10/05/2026
অর্থনীতির গণতান্ত্রিকীকরণই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য: অর্থমন্ত্রী
---------------------------------------------------------
অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক দর্শনের কেন্দ্রে রয়েছে অর্থনীতির গণতান্ত্রিকীকরণ। রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিকের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা সরকারের মূল উদ্দেশ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ বিষয়ক কার্যক্রম বাস্তবায়নে পিকেএসএফ-কে সরকারের পক্ষ থেকে পূর্ণ সমর্থন ও সহযোগিতা প্রদান করা হবে।
আজ রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পিকেএসএফ ভবন ১-এ আয়োজিত দক্ষতা উন্নয়ন বিষয়ক RAISE প্রকল্পের ২য় পর্যায়ের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ‘Stepping Forward: The Inauguration of RAISE-2’ শীর্ষক এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পিকেএসএফ চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খান, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক, সম্মাননীয় অতিথি ছিলেন বিশ্বব্যাংকের অ্যাক্টিং ডিভিশন ডিরেক্টর ফর বাংলাদেশ অ্যান্ড ভুটান ড. গেইল এইচ. মার্টিন এবং স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন পিকেএসএফ-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ ফজলুল কাদের।
প্রধান অতিথি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল সুষম বণ্টনের মাধ্যমে তা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া এবং একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি গড়ার লক্ষ্যে সমাজের অবহেলিত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে মূলধারায় সম্পৃক্তকরণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। পিকেএসএফ-এর কার্যক্রমের ভূয়সী প্রশংসা করে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “পিকেএসএফ-এর উন্নয়ন দর্শন সরকারের লক্ষ্যমাত্রার সাথে শতভাগ সামঞ্জস্যপূর্ণ।”
বিশেষ অতিথি নাজমা মোবারেক বলেন, পিকেএসএফ অর্থায়নের পাশাপাশি উদ্যোক্তাদের দক্ষতা উন্নয়ন, এবং কারিগরি, প্রযুক্তি ও বাজার সংযোগ সৃষ্টিতে সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে দরিদ্র মানুষের টেকসই উন্নয়নে কাজ করছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ক্ষুদ্র উদ্যোগ খাতের উন্নয়নে পিকেএসএফ আরও ব্যাপক পরিসরে কাজ করবে এবং এর ফলে আরও বেশি সংখ্যক মানুষের টেকসই কর্মসংস্থান নিশ্চিত হবে।
বিশ্বব্যাংকের ড. গেইল এইচ. মার্টিন বলেন, প্রতি বছর বাংলাদেশের শ্রমবাজারে প্রবেশ করা বিশ লাখেরও বেশি তরুণের কারিগরি জ্ঞান ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। এ কাজে ইতিবাচক অবদান রাখার উদ্দেশ্যে RAISE প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ে আরও অধিক সংখ্যক নারীদের প্রশিক্ষণ ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
পিকেএসএফ-কে ‘স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২৬’-এ ভূষিত করার জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে জাকির আহমেদ খান বলেন, বাংলাদেশের কর্মসংস্থানের সিংহভাগই অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতকেন্দ্রিক এবং জিডিপিতে এর অবদান বর্তমানে ৩০ শতাংশের বেশি। এ খাতের উন্নয়নে পিকেএসএফ প্রায় ৪০ লক্ষ ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাকে সংগঠিত করেছে এবং এর মাধ্যমে প্রায় ৭০ লক্ষ পূর্ণকালীন কর্মসংস্থান নিশ্চিত হয়েছে। এ নীরব বিপ্লবকে টেকসই করতে বৈদেশিক সাহায্যের পাশাপাশি দেশীয় অর্থায়নের সংস্থান এখন সময়ের দাবি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মোঃ ফজলুল কাদের বলেন, পিকেএসএফ-এর কৌশলগত পরিকল্পনায় কর্মসংস্থান, দক্ষতা বৃদ্ধি ও ঝুঁকি নিরসনের ত্রি-স্তম্ভের উপর ভিত্তি করে ১৩টি অব্যাহত কর্মসূচি মাধ্যমে কর্মসংস্থানের গুণগতমান বৃদ্ধির প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। প্রায় ৫০টি বিশেষায়িত প্রকল্পের সফল বাস্তবায়নের মাধ্যমে এ অব্যাহত কার্যক্রমগুলোকে আরও শাণিত করা হয়েছে। সারাদেশে উৎপাদনশীল ও মর্যাদাপূর্ণ কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে ক্ষুদ্র উদ্যোগকে দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে রূপান্তরিত করার লক্ষ্যে পিকেএসএফ এখন সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
২০৩০ সালে সমাপ্ত হতে যাওয়া RAISE প্রকল্পের ২য় পর্যায়ে সরাসরি উপকৃত হবেন ৪ লাখ ২৩ হাজার ১০০ জন। অংশগ্রহণকারী নির্বাচনের ক্ষেত্রে চর, হাওর, পার্বত্য ও উপকূলীয় এলাকার মতো জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের তরুণদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। পাশাপাশি, দলিত, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও প্রতিবন্ধী তরুণদের অন্তর্ভুক্তিকরণে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। শ্রমশক্তিতে নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধির লক্ষ্যে ১,৬০০ নারীকে ‘হোম-বেজড চাইল্ডকেয়ার’ উদ্যোক্তা বিষয়ক প্রশিক্ষণ প্রদানের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রকল্পের মাঠ পর্যায়ের অংশগ্রহণকারীদের কয়েকজন নিজেদের সফলতার গল্প তুলে ধরেন। বাজার-চাহিদাভিত্তিক কারিগরি প্রশিক্ষণ, জীবন দক্ষতা উন্নয়ন এবং উদ্যোগ উন্নয়ন কার্যক্রমের মাধ্যমে তরুণদের উপযুক্ত কর্মসংস্থানে সম্পৃক্ত করার পাশাপাশি ক্ষুদ্র উদ্যোগের বিকাশ ও টেকসই প্রবৃদ্ধিতে এ প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে মন্তব্য করেন RAISE-বাস্তবায়নকারী সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিবৃন্দ।