10/03/2026
‘“উগ্রবাদীরা মুক্তি পায়!
সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ীদের জামিন হয়!!
যত পাপ সব বাউলদের ??”
“বাউল আবুল সরকারের মুক্তি চাই!
শিল্প ও শিল্পীর স্বাধীনতা চাই!!”
----------------------------------------------------
বাউল আবুল সরকারের মুক্তি ও জবাবদিহিতার দাবিতে প্রতিবাদ লিপি
তারিখ: বুধবার, ১০ মার্চ ২০২৬
স্থান: ঢাকা, বাংলাদেশ
পর্যবেক্ষণ:
গত ২০ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে 'ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের' অভিযোগে প্রখ্যাত বাউল শিল্পী আবুল সরকারকে মানিকগঞ্জ ডিবি পুলিশ গ্রেপ্তার করে। এর প্রতিবাদে এবং তাঁর মুক্তির দাবিতে আয়োজিত শান্তিপূর্ণ মানববন্ধনে ধারাবাহিক হামলার ঘটনা ঘটে। বিশেষ করে, ২৩ নভেম্বর মানিকগঞ্জে এবং ২৬ নভেম্বর খুলনায় মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী সংস্কৃতিকর্মী ও সাধারণ মানুষের ওপর উগ্রবাদীদের ন্যাক্কারজনক হামলা চরম উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
বিশ্লেষণ ও জবাবদিহিতা:
গ্রেপ্তারের পর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়া সত্ত্বেও বাউল আবুল সরকারকে মুক্তি না দেওয়া রাষ্ট্রের বিচারিক ও প্রশাসনিক সদিচ্ছাকে তীব্রভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করে। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে মতপ্রকাশের সাংবিধানিক অধিকার থাকা সত্ত্বেও, একজন লোকজ দার্শনিককে রূপক দার্শনিক বিতর্কের জেরে মাসের পর মাস বন্দি রাখা—এবং অন্যদিকে প্রতিবাদকারীদের ওপর হামলাকারীদের নির্বিঘ্নে ঘুরে বেড়ানোর সুযোগ দেওয়া—প্রশাসনিক কাঠামোর চরম বৈষম্য নির্দেশ করে। রাষ্ট্র কেন উগ্র গোষ্ঠীর চাপের কাছে নতিস্বীকার করে বাংলার চিরায়ত অন্তর্ভুক্তিমূলক সংস্কৃতিকে অরক্ষিত অবস্থায় ফেলে রেখেছে, তার সুস্পষ্ট জবাবদিহিতা প্রয়োজন। বাউলদের কণ্ঠরোধ সমাজে উগ্রবাদ ও আদর্শিক মেরুকরণকে কেবল উৎসাহিতই করে।
আমাদের সুস্পষ্ট দাবি:
১. বাউল আবুল সরকারের অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি এবং তার বিরুদ্ধে দায়ের করা ভিত্তিহীন মামলা প্রত্যাহার।
২. মানিকগঞ্জ, খুলনাসহ বিভিন্ন স্থানে বাউল ভক্ত ও সংস্কৃতিকর্মীদের মানববন্ধনে হামলাকারীদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা।
৩. বাউলকে দীর্ঘ সময় বন্দী রাখার যৌক্তিকতা সম্পর্কে প্রশাসনের প্রকাশ্য জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং সকল শিল্পী ও সাধকের নিরাপত্তা বিধানে রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপ গ্রহণ।
৪। প্রয়োজনীয় আইন সংস্কারের মধ্য দিয়ে বাউল-ফকির-সাধক-দার্শনিকদের মত ও দর্শন প্রকাশের পূর্ণ স্বাধীনতা প্রদান করা।
প্রতিবাদলিপি প্রেরণে-
কমিউনিকেশন উইং,
চলচ্চিত্র সংস্কার রোডম্যাপ