Fact Review

Fact Review Fact Review is committed to exposing misinformation and ensuring the truth reaches everyone in Bangladesh.

Together, we fight fake news and build a safer, more informed internet. Fact Review: Uncovering the Truth, One Fact at a Time

Fact Review is a pioneering fact-checking platform dedicated to identifying misinformation, debunking false narratives, and combating fake news in Bangladesh. With a strong commitment to promoting truth and transparency, we work tirelessly to verify news, expose deceptive

content, and deliver accurate information backed by solid evidence. Our mission is not only to counter fake news but also to empower the community by fostering critical thinking and media literacy, making the internet a safer and more reliable space for everyone. Fact Review goes beyond just fact-checking — we aim to set new standards in responsible journalism by creating a culture of truth, accountability, and trustworthiness in the digital age.

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. চৌধুরী সায়মা ফেরদৌসের ছবি ব্যবহার করে একটি ফটোকার্ড ছড়িয়...
23/08/2026

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. চৌধুরী সায়মা ফেরদৌসের ছবি ব্যবহার করে একটি ফটোকার্ড ছড়িয়ে পড়েছে। এতে তাঁর নামে দাবি করা হয়েছে, “আওয়ামী লীগ বিএনপি জুলাই যো`দ্ধাদের অভিশাপে ধ্বং`স হয়ে যাবে। তারা জুলাই যো`দ্ধাদের সম্মান করতে জানে না।”

অনুসন্ধানে দেখা যায়, ড. চৌধুরী সায়মা ফেরদৌসের নামে প্রচারিত এই বক্তব্যের কোনো নির্ভরযোগ্য উৎস নেই। ফটোকার্ডটিতে কোনো সংবাদমাধ্যম, সাক্ষাৎকার, অনুষ্ঠান কিংবা বক্তব্যের সূত্র উল্লেখ করা হয়নি। ফলে শুধু তাঁর ছবি ও নাম ব্যবহার করে তৈরি একটি ফটোকার্ডের ভিত্তিতে বক্তব্যটি তাঁর বলে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই।

বিষয়টির সত্যতা যাচাইয়ে আলোচিত বক্তব্যের বিভিন্ন অংশ ব্যবহার করে প্রাসঙ্গিক কী-ওয়ার্ডে অনুসন্ধান করা হয়। অনুসন্ধানে কোনো নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যম, সাক্ষাৎকার, ভিডিও কিংবা অন্য কোনো বিশ্বস্ত সূত্রে ড. চৌধুরী সায়মা ফেরদৌসের এমন বক্তব্যের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে সরাসরি ড. চৌধুরী সায়মা ফেরদৌসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তিনি এমন কোনো মন্তব্য করেননি। অর্থাৎ, প্রচারিত বক্তব্যটি তাঁর নিজের বক্তব্য নয় বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিই নিশ্চিত করেছেন।

এখানে আরও লক্ষণীয়, প্রচারিত ফটোকার্ডে তাঁর ছবি ব্যবহার করা হলেও বক্তব্যটির মূল উৎস, প্রকাশের তারিখ, স্থান বা কোনো প্রামাণ্য রেফারেন্স দেওয়া হয়নি। ফলে ব্যক্তির পরিচিতি ও ছবি ব্যবহার করে একটি বক্তব্যকে তাঁর নামে প্রচার করা হলেও বক্তব্যটির সত্যতা যাচাই করার মতো কোনো স্বাধীন উৎস পাওয়া যাচ্ছে না।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো ব্যক্তির ছবি ব্যবহার করে তাঁর নামে বক্তব্য তৈরি বা প্রচার করলেই সেটি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য হয়ে যায় না। বিশেষ করে রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর কোনো বক্তব্যের ক্ষেত্রে এর মূল উৎস ও প্রামাণ্য প্রেক্ষাপট থাকা জরুরি।

সুতরাং, “আওয়ামী লীগ বিএনপি জুলাই যো`দ্ধাদের অভিশাপে ধ্বং`স হয়ে যাবে” শীর্ষক বক্তব্যটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. চৌধুরী সায়মা ফেরদৌস করেছেন বলে যে ফটোকার্ড প্রচার করা হচ্ছে, তা ভুয়া।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের নামে একটি বক্তব্য ছড়িয়ে পড়েছে। প্...
23/08/2026

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের নামে একটি বক্তব্য ছড়িয়ে পড়েছে। প্রচারিত বক্তব্যে দাবি করা হচ্ছে, নির্বাচনী ব্যয় কমানোর জন্য ঠাকুরগাঁও-১ আসনে কোনো উপনির্বাচন হবে না এবং ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা জামায়াতের প্রার্থীকে ওই আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে গণ্য করা হবে।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন এমন কোনো মন্তব্য করেননি। বরং প্রচারিত বক্তব্যটির কোনো নির্ভরযোগ্য সংবাদসূত্র বা সরকারি সূত্র পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে মূলধারার গণমাধ্যমের প্রতিবেদন ও নির্বাচন কমিশন-সংশ্লিষ্ট তথ্য পর্যালোচনা করেও সিইসির এমন বক্তব্যের অস্তিত্ব মেলেনি।

উল্টো, ঠাকুরগাঁও-১ আসনটি শূন্য হওয়ার পর উপনির্বাচন নিয়ে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে দেওয়া বক্তব্যে ভিন্ন তথ্য পাওয়া যায়। ২২ আগস্ট ২০২৬ প্রকাশিত একাধিক সংবাদ প্রতিবেদনে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে এবং আইন ও বিধি অনুযায়ী ৯০ দিনের মধ্যে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ বিষয়ে সময়ের আলো, ঢাকা টাইমস ও দৈনিক ইনকিলাবসহ একাধিক গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

প্রচারিত বক্তব্যটির উৎস অনুসন্ধান করেও এর পক্ষে কোনো প্রামাণ্য সূত্র পাওয়া যায়নি। বরং অনুসন্ধানে দেখা যায়, ‘Gujob Tv- গুজব টিভি’ নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে ২১ আগস্ট প্রথমদিকে একই বক্তব্য প্রকাশ করা হয়। পোস্টটিতে কোনো সূত্র বা প্রমাণ উল্লেখ করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট পেজটির অন্যান্য কনটেন্ট পর্যালোচনায় এটি মূলত সার্কাজমভিত্তিক পেজ হিসেবে পরিচালিত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। পরবর্তীতে সেই ব্যঙ্গাত্মক বক্তব্যই বাস্তব সংবাদ বা সিইসির প্রকৃত মন্তব্য হিসেবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

এখানে মূল বিভ্রান্তির জায়গাটি হলো—একটি সার্কাজম পেজের পোস্টকে তার প্রেক্ষাপট বাদ দিয়ে বাস্তব বক্তব্য হিসেবে প্রচার করা হয়েছে। অথচ নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার প্রকাশিত বক্তব্যে ৯০ দিনের মধ্যে উপনির্বাচনের কথাই বলা হয়েছে।

সুতরাং, ঠাকুরগাঁও-১ আসনে কোনো উপনির্বাচন হবে না এবং জামায়াতের প্রার্থীই এমপি হবেন—এমন বক্তব্য সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন করেছেন বলে যে দাবি প্রচার করা হচ্ছে, তা ভুয়া ও বানোয়াট।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাবেক জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরিন শারমিন চৌধুরীকে যুক্তরাষ্ট্রের পেন্টাগনের কর্মকর্তাদের ...
23/08/2026

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাবেক জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরিন শারমিন চৌধুরীকে যুক্তরাষ্ট্রের পেন্টাগনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করতে দেখা গেছে—এমন দাবিতে একটি ছবি প্রচার করা হয়েছে। পোস্টটিতে বৈঠককে ঘিরে নানা রাজনৈতিক ইঙ্গিতও দেওয়া হয়েছে এবং এটিকে সাম্প্রতিক ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, প্রচারিত ছবিটি পেন্টাগনে শিরিন শারমিন চৌধুরীর কোনো বৈঠকের ছবি নয়। বরং ছবিটি ২০১৭ সালে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাতের সময় তোলা একটি পুরোনো ছবি।

ছবিটির উৎস অনুসন্ধান করতে গিয়ে স্টক ফটোগ্রাফি সংস্থা Alamy-তে প্রকাশিত ছবিটির মূল সংস্করণ পাওয়া যায়। মূল ছবির সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত ছবিটি পাশাপাশি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, দুটিতে শিরিন শারমিন চৌধুরী ও তাঁর পাশে থাকা ব্যক্তির অবস্থান, পেছনের জাতিসংঘের লোগো এবং অন্যান্য দৃশ্যগত উপাদান একই। এতে স্পষ্ট হয়, প্রচারিত ছবিটির মূল উৎস ওই পুরোনো ছবিটিই।

তবে ভাইরাল সংস্করণে ছবিটির পেছনে থাকা দুটি জাতিসংঘের পতাকা সম্পাদনা করে একটি বাংলাদেশের এবং অন্যটি যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা হিসেবে দেখানো হয়েছে। এভাবে ছবিটির দৃশ্যগত প্রেক্ষাপট পরিবর্তন করে এটিকে পেন্টাগনে অনুষ্ঠিত কোনো বৈঠকের ছবি হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

Alamy-তে থাকা মূল ছবির তথ্য অনুযায়ী, ছবিটি ১৭ অক্টোবর ২০১৭ সালে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে তোলা। ওই সময় শিরিন শারমিন চৌধুরী জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন। অর্থাৎ ছবিটির সঙ্গে পেন্টাগনের সাম্প্রতিক কোনো বৈঠকের সম্পর্ক নেই।

এদিকে, শিরিন শারমিন চৌধুরীর পেন্টাগনে এমন কোনো বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যম, সরকারি সূত্র বা অন্য কোনো বিশ্বাসযোগ্য উৎসেও তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে শুধু সম্পাদিত একটি ছবিকে ভিত্তি করে এমন বৈঠকের দাবি প্রতিষ্ঠিত করার সুযোগ নেই।

আরও অনুসন্ধানে দেখা যায়, যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পেজ থেকে দাবিটি প্রচার করা হয়েছে, সেটি শিরিন শারমিন চৌধুরীর নামে পরিচালিত হলেও তাঁর প্রকৃত বা ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্ট নয়। ফলে ওই পেজের পোস্টকে তাঁর নিজের বক্তব্য বা কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য হিসেবে গ্রহণ করারও সুযোগ নেই।

অর্থাৎ, ২০১৭ সালের জাতিসংঘ সদর দপ্তরে শিরিন শারমিন চৌধুরীর একটি পুরোনো সাক্ষাতের ছবি সম্পাদনা করে এর পেছনের পতাকা পরিবর্তন করা হয়েছে এবং সেটিকেই পেন্টাগনে তাঁর সাম্প্রতিক বৈঠকের ছবি হিসেবে প্রচার করা হয়েছে।

সুতরাং, শিরিন শারমিন চৌধুরীর পেন্টাগনে বৈঠকের দাবিতে প্রচারিত ছবিটি সম্পাদিত ও বিভ্রান্তিকর; এটি ২০১৭ সালের জাতিসংঘে তাঁর সাক্ষাতের পুরোনো ছবি।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর নামে একটি ম...
23/08/2026

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর নামে একটি মন্তব্য প্রচার করা হচ্ছে। সেখানে দাবি করা হয়েছে, “পাকিস্তানকে খুশি করতে তারেক রহমান ভারতে আসতে বিলম্বিত করছে”—এমন মন্তব্য করেছেন তিনি।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, দীনেশ ত্রিবেদীর নামে প্রচারিত এই মন্তব্যের কোনো নির্ভরযোগ্য উৎস বা প্রমাণ পাওয়া যায়নি। আলোচিত বক্তব্যটি তিনি কোথায়, কখন বা কোন অনুষ্ঠানে দিয়েছেন—এমন কোনো তথ্যও প্রচারিত দাবির সঙ্গে উল্লেখ করা হয়নি।

দীনেশ ত্রিবেদীর প্রকাশ্য বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট সংবাদ প্রতিবেদন এবং তাঁর অফিসিয়াল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্য পর্যালোচনা করেও আলোচিত মন্তব্যের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। বিশেষ করে, একজন ভারতীয় হাইকমিশনারের মতো গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ব্যক্তিত্ব যদি প্রকাশ্যে বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক নেতা তারেক রহমানকে নিয়ে পাকিস্তান-সম্পর্কিত এমন মন্তব্য করতেন, তাহলে তা নির্ভরযোগ্য গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার স্বাভাবিক সম্ভাবনা থাকত। কিন্তু অনুসন্ধানে এমন কোনো প্রতিবেদন বা বিশ্বস্ত সূত্র পাওয়া যায়নি।

এছাড়া, দীনেশ ত্রিবেদীর অফিসিয়াল এক্স অ্যাকাউন্টেও আলোচিত বক্তব্যের সমর্থনে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

অর্থাৎ, কোনো বক্তব্যের মূল উৎস, তারিখ, স্থান বা নির্ভরযোগ্য সংবাদসূত্র উল্লেখ না করেই দীনেশ ত্রিবেদীর নামে একটি রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর মন্তব্য প্রচার করা হয়েছে। নাম ও পদবি ব্যবহার করে কোনো বক্তব্য প্রচার করলেই তা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য হয়ে যায় না; এর জন্য নির্ভরযোগ্য উৎস ও প্রমাণ থাকা প্রয়োজন।

সুতরাং, ‘পাকিস্তানকে খুশি করতে তারেক রহমান ভারতে আসতে বিলম্বিত করছেন’—এমন মন্তব্য দীনেশ ত্রিবেদী করেছেন বলে যে দাবি প্রচার করা হচ্ছে, তার পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি; দাবিটি মিথ্যা।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ ইন্টারনেটের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, লিফটের ভ...
23/08/2026

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ ইন্টারনেটের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, লিফটের ভেতরে থাকা এক শিশুকে একটি কুকুর কা`ম`ড় দিচ্ছে। শিশুটি ব্যথায় কাতরালেও কুকুরটির সঙ্গে থাকা নারী তাকে রক্ষায় তাৎক্ষণিক কোনো পদক্ষেপ নেননি। ভিডিওটি বাংলাদেশের ঘটনা দাবি করে অনেকে ক্ষোভ প্রকাশের পাশাপাশি ওই নারীর বিচারও দাবি করেছেন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ভিডিওটির ঘটনাটি বাংলাদেশের নয়। প্রকৃতপক্ষে, ভারতের উত্তর প্রদেশের গাজিয়াবাদে ২০২২ সালে ঘটে যাওয়া একটি কুকুরের আক্রমণের পুরোনো ভিডিওকে বাংলাদেশে সাম্প্রতিক ঘটনা হিসেবে প্রচার করা হয়েছে।

আলোচিত ভিডিওটির বিষয়ে অনুসন্ধানে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম Indian Express-এর ফেসবুক পেজে ২০২২ সালের ৭ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত একটি ভিডিও প্রতিবেদন পাওয়া যায়। ওই প্রতিবেদনে ব্যবহৃত ভিডিও ফুটেজের সঙ্গে বর্তমানে বাংলাদেশে প্রচারিত ভিডিওটির দৃশ্যের হুবহু মিল রয়েছে।

প্রতিবেদনটি থেকে জানা যায়, ঘটনাটি ২০২২ সালের ৫ সেপ্টেম্বর ভারতের উত্তর প্রদেশের গাজিয়াবাদের রাজনগর এক্সটেনশনের একটি আবাসিক হাউজিং সোসাইটির লিফটে ঘটে। সেখানে ৯ বছর বয়সী এক শিশুকে একটি পোষা কুকুর আক্রমণ করে। ঘটনাটি নিয়ে কুকুরটির মালিকের বিরুদ্ধে নন্দগ্রাম থানায় মা`ম`লা করা হয়।

পরবর্তীতে Times of India ও India Today-সহ ভারতের একাধিক গণমাধ্যমেও ঘটনাটি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এসব প্রতিবেদনেও একই স্থান, সময় ও ঘটনার বিবরণ পাওয়া যায়। ফলে ভিডিওটির উৎস ও প্রেক্ষাপট নিয়ে কোনো অস্পষ্টতা থাকে না।

অর্থাৎ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটির মূল ঘটনা সত্য হলেও এর স্থান ও সময়ের পরিচয় পরিবর্তন করে প্রচার করা হয়েছে। ২০২২ সালে ভারতের গাজিয়াবাদে ঘটে যাওয়া ঘটনাটিকে বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া সাম্প্রতিক ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করায় বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে।

সম্প্রতি ‘Pakistan Untold’ নামের একটি প্রোফাইল থেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আকাশ সরকারের মৃ`ত্যুর একটি ছবি ও ...
23/08/2026

সম্প্রতি ‘Pakistan Untold’ নামের একটি প্রোফাইল থেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আকাশ সরকারের মৃ`ত্যুর একটি ছবি ও তথ্য প্রচার করে ঘটনাটিকে সাম্প্রতিক হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। একইসঙ্গে পোস্টে বাংলাদেশকে “Islamic Bangladesh” হিসেবে উল্লেখ করে দাবি করা হয়েছে, হিন্দু শিক্ষার্থী মারা গেলেও এখানে ন্যায়বিচার পাওয়া যায় না।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, আকাশ সরকারের মৃ`ত্যুর ঘটনাটি সাম্প্রতিক নয়; এটি ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ঘটে যাওয়া একটি পুরোনো ঘ`ট`না। বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আকাশ সরকার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের ১০ম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ রাতে পুরান ঢাকার ভাটিখানা এলাকার একটি মেসের কক্ষ থেকে তাঁর ঝুলন্ত ম`র`দে`হ উদ্ধার করা হয়।

প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই রাতে তাঁর রুমমেট দরজা ভেঙে কক্ষে প্রবেশ করে তাঁকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে গেন্ডারিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ম`র`দে`হ উদ্ধার করে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। সে সময় পুলিশ ঘটনাটিকে প্রাথমিকভাবে আ`ত্ম`হ`ত্যা বলে ধারণা করার কথা জানিয়েছিল।

ঘটনাটি নিয়ে জানুয়ারি ২০২৬-এই দেশের একাধিক সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এসব প্রতিবেদনে আকাশ সরকারের মৃ`ত্যুকে হ`ত্যাকাণ্ড হিসেবে নিশ্চিত করা হয়নি। তাঁর মৃ`ত্যুর সঙ্গে সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষের সম্পর্ক রয়েছে—এমন কোনো তথ্যও এসব প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।

অর্থাৎ, প্রায় সাত মাস আগে ঘটে যাওয়া একটি মৃ`ত্যু`র ঘটনাকে আগস্ট ২০২৬-এ নতুন বা সাম্প্রতিক ঘ`ট`না হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। একইসঙ্গে মৃ`ত্যুর কারণ সম্পর্কে প্রকাশিত প্রাথমিক তথ্যকে পাশ কাটিয়ে ঘটনাটিকে “Islamic Bangladesh”-এ হিন্দুদের ন্যায়বিচার না পাওয়ার উদাহরণ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

এখানে আকাশ সরকারের মৃ`ত্যুর বাস্তবতাকে অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই। তবে একটি ঘ`ট`না বাস্তব হওয়া এবং সেই ঘটনাকে ঘিরে পরবর্তীতে যে ব্যাখ্যা বা বয়ান তৈরি করা হচ্ছে—দুটি বিষয় এক নয়। কোনো মৃ`ত্যু`কে সাম্প্রদায়িক নিপীড়ন বা হ`ত্যা`কা`ণ্ডের উদাহরণ হিসেবে উপস্থাপন করতে হলে তার পক্ষে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ থাকা প্রয়োজন।

বিশেষ করে, প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী যেখানে পুলিশ প্রাথমিকভাবে আ`ত্মহ`ত্যার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছিল, সেখানে হ`ত্যা`কাণ্ড বা ধর্মীয় কারণে মৃ`ত্যুর কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ ছাড়াই ঘটনাটিকে সাম্প্রদায়িক নিপীড়নের প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা তথ্যের পূর্ণাঙ্গ চিত্র তুলে ধরে না।

ফলে পোস্টটিতে একটি পুরোনো বাস্তব ঘ`ট`নাকে সময়ের দিক থেকে নতুন হিসেবে উপস্থাপনের পাশাপাশি প্রমাণহীন সাম্প্রদায়িক ব্যাখ্যা যুক্ত করা হয়েছে, যা পাঠকের কাছে ঘটনাটি সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর ধারণা তৈরি করতে পারে।

সুতরাং, আকাশ সরকারের মৃ`ত্যুর ঘটনা সত্য হলেও জানুয়ারি ২০২৬-এর ঘটনাটিকে আগস্টের সাম্প্রতিক ঘটনা হিসেবে প্রচার এবং প্রমাণ ছাড়াই সেটিকে হিন্দু নিপীড়নের উদাহরণ হিসেবে উপস্থাপন করা বিভ্রান্তিকর।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে “বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সকল কর্মকর্তা ও বিচারককে যুক্তরাষ্ট্রে নি-ষে-ধা-জ্...
22/08/2026

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে “বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সকল কর্মকর্তা ও বিচারককে যুক্তরাষ্ট্রে নি-ষে-ধা-জ্ঞা” শীর্ষক একটি দাবি ছড়িয়ে পড়েছে। দাবিটির সঙ্গে একটি গণমাধ্যমের ফটোকার্ডও প্রচার করে বিষয়টিকে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কর্মকর্তা ও বিচারকদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নি`ষে`ধা`জ্ঞা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, দাবিটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। প্রকৃতপক্ষে, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কোনো কর্মকর্তা বা বিচারকের বিরুদ্ধে এমন নি`ষে`ধা`জ্ঞা আরোপ করেনি। বরং, যুক্তরাষ্ট্রের নি`ষে`ধা`জ্ঞার ঘটনাটি নেদারল্যান্ডসের হেগে অবস্থিত আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (ICC)-এর কর্মকর্তাদের নিয়ে। একই সঙ্গে বাংলাদেশে International Criminal Tribunal (ICT) রয়েছে, যা আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (ICC) থেকে সম্পূর্ণ পৃথক প্রতিষ্ঠান।

দাবিটির সূত্র অনুসন্ধানে দেখা যায়, প্রচারিত পোস্টে আরটিভির একটি ফটোকার্ড ব্যবহার করা হয়েছে। আরটিভির ফটোকার্ডটিতে “আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নি-ষে-ধা-জ্ঞা” শিরোনাম দেখা যায়। ফটোকার্ডটির সূত্র ধরে আরটিভির প্রকাশিত প্রতিবেদনেও একই তথ্য পাওয়া যায়। সেখানে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (ICC) প্রেসিডেন্ট তোমোকো আকানে এবং আদালটির কর্মকর্তা আবদুলায়ে সেয়ের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র নি-ষে-ধা-জ্ঞা আরোপ করেছে।

অর্থাৎ, আরটিভির প্রতিবেদনে উল্লেখিত “আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত” বলতে হেগভিত্তিক ICC-কে বোঝানো হয়েছে, বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালকে নয়। এই দুই প্রতিষ্ঠানকে এক করে দেখানোর ফলেই বিভ্রান্তিকর দাবিটির সৃষ্টি হয়েছে।

বিষয়টি আরও যাচাই করতে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগের নি-ষে-ধা-জ্ঞাসংক্রান্ত তথ্য পর্যালোচনা করেও বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কর্মকর্তা বা বিচারকদের বিরুদ্ধে এমন কোনো নি-ষে-ধা-জ্ঞার তথ্য পাওয়া যায়নি। বিপরীতে, ২০২৬ সালের ১৮ আগস্টের নথিতে ICC-এর প্রেসিডেন্ট তোমোকো আকানে ও কর্মকর্তা আবদুলায়ে সেয়ের বিরুদ্ধে নি-ষে-ধা-জ্ঞার তথ্য রয়েছে।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে একটি ভিডিও প্রচার করে দাবি করা হয়েছে, ট্রাফিক আইন অমান্য করে উল্টো প...
22/08/2026

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে একটি ভিডিও প্রচার করে দাবি করা হয়েছে, ট্রাফিক আইন অমান্য করে উল্টো পথে মোটরসাইকেল চালানোর সময় এক যুবক নিজেকে ‘নারায়ণগঞ্জ জেলার ডন’ দাবি করে দায়িত্বরত আনসার সদস্যদের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েছেন। ভিডিওটি প্রচারের পর ঘটনাটিকে বাস্তব হিসেবে ধরে নিয়ে নানা আলোচনা তৈরি হয়।

অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রচারিত ভিডিওটি কোনো বাস্তব ঘটনার দৃশ্য নয়। প্রকৃতপক্ষে, জনসচেতনতামূলক কনটেন্ট তৈরির জন্য নির্মিত একটি স্ক্রিপ্টেড বা সাজানো ভিডিওকে বাস্তব ঘটনা হিসেবে প্রচার করা হয়েছে। ভিডিওতে থাকা ব্যক্তিও কোনো যুবদল নেতা নন।

আলোচিত ভিডিওটির সূত্র অনুসন্ধানে ‘Muhammad Razim’ নামের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্টে গত ১৩ জুলাই ‘নারায়ণগঞ্জের ডন মানি আ`গু`ন, আইন সবার জন্য সমান, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ না’ ক্যাপশনে প্রকাশিত একটি ভিডিও পাওয়া যায়। ভিডিওটির বিভিন্ন দৃশ্য ও চরিত্রের সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওটির মিল রয়েছে।

ভিডিওটি পর্যালোচনা করলে ঘটনাটিকে বাস্তব কোনো আকস্মিক পরিস্থিতির পরিবর্তে পূর্বপরিকল্পিত ও অভিনীত দৃশ্য হিসেবে দেখা যায়। একই ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে নির্মিত সংলাপ, পরিস্থিতি এবং ক্যামেরায় ধারণের ধরন থেকেও এটি কনটেন্টভিত্তিক ভিডিও হওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট হয়।

এ বিষয়ে আরও অনুসন্ধানে ‘Muhammad Razim’ নামের অ্যাকাউন্টটির বায়োতে ‘নারায়ণগঞ্জ এর ডন পরিবারের নতুন আইডি’-সংক্রান্ত লেখা পাওয়া যায়। পাশাপাশি অ্যাকাউন্টটিতে প্রকাশিত অন্যান্য ভিডিও পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ভাইরাল ভিডিওতে নিজেকে ‘নারায়ণগঞ্জ জেলার ডন’ দাবি করা একই ব্যক্তিকে বিভিন্ন ভিডিওতে ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করতে দেখা গেছে। ফলে তাকে বাস্তব কোনো অপরাধী বা যুবদল নেতা হিসেবে উপস্থাপনের দাবিরও ভিত্তি পাওয়া যায়নি।

অর্থাৎ, আলোচিত ভিডিওটি মূলত অভিনয় ও স্ক্রিপ্টের মাধ্যমে তৈরি কনটেন্ট, যা পরবর্তীতে এর প্রেক্ষাপট বাদ দিয়ে বাস্তব ঘটনা হিসেবে ছড়িয়ে পড়েছে।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ছবি ব্যবহার করে এক...
22/08/2026

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ছবি ব্যবহার করে একটি ফটোকার্ড প্রচার করা হয়েছে। এতে দাবি করা হচ্ছে, বিএনপিকে উদ্দেশ করে ড. ইউনূস বলেছেন, “বিএনপি আগে বলতো আমি নাকি দেশ চালাতে ব্যর্থ, অথচ আমার সময় তেল বিদ্যুৎ গ্যাস ভালোই ছিলো, দাম বাড়াইনি। নির্বাচন দিলেই নাকি সব সমাধান হয়ে যাবে? দিলাম তো নির্বাচন। অথচ এখন দেখি তেল বিদ্যুৎ ছাড়া দেশ চলে!”

অনুসন্ধানে জানা যায়, বিএনপি সরকার ও দেশের বর্তমান জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে ড. মুহাম্মদ ইউনূস এমন কোনো মন্তব্য করেননি। কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্যসূত্র ছাড়াই তার নামে উক্ত বক্তব্য প্রচার করা হয়েছে।

আলোচিত ফটোকার্ড ও এ-সংক্রান্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টগুলো পর্যালোচনা করে দেখা যায়, কোথায়, কবে বা কোন প্রেক্ষাপটে ড. ইউনূস এমন মন্তব্য করেছেন—সে বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট তথ্য বা বক্তব্যের সূত্র উল্লেখ করা হয়নি। একই সঙ্গে দাবিটির সমর্থনে কোনো ভিডিও, সাক্ষাৎকার কিংবা মূল বক্তব্যের রেকর্ডও উপস্থাপন করা হয়নি।

বিষয়টি যাচাইয়ে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সাম্প্রতিক বক্তব্য, সাক্ষাৎকার এবং তার ভেরিফায়েড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেখানেও আলোচিত বক্তব্যের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি প্রাসঙ্গিক কী-ওয়ার্ডে অনুসন্ধান করেও দেশের জ্বালানি পরিস্থিতি ও বিএনপি সরকারকে নিয়ে ড. ইউনূসের এমন মন্তব্যের কোনো নির্ভরযোগ্য সংবাদ বা সূত্র পাওয়া যায়নি।

বিশেষ করে, বিএনপি সরকার এবং তেল-বিদ্যুৎ-গ্যাসের মতো গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ইস্যু নিয়ে ড. ইউনূসের এমন মন্তব্য সত্যিই করা হয়ে থাকলে তা নির্ভরযোগ্য গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পাশাপাশি বক্তব্যটির প্রামাণ্য উৎস থাকার কথা। কিন্তু অনুসন্ধানে এমন কোনো প্রমাণ মেলেনি।

অর্থাৎ, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ছবি ও নাম ব্যবহার করে তার বক্তব্য হিসেবে প্রচারিত কথাগুলোর পেছনে কোনো নির্ভরযোগ্য উৎস নেই। এটি মূলত তার নামে তৈরি ও প্রচার করা একটি ভিত্তিহীন ফটোকার্ড।

সম্প্রতি দেশের কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া বন্দীদের সর্বশেষ তথ্য প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি ছড়িয়ে পড়েছে,...
22/08/2026

সম্প্রতি দেশের কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া বন্দীদের সর্বশেষ তথ্য প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি ছড়িয়ে পড়েছে, বন্দী পলায়ন নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার জেরেই কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেনকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, আইজি প্রিজন পদ থেকে সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেনকে প্রত্যাহার করা হলেও এর সঙ্গে বন্দী পলায়ন নিয়ে তার দেওয়া বক্তব্যের কোনো সম্পর্ক নেই। প্রকৃতপক্ষে, জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে নতুন দায়িত্বে পদায়নের কারণে তাকে আইজি প্রিজন পদ থেকে প্রত্যাহার করে সেনাবাহিনীতে প্রত্যাবাসন করা হয়েছে।

এর আগে গত ১৭ আগস্ট কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন জানান, ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় দেশের বিভিন্ন কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া ২ হাজার ২৪৭ জন বন্দীর মধ্যে ৬৯০ জন এখনো পলাতক রয়েছেন। এর মধ্যে নরসিংদী কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া ১৬৬ বন্দীর কোনো সন্ধান এখনো পাওয়া যায়নি। তার এই বক্তব্যের পরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার সঙ্গে বক্তব্যটির যোগসূত্র দাবি করে পোস্ট ছড়িয়ে পড়ে।

তবে এ দাবির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সময়ক্রম পর্যালোচনা করলে ভিন্ন তথ্য পাওয়া যায়। অনুসন্ধানে জাতীয় দৈনিক সময়ের আলো-এর ১৯ আগস্টের প্রতিবেদনে জানা যায়, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেনকে সেনাবাহিনীতে প্রত্যাবাসন করে নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনের নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

এ ছাড়া জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের আদেশেও তাকে সেনাবাহিনীতে প্রত্যাবাসনের তথ্য পাওয়া যায়। পরবর্তী সরকারি নথি অনুযায়ী, ৩০ জুলাই জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনের নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে তার নিয়োগ অনুমোদন করা হয়। এ নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল তার বন্দী পলায়নসংক্রান্ত বক্তব্য দেওয়ার অনেক আগেই।

অর্থাৎ, বন্দী পলায়ন নিয়ে তার বক্তব্য দেওয়ার প্রায় দুই সপ্তাহ আগেই তাকে নতুন দায়িত্বে পদায়নের প্রক্রিয়া অনুমোদিত হয়েছিল। ফলে তার ১৭ আগস্টের বক্তব্যের কারণে তাকে আইজি প্রিজন পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে—এমন দাবি সময়ক্রম ও সরকারি নথির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

Address

Dhaka

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Fact Review posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share