূলত দুটি উদ্দেশ্য কাজ করেছে:
➊ ভোগ ➋ শান্তি
মানুষ যুগে যুগে ভেবেছে, বাহ্যিক আরাম-আয়েশেই শান্তি লুকিয়ে আছে। তাই তো গড়ে উঠেছে হাজারো আয়োজন—সিনেমা, নাটক, গান, খেলাধুলা, মদ, ভ্রমণ, রঙিন আলো, বিলাসিতা।
এসব দিয়ে মানুষ ভোগ করছে ঠিকই। কিন্তু প্রশ্ন হলো—শান্তি কি পাচ্ছে?
না। শান্তি পাচ্ছে না।
কারণ শান্তি কোনো বাহ্যিক উপকরণ নয়। এটি হৃদয়ের গভীর প্রশান্তির নাম। এটি আত্মার এক ধরনের তৃপ্তি—যা কখনোই টাকা, পদ, সম্পর্ক, কিংবা সুখ-সুবিধার ভাণ্ডার দিয়ে কেনা যায় না।
আজকের মানুষ যত বেশি ভোগে ডুবে যাচ্ছে, অশান্তির মাত্রাও ততই বাড়ছে। বাহ্যিক ঝলকে চোখ ধাঁধিয়ে গেলেও, ভেতরের শূন্যতা বেড়েই চলেছে।
দার্শনিক আর্থার শোপেনহাওয়ার বলেন:
“মানুষ সুখের জন্য যা কিছু করে, তার বেশিরভাগই দুঃখ থেকে মুক্তি পাওয়ার চেষ্টা মাত্র। আনন্দ ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু তৃষ্ণা চিরস্থায়ী।” 📘 The World as Will and Representation

🌪️ অপ্রাপ্তির বিভ্রমে শান্তির খোঁজ
মানুষের আরেকটি বড় ভুল—সে ভাবে, যেটা পায়নি, তাতেই শান্তি আছে। আরও কিছু অর্থ, খ্যাতি, প্রেম বা ক্ষমতা পেলেই হয়তো সে তৃপ্ত হবে।
তাই এক প্রাপ্তির পর আরেক প্রাপ্তির পেছনে ছুটে চলে। আশায় আশায় গড়ে তোলে জীবনের হিসাব।
কিন্তু দুঃখজনক বাস্তবতা হলো—এই ছুটে চলা থামে না। শেষমেশ থামে কবরেই, কিন্তু সেই কাঙ্ক্ষিত শান্তির দেখা মেলে না।
দার্শনিক লিও টলস্টয় বলেন:
“সত্যিকারের সুখ সেই মানুষই পায়, যে নিজের ভেতরের শান্তিকে খুঁজে পায়। বাইরের পৃথিবী কখনো তার ঘাটতি পূরণ করতে পারে না।” 📘 A Confession
আজকের সভ্যতা মানুষকে দিয়েছে অসীম ভোগের রাস্তা। কিন্তু শান্তির ঠিকানাটি এখনো বহু মানুষের কাছে অজানা।

📚 চিন্তাবিদদের প্রচেষ্টা ও শান্তির সীমারেখা
শান্তির খোঁজে মানুষ শুধু ভোগে থেমে থাকেনি। বিভিন্ন যুগে বহু দার্শনিক, চিন্তাবিদ, গবেষক নেমেছেন এই সন্ধানে।
তাঁরা গড়ে তুলেছেন নানা মতবাদ, দর্শন ও জীবনদর্শন:
🔹 গ্রিক যুক্তিবাদ ও রোমান অনুকরণ 🔹 পাশ্চাত্য মানবতাবাদ ও নিও-লিবারাল চিন্তা 🔹 মার্কসবাদ ও শ্রেণীহীন সমাজের স্বপ্ন 🔹 আধুনিকতা ও উত্তর-আধুনিকতার বস্তুনির্ভর চিন্তাধারা
এসব ধারণা এক সময় মানুষকে আশার আলো দেখিয়েছে। ভেবেছে, এবার হয়তো শান্তি মিলবে।
কিন্তু কিছু সময় পর দেখা গেছে—সেই দর্শনই জন্ম দিয়েছে নতুন সংকট। এক সমস্যার সমাধান করতে গিয়ে আরেক জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে।

যে জায়গা থেকে মুক্তির আশ্বাস এসেছিল, সেখান থেকেই তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি, সংঘাত, এবং বিভাজন।
ইতিহাস বারবার প্রমাণ করেছে: শান্তির সন্ধানে মানুষের দার্শনিক প্রচেষ্টা যত গভীরই হোক না কেন, শেষপর্যন্ত তা ব্যর্থতাই ডেকে এনেছে।

🧠 চূড়ান্ত প্রশ্ন
এই ব্যর্থতার ধাক্কায় এক অনিবার্য প্রশ্ন আমাদের সামনে এসে দাঁড়ায়:
🔸 “শান্তি যদি কোনো বাহ্যিক ভোগে না থাকে, তাহলে মানুষ কীসের পেছনে ছুটছে?” 🔸 “যদি শত শত বছরের চিন্তাধারাও শান্তি দিতে না পারে, তবে আসল শান্তির পথ কোনটি?”

🕯️ শেষ ভাবনা ও আমন্ত্রণ
আজ আমরা এমন এক সময়ে বাস করছি, যেখানে ভোগের পথ হাজারো, কিন্তু শান্তির দরজা যেন বন্ধ।
শান্তি আসে কোথা থেকে? কিভাবে আসে?
এই প্রশ্নের উত্তর ইনশাআল্লাহ আগামী লেখায় তুলে ধরা হবে। ততদিনে আপনি নিজে ভাবুন—আপনার জীবনে শান্তি কোথায় মেলে?

✍️ মন্তব্যে জানাতে পারেন আপনার অনুভব। এটা শুধু একটি লেখা নয়, বরং আমাদের প্রত্যেকের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

📌 পাঠ শেষে একটি ছোট অনুরোধ
ভোগ অনেক কিছু দিতে পারে। আরাম, আয়েশ, বিনোদন—সবই দিতে পারে।
কিন্তু একবার ভাবুন—ভোগ কি কখনো শান্তি দিতে পারে? আপনার উত্তর জানাতে ভুলবেন না। এটি আপনারই গল্প।

29/05/2025

بسم الله الرحمن الرحيم

যিলহজ : মুমিনের বিরাট প্রাপ্তির মাস

শায়খ ফজলুর রহমান কাসিমি হাফিযাহুল্লাহ

আল্লাহ রাব্বুল আলীমন কর্তৃক ঘোষিত একটি পবিত্র মাসে একজন মুমিনের অনেক প্রাপ্তি থাকে। শুধু মাস নয়; দিন, রাত, ঘণ্টা এমনকি একটি বিশেষ মুহূর্তকেও যদি আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পবিত্র ও ফযিলতপূর্ণ বলে ঘোষণা করে দেন, তাহলে তাতে আল্লাহপ্রেমী একজন মুমিনের জন্য অনেক কিছু পাওয়ার থাকে, যাকে সে কোনোভাবেই অবহেলা ও অবজ্ঞার দৃষ্টিতে দেখতে পারে না এবং অবমূল্যায়ন করে সে সময়গুলোকে হেলায় ফেলায় কাটিয়ে দিতে পারে না। বরং ওই সময়গুলোর সর্বোচ্চ মূল্যায়নই তার কাছে কাম্য।

এক্ষেত্রে একজন মুমিনকে প্রথমে যে কাজটি করতে হবে তা হল, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পক্ষ থেকে ওই দিনগুলোর কী ফযিলত ঘোষণা করা হয়েছে তা জানা। দ্বিতীয়ত ওই দিনগুলোতে কী কী করতে বলা হয়েছে এবং কী কী করতে নিষেধ করা হয়েছে তা জানা। তৃতীয়ত প্রথাগত কিছু কাজ, যা কোনো কোনো এলাকার লোকজন যুগের পর যুগ ধরে পালন করে আসছে, শরিয়তে যার কোনো ভিত্তি নেই, সেসব কাজ থেকে নিজেকে দূরে রাখা এবং অন্যদেরকেও দূরে রাখতে চেষ্টা করা।

এ নিবন্ধে যিলহজ মাসের এ ধরনের মৌলিক কয়েকটি বিষয় নিয়ে কিছু আলোচনা করার চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা সঠিক ও উপকারী কথাগুলো পেশ করার তাওফীক দান করুন। আমীন।

যিলহজ মাসের ফযিলতপূর্ণ কিছু আমল

যিলহজ মাসের সর্বাধিক ফযিলতপূর্ণ আমল হল, হজ পালন করা। দ্বিতীয় পর্যায়ে ফযিলতপূর্ণ আমল হল, কুরবানি করা। তৃতীয় পর্যায়ে, যিলহজের প্রথম দশটি দিন হাদীসে বর্ণিত বিভিন্ন আমলের মধ্যে কাটানো।

১ম আমল : হজ করা

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেন-

وَلِلّهِ عَلَى النَّاسِ حِجُّ الْبَيْتِ مَنِ اسْتَطَاعَ إِلَيْهِ سَبِيلاً وَمَن كَفَرَ فَإِنَّ الله غَنِيٌّ عَنِ الْعَالَمِينَ

আল্লাহর (সন্তুষ্টির) জন্য বাইতুল্লাহর হজ করা সেসব মানুষের ওপর কর্তব্য, যারা বাইতুল্লাহ পর্যন্ত পৌঁছার সামর্থ রাখে। কেউ কুফরি করলে (তার জানা উচিত,) আল্লাহ সৃষ্টিকুল থেকে সম্পূর্ণ অমুখাপেক্ষী। -সূরা আল ইমরান (০৩) : ৯৭

আবু হুরাইরা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,

مَنْ حَجَّ لِلَّهِ فَلَمْ يَرْفُثْ، وَلَمْ يَفْسُقْ، رَجَعَ كَيَوْمِ وَلَدَتْهُ أُمُّه

যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য হজ করবে এবং হজ করতে গিয়ে কোনো প্রকার অশ্লীলতা ও গুনাহে লিপ্ত হবে না, সে হজ থেকে সে দিনের মতো নিষ্পাপ হয়ে ফিরে আসবে, যে দিন তার মা তাকে জন্ম দিয়েছেন। সহিহ বুখারি : ১৫২১

২য় আমল : কুরবানি করা

আয়েশা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,

مَا عَمِلَ آدَمِيٌّ مِنْ عَمَلٍ يَوْمَ النَّحْرِ أَحَبَّ إِلَى اللهِ مِنْ إِهْرَاقِ الدَّمِ، إِنَّهُ لَيَأْتِي يَوْمَ القِيَامَةِ بِقُرُونِهَا وَأَشْعَارِهَا وَأَظْلاَفِهَا، وَأَنَّ الدَّمَ لَيَقَعُ مِنَ اللهِ بِمَكَانٍ قَبْلَ أَنْ يَقَعَ مِنَ الأَرْضِ، فَطِيبُوا بِهَا نَفْسًا.

কুরবানির দিন আল্লাহর কাছে (কুরবানির পশুর) রক্ত প্রবাহিত করার চেয়ে অধিক প্রিয় কোনো আমল আদম সন্তান করতে পারে না। কুরবানির পশু তার শিং, পশম, খুর নিয়ে কেয়ামতের দিন হাজির হবে। আর কুরবানির পশুর রক্ত যমিনে পড়ার আগে আল্লাহর দরবারে পৌঁছে যায়। অতএব তোমরা আনন্দচিত্তে কুরবানি করো। -সুনানে তিরমিজি : ১৪৯৩

৩য় আমল : প্রথম নয় দিন, বিশেষভাবে আরাফার দিন রোযা রাখা

যিলহজের প্রথম দশ দিনের ফযিলত ও তাতে করণীয় বিভিন্ন আমলের কথা বেশ কিছু হাদীসে এসেছে। নিম্নে তার কয়েকটি উল্লেখ করা হল,

আবদুল্লাহ বিন আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন,

مَا مِنْ أَيَّامٍ العَمَلُ الصَّالِحُ فِيهِنَّ أَحَبُّ إِلَى اللهِ مِنْ هَذِهِ الأَيَّامِ العَشْرِ، فَقَالُوا: يَا رَسُولَ اللهِ، وَلاَ الجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللهِ؟ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: وَلاَ الجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللهِ، إِلاَّ رَجُلٌ خَرَجَ بِنَفْسِهِ وَمَالِهِ فَلَمْ يَرْجِعْ مِنْ ذَلِكَ بِشَيْءٍ.

এমন কোনো দিন নেই, যে দিনের নেক আমল আল্লাহ তাআলার নিকট যিলহজ মাসের এই দশ দিনের নেক আমল অপেক্ষা অধিক প্রিয়। সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল, আল্লাহ তাআলার পথে জিহাদ করাও কি (এত প্রিয়) নয়? রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন, আল্লাহ তাআলার পথে জিহাদও তার চেয়ে বেশি প্রিয় নয়। তবে জান-মাল নিয়ে যদি কোনো লোক আল্লাহ তাআলার পথে জিহাদে বের হয় এবং যদি সে এ দুটির কোনোটিই নিয়ে আর ফিরে না আসতে পারে, তার কথা (অর্থাৎ সেই শহীদের মর্যাদা) আলাদা। -সুনানে তিরমিজি : ৭৫৭

অপর এক বর্ণনায় এ হাদীসের শেষাংশে আরও বর্ণিত হয়েছে,

فَأَكْثِرُوا فِيهِنَّ مِنَ التَّسْبِيحِ وَالتَّهْلِيلِ وَالتَّكْبِيرِ وَالتَّحْمِيدِ

সুতরাং তোমরা এ দিনগুলোতে অধিক পরিমাণ সুবহানাল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আল্লাহু আকবার ও আলহামদুলিল্লাহ পাঠ করো। -মুসনাদে আব্দ ইবনি হুমায়দ : ৮০৭

এক হাদীসে এসেছে,

كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَصُومُ تِسْعَ ذِي الْحِجَّةِ، وَيَوْمَ عَاشُورَاءَ، وَثَلَاثَةَ أَيَّامٍ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ، أَوَّلَ اثْنَيْنِ مِنَ الشَّهْرِ وَالْخَمِيسَ

রাসুলুল্লাহ ﷺ যিলহজ মাসের নয়দিন রোজা রাখতেন…। –সুনানে আবি দাউদ : ২৪৩৭



যিলহজের এ দিনগুলোর এত ফযিলতের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে হাফেয ইবনে হাজার রহ. বলেন-

والذي يظهر أن السبب في امتياز عشر ذي الحجة لمكان اجتماع أمهات العبادة فيه وهي الصلاة والصيام والصدقة والحج ولا يتأتى ذلك في غيره . فتح الباري لابن حجر رحمه الله

“যিলহজের দশ দিনের এ বৈশিষ্টের যে কারণ প্রতিভাত হয়, তা হচ্ছে, এ দিনগুলোতে মৌলিক ইবাদতগুলোর মিলন ঘটে। যথা নামাজ, রোজা, সাদাকা, হজ। আর এতগুলো মৌলিক ইবাদত এ দিনগুলো ব্যতীত অন্য কোনো দিনে একসাথে হয় না।” -ফাতহুল বারী, হাফেয ইবনে হাজার

আরাফার দিনের রোযা

আবু কাতাদা আনসারি রাযি. বর্ণনা করেন,

وَسُئِلَ عَنْ صَوْمِ يَوْمِ عَرَفَةَ؟ فَقَالَ: «يُكَفِّرُ السَّنَةَ الْمَاضِيَةَ وَالْبَاقِيَةَ»

রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে আরাফার দিনের রোজা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলো। তখন তিনি বললেন, তা অতীত এক বছরের এবং পরবর্তী এক বছরের গুনাহ মোচন করে দেবে। -সহিহ মুসলিম : ১১৬২

তবে হাজীদের জন্য এ দিন রোজা রাখার অনুমতি নেই। কারণ, হজের সকল আমলের মধ্যে আরাফার ময়দানে অবস্থান করা তুলনামূলক একটু কঠিন আমল। তাই এ দিন রোজা রাখলে শারীরিক দুর্বলতার কারণে এ দিনের অন্যান্য আমলে ঘাটতি দেখা দিতে পারে বা তা অনেক কষ্টকর হয়ে যেতে পারে।

হযরত আবু হুরাইরা রা. বর্ণনা করেন,

أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَهَى عَنْ صَوْمِ يَوْمِ عَرَفَةَ بِعَرَفَةَ

রাসূলুল্লাহ ﷺ আরাফার ময়দানে আরাফার দিনের রোজা রাখতে নিষেধ করেছেন। সুনানে আবি দাউদ : ২৪৪০

অর্থাৎ, আরাফার দিনের মহান ফযিলতপূর্ণ রোজাটি সেসব ব্যক্তিদের জন্য, যারা সে দিন আরাফার ময়দানে অবস্থান করছেন না। আর যারা হজ পালনের উদ্দেশ্যে আরাফার ময়দানে অবস্থান করছেন, তাদের জন্য এ রোজা নয়।

৪র্থ আমল : তাশাব্বুহ বিল ইহরাম বা নখ, চুল ও শরীরের কোনো পশম না কাটা

যারা হজে যাননি, হাজীদের ইহরামের অনুকরণে তাদের কিছু আমল করার কথা হাদীসে এসেছে। বিশেষত যারা কুরবানি করবেন, তাদের জন্য এ আমল। হাজীদের এহরাম অবস্থায় যেসব কাজ নিষেধ, সে ধরনের কিছু কাজ কুরবানি করতে ইচ্ছুক এমন ব্যক্তিদের জন্যও নিষেধ করা হয়েছে। তবে এ নিষেধাজ্ঞা মেনে চলা একটি মুস্তাহাব আমল। মেনে না চললে কোনো গুনাহ নেই। হাদীসে এমনই ইঙ্গিত পাওয়া যায়। তবে এ আমল অবশ্যই ফযিলতপূর্ণ একটি আমল।

উম্মে সালামা রা. বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

إِذَا دَخَلَتِ الْعَشْرُ، وَأَرَادَ أَحَدُكُمْ أَنْ يُضَحِّيَ، فَلَا يَمَسَّ مِنْ شَعَرِهِ وَبَشَرِهِ شَيْئًا

যিলহজের দশ দিন শুরু হলে তোমাদের যারা কুরবানি করার ইচ্ছা করেছে, তারা যেন তাদের চুল বা শরীরের কোনো পশম না ফেলে। সহিহ মুসলিম : ১৯৭৭

একই বর্ণনাকারী থেকে বর্ণিত আরেকটি হাদিসে নখ না কাটার কথাও এসেছে,

وَلَا يَقْلِمَنَّ ظُفُرًا

… তারা যেন তার নখও না কাটে। সহিহ মুসলিম : ১৯৭৮

এ দিনগুলোতে বর্জনীয় কিছু কাজ

১. আরাফা উদযাপন

আরাফার দিনে উকূফে আরাফার সময়ে আরাফার ময়দানের বাইরে আরাফার আদলে সময় কাটানো। অর্থাৎ যারা হজ করছেন না, তারা হজ পালনকারীদের মতো সময় কাটানো। আরবী পরিভাষায় এ আমলকে التعريف (তা’রীফ) বলা হয়।

এর একটি সুরত হচ্ছে, উকূফে আরাফার সময় অনুযায়ী যেকোনো জায়গায় একাকী বা কয়েকজন একত্রিত হয়ে দুয়া ও কান্নাকাটি করা। এ আমলটিকে কেউ কেউ উত্তম বলেছেন, আবার কেউ কেউ বিদআত ও মাকরূহ বলেছেন।

উপরিউক্ত সুরত ব্যতীত এর আরও কিছু সুরত রয়েছে, যেগুলো বিদআত হওয়ার বিষয়ে কারও কোনো দ্বিমত নেই। সেসব সুরতের মধ্যে রয়েছে যথাক্রমে :

১. এ আমলের জন্য কোনো একটি জায়গাকে নির্দিষ্ট করে নেওয়া এবং সেখানে উপস্থিত হয়ে আরাফা উদযাপন করা।

২. শহরের সবচাইতে বড় মসজিদটিকে এ আমলের জন্য নির্দিষ্ট করে নেওয়া।

৩. শহরের সবচাইতে বড় ময়দানটিকে এ আমলের জন্য নির্দিষ্ট করে নেওয়া।

৪. পৃথিবীর বিশেষ কোনো মসজিদকে এ আমলের জন্য নির্দিষ্ট করে সেখানে সফর করে যাওয়া।

৫. মানুষকে ব্যাপকভাবে উদ্বুদ্ধ করে সেখানে বড় ধরনের জামাআতের আয়োজন করা।

৬. এ আমলের জন্য বাইতুল মাকদিসকে নির্বাচন করা এবং এ উদ্দেশ্যে সেখানে সফর করা।

৭. আরাফা উদযাপনের জন্য বিশেষ কোনো পদ্ধতি নির্দিষ্ট করে নেওয়া এবং তা পালনের প্রতি যত্নবান হওয়া।

৮. নির্দিষ্ট পরিমাণে আমলটি করতে পারলে হজ আদায় হবে বলে মনে করা।

এ বিষয়গুলো বিদআত ও হারাম হওয়ার বিষয়ে কারও কোনো দ্বিমত নেই। ইমাম তুরতূশী (মৃত্যু : ৫২০ হি:) রহ. তাঁর ‘আল-হাওয়াদিস ওয়াল-বিদা’ কিতাবে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। তিনি লেখেন,

فاعلموا- رحمكم الله – أن هؤلاء الأئمة علموا فضل الدعاء يوم عرفة، ولكن علموا أن ذلك بموطن عرفة، لا في غيرها ولا منعوا من خلا بنفسه فحضرته نية صادقة أن يدعو الله تعالى ، وإنما كرهوا الحوادث في الدين ، وأن يظن العوام أن من سنَّة يوم عرفة بسائر الآفاق الاجتماع والدعاء ، فيتداعى الأمر إلى أن يدخل في الدين ما ليس منه.

وقد كنت ببيت المقدس ، فإذا كان يوم عرفة حشر أهل السواد وكثير من أهل البلد ، فيقفون في المسجد ، مستقبلين القبلة مرتفعة أصواتهم بالدعاء، كأنه موطن عرفة ، وكنت أسمع سماعاً فاشياً منهم أن من وقف ببيت المقدس أربع وقفات ، فإنها تعدل حجَّة ، ثم يجعلونه ذريعة إلى إسقاط فريضة الحج إلى بيت الله الحرام.هـ. الحوادث والبدع للطرطوشي ص: 116، 117

“জেনে রাখো, (আল্লাহ তোমাদের প্রতি রহম করুন) নিশ্চয়ই এ সকল ইমাম আরাফার দিনে দুয়ার ফজিলত ও মর্যাদা সম্পর্কে অবগত। কিন্তু তাঁরা জানেন যে, এ ফজিলত হচ্ছে আরাফার ময়দানে; অন্য জায়গায় নয়। কেউ যদি একাকী কোথাও অবস্থান করে এবং সে যদি খাঁটি দিলে আল্লাহ তাআলার কাছে দুয়া করে, তাহলে ওলামায়ে কেরাম তাকে নিষেধ করেন না। তারা শুধু দ্বীনের মধ্যে কোনো বিদআতের প্রচলনকে অপছন্দ করেন। মানুষ যে মনে করে, আরাফার দিনের সুন্নত আমল হচ্ছে, দিকদিগন্তের সবাই একত্রিত হয়ে দুয়া করা—এটাকে তারা অপছন্দ করেন। এভাবে করলে বিষয়টি এমন হয়ে যায় যে, দ্বীনের মধ্যে এমন কিছু ঢুকে পড়েছে, যা দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত নয়।

আমি একবার বাইতুল মাকদিসে ছিলাম। আরাফার দিন আসলে সেখানে বিশাল জনসমাগম হয় এবং শহরের অধিকাংশ মানুষ জড়ো হয়ে যায়। তারা মসজিদে অবস্থান করে। কেবলামুখী হয়ে উচ্চস্বরে দুয়া করতে থাকে। পরিস্থিতি এমন হয়ে যায়, যেন তারা আরাফার ময়দানেই আছে। আমি তাদের মুখে ব্যাপকভাবে শুনতে পেতাম, তারা বলত, যে ব্যক্তি বাইতুল মাকদিসে এভাবে চারবার অবস্থান করবে, তার এ অবস্থান হজের বরাবর হয়ে যাবে। তারা তাদের এ আমলটিকে বাইতুল্লাহিল হারামে হজ করার ফরজ দায়িত্ব আদায়ের মাধ্যম হিসাবে গ্রহণ করে।” -আলহাওয়াদিস ওয়ালবিদা, পৃ. ১১৬-১১৭

ইমাম বায়হাকী রহ. বর্ণনা করেন-

وروى البيهقي عن شعبة قال : سألت الحكم وحماداً عن اجتماع الناس يوم عرف في المساجد فقالا: هو محدث.رواه البيهقي في سننه كتاب الحج ، باب التعريف بغير عرفات 5/117، 118

“শু‘বা রহ. বলেন, আরাফার দিনে যে মানুষ বিভিন্ন মসজিদে একত্রিত হয়, সে সম্পর্কে আমি হাকাম ও হাম্মাদকে জিজ্ঞেস করেছি। তাঁরা দুজনই বলেছেন, এটা মুহদাস-বিদআত।” -সুনানে বায়হাকী, কিতাবুল হাজ্জ, বাবুত তারীফ বিগাইরি আরাফাত ৫/১১৭-১১৮

وروى كذلك عن إبراهيم – النخعي – قال: هو محدث. رواه البيهقي في سننه 5/118كتاب الحج ، باب التعريف بغير عرفات

“অনুরূপভাবে ইবরাহীম নাখায়ী থেকেও বর্ণিত আছে। তিনি বলেছেন, এটা বিদআত।” -সুনানে বায়হাকী, কিতাবুল হাজ্জ, বাবুত তারীফ বিগাইরি আরাফাত ৫/১১৮

তুরতূশী রহ.-এর বিশ্লেষণ এবং সালাফের অনেকে একে বিদআত বলার কারণে এ কথা প্রমাণিত হয় যে, আরাফা উদযাপনের প্রাথমিক পর্যায়ের একটি সুরত বৈধ হলেও এর সঙ্গে এত পরিমাণ বিদআত যুক্ত হয়েছে, যার দারুন ওলামায়ে কেরাম একে বিদআত বলে দিয়েছেন। আর বর্তমানে যেহেতু আরও বেশি পরিমাণ বিদআত এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে, তাই এটা পরিহার করা জরুরি।

২. রসম পালন হিসেবে কুরবানির পশুকে গোসল করানো ও সাজানো

কুরবানির পশুকে সাবান দিয়ে গোসল করানো এবং তেল মেখে নানান জিনিস দিয়ে সাজানোর একটি বদ রসমের প্রচলনও মানুষের মাঝে দেখা যায়। কুরআন, সুন্নাহ বা ফিকহের কিতাবাদিতে এর কোনো ভিত্তি নেই। কুরবানির পশুকে যথাযথ যত্ন করা একটি কাম্য বিষয়। তবে সামাজিক রসম হিসেবে অতিরিক্ত এমন কোনও কিছুই করা যাবে না যার কোনো ভিত্তি কুরআন-সুন্নাহতে নেই এবং যা ধীরে ধীরে বিদআতে রূপ নিতে পারে। তাই এ ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকা চাই।

এক নজরে যিলহজের প্রথম দশকে করণীয় কিছু আমল

১. যাদের হজ করার সামর্থ্য রয়েছে, তারা হজ করবে। মাকবুল ও ত্রুটিমুক্ত হজ একজন হাজীকে জন্মের দিনের মতো নিষ্পাপ করে দেয়।

২. কুরবানি করার মতো সামর্থ্য যাদের রয়েছে, তারা কুরবানি করবে। কুরবানির দিন কুরবানির চাইতে ফজিলতপূর্ণ আর কোনো আমল নেই। কিয়ামতের দিন কুরবানির পশুর পশম, শিং, খুরসহ সব কিছু আমলের পাল্লায় মাপা হবে। কুরবানির পশুর রক্ত মাটিতে পড়ার আগেই তা আল্লাহর দরবারে পৌঁছে যায়।

৩. যারা কুরবানি করার নিয়ত করেছে, তারা যিলহজের চাঁদ দেখার পর থেকে দশ তারিখে কুরবানি করার আগ পর্যন্ত নখ, চুল ও শরীরের কোন পশম কাটবে না।

৪. যারা আরাফার ময়দানের বাইরে রয়েছে, তারা আরাফার দিন রোজা রাখবে। এ রোজার ওসিলায় তাদের পূর্বাপর দুই বছরের গুনাহ মাফ হয়ে যাবে।

৫. যিলহজের প্রথম দশ দিনে বেশি পরিমাণে সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আল্লাহু আকবার পড়বে।

৬. হাদীস শরীফে এ দশটি দিনকে সর্বোচ্চ ফজিলতপূর্ণ দিন বলা হয়েছে। তাই এ দিনগুলোর আমল অবশ্যই অন্যান্য দিনের আমলের তুলনায় বেশি ফযিলতপূর্ণ হবে। অতএব এ ফজিলত অর্জনে সর্বাত্মক চেষ্টা করা চাই।

৭. বাইতুল্লাহর মুসাফিরদের কাছে অন্যরা খুব বেশি দুয়া চাইবে।

৮. নিজের কুরবানির পশু নিজে জবাই করবে।

৯. নিজের পছন্দের পশুটিকে আল্লাহর রাস্তায় কুরবান করে দেবে। যেটিকে জবাই করতে কষ্ট হবে ও বেশি ত্যাগ হবে, সেটিকেই কুরবানি করবে।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে এ আমলগুলো করার তাওফীক দান করুন। আমীন।

09/05/2025

যৌবনের সবলতা: বিস্মরণের ঝুঁকি ও হেদায়াতের সুযোগ
মানুষের জীবন-চক্রে তিনটি বড় ধাপ রয়েছে: জন্মের পূর্বকালীন দুর্বলতা, জীবনের মাঝামাঝি সবলতা, এবং বার্ধক্যের পুনরায় দুর্বলতা। আল্লাহ তাআলা কুরআনে ইরশাদ করেন:
“আল্লাহ তোমাদেরকে প্রথমে দুর্বল অবস্থায় সৃষ্টি করেছেন, তারপর দুর্বলতার পর শক্তি দিয়েছেন, এরপর শক্তির পর আবার দুর্বলতা ও বার্ধক্য এনেছেন।” [সূরা আর-রূম, ৩০:৫৪]
এই আয়াতের আলোকে বোঝা যায়—জীবনের সূচনা ও সমাপ্তি দুর্বলতায় ঘেরা; শুধু মধ্যবর্তী সময়েই সাময়িক শক্তি ও সক্ষমতার সময় আসে, যা মূলত পরীক্ষা ও দায়িত্ব পালনের একটি স্বর্ণালী সুযোগ।
দুঃখজনকভাবে, এই সবল সময়েই অধিকাংশ মানুষ আল্লাহ তাআলাকে ভুলে যায়। যখন মানুষ অসুস্থ, দুঃখী কিংবা বিপদে থাকে তখন সে আল্লাহকে ডাকে; কিন্তু যখন সুস্থতা, আরাম, এবং স্বাধীনতা ফিরে পায় তখন সে গাফেল হয়ে পড়ে। কুরআনে বলা হয়েছে:
“মানুষকে যখন কষ্ট স্পর্শ করে, তখন সে শুয়ে, বসে কিংবা দাঁড়িয়ে আমাকে ডাকে। কিন্তু যখন আমি তার কষ্ট দূর করে দেই, তখন সে এমনভাবে চলতে থাকে যেন সে কখনো আমাকে ডাকে নাই।” [সূরা ইউনুস, ১০:১২]
এই গাফেলি বিশেষ করে যুবসমাজের মাঝে ব্যাপকভাবে দেখা যায়। যৌবন এমন একটি সময়, যখন মানুষের মধ্যে শক্তি, সাহস, স্বপ্ন ও স্বাধীনতা থাকে। কিন্তু এই সবই যদি আল্লাহর ভয়ে নিয়ন্ত্রিত না হয়, তাহলে তা মানুষকে সহজেই গোনাহ ও গাফেলির পথে নিয়ে যায়।
তবে যে যুবক এই সময়েও আল্লাহকে স্মরণে রাখে, তাকওয়ার সঙ্গে জীবন যাপন করে, সে-ই আল্লাহর কাছে প্রকৃত মূল্যবান হয়ে ওঠে। রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন:
“সাত শ্রেণির মানুষ কিয়ামতের দিন আরশের ছায়া পাবে… তাদের একজন হলো সেই যুবক, যে তার যৌবনকাল আল্লাহর ইবাদতে কাটিয়েছে।” [সহীহ বুখারী ও মুসলিম]
এই হাদীস প্রমাণ করে, যুবাবস্থা হচ্ছে এমন একটি বিশেষ সময়কাল, যার প্রতিটি মুহূর্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ে করা ইবাদত, তওবা, দাওয়াত, সমাজসেবা, ইলম চর্চা—সবকিছুই বহুগুণ সওয়াবের কারণ হতে পারে।
নবীজী (সা.) আরও বলেন:
“দুইটি নিয়ামতের ব্যাপারে অধিকাংশ মানুষ প্রতারিত—একটি হলো সুস্থতা, অপরটি হলো অবসর সময়।” [সহীহ বুখারী]
এ কথায় পরিষ্কার বোঝা যায়, আমাদের দেহের শক্তি, মনের স্থিরতা, এবং সময়ের অবসর—এসবই মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে দেওয়া এক একটি বিশেষ আমানত। এই সময়ের সদ্ব্যবহার না করলে কিয়ামতের দিন কঠিন হিসাবের মুখোমুখি হতে হবে।
উপসংহার
মানুষের সবলতা, বিশেষত যুবাবস্থা, কোনো অহংকার বা স্বাধীনতা প্রকাশের সময় নয়—বরং এটা এক মহান দায়িত্ব ও পরীক্ষার সময়। যিনি এই সময়ে নিজের দুর্বলতা স্মরণ রাখেন, আল্লাহর সামনে নিজেকে বিনয়ী করে পেশ করেন, এবং দ্বীনের পথে নিজেকে নিয়োজিত করেন—তিনিই সফল। তাই আমাদের উচিত, এই জীবনের সবচেয়ে শক্তিশালী মুহূর্তগুলো আল্লাহর পথে ব্যয় করা, যেন আখিরাতে আমাদের মুখ উজ্জ্বল হয়।

04/05/2025

শিরোনাম: ইসলামপন্থী রাজনীতি, ওলামায়ে কেরামের ভূমিকা ও বর্তমান বাস্তবতা: আত্মসমালোচনা ও উত্তরণের পথ

**ভূমিকা**
বাংলাদেশসহ বিশ্ব মুসলিম সমাজে ইসলামপন্থী রাজনীতি ও ওলামায়ে কেরামের ভূমিকা নিয়ে যে চর্চা চলছে, তা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই প্রতিক্রিয়াশীল কর্মকাণ্ড ও স্বল্পমেয়াদি প্রতিবাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ। এই প্রবন্ধে আমরা বর্তমান ইসলামী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, বিদ্যমান সীমাবদ্ধতা, আত্মসমালোচনার প্রয়োজনীয়তা এবং কাঠামোগত উত্তরণের পথ নিয়ে আলোচনার প্রয়াস পাব। এই লেখায় প্রাসঙ্গিক কুরআন-সুন্নাহর উদ্ধৃতি ও কিছু গবেষণা প্রবন্ধ ও থিসিস রেফারেন্স যুক্ত করে একটি প্রাঞ্জল বিশ্লেষণ তুলে ধরা হয়েছে।

**১. প্রতিক্রিয়াশীল রাজনীতির সীমাবদ্ধতা**
আমাদের রাজনীতি যখনই তথাকথিত প্রগতিশীল বা ইসলামবিরোধী শক্তির কোনো কর্মকাণ্ডের জবাবে সংগঠিত হয়, তা মূলত আবেগনির্ভর প্রতিবাদে সীমাবদ্ধ থেকে যায়। সাময়িক প্রভাব থাকলেও এসব আন্দোলন স্থায়ী সমাধান দিতে ব্যর্থ। যেমন Dr. Asef Bayat তার "Post-Islamism: The Changing Faces of Political Islam" প্রবন্ধে উল্লেখ করেন যে, ইসলামপন্থীরা রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মে দীর্ঘমেয়াদি কাঠামো নির্মাণে ব্যর্থ হলে আন্দোলনগুলো তাৎক্ষণিকতা ও প্রতিক্রিয়াশীলতায় সীমিত হয়ে যায়।

**২. জ্ঞানের দুর্বলতা ও কাঠামোগত অজ্ঞতা**
ইসলামী রাজনৈতিক নেতৃত্বে যেসব ঘাটতি লক্ষ করা যায়, তার অন্যতম হলো দ্বীনি জ্ঞানের গভীরতার অভাব ও আধুনিক জ্ঞানের প্রতি অবহেলা। মাওলানা সাইয়্যেদ আবুল আলা মওদূদী তাঁর রচনায় বারবার আহ্বান করেছেন চিন্তাশীল ইসলামী নেতৃত্ব গঠনের। একইভাবে Dr. Tariq Ramadan তাঁর "Western Muslims and the Future of Islam" বইয়ে বলেন, “Without critical consciousness and multidimensional knowledge, no Islamic revival can be sustainable.”

**৩. মাদ্রাসা শিক্ষার আধুনিকায়ন ও সমন্বয়হীনতা**
বর্তমানে অধিকাংশ মাদ্রাসা শিক্ষায় কেবল কিতাবি জ্ঞান কেন্দ্রিক পাঠ্যক্রম চলছে। ফলশ্রুতিতে ছাত্ররা বাস্তব রাজনীতি, আধুনিক তর্কপ্রযুক্তি ও দাওয়াহ কৌশলে দুর্বল থেকে যাচ্ছে। একটি গবেষণায় (Chowdhury, 2019, "Madrasah Education and Social Mobility in Bangladesh") দেখা যায়, মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের সমাজে নেতৃত্ব দিতে হলে আধুনিক জ্ঞান, বিশ্লেষণ ক্ষমতা এবং দাওয়াহ কৌশল রপ্ত করাটা অত্যন্ত জরুরি।

**৪. চরিত্র, নেতৃত্ব ও আত্মশুদ্ধির সংকট**
ইসলামী নেতৃত্বের মূল হচ্ছে তাকওয়া, ইনসাফ ও আত্মশুদ্ধি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সিরাতে যেমন দেখি, খেলাফতের যোগ্যতা কেবল বক্তৃতায় আসে না, বরং তা আত্মনিবেদন, ত্যাগ ও আল্লাহভীতির মাধ্যমে গঠিত হয়। এখানে রেফারেন্সযোগ্য হলো Imam Al-Ghazali এর "Nasihat al-Muluk"—যেখানে তিনি নেতৃত্বের প্রকৃতি হিসেবে তাকওয়া ও ইনসাফকে মুখ্য হিসেবে দেখিয়েছেন।

**৫. নির্বাচনী ব্যবস্থার বাস্তবতা ও আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধকতা**
ইসলামী দলগুলো নির্বাচনী ব্যবস্থায় অংশ নিয়ে বড় ধরনের বাধার মুখে পড়ে থাকে। ইসলামপন্থীদের প্রতি আন্তর্জাতিক শক্তির ভীতি এবং রাজনৈতিক অবরোধের দৃষ্টান্ত দেখা যায় মিশরে (মুসলিম ব্রাদারহুড), আলজেরিয়ায় (FIS), তুরস্কে (এরবাকানের Welfare Party)। এই প্রেক্ষিতে Dr. John L. Esposito তাঁর "The Future of Islam" গ্রন্থে বলেন, “The West often supports democracy in the Muslim world only until Islamists win.”

**৬. উত্তরণের পথ: কাঠামোগত ও চিন্তাশীল প্রস্তুতি**
ইসলামী বিজয় কেবল নির্বাচনের মাধ্যমে সম্ভব—এমন ধারণা বাস্তবতা বিবর্জিত ও অপরিণত। দরকার দাওয়াতি কাঠামো, গভীর সংগঠন, আদর্শিক জনচেতনা এবং কুরআন-সুন্নাহ ভিত্তিক বহুমুখী শিক্ষাব্যবস্থা। Shaykh Abul Hasan Ali Nadwi তাঁর "Muslims in the West: The Message and the Mission" গ্রন্থে বলেন, “Revival begins not from the state but from the heart and mind of the believer.”

**৭. উপসংহার**
ইসলামী রাজনীতির সাফল্য নির্ভর করে কেবল প্রতিক্রিয়াশীলতা নয়, বরং চিন্তাশীল ও কাঠামোগত আত্মসমালোচনার উপর। আমাদের প্রয়াস হওয়া উচিত এমন এক চিন্তা-আন্দোলন গঠন করা, যেখানে ইসলামী আকীদা, আধুনিক জ্ঞান, আত্মশুদ্ধি এবং বাস্তব রাজনীতির সমন্বয় ঘটে। বাহ্যিক বিজয় না এলেও, আল্লাহর সন্তুষ্টি এবং আখিরাতের মুক্তিই আমাদের সর্বোচ্চ সফলতা।

আল্লাহ তাআলা বলেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ কোনো জাতির অবস্থা পরিবর্তন করেন না, যতক্ষণ না তারা নিজেদের অবস্থা নিজেরা পরিবর্তনের চেষ্টা করে।" (সূরা রা’দ: ১১)

আল্লাহ আমাদের সবাইকে এই পরিবর্তনের পথের দিশা দিন—আমিন।
-----হাবিব

02/05/2025

নারী: অবহেলার ইতিহাস, ইসলামের সম্মান ও উত্তম চরিত্রের শর্ত

ভূমিকা:
নারী—এই একটি শব্দ পৃথিবীর ইতিহাসে যুগে যুগে যেমন ভালোবাসার প্রতীক হয়েছে, তেমনি অবহেলা, নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকারও হয়েছে। কখনো মা, কখনো স্ত্রী, আবার কখনো মেয়ে বা বোন হয়ে সে মানবজীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, সভ্যতা যত আধুনিক হয়েছে, নারীর প্রতি অবিচারের রূপ ততই পরিবর্তিত হয়ে নতুন মুখোশ পরেছে।

নারী ইতিহাসের পরিক্রমা:
প্রাচীন গ্রীস, রোম, ভারত কিংবা মধ্যযুগীয় ইউরোপ—প্রতিটি সমাজেই নারী ছিল অবহেলিত, কখনো ভোগ্যবস্তু, কখনো পিতার বোঝা, কখনো রাজনীতির পুতুল। প্রাচীন আরবে কন্যাসন্তানকে জীবন্ত কবর দেওয়ার নির্মম ইতিহাস কুরআন তুলে ধরে: “যখন জীবন্ত কবর দেওয়া কন্যাসন্তানকে জিজ্ঞাসা করা হবে, কোন অপরাধে তাকে হত্যা করা হলো” (সূরা আত-তাকভীর: ৮-৯)।

ইসলামের আগমন ও নারীর মর্যাদা:
এই অন্ধকারময় পরিবেশেই ইসলামের আবির্ভাব হয়, এবং ইসলাম নারীর মর্যাদাকে পূর্বের সকল ধারণা থেকে মুক্ত করে এক নতুন মর্যাদার আসনে বসায়।

- *কন্যা হিসেবে:* কুরআন বলে, “আল্লাহ যাকে ইচ্ছা কন্যা সন্তান দেন, যাকে ইচ্ছা পুত্র সন্তান দেন” (সূরা আশ-শূরা: ৪৯)। হাদীসে বলা হয়েছে, "যে ব্যক্তি তিনটি কন্যাসন্তান বা বোনের দায়িত্ব গ্রহণ করে এবং তাদের সুন্দরভাবে লালন-পালন করে, আল্লাহ তাকে জান্নাত দান করবেন" (তিরমিযী: ১৯১৪)।

- *স্ত্রী হিসেবে:*“তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য থেকে জীবনসঙ্গিনী সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের মাঝে প্রশান্তি পাও। আর তিনি তোমাদের মাঝে ভালোবাসা ও দয়া সৃষ্টি করেছেন” (সূরা আর-রূম: ২১)। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, "তোমাদের মধ্যে উত্তম সেই ব্যক্তি, যে তার স্ত্রীর সঙ্গে উত্তম আচরণ করে" (তিরমিযী: ৩৮৯৫)।

- **মা হিসেবে:** “তোমার সবচেয়ে বেশি হকদার কে?” রাসূল (সা.) তিনবার বলেন, “তোমার মা”, তারপর বলেন, “তোমার পিতা” (বুখারী: ৫৯৭১)। “তার মা কষ্টের পর কষ্ট সহ্য করে তাকে গর্ভে ধারণ করেছে” (সূরা আহকাফ: ১৫)।

তিনটি শর্ত: ঈমান, সবর ও হুসনে-খুলুক
ইসলামের দেওয়া এই মর্যাদা কেবল তখনই বাস্তব হবে, যখন মুসলিম সমাজ ঈমান, সবর (ধৈর্য) ও হুসনে-খুলুক (উত্তম চরিত্র) দ্বারা নিজেদেরকে শুদ্ধ করবে। কুরআন ঘোষণা করে, “নিশ্চয়ই আল্লাহ কোনো জাতির অবস্থা পরিবর্তন করেন না, যতক্ষণ না তারা নিজেরাই নিজেদের অবস্থা পরিবর্তন করে” (সূরা রা'দ: ১১)।

এই গুণগুলো না থাকলে, নামধারী মুসলমানরাও নারীর ওপর জুলুম করবে। আর সেই ব্যর্থতাগুলোকে পুঁজি করে তথাকথিত প্রগতিশীলরা ইসলামকেই দায়ী করবে।
নারীবাদের ফাঁদ ও পুঁজিবাদের পরিকল্পনা:
বর্তমান বিশ্বের তথাকথিত নারী স্বাধীনতা একটি কৌশলী বিভ্রম। নারীর "স্বাধীনতা" এখন এমনভাবে সংজ্ঞায়িত হয়েছে, যেন ঘর, পরিবার, মাতৃত্বকে ত্যাগ করলেই সে সফল। এই ধারণাটি আদতে নারীর নয়—পুঁজিবাদীদের সৃষ্টি। তারা নারীকে একদিকে শ্রমিক, আরেকদিকে ভোগ্যবস্তু বানিয়ে সমাজে বাজারব্যবস্থার পণ্য করে তুলেছে।

মার্কসবাদী চিন্তাবিদ ফ্রেডরিক এঙ্গেলস তাঁর গ্রন্থ *The Origin of the Family, Private Property and the State* এ দেখিয়েছেন, কীভাবে রাষ্ট্র ও সম্পত্তির কাঠামো নারীকে শোষণের উপাদানে পরিণত করেছে। পরবর্তীতে আধুনিক পুঁজিবাদ পরিবার ব্যবস্থাকে ভেঙে নারীকে বাজারে নিয়ে আসে—তাকে 'স্বাধীনতা' নামে পণ্য বানায়।

স্লোভেনীয় দার্শনিক স্লাভয় জিজেক বলেন: "The capitalist system integrates feminism by promoting the idea that a woman is free only if she becomes a consumer and a worker—completely ignoring her emotional, familial and spiritual needs."

নারীবাদী দার্শনিক ক্যামিল পাগলিয়া বলেন: "Modern feminism has become a collaboration with consumer capitalism, turning women into objects under the guise of liberation."

এই বাস্তবতায় পশ্চিমা সমাজে পরিবার ব্যবস্থার পতন ঘটেছে—একক মাতৃত্ব, বিবাহবহির্ভূত সন্তান, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা, আত্মহত্যার হার বেড়েছে। Pew Research ও CDC রিপোর্ট অনুসারে, আমেরিকার কিছু রাজ্যে ৪০% এর বেশি শিশু জন্ম নিচ্ছে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে।

উপসংহার:
তথাকথিত নারী স্বাধীনতার মুখোশ খুললে বোঝা যায়, এটি নারীর সম্মান রক্ষার জন্য নয়, বরং তাকে ভোগ ও আয়ের উপকরণে পরিণত করার জন্য। ইসলাম যে সম্মান নারীর জন্য নির্ধারণ করেছে—মেয়ে, স্ত্রী ও মা হিসেবে—তা কেবল তখনই বাস্তবায়িত হবে, যখন মুসলিম সমাজ ঈমান, ধৈর্য ও উত্তম চরিত্র দ্বারা নিজেদের শুদ্ধ করবে।

এই মূল্যবোধের চর্চা আমাদের করতেই হবে, কারণ ইসলাম নারীর সম্মানকে শুধুমাত্র আইনগত সুরক্ষা দিয়ে নয়, বরং নৈতিক ভিত্তি দিয়েই প্রতিষ্ঠা করেছে।

----হাবিব

15/04/2025

ভণ্ডামির মুখোশ খুলে ফেলি: আখিরাতই আমাদের চূড়ান্ত গন্তব্য**

আজ আমাদের চারপাশে মুসলিম রক্ত ঝরছে, বিশেষ করে ফিলিস্তিনে নিরীহ মানুষদের উপর বর্বর আগ্রাসন চলছে। আমরা আবেগে ফেটে পড়ি, সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় তুলি, জিহাদের স্লোগান দিই। কিন্তু প্রশ্ন হলো—এই জ্বালার ভেতরটা কতটা খাঁটি? আমরা নিজেরা কি সত্যিই সেই ঈমানি শক্তিতে বলিয়ান? নাকি এটা কেবল আবেগ ও বাহ্যিকতা?

মূল আলোচনা:

আমরা ফিলিস্তিনের জন্য কাঁদি, অথচ নিজ ঘরে ইসলামের আলো নেই। আমাদের পরিবার, সমাজ, প্রতিষ্ঠান—সব কিছুতেই ইসলামী অনুশাসনের অভাব। অথচ এই স্থানগুলোতে আমাদের হাত চলে, আমরা এখানে শক্তিশালী। কিন্তু আমরা এসব নিয়ে নীরব থাকি, কারণ এখানে প্রতিবাদে আমাদের নিজ স্বার্থে আঘাত লাগে।

এটা আমাদের দ্বিমুখিতা নয় কি?

আল্লাহ বলেন:

"যে কেউ দুনিয়া চায়, আমি তাকে দিই দুনিয়ার কিছু অংশ, যাকে ইচ্ছা। পরে তার ঠিকানা হয় জাহান্নাম—নিন্দিত ও বিতাড়িত অবস্থায়। আর যারা আখিরাত চায়, এবং তা অর্জনের জন্য চেষ্টা করে, আর তারা ঈমানদার—তাদের প্রচেষ্টা আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য হয়।
(সূরা আল-ইসরা: ১৮-১৯)

এই আয়াতে তিনটি শর্ত তুলে ধরা হয়েছে:
১. আখিরাতকে কামনা করা
২. তার জন্য চেষ্টা করা
৩. সত্যিকারের ঈমানদার হওয়া

এই তিন শর্ত পূরণ ছাড়া আখিরাত অসম্ভব। কিন্তু আমরা কি এ শর্তগুলো পূরণ করছি?

আর হ্যাঁ, নিজেদের শুদ্ধিকরণ তথা "নফসের বিরুদ্ধে জিহাদ"অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণএবং মূল ভিত্তে , তবে

যখন মুসলমানদের উপর আক্রমণ আসে, তখন শত্রুর বিরুদ্ধে অস্ত্রধারী জিহাদ—যেটিকে "জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহ" বলা হয়—তা হয়ে যায় ফরজ 'আইন, যা প্রত্যেক সক্ষম মুসলিমের জন্য অপরিহার্য।**

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন:

"যে ব্যক্তি জিহাদের ডাক শুনেও সাড়া দেয় না, এবং তার অন্তরে কোনো ইচ্ছাও জাগে না, সে মুনাফিক অবস্থায় মৃত্যু বরণ করে।"
(সহীহ মুসলিম)

এজন্য শুধু আত্মশুদ্ধির কথা বলে বাহ্যিক দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়া সঠিক নয়। আত্মশুদ্ধি হলো ভিত্তি, কিন্তু সময়মতো জুলুমের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া হলো ঈমানের দাবি।

*উপসংহার

আসুন, আমরা আর নিজেদের সাথে প্রতারণা না করি। নিজের জীবন থেকে শুরু করে সমাজ, রাষ্ট্র পর্যন্ত—ইসলামের আলো ছড়াতে চেষ্টা করি। একদিকে নিজের আমলকে ঠিক করি, অন্যদিকে জুলুম-অত্যাচারের বিরুদ্ধে সত্যিকারের প্রতিরোধ গড়ে তুলি। বাহ্যিক আন্দোলনের পেছনে যদি আন্তরিকতা ও আমলের ভিত্তি না থাকে, তাহলে তা শুধুই এক প্রকার আত্মপ্রবঞ্চনা।

আল্লাহ বলেন:

নিশ্চয়ই আল্লাহ কোনো জাতির অবস্থা পরিবর্তন করেন না, যতক্ষণ না তারা নিজেদের অবস্থা পরিবর্তন করে।"
(সূরা রা’দ:১১)

10/04/2025

দ্বীনের দাওয়াত: বাহ্যিক আয়োজন নয়, ফিরে যেতে হবে নবীদের আদর্শে

আজকাল আমরা দ্বীনের খেদমতের নামে নানা আয়োজন করি—মাহফিল, সেমিনার, খাবার বিতরণ, দাওয়াতি অনুষ্ঠান ইত্যাদি। এসব আয়োজনের পেছনে যায় বিপুল অর্থ, সময় ও পরিশ্রম। কিন্তু প্রশ্ন হলো—এই আয়োজনগুলোর প্রকৃত ফায়দা কী? খুব সামান্য কিছু বাহ্যিক প্রভাব ছাড়া দ্বীনের মূল উদ্দেশ্য প্রায়ই পূরণ হয় না।

এই অবস্থা অনেকটা এমন, যেন কেউ রাসায়নিক বিক্রিয়ায় শুধু বাই-প্রোডাক্ট পেতে গিয়ে দামী কেমিক্যাল, তাপ ও প্রভাবক ব্যয় করছে, অথচ মূল প্রোডাক্ট অনুপস্থিত। এমন আচরণ শুধু অজ্ঞতারই পরিচয়।

দ্বীনের প্রকৃত দাওয়াত কী?

আসল দাওয়াত হলো নবী-রাসূলদের আদর্শে ফিরে যাওয়া। নিজে দ্বীন শেখা, তা নিজের জীবনে বাস্তবায়ন করা এবং নিজের ঘর, আত্মীয়স্বজন, বন্ধু ও পরিচিতদের কাছে তাওহীদের, রিসালাতের এবং আখিরাতের বার্তা পৌঁছে দেওয়া। হিকমাহ, উত্তম আচরণ এবং দুআর মাধ্যমে আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করা।

প্রথমে নিজের ইবাদাত, ইলম চর্চা, ইসলাহ, এবং আল্লাহর সাথে সম্পর্ক গড়াই উচিত। এরপর সামর্থ্য অনুযায়ী সময়, শ্রম ও অর্থ খরচ করা উচিত—তাও যেন হয় দ্বীনের মূল মেজাজ ও নববী তরিকার সাথে সামঞ্জস্য রেখে।

আজকের বাস্তবতা

দুঃখজনকভাবে, আমরা নিজেরা ইলম অর্জনে উদাসীন। মাদ্রাসায় যাই না, দ্বীনের সঠিক বুঝার চেষ্টা করি না। যাদের উপর দাওয়াতের দায়িত্ব, তাদের দিকেও আমাদের কোনো দৃষ্টি নেই। আগে খানকা, তাবলিগ, আল্লাহওয়ালাদের সোহবত, মাদ্রাসায় ইলম চর্চার মাধ্যমে মানুষ নিজের আত্মশুদ্ধির পথে এগোতো। আজ সেগুলো আমাদের কাছে অপ্রয়োজনীয় বা শুধু অন্যদের জন্য প্রয়োজন বলে মনে হয়।

নিজের জীবনে দ্বীনের বাস্তবায়ন ছাড়া আমরা আজ ফেসবুক স্ক্রল করতে করতে আফসোস করি—“ইসলাম বিজয়ী হয় না কেন!”

উপসংহার

দ্বীনের বিজয় বাহ্যিক আয়োজনের মাধ্যমে নয়, বরং আত্মশুদ্ধি, ইলম, আমল এবং দাওয়াতের সঠিক পদ্ধতির মাধ্যমেই সম্ভব। আমাদের ব্যক্তিগত জীবনে নবীজীর আদর্শ ফিরে আনতে হবে। তবেই আল্লাহর সাহায্য আসবে, এবং দ্বীনের প্রকৃত বিজয় অর্জিত হবে।

Address

Dhaka

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when The Light of Islam posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share