28/06/2026
দেশে প্রথমবারের মতো শিশুদের খেলনার জন্য বাধ্যতামূলক নিরাপত্তা মান নির্ধারণ করেছে সরকার। ফলে এখন থেকে নির্ধারিত মান পূরণ না করে কোনো খেলনা উৎপাদন, আমদানি বা বাজারজাত করা যাবে না। একই সঙ্গে প্লাস্টিক ফিডিং বোতল, এলইডি লাইট, ভুট্টার ভোজ্যতেল, কংক্রিটের ব্লক, কৃত্রিম তন্তুর শাড়ি এবং নারী ও মেয়েদের পোশাকের কাপড়ের জন্যও নতুন বা সংশোধিত বাংলাদেশ মান (বিডিএস) বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
শিল্প মন্ত্রণালয় ও বিএসটিআইয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, শিশুদের ব্যবহৃত খেলনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এখন থেকে দেশে উৎপাদিত ও আমদানি করা সব খেলনা বাজারজাত করার আগে নির্ধারিত নিরাপত্তা মান পূরণ করতে হবে। এই মান নিশ্চিত করবে, খেলনায় এমন কোনো উপাদান থাকবে না, যা শিশুদের শ্বাসরোধ, বিষক্রিয়া, আগুন বা শারীরিক আঘাতের ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।
২০২৪ সালের অক্টোবরে বেসরকারি দুই সংস্থা পরিবেশ ও সামাজিক উন্নয়ন সংস্থা (ইএসডিও) এবং বিএএন টক্সিকসের যৌথ এক গবেষণায় ঢাকার বিভিন্ন বাজার থেকে সংগ্রহ করা ১৫০টি শিশুপণ্যের ৮০ শতাংশেই সিসা, পারদ, ক্যাডমিয়াম ও ক্রোমিয়ামের মতো বিষাক্ত ভারী ধাতু পাওয়া গিয়েছিল। এর মধ্যে শিশুর ব্যবহারের জন্য বাজারজাত করা একটি পানির মগে সিসার মাত্রা ছিল ১ হাজার ৩৮০ পিপিএম, যেখানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) অনুমোদিত সীমা মাত্র ৯০ পিপিএম। এই গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, এসব বিষাক্ত উপাদান শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি করতে পারে।
একই গবেষণায় উঠে আসে, ৮৮ শতাংশ অভিভাবক জানেন না যে খেলনায় বিষাক্ত ধাতু থাকতে পারে। আর ৬৪ শতাংশ অভিভাবক নিশ্চিত নন, তাঁরা সন্তানদের জন্য যে খেলনা কিনছেন, তা স্বাস্থ্যসম্মত কি না। ওই গবেষণার পর বিএসটিআই জানিয়েছিল, শিশুদের খেলনা তাদের বাধ্যতামূলক মান নিয়ন্ত্রণের তালিকায় নেই। দেড় বছরের বেশি সময় পর সেই খেলনাই এবার বাধ্যতামূলক মানের আওতায় এল।
_
ইতু অ্যাকশন আশা করে, শিশুদের খেলনাসহ বিভিন্ন ভোক্তা পণ্যের জন্য বাধ্যতামূলক নিরাপত্তা মান নির্ধারণের এই গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হবে। ভোক্তা সুরক্ষা নিশ্চিত করতে নির্ধারিত মানের যথাযথ প্রয়োগ ও নিয়মিত তদারকি জরুরি, যাতে প্রতিটি ভোক্তা—বিশেষ করে শিশুরা—নিরাপদ পণ্য ব্যবহারের নিশ্চয়তা পায়।