চলচ্চিত্র সংস্কার রোডম্যাপ

  • Home
  • Bangladesh
  • Dhaka
  • চলচ্চিত্র সংস্কার রোডম্যাপ
Website

চলচ্চিত্র সংস্কার রোডম্যাপ Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from চলচ্চিত্র সংস্কার রোডম্যাপ, Community Organization, Dhaka.

'ব্যক্তির ঊর্ধ্বে সমষ্টির স্বার্থই মূলকথা'
চলচ্চিত্র সংস্কার রোডম্যাপ: জুলাই'২৪ ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের ঠিক পরবর্তী মুহূর্তে সংগঠিত হওয়া একটি সম্মিলিত ও সামগ্রিক প্ল্যাটফর্ম, যা বাংলাদেশের চলচ্চিত্র কর্মীদের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা পূরণের লক্ষ্যে কাজ করছে “চলচ্চিত্র সংস্কার রোডম্যাপ’২৪” জুলাই ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের ঠিক পরবর্তী সময়ে গঠিত হওয়া একটি চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট সামষ্টিক প্লাটফর্ম।

বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্প নিয়ে চলচ্চিত্রের বিভিন্ন অংশীজন এবং কর্মীদের দীর্ঘদিনের আশা-আকাঙ্ক্ষা গুলোকে একত্রিত করার প্রয়াস তৈরি হয়েছে উক্ত প্লাটফর্মের মধ্য দিয়ে। চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট সকলকে নিয়ে এই প্লাটফর্ম ইতিমধ্যে একটি ফডিসিতে, আরেকটি গ্রাউন্ড জিরো তে, মোট দুটি মুক্ত আলোচনা ও মতবিনিময় সভার আয়োজন করে। সকলের সামগ্রিক মতামতের প্রেক্ষাপটে এবং গুগল ফর্ম এর মাধ্যমে বিভিন্ন মতামতের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের সার্বিক উন্নয়নের জন্য একটি দিকনির্দেশনা মূলক রোডম্যাপ ইতিমধ্যে তৈরি হয়েছে। এই রোডম্যাপকে আমরা সকলের সামনে নিয়ে আসতে চাই। যাতে করে উক্ত রোডম্যাপ থেকে চলচ্চিত্র কর্মীরা, চলচ্চিত্র সংগঠন এবং রাষ্ট্র একটি সুনির্দিষ্ট দিক-নির্দেশনা পায়। “চলচ্চিত্র সংস্কার রোডম্যাপ’২৪”এর এই শুভ উদ্যোগকে পৃষ্ঠপোষকতা করার জন্য বাংলাদেশের চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট যেসকল সংগঠন রয়েছে, তাদের বিভিন্ন ধরনের সহযোগিতা এবং পৃষ্ঠপোষকতার জন্য উদাত্ত আহবান জানাচ্ছি।

ধন্যবাদ
কমিউনিকেশন উইং
চলচ্চিত্র সংস্কার রোডম্যাপ-২০২৪

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) সংগ্রহশালায় মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি নতুন করে স্থান দেওয়ার ঘটনায় ‘চলচ্চ...
14/09/2026

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) সংগ্রহশালায় মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি নতুন করে স্থান দেওয়ার ঘটনায় ‘চলচ্চিত্র সংস্কার রোডম্যাপ ’২৪’ গভীর উদ্বেগ ও তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছে।

একটি সংগ্রহশালা শুধু ছবি প্রদর্শনের স্থান নয়; এটি ইতিহাস, স্মৃতি ও রাজনৈতিক চেতনারও গুরুত্বপূর্ণ বাহক। বাংলাদেশের ইতিহাসে জিন্নাহ ও পাকিস্তানি শাসনের ভূমিকা একটি গভীর বেদনাদায়ক ও রক্তাক্ত অধ্যায়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত। সেই প্রেক্ষাপট বিবেচনা না করে তাঁর ছবি পুনঃস্থাপন করা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, বাংলাদেশের আত্মপরিচয় এবং গণতান্ত্রিক চেতনার প্রতি অসংবেদনশীলতার বহিঃপ্রকাশ বলে আমরা মনে করি।

আমরা ইতিহাস মুছে ফেলার পক্ষে নই—বরং ইতিহাসকে তার পূর্ণ প্রেক্ষাপট, সত্য ও জনগণের অভিজ্ঞতার আলোকে উপস্থাপনের পক্ষে। কোনো ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বের ছবি প্রদর্শিত হলে তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, রাজনৈতিক ভূমিকা ও বাংলাদেশের মানুষের ওপর তার প্রভাবও স্পষ্টভাবে তুলে ধরা জরুরি।

‘চলচ্চিত্র সংস্কার রোডম্যাপ ’মনে করে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ডাকসুর মতো ঐতিহাসিক প্রতিষ্ঠানকে এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সংবেদনশীলতা, ঐতিহাসিক দায়বদ্ধতা ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে।

আমরা জিন্নাহর ছবি পুনঃস্থাপনের এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের স্বাধীনতা বিরোধীদের সাথে আঁতাতের সমতুল্য। ‘চলচ্চিত্র সংস্কার রোডম্যাপ" এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ এবং সংশ্লিষ্টদের প্রতি তীব্র ঘৃণা প্রদর্শন করছে!

প্রেস রিলিজ / গণমাধ্যম বিবৃতিপ্রকাশের তারিখ: ২৩ আগস্ট, ২০২৬প্রেরক: রিসার্চ অ্যান্ড কমিউনিকেশন উইং, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সং...
23/08/2026

প্রেস রিলিজ / গণমাধ্যম বিবৃতি

প্রকাশের তারিখ: ২৩ আগস্ট, ২০২৬
প্রেরক: রিসার্চ অ্যান্ড কমিউনিকেশন উইং, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সংস্কার রোডম্যাপ

বিবৃতি: সাংস্কৃতিক অধিকার, সাংবিধানিক স্বাধীনতা ও জেলাপর্যায়ে নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ প্রসঙ্গে।

সাম্প্রতিক সময়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশ লাইনে আয়োজিত কনসার্টে হামলা এবং কিশোরগঞ্জে কনসার্ট আয়োজনকে কেন্দ্র করে হুমকি ও অনুষ্ঠান স্থগিত করার ঘটনায় 'বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সংস্কার রোডম্যাপ' গভীর উদ্বেগ ও তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছে।
রাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ দায়িত্বশীল পর্যায় থেকে সাংবিধানিক অধিকার রক্ষার পরিবর্তে যদি কোনো উগ্র গোষ্ঠী বা চাপ সৃষ্টিকারী পক্ষের হুমকিকে প্রশ্রয় দেওয়ার মতো বক্তব্য আসে, তা প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতা এবং অত্যন্ত উদ্বেগজনক। সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে জনমনে বিভাজন ও ভীতি তৈরি করা কোনো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের পরিচায়ক হতে পারে না। এর পূর্বেও আমরা দেখেছি, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় উগ্র গোষ্ঠীর হুমকির মুখে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ চলচ্চিত্রটির প্রদর্শনী বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং সুরসম্রাট ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ সঙ্গীতাঙ্গনে বারবার অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের মতো ভয়াবহ কালচারাল হেরিটেজ ধ্বংসের ঘটনা ঘটেছে, যা দেশের সাংস্কৃতিক নিরাপত্তার চরম অবনতি নির্দেশ করে।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৯ নম্বর অনুচ্ছেদে নাগরিকের চিন্তা, বিবেক ও বাকস্বাধীনতার সুস্পষ্ট নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। গান, চলচ্চিত্র, নাটক ও অন্যান্য সাংস্কৃতিক চর্চা এই সাংবিধানিক অধিকারেরই অবিচ্ছেদ্য অংশ। কোনো নির্দিষ্ট সাংস্কৃতিক আয়োজন কারো ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীগত অপছন্দ হলে তাতে অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকার অধিকার তার রয়েছে; কিন্তু শক্তি প্রয়োগ, হামলা বা ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে অন্যের সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা খর্ব করার অধিকার কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নেই।

রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব হলো সকল নাগরিকের আইনি ও শারীরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, কোনো চাপ সৃষ্টিকারী বেআইনি দাবির কাছে নতি স্বীকার করা নয়। বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক পরিসর কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর একক সম্পত্তি বা মনোপলি নয়। ধর্মীয় ও ব্যক্তিগত বিশ্বাসের প্রতি পারস্পরিক সম্মান বজায় রেখে একটি বহুত্ববাদী সমাজে শৈল্পিক স্বাধীনতা ও সাংস্কৃতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্র বাধ্য।

'চলচ্চিত্র সংস্কার রোডম্যাপ' অবিলম্বে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কিশোরগঞ্জের ঘটনাগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, হামলা ও হুমকির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভবিষ্যতে দেশব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নির্বিঘ্নে আয়োজনের জন্য জেলা-পর্যায়ে সাংস্কৃতিক নিরাপত্তা (District-Level Cultural Security) নিশ্চিত করার কাঠামোগত উদ্যোগ গ্রহণের জোর দাবি জানাচ্ছে।

সংস্কৃতি চর্চার স্বাধীনতা রাষ্ট্রের কোনো অনুগ্রহ নয়— এটি অপরিবর্তনযোগ্য নাগরিক ও সাংবিধানিক অধিকার।

স্বাক্ষরান্তে,
রিসার্চ অ্যান্ড কমিউনিকেশন উইং
বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সংস্কার রোডম্যাপ
অফিশিয়াল ইমেইল: [email protected]

Official Press Release (English Version)

Date of Issue: August 23, 2026
From: Research & Communication Wing, Cinema Reform Roadmap

Statement: Ensuring Cultural Rights, Constitutional Freedom, and District-Level Security

The 'Cinema Reform Roadmap' expresses deep concern and strong condemnation regarding the recent attack on a concert at the Brahmanbaria Police Lines and the threats leading to the suspension of a concert in Kishoreganj.

It is highly alarming and indicative of institutional failure when responsible state apparatuses, including the Ministry of Home Affairs, issue statements that inadvertently appease extremist groups or pressure tactics instead of safeguarding constitutional rights. Creating division and fear in the public mind surrounding cultural activities is entirely incompatible with a democratic state. We have previously witnessed a disturbing pattern of cultural suppression in Brahmanbaria, such as the cancellation of the "Banalata Express" film screening due to extremist threats, and the horrific, repeated incidents of arson and vandalism targeting the Sur Samrat Ustad Alauddin Khan Sangitangan—a blatant destruction of cultural heritage that highlights a severe deterioration of cultural security.

Article 39 of the Constitution of the People's Republic of Bangladesh clearly guarantees freedom of thought, conscience, and speech. Music, film, theater, and other cultural practices are inseparable components of this constitutional right. While any individual or group reserves the right to abstain from a cultural event they do not prefer, absolutely no entity has the right to strip away the cultural freedom of others through the use of force, attacks, or intimidation.

The fundamental duty of the state is to ensure the legal and physical security of its citizens, not to capitulate to the unlawful demands of pressure groups. The cultural sphere of Bangladesh is not the monopoly of any specific faction. The state is obligated to ensure artistic freedom and cultural security within a pluralistic society while maintaining mutual respect for religious and personal beliefs.

The 'Cinema Reform Roadmap' firmly demands an immediate, impartial investigation into the incidents in Brahmanbaria and Kishoreganj, stringent legal action against those involved in the attacks and threats, and structural initiatives to guarantee District-Level Cultural Security for all future cultural events nationwide.
The freedom of cultural practice is not a state favor—it is an irrevocable civic and constitutional right.

Signed,
Research & Communication Wing
Cinema Reform Roadmap
Official Contact: [email protected]

প্রেস বিজ্ঞপ্তি  প্রকাশের জন্য উন্মুক্ত  তারিখ:  ২৫ জুন, ২০২৬ঢাকা, বাংলাদেশ —  আজ, ২৫ জুন ২০২৬ তারিখে বাংলাদেশের চলচ্চিত...
25/06/2026

প্রেস বিজ্ঞপ্তি
প্রকাশের জন্য উন্মুক্ত
তারিখ: ২৫ জুন, ২০২৬

ঢাকা, বাংলাদেশ — আজ, ২৫ জুন ২০২৬ তারিখে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রকর্মী, গবেষক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, সংস্কৃতিকর্মী ও দর্শকদের প্রতিনিধিত্বকারী প্ল্যাটফর্ম 'চলচ্চিত্র সংস্কার রোডম্যাপ' মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে একটি গণস্বাক্ষর সম্বলিত খোলা চিঠি আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড কর্তৃক সনদপ্রাপ্ত পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘বনলতা এক্সপ্রেস’-এর প্রদর্শনী স্থানীয় উগ্রগোষ্ঠীর চাপে ও প্রশাসনিক হস্তক্ষেপে বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রেক্ষিতে এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে মবের হুমকির দরুন সরকার কর্তৃক বন্ধ করে দেয়ার প্রেক্ষাপটে সাংবিধানিক অধিকার রক্ষার্থে এই কাঠামোগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

স্মারকলিপিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, রাষ্ট্র কর্তৃক বৈধভাবে অনুমোদিত একটি চলচ্চিত্রের প্রদর্শনী বন্ধ হয়ে যাওয়া কেবল একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং এটি বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা ও সৃজনশীল সার্বভৌমত্বের ওপর একটি কাঠামোগত আঘাত। এই সংকট নিরসনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে নিম্নলিখিত ৬টি সুনির্দিষ্ট কাঠামোগত প্রস্তাবনা তুলে ধরা হয়েছে:

১. সনদপ্রাপ্ত চলচ্চিত্রের সাংবিধানিক সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ: রাষ্ট্র কর্তৃক অনুমোদিত কোনো চলচ্চিত্র স্থানীয় চাপ, ধর্মীয় বা রাজনৈতিক গোষ্ঠীর দাবির মুখে বন্ধ করা যাবে না।

২. সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের নিরাপত্তা প্রদান: চলচ্চিত্র প্রদর্শনী বা সাংস্কৃতিক আয়োজন বন্ধ না করে প্রশাসনের মূল দায়িত্ব হওয়া উচিত সেগুলোর নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

৩. চলচ্চিত্র স্বাধীনতা সুরক্ষা নীতিমালা প্রণয়ন: স্বাধীন চলচ্চিত্র প্রদর্শন, উৎসব এবং বিকল্প প্রদর্শনীকে আইনি সুরক্ষা দেওয়ার জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ জাতীয় নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে।

৪. জেলা পর্যায়ে সাংস্কৃতিক অধিকার বাস্তবায়ন: দেশের প্রান্তিক অঞ্চলে চলচ্চিত্র প্রদর্শন ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে উৎসাহিত করার জন্য জেলা প্রশাসনকে ইতিবাচক ভূমিকা পালনের নির্দেশনা দিতে হবে।

৫. প্রশাসনিক পর্যায়ে সংবেদনশীলতা ও প্রশিক্ষণ: মাঠ প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সাংস্কৃতিক অধিকার ও শিল্পের স্বাধীনতা বিষয়ে নিয়মিত প্রশিক্ষণের আওতায় আনতে হবে।

৬. জাতীয় চলচ্চিত্র কাউন্সিল প্রতিষ্ঠা: অবিলম্বে একটি স্বাধীন ও স্বায়ত্তশাসিত 'চলচ্চিত্র কাউন্সিল' গঠন করতে হবে, যা শিল্পচর্চার পথে অসাংবিধানিক হস্তক্ষেপের বিপরীতে আইনগত সহায়তা প্রদান করবে।

এই গণস্বাক্ষর কর্মসূচিতে সমাজের বিভিন্ন স্তরের বিশিষ্ট নাগরিক, পেশাজীবী এবং চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ সহ মোট ২২১ জন অংশগ্রহণ করেছেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন:

ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া (আইনজীবী)
ফাহমিদুল হক (শিক্ষক ও চলচ্চিত্র গবেষক)
কাজী মামুন হায়দার (শিক্ষক, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়)
আকরাম খান (চলচ্চিত্র নির্মাতা)
কিশোর পাশা ইমন (সাহিত্যিক)
মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন (লেখক ও প্রকাশক)
মোরশেদ মিশু (কার্টুনিস্ট)
সৈয়দ রাশাদ ইমাম তন্ময় (কার্টুনিস্ট)
সুমন আনোয়ার (লেখক, পরিচালক ও অভিনেতা)
কাজী নওশাবা আহমেদ (অভিনয়শিল্পী, পরিচালক ও সমাজকর্মী)
পাভেল পার্থ (গবেষক ও লেখক)
আমিরুল রাজিব (শিল্প ইতিহাসবিদ ও সংগঠক)
নাঈম উল হাসান (কিউরেটর ও আর্কাইভিস্ট)
সৈয়দ মুহাম্মদ জাকির (ভিজ্যুয়াল আর্টিস্ট)
শঙ্খ দাশগুপ্ত (চলচ্চিত্র নির্মাতা)
খন্দকার সুমন (চলচ্চিত্র নির্মাতা)
গোলাম রাব্বানী (চলচ্চিত্র নির্মাতা ও সাংবাদিক)
সিদ্দিক আহমেদ (চলচ্চিত্র নির্মাতা ও চিত্রনাট্যকার)
মোহাম্মদ তৌকির ইসলাম (চলচ্চিত্র নির্মাতা)
তানিম পারভেজ (পরিচালক)
সাজেদুল ইসলাম (নির্মাতা, শিক্ষক ও গবেষক)
ফারজানা ববি (শিক্ষক)
অলিউর সান (শিক্ষক ও গবেষক)
সৈয়দা নীলিমা দোলা (রাজনৈতিক কর্মী)
আহসাবুল ইয়ামিন রিয়াদ (চলচ্চিত্র শিক্ষার্থী এবং অভিনেতা)
মিম আরাফাত মানব (রাজনৈতিক কর্মী)
আব্দুল্লাহ আল সেন্টু (অভিনেতা)
মোহাম্মদ নুরউল্লাহ (সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ ফেডারেশন অফ ফিল্ম সোসাইটিজ)

উক্ত খোলা চিঠিতে স্বাক্ষর প্রদান করা দুই শতাধিক বিশিষ্ট নাগরিকের পক্ষ্য থেকে আমাদের আহ্বান থাকবে বাংলাদেশের আবহমান সাংস্কৃতিক সার্বম্ভৌমত্ব রক্ষায় ইতিবাচক সাংস্কৃতিক পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে দেশের সাংস্কৃতিক পরিচয়কে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো আরও সুদৃঢ় করবেন এবং উপরোক্ত ছয়টি দাবিকে আমলে এনে ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করে একটি সার্বজনীন বাংলাদেশ বিনির্মানে এগিয়ে আসবেন।

বার্তা প্রেরণে
রিসার্চ এন্ড কমিউনিকেশন উইংস,
চলচ্চিত্র সংস্কার রোডম্যাপ
ইমেইল: [email protected]

মৌলবাদ রুখতে এবং সাংস্কৃতিক সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য সরকারের এই কৌশলগত সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাচ্ছে চলচ্চিত্র সংস্কার রোডম...
06/06/2026

মৌলবাদ রুখতে এবং সাংস্কৃতিক সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য সরকারের এই কৌশলগত সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাচ্ছে চলচ্চিত্র সংস্কার রোডম্যাপ।
--
আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সৃজনশীল অর্থনীতির বিকাশে সরকারের ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাবনাকে 'চলচ্চিত্র সংস্কার রোডম্যাপ' সাধুবাদ জানাচ্ছে। এটি বাংলাদেশের চলচ্চিত্র এবং সামগ্রিক সৃজনশীল খাতের জন্য একটি অত্যন্ত ইতিবাচক ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ।

তবে, একটি বিশ্লেষণধর্মী দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে গেলে—শুধুমাত্র অর্থ বরাদ্দই শেষ কথা নয়; এর সঠিক, সুষ্ঠু ও সুষম বণ্টন নিশ্চিত করা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। 'চলচ্চিত্র সংস্কার রোডম্যাপ' সর্বদা সরকারি অনুদান ও তহবিলের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পক্ষে, এগুলোর বাতিলের পক্ষে নয়। আমরা মনে করি, এই বিশাল তহবিলের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে একটি সুনির্দিষ্ট ও তথ্য-নির্ভর নীতিমালা প্রণয়ন অত্যন্ত জরুরি।

প্রকৃত ও মেধাবী নির্মাতারা যেন কোনোভাবেই আমলাতান্ত্রিক জটিলতা বা অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ার কারণে এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করতে হবে। আমরা আশা করি, এই বাজেট দেশের চলচ্চিত্র শিল্পের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক মানের গল্প বলা এবং সিনেমা নির্মাণের উৎকর্ষ সাধনে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। আসুন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার চর্চার মাধ্যমে আমাদের সিনেমার এই সম্ভাবনার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করি।

মৌলবাদ রুখতে, সৃজনশীল অর্থনীতি কে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে এবং সাংস্কৃতিক সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য সরকারের এই কৌশলগত সিদ্ধান্ত'র জন্য আবারও অভিবাদন।

Long Live Cinema!
Long Live Artistic Integrity!!

আপনি নিম্নলিখিত খোলা চিঠির বিষয়বস্তুর সাথে একমত হলে এই অনলাইন গণস্বাক্ষর কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করতে পারেন।গণ স্বাক্ষরে অংশ...
02/06/2026

আপনি নিম্নলিখিত খোলা চিঠির বিষয়বস্তুর সাথে একমত হলে এই অনলাইন গণস্বাক্ষর কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করতে পারেন।

গণ স্বাক্ষরে অংশ নিতে ক্লিক করুনঃ (গুগল ফর্ম লিঙ্কঃ https://docs.google.com/forms/d/e/1FAIpQLScflP3CHkPxpaXY8oTeuvhTfkxrmRXPaxcSWu0nivFiVaLYxw/viewform)

"সাংস্কৃতিক সার্বম্ভৌমত্ব রক্ষায় প্রধানমন্ত্রী বরাবর খোলা চিঠি"

তারিখঃ ০২ জুন ২০২৬
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, তেজগাঁও, ঢাকা।
অনুলিপি প্রেরণ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী, সংস্কৃতি মন্ত্রী এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সকল আসনের সংসদ সদস্যবৃন্দ।

শ্রদ্ধা ও শুভেচ্ছা গ্রহণ করুন।
আমরা- বাংলাদেশের চলচ্চিত্রকর্মী, গবেষক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও দর্শকসমাজ- গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি যে, সম্প্রতি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড কর্তৃক অনুমোদিত ও সনদপ্রাপ্ত পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘বনলতা এক্সপ্রেস’-এর একটি প্রদর্শনী স্থানীয় উগ্রগোষ্ঠীর চাপের মুখে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, পরবর্তীতে ব্যক্তিগত উদ্যোগে চলচ্চিত্রটি প্রদর্শনের চেষ্টা করা হলেও প্রশাসনিক হস্তক্ষেপে সেটিও রুদ্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

চলচ্চিত্র সংস্কার রোডম্যাপের সদস্য এবং চলচ্চিত্রকর্মী হিসেবে আমরা এই ঘটনাকে কেবল একটি প্রদর্শনীর স্থগিতাদেশ হিসেবে দেখছি না; বরং এটি বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা, সৃজনশীল সার্বভৌমত্ব এবং সাংবিধানিক অধিকারের ওপর একটি কাঠামোগত আঘাত।

বাংলাদেশের সংবিধান প্রতিটি নাগরিকের চিন্তা, বিবেক, মতপ্রকাশ ও সাংস্কৃতিক চর্চার স্বাধীনতাকে স্বীকৃতি দিয়েছে। রাষ্ট্র কর্তৃক বৈধভাবে অনুমোদিত একটি চলচ্চিত্র যদি প্রদর্শনের দ্বারপ্রান্তে এসে কতিপয় গোষ্ঠীর পেশিশক্তি ও অযাচিত চাপের মুখে বন্ধ হয়ে যায়, তবে রাষ্ট্রীয় প্রক্রিয়ার কার্যকারিতা কোথায় দাঁড়ায়? যদি একটি শিল্পকর্মের ভবিষ্যৎ আইন ও নীতিমালার পরিবর্তে রাস্তার চাপ বা সংগঠিত মব-রুল দ্বারা নির্ধারিত হয়, তবে আগামীতে এ দেশের কোনো চলচ্চিত্র, নাটক, বই বা শিল্পকর্মই আর নিরাপদ থাকবে না।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,

বাংলাদেশের ইতিহাসে শিল্প ও সংস্কৃতি সব সময়ই জাতির আত্মপরিচয় নির্মাণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। যে চলচ্চিত্রগুলো সমাজের জটিল মনস্তাত্ত্বিক ও সামাজিক বিষয়গুলো তুলে ধরে এবং প্রথাগত নির্মাণের সীমানা পেরিয়ে নতুন গল্প বলে, সেগুলোই মূলত একটি জাতির আয়না হিসেবে কাজ করে। মুক্তিযুদ্ধ, গ্রামীণ জীবন, নারীর সংগ্রাম কিংবা ধর্মীয় সহাবস্থানের মতো বিষয়গুলো চলচ্চিত্রের মাধ্যমেই বিশ্বদরবারে পৌঁছেছে। চলচ্চিত্র কেবল বিনোদন নয়; এটি একটি শিক্ষামাধ্যম এবং জাতীয় সংলাপের উন্মুক্ত প্ল্যাটফর্ম।

আজ যদি একটি চলচ্চিত্রকে জোরপূর্বক প্রদর্শন থেকে বিরত রাখা হয়, আগামীকাল হয়তো কোনো বইমেলা বা সাংস্কৃতিক উৎসবও একইভাবে বাধাগ্রস্ত হবে। এর ফলে শিল্পীরা বাধ্য হয়ে 'সেলফ-সেন্সরশিপ' -এর পথে হাঁটবেন, যা যেকোনো বিকাশমান গণতান্ত্রিক সমাজের জন্য চরম হুমকিস্বরূপ।

আমরা গভীরভাবে বিশ্বাস করি, মতের অমিলের সমাধান কোনোভাবেই নিষেধাজ্ঞা হতে পারে না। একটি সুশীল সমাজ প্রতিহিংসা বা দমনের পরিবর্তে পারস্পরিক আলোচনা ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিতর্কের মাধ্যমেই বেশি বিকশিত হয়। কোনো শিল্পকর্ম নিয়ে আপত্তি থাকলে তার জবাব হতে পারে আরেকটি শিল্পকর্ম বা সুস্থ সমালোচনা-প্রশাসনিক নিষেধাজ্ঞা নয়।

এই প্রেক্ষাপটে,নিম্ন সাক্ষরিত চলচ্চিত্র কর্মী,শিল্পী তথা বাংলাদেশের সাধারণ জনগণের এর পক্ষ থেকে আমরা আপনার কাছে আমাদের সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনাগুলো উপস্থাপন করছি:

১. সনদপ্রাপ্ত চলচ্চিত্রের সাংবিধানিক সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ: রাষ্ট্র কর্তৃক অনুমোদিত কোনো চলচ্চিত্র স্থানীয় চাপ, ধর্মীয় বা রাজনৈতিক গোষ্ঠীর দাবির মুখে বন্ধ করা যাবে না—এ বিষয়ে সুস্পষ্ট ও কঠোর প্রশাসনিক নির্দেশনা আবহমান বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য প্রদান করা এখন সময়ের সময়ের দাবি।

২. সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের নিরাপত্তা প্রদান: চলচ্চিত্র প্রদর্শনী বা সাংস্কৃতিক আয়োজন বন্ধ করার শর্টকাট পথে না হেঁটে, প্রশাসনের মূল দায়িত্ব হওয়া উচিত সেগুলোর নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মাধ্যমে সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করা।

৩. চলচ্চিত্র স্বাধীনতা সুরক্ষা নীতিমালা প্রণয়ন: স্বাধীন চলচ্চিত্র প্রদর্শন, উৎসব এবং বিকল্প প্রদর্শনী ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমকে আইনি সুরক্ষা দেওয়ার জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ জাতীয় নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে।

৪. জেলা পর্যায়ে সাংস্কৃতিক অধিকার বাস্তবায়ন: দেশের প্রান্তিক অঞ্চলে চলচ্চিত্র প্রদর্শন ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে উৎসাহিত করার জন্য জেলা প্রশাসনকে ইতিবাচক ও সহায়ক ভূমিকা পালনের নির্দেশনা দিতে হবে।

৫. প্রশাসনিক পর্যায়ে সংবেদনশীলতা ও প্রশিক্ষণ: মাঠ প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সাংস্কৃতিক অধিকার, শিল্পের স্বাধীনতা এবং সাংবিধানিক মূল্যবোধ বিষয়ে নিয়মিত প্রশিক্ষণের আওতায় আনতে হবে।

৬. জাতীয় চলচ্চিত্র কাউন্সিল প্রতিষ্ঠা: দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে অবিলম্বে একটি স্বাধীন ও স্বায়ত্তশাসিত ‘চলচ্চিত্র কাউন্সিল’ গঠন করতে হবে, যা চলচ্চিত্রের নির্মাণ, প্রদর্শন, অর্থায়ন ও নীতিনির্ধারণে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে এবং সেইসাথে শিল্পচর্চার পথে অসাংবিধানিক ও বে-আইনি হস্তক্ষেপের বিপরীতে আইনগত সহায়তা প্রদান করবে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,

আমাদের ইতিহাস সাক্ষী দেয় যে, সংস্কৃতি ও সৃজনশীলতা কখনো শক্তি প্রয়োগে বিকশিত হয় না; মুক্ত পরিবেশেই তার ডালপালা মেলে। একটি আত্মবিশ্বাসী রাষ্ট্র ভিন্নমতকে ভয় পায় না, শিল্পকে দমন করে না।

আমরা এমন একটি বাংলাদেশ দেখতে চাই,যেখানে একদিকে একজন ধার্মিক নির্বিঘ্নে তাঁর ধর্ম চর্চার সুযোগ পাবেন ঠিক অন্যদিকে একজন নাগরিক হিসেবে তিনি নিরাপদে ও নির্ভয়ে চলচ্চিত্র দেখতে পারবেন, সংস্কৃতিচর্চা করতে পারবেন এবং একজন শিল্পী নির্ভয়ে প্রথা ভাঙার গল্পও বলতে পারবেন। একটি সনদপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র প্রদর্শনের জন্য কাউকে যেন অনুমতির বাইরে অতিরিক্ত কোনো সামাজিক বা রাজনৈতিক পরীক্ষার মুখোমুখি হতে না হয়।

বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক অগ্রযাত্রা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের স্বার্থে আপনি বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবেন বলে আমরা বিশ্বাস করি। নির্বাচনের পর আপনি যেভাবে সপরিবারে সিনেপ্লেক্সে চলচ্চিত্র দেখতে গিয়ে জাতির কাছে একটি ইতিবাচক ও সুস্থ বিনোদনের বার্তা পৌঁছে দিয়েছিলেন, ঠিক তেমনিভাবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সরকারি আয়োজনে সপরিবারে একটি উন্মুক্ত চলচ্চিত্র প্রদর্শনীতে অংশ নিয়ে সেই সাংস্কৃতিক বার্তাকে আরও সুদৃঢ় করবেন—এটাই আমাদের বিনীত প্রত্যাশা।

সেই সাথে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী, সংস্কৃতি মন্ত্রী এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সকল আসনের সংসদ সদস্যবৃন্দদের প্রতি আমাদের আহ্বান থাকবে বাংলাদেশের আবহমান সাংস্কৃতিক সার্বম্ভৌমত্ব রক্ষায় ইতিবাচক সাংস্কৃতিক পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে দেশের সাংস্কৃতিক পরিচয়কে আরও সুদৃঢ় করবেন।

শ্রদ্ধাসহ,
স্বাক্ষরকারীদের পক্ষে,
রিসার্চ এন্ড কমিউনিকেশন উইং,
[email protected]
চলচ্চিত্র সংস্কার রোডম্যাপ
(বাংলাদেশের চলচ্চিত্রকর্মী, গবেষক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সংস্কৃতিকর্মীদের পক্ষে)

সিনেমা থামবে না: রঙ্গন এবং সেলুলয়েডের অদম্য স্পিরিটব্রাহ্মণবাড়িয়া ফিল্ম সোসাইটির উদ্যোগে যখন তানিম নূর নির্মিত 'বনলতা...
02/06/2026

সিনেমা থামবে না: রঙ্গন এবং সেলুলয়েডের অদম্য স্পিরিট

ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফিল্ম সোসাইটির উদ্যোগে যখন তানিম নূর নির্মিত 'বনলতা এক্সপ্রেস' প্রদর্শনী উগ্রবাদীদের হুমকিতে বন্ধ হয়ে যায়, তখন রাষ্ট্র ও প্রশাসন নীরব ছিল। কিন্তু এই নীরবতা এবং পরাজয় মেনে নিতে পারেনি কসবার এক অদম্য তরুণ—রঙ্গন।

প্রাতিষ্ঠানিক আয়োজনে যখন বাধা আসে, তখন রঙ্গন ব্যক্তিগত উদ্যোগে, গ্রামের মানুষের সাথে কথা বলে, চাঁদা তুলে প্রজেক্টর ও সাউন্ড সিস্টেম ভাড়া করে তালতলা সরকারি স্কুল মাঠে একটি উন্মুক্ত প্রদর্শনীর আয়োজন করে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, যে প্রশাসন ধর্মান্ধ গোষ্ঠীর হুমকি থামাতে ব্যর্থ হয়েছিল, সেই একই প্রশাসন পুলিশ পাঠিয়ে রঙ্গনদের এই ব্যক্তিগত উদ্যোগের প্রদর্শনীটিও বন্ধ করে দেয়!

প্রশাসন হয়তো ভেবেছিল, প্রজেক্টরের সুইচ বন্ধ করলেই শিল্পের আলো নিভিয়ে দেওয়া যায়। কিন্তু তারা সাধারণ মানুষের আকাঙ্ক্ষাকে বুঝতে ব্যর্থ হয়েছে। পুলিশ চলে যাওয়ার পর তালতলার তরুণেরা যা করেছে, তা বাংলাদেশের স্বাধীন চলচ্চিত্র চর্চার ইতিহাসে একটি আইকনিক প্রতিবাদ হয়ে থাকবে। প্রজেক্টর বন্ধ তো কী হয়েছে? তারা পশ্চিমপাড়ার মাজারে একত্রিত হয়ে একটি ছোট মোবাইল স্ক্রিনেই মনোযোগ দিয়ে দেখতে শুরু করেছে 'বনলতা এক্সপ্রেস'।

রঙ্গনের ভাষায়, "সিনেমা থামবে না—বড় পর্দায় না হলেও, ছোট পর্দায় ঠিকই ছড়িয়ে যাবে।"

'চলচ্চিত্র সংস্কার রোডম্যাপ'-এর পক্ষ থেকে আমরা কসবার রঙ্গন এবং তালতলাবাসীর এই অকৃত্রিম স্পিরিট, সাহস এবং অদম্য সাংস্কৃতিক প্রতিরোধের প্রতি স্যালুট জানাই। আপনারা প্রমাণ করেছেন যে, পুলিশ বা মব-সেন্সরশিপ দিয়ে প্রজেক্টর হয়তো সাময়িক বন্ধ করা যায়, কিন্তু মানুষের দেখার স্বাধীনতাকে শিকল পরানো যায় না।

যখন রাষ্ট্র তার নাগরিকদের সাংবিধানিক সাংস্কৃতিক অধিকার রক্ষায় ব্যর্থ হয়, তখন নাগরিকদের এভাবেই নিজেদের অধিকার ছিনিয়ে নিতে হয়। রঙ্গনের এই উদ্যোগ আমাদের জন্য একটি বিশাল বার্তা। আমরা দেশের প্রতিটি পাড়া-মহল্লার তরুণদের প্রতি আহ্বান জানাই—রঙ্গনের মতো ছোট ছোট উদ্যোগ নিন। প্রশাসন বড় পর্দা কেড়ে নিলে, প্রতিটি ল্যাপটপ, প্রতিটি মোবাইল স্ক্রিন হয়ে উঠুক প্রতিরোধের একেকটি মিনি-থিয়েটার।

অন্ধকারের বিরুদ্ধে এই লড়াইয়ে রঙ্গন একা নয়, পুরো স্বাধীন চলচ্চিত্র সমাজ আজ তার পাশে। লং লিভ বাংলা সিনেমা!

—
কমিউনিকেশন উইং
বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সংস্কার রোডম্যাপ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর উপর চরমপন্থী মহলের অনাকাঙ্ক্ষিত হস্তক্ষেপ ও প্রদর্শনী বন্ধের প্রতিবাদে বাংলাদেশ ...
31/05/2026

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর উপর চরমপন্থী মহলের অনাকাঙ্ক্ষিত হস্তক্ষেপ ও প্রদর্শনী বন্ধের প্রতিবাদে বাংলাদেশ ফেডারেশন অফ ফিল্ম সোসাইটিজ (BFFS)-এর তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ

বাংলাদেশ ফেডারেশন অফ ফিল্ম সোসাইটিজ (BFFS) অত্যন্ত উদ্বেগ ও ক্ষোভের সাথে লক্ষ্য করেছে যে, ৩০ মে ২০২৬ শনিবার বেলা ৩:০০টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফিল্ম সোসাইটি আয়োজিত অন্নদা সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা তানিম নূর পরিচালিত ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ চলচ্চিত্রের প্রদর্শনীটি চরমপন্থী মহলের ফেসবুক প্রচারণা, উস্কানি এবং মব (Mob) সৃষ্টির হুমকির মুখে স্থগিত করেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার স্থানীয় প্রশাসন। স্বাধীন বাংলাদেশে চলচ্চিত্রের মতো একটি শক্তিশালী গণমাধ্যম ও সাংস্কৃতিক অভিব্যক্তির উপর এমন প্রগতিবিরোধী এবং অগণতান্ত্রিক হস্তক্ষেপের ঘটনায় আমরা তীব্র নিন্দা, প্রতিবাদ ও গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করছি।

চলচ্চিত্র কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়, এটি সমাজের দর্পণ এবং মুক্তচিন্তা ও বাকস্বাধীনতার অন্যতম প্রধান বাহন। কোনো একটি গোষ্ঠীর অন্ধত্ব বা অসহিষ্ণুতার শিকার হয়ে নৈতিকতা শিক্ষার উদাহারণ স্বরুপ এ চলচ্চিত্রটির প্রদর্শনী বন্ধ করে দেয়া সুস্থ সাংস্কৃতিক বিকাশ ও নাগরিক অধিকারের সুষ্পষ্ট পরিপন্থী। সাইবার স্পেসে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালিয়ে এবং মাঠপর্যায়ে মব সংস্কৃতির (Mob Culture) জন্ম দিয়ে একটি শিল্পকর্মের উপর আগ্রাসনের এই অপচেষ্টা দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে স্তব্ধ করার মতো এক ভয়ানক উদাহারণ।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মতো ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক চত্বরে এ ধরনের ঘটনা শিল্পপ্রেমী আপামর জনগণকে চরমভাবে মর্মাহত করেছে। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব যেখানে নাগরিকদের নিরাপত্তা ও মুক্তবুদ্ধির চর্চাকে নির্বিঘ্ন করা, সেখানে উগ্রপন্থী মহলের হুমকিতে প্রদর্শনী স্থগিত করার সিদ্ধান্ত অত্যন্ত হতাশাজনক। এই ধরনের আপসকামিতা মৌলবাদী শক্তিকে ভবিষ্যতে আরও বেশি আস্কারা দেবে বলে আমরা আশঙ্কা প্রকাশ করছি।

এই উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ফেডারেশন অফ ফিল্ম সোসাইটিজ (BFFS)-এর পক্ষ থেকে আমরা প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি যে:

১. অনতিবিলম্বে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ চলচ্চিত্রটি প্রদর্শনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ও নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক।
২. যারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজেদের গণতন্ত্র বিরোধী দাবী করছে, নানবিধ উস্কানি দিয়ে এবং মব তৈরির হুমকি দিয়ে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করেছে এবং চলচ্চিত্রের প্রদর্শনী বন্ধে প্রশাসনকে বাধ্য করেছে, তদন্তপূর্বক তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হোক।
৩. দেশের প্রতিটি অঞ্চলে চলচ্চিত্র সংসদ আন্দোলনসহ যেকোনো সুস্থ সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড যেন কোনো ধরনের ভয়ভীতি বা বাধার সম্মুখীন না হয়, তার স্থায়ী ও প্রাতিষ্ঠানিক নিশ্চয়তা দেওয়া হোক।

আমরা দেশের সকল চলচ্চিত্র সংসদ কর্মী, সংস্কৃতিজন এবং প্রগতিশীল নাগরিকদের এই অপশক্তির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকার এবং সংস্কৃতির মুক্ত আলো ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় চলচ্চিত্র প্রদর্শনীতে চরমপন্থী মহলের অনাকাঙ্ক্ষিত হস্তক্ষেপ ও প্রদর্শনী বন্ধের ঘটনার প্রতিবাদে তীব্র ক্ষ...
31/05/2026

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় চলচ্চিত্র প্রদর্শনীতে চরমপন্থী মহলের অনাকাঙ্ক্ষিত হস্তক্ষেপ ও প্রদর্শনী বন্ধের ঘটনার প্রতিবাদে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা
সাম্প্রতিক সময়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আয়োজিত একটি চলচ্চিত্র প্রদর্শনীতে চরমপন্থী মহলের অনাকাঙ্ক্ষিত হস্তক্ষেপ এবং প্রদর্শনী বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনায় আমরা গভীর উদ্বেগ, তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা প্রকাশ করছি।
চলচ্চিত্র কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়; এটি সমাজ, সংস্কৃতি, মানবিক মূল্যবোধ ও মুক্তচিন্তার এক গুরুত্বপূর্ণ শিল্পভাষা। একটি সাংস্কৃতিক আয়োজনকে ভয়ভীতি, উগ্রতা কিংবা অসহিষ্ণুতার মাধ্যমে বাধাগ্রস্ত করা স্বাধীন সাংস্কৃতিক চর্চা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী।
আমরা মনে করি, শিল্প ও সংস্কৃতির পরিসর সংকুচিত করার যে কোনো অপচেষ্টা সমাজে অস্থিরতা, বিভাজন এবং সাংস্কৃতিক পশ্চাৎপদতার জন্ম দেয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ঘটে যাওয়া এই ঘটনা কেবল একটি চলচ্চিত্র প্রদর্শনী বন্ধ হওয়ার বিষয় নয়; এটি মুক্তবুদ্ধি, সৃজনশীলতা এবং সাংস্কৃতিক স্বাধীনতার ওপর একটি অশনিসংকেত।
ওয়ার্ল্ড সিনে সার্কেল দেশের সকল সাংস্কৃতিক সংগঠন, শিল্পী, চলচ্চিত্রকর্মী, বুদ্ধিজীবী এবং সচেতন নাগরিকদের এ ধরনের অপশক্তির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে। একই সঙ্গে আমরা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানাই, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভবিষ্যতে সাংস্কৃতিক আয়োজনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক।
আমরা বিশ্বাস করি, শিল্প-সংস্কৃতির স্বাধীন চর্চা অব্যাহত থাকবে এবং কোনো অশুভ শক্তিই মুক্তচিন্তা, সৃজনশীলতা ও সাংস্কৃতিক বিকাশের পথ রুদ্ধ করতে পারবে না।
আরিফুল ইসলাম প্রধান
সাধারণ সম্পাদক
ওয়ার্ল্ড সিনে সার্কেল

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় চলচ্চিত্র প্রদর্শনী বন্ধের ঘটনায় চুয়েট ফিল্ম সোসাইটির উদ্বেগ ও সংহতি CUET Film Society
31/05/2026

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় চলচ্চিত্র প্রদর্শনী বন্ধের ঘটনায় চুয়েট ফিল্ম সোসাইটির উদ্বেগ ও সংহতি CUET Film Society

ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে চলচ্চিত্র প্রদর্শনীতে বাধা প্রদান ও সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চলচ্চিত্র সংসদের প...
31/05/2026

ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে চলচ্চিত্র প্রদর্শনীতে বাধা প্রদান ও সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চলচ্চিত্র সংসদের প্রতিবাদলিপি। Dhaka University Film Society

Address

Dhaka
1216

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when চলচ্চিত্র সংস্কার রোডম্যাপ posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share