19/06/2025
আমি একটা কথা সব সময় বলি-
পরিবেশবাদ সাইন্সের কোন সাবজেক্ট না, এটা আর্টসের সাবজেক্ট।
পরিবেশবাদের সাথে সাইন্সের বিন্দুমাত্র সম্পর্ক নাই।
যেমন, খোদ পরিবেশ উপদেষ্টা রিজওয়ানা আর্টসের পড়ালেখা করা মহিলা।
পরিবেশবাদের নামে হরহামেশা সাইন্স বহির্ভূত কথাবার্তা বলেন।
যেমন-
যখন সেইন্টমার্টিন বন্ধ করে দিলেন, বললেন-
সেন্টমার্টিনের পর্যটক যাতায়াত বন্ধ না করলে,
কোরাল ক্ষয় হয়ে দ্বীপটি নাকি পানির নিচে তলিয়ে যাবে।
অথচ কোরাল ক্ষয় হওয়ার সাথে সেইন্টমার্টিন ডুবে যাওয়ার কোন সম্পর্ক নাই,
সেন্টমার্টিন দ্বীপ কোরাল দিয়ে তৈরী নয়, বরং কোরাল সমৃদ্ধ দ্বীপ।
সেন্টমার্টিন দ্বীপটি পাথর দিয়ে তৈরী। ফলে কোরাল শূণ্য হলেও দ্বীপটি ডুবে যাওয়ার কোন সম্ভবনা নাই। কিন্তু তারপরও মিথ্যা কথা বলে তিনি দ্বীপটিতে পর্যটক যাওয়া বন্ধ করে দিলেন।
এজন্য সারা বিশ্বজুড়ে পরিবেশবাদীরা প্রতারক হিসেবে পরিচিত।
তারা পরিবেশের দোহাই তাদের ভিন্ন কিছু স্বার্থ হাসিল করে,
যা সাধারণ মানুষ বুঝতে পারে না।
যেমন-
সিলেটে পরিবেশবাদীদের চাপে দীর্ঘদিন ধরে পাথর উত্তোলন বন্ধ।
ভারতের মেঘালয় থেকে ভেসে আসা পাথর নদীর তলদেশ ভরাট করে ফেলে।
ফলে ভারতে অতিবৃষ্টি হলে সিলেটের নদী সেই পানি ধারণ করতে পারে না।
ফলে নদী উপচে বন্যা হয়। এ সম্পর্কে নদী গবেষক মুমিনুল হক সরকার বলেন, “প্রতি বছর উজান থেকে পানির সাথে পলি আর পাথর নেমে আসে। সেটা এসে বাংলাদেশের অংশে নদীর তলদেশ ভরে ফেলে। নদীর পানি বহনের ক্ষমতা কমে যায়। তখন এই নদীতে বেশি পানি আসলে সেটা উপচে আশেপাশের এলাকা ভাসিয়ে ফেলে।” (বিবিসি বাংলা, ১৮ জুন ২০২২)
তাই নদীর নাব্যতা ঠিক রাখতে, পাথর উত্তোলনের বিকল্প নেই।
কিন্তু রিজওয়ানারা এটা চায় না। আওয়ামীলীগের আমলে তারা বেলা বা বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠনের নামে বাধা দিতো, আর এখন তো তারা ক্ষমতায়। ফলে ক্ষমতায় থেকে বাধা দিচ্ছে। সম্প্রতি সে দাবী করেছে, সিলেট থেকে আর পাথর কোয়ারি খোলা হবে না, শ্রমিকদের অন্য পেশায় নিয়োজিত করা হবে। সে আরো বলেছে, “সিলেটে বন্যা কিন্তু পাথর জমা থাকার কারণে না বরং অতিরিক্ত পাথর তোলার কারণে।”(তথ্যসূত্র: কমেন্টে)
আসলে এসব পরিবেশবাদ ফরিবেশবাদ বলে কিছু নেই। সব হচ্ছে আন্তর্জাতিক ব্যবসা।
বাংলাদেশে তো নির্মাণ কাজের জন্য প্রচুর পাথরের প্রয়োজন।
কিন্তু দেশী উৎস থেকে যদি পাথর উত্তোলন বন্ধ করা হয়,
তবে এত বিপুল পাথর পাওয়া যাবে কোথা থেকে ?
অব্যশই ভারত থেকে। ভারত থেকে ডলার দিয়ে পাথর আমদানি করে সেই চাহিদা মেটাতে হবে।
আওয়ামীলীগ আমল থেকে সেটাই হচ্ছে।
আসলে পরিবেশবাদ হচ্ছে মার্কিন সম্রাজ্যবাদের একটা টুল।
আর মার্কিন সম্রাজ্যবাদের অন্যতম ভিত্তি হচ্ছে ডলার।
ডলার হচ্ছে ফিয়াট কারেন্সি। চাহিদা ও যোগানের উপর এর দাম নির্ভর করে।
আমেরিকা যে ই স রা ইলসহ বিভিন্ন দেশে এত এত যু দ্ধ ব্যয় খরচ করছে,
সেই খরচ আসবে কোথা থেকে ? এতে তো ইনফ্লেশন তৈরী হবে।
সেটা সামাল দেয়ার জন্য বিভিন্ন দেশের ডলারের ব্যবহার বৃদ্ধি করতে হবে।
ফলে ডলার ব্যবহারের নামে সেই যু দ্ধ ব্যয় বিভিন্ন দেশের উপর চাপিয়ে দেয়া হবে।
এজন্য দেখবেন, এসব পরিবেশবাদের মূল কাজ হচ্ছে দেশী শিল্প বন্ধ করে বিদেশ থেকে আমদানি নির্ভরতা তৈরী করা। কারণ আপনি যে দেশ থেকেই আমদানি করেন, আপনাকে অধিকাংশ আমদানি করতে হবে ডলার দিয়ে। আর আপনি যত ডলার কিনবেন, ডলারের চাহিদা তত বাড়বে এবং ডলারের মূল্য সামাল দেয়া যাবে। মানে আমেরিকা ই স রা ই ল-ইউক্রেনে যে যু দ্ধ ব্যয় করছে, তা ডলার ব্যবহারের মাধ্যমে আপনার ঘাড়ে চাপিয়ে দেয়া হচেছ। এসব পরিবেশবাদ-ফরিবেশবাদ হচ্ছে বাংলাদেশীদের ডলার ব্যবহার বৃদ্ধি করার উপলক্ষ মাত্র। এজন্য অর্থনীতি থেকে পাশ করা এসব মহিলাকে বিদেশ থেকে পুরুস্কার দিয়ে পরিবেশবাদের নামে বাংলাদেশে বসানো হয়।
যাই হোক, বাংলাদেশকে যদি আপনি উন্নতি করতে চান, স্বনির্ভর করতে চান,
তবে এসব পরিবেশবাদ-ফরিবেশবাদকে জুতা দিয়ে পিটিয়ে দেশ ছাড়া করতে হবে।
নয়ত এরা নানান অজুহাতে আপনার অর্থনীতিকে মার্কিন অর্থনীতির খরচ বহনের জন্য ব্যয় করবে। এরা এমন ছুতোয় করবে, আপনি বুঝতেও পারবেন না।
Chatterjee 08