18/08/2026
"- প্রতিবাদলিপি-"
স্টুডেন্টস ফর সভরেন্টিকে জড়িয়ে ছাত্র ইউনিয়নের মিথ্যাচার ও রাষ্ট্রবিরোধী প্রচারণার প্রতিবাদ
স্টুডেন্টস ফর সভরেন্টিকে জড়িয়ে ছাত্র ইউনিয়নের মিথ্যাচার ও আদিবাসী শব্দের মত রাষ্ট্রবিরোধী প্রচারণার প্রতিবাদ জানিয়েছে স্টুডেন্টস ফর সভরেন্টি।
স্টুডেন্টস ফর সভরেন্টির কেন্দ্রীয় আহবায়ক মুহম্মদ জিয়াউল হক ও মুখপাত্র মুহিউদ্দিন রাহাত এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, বি"চ্ছি"ন্নতাবাদের দোসর, স্ব-ঘোষিত লাল সন্ত্রাস করতে চাওয়া মৌলবাদী ও চরমপন্থী সংগঠন ‘ছাত্র ইউনিয়ন’ রাজধানীর একটি হোটেলে সিএইচটিআরএফ কর্তৃক আয়োজিত ‘বাংলাদেশে আদিবাসী শব্দটি অপ্রাসঙ্গিক’ শিরোনামে একটি গোলটেবিল আলোচনা সভায় দেশপ্রেমিক শিক্ষার্থীদের প্রাণের সংগঠন ‘স্টুডেন্টস ফর সভরেন্টি’ ও মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জনাব সালাহউদ্দিন আহমদের অংশগ্রহণকে কেন্দ্র করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিথ্যাচার ও বি"চ্ছি"ন্নতাবাদী দাবী সম্বলিত বিবৃতি দিয়েছে। পাশাপাশি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের আত্মপরিচয় নিয়েও নৃতাত্ত্বিক মিথ্যাচার করেছে চরমপন্থী ও মৌলবাদী এই সংগঠনটি।
স্টুডেন্টস ফর সভরেন্টি ছাত্র ইউনিয়নের মতো মৌলবাদী ও চরমপন্থী সংগঠনের এমন মিথ্যাচার ও রাষ্ট্রবিরোধী প্রচারণার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে।
স্টুডেন্টস ফর সভরেন্টির নেতৃবৃন্দ বলেন, আদিবাসী প্রসঙ্গটি বাংলাদেশে সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক একটি বিষয়। কারণ বাংলাদেশের মূল জনগোষ্ঠী ৯৯.৫ ভাগ বাঙালি জনগোষ্ঠী ইউরোপ-আমেরিকার মত অন্য দেশ থেকে অভিবাসনের মাধ্যমে বাংলাদেশে আশ্রয় কিংবা দখলে নেয়নি। একইসাথে বাঙালিরা অভিবাসনের মাধ্যমে দেশের অন্যান্য নৃগোষ্ঠীর উপর প্রাধান্য বিস্তার করেনি। ফলে এই দেশে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের ক্ষেত্রে আদিবাসী বিষয়টা সব দিক দিয়েই অপ্রাসঙ্গিক।
আদিবাসী বিষয়টি প্রাসঙ্গিক মূলত ইউরোপ-আমেরিকার ক্ষেত্রে। কারণ ইউরোপের বিভিন্ন রাষ্ট্র থেকে একসময় দণ্ডপ্রাপ্ত অপারাধীদের নির্বাসন দেয়া হতো আমেরিকা, নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও কানাডার মতো রাষ্ট্রে। ইউরোপ থেকে আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও কানাডায় আগত এসব দণ্ডপ্রাপ্ত অভিবাসীদের সংখ্যা এতো বেশি ছিল যে, শেষ পর্যন্ত তারা ইউরোপের উপনিবেশবাদী সহযোগিতায় উক্ত দেশ দখলে নিয়ে নেয় এবং স্থানীয় আদিবাসীদের উপর প্রাধান্য বিস্তার করে।
আমেরিকা-অস্ট্রেলিয়া-কানাডা-নিউজিল্যন্ডের স্থানীয় আদিবাসী বনাম ইউরোপ থেকে আগত দণ্ডপ্রাপ্ত ও উপনিবেশবাদী অভিবাসীদের যু"দ্ধ, রোগ-জীবানুর মাধ্যমে আদিবাসীদের হত্যা ও জমি দখলসহ নানান রকম নিপীড়নমূলক ব্যবস্থার মাধ্যমে ইউরোপিয়ানরা আমেরিকা, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের আদিবাসীদেরকে মাইনোরিটিতে রুপান্তর করে এবং মূল ধারা থেকে বি"চ্ছি"ন্ন করে ফেলে। এককথায়, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, নিউজিল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে ইউরোপীয় দণ্ডিত অপারাধী ও ঔপনিবেশিক শক্তি সমুদ্রপথে এসে আদিবাসী (Indigenous) জনগোষ্ঠীর ভূখণ্ডে সেটেলার কলোনি (settler colony) প্রতিষ্ঠা করে। ফলে ভূমিপুত্র হয়েও ওসব দেশের আদিবাসীরা এখন পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীতে পরিণত হয়েছে।
কিন্তু বাংলাদেশের বাঙালি জনগোষ্ঠী ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের সাথে উপরোক্ত ইতিহাসের কোনো মিল নেই। বরং বাংলাদেশে সম্পূর্ণ বিপরীত ইতিহাস বিদ্যমান।
ইতিহাস ও নৃতত্ত্ব বলছে, বাঙালিরা বাংলাদেশে কোনো উপনিবেশ স্থাপনকারী কিংবা অভিবাসী নয়। বরং বাঙালিরাই বাংলাদেশের ভূমিপুত্র বা আদিবাসী। হাজার হাজার বছর পূর্বে বাঙালিরাই এদেশের আবাদকারী। বিপরীতে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীরা বাংলাদেশে অভিবাসী হিসেবে আশ্রয় নিয়েছিল। নানান ঘটনার প্রেক্ষিতে আশপাশের বিভিন্ন অঞ্চল তথা মিয়ানমার, ইন্ডিয়া, কম্বোডিয়া, তিব্বত, থাইল্যান্ড ইত্যাদি থেকে অভিবাসিত হয়ে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীরা বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিবাসনের মাধ্যমে আশ্রয় ও বসবাস শুরু করে। কালের পরিক্রমায় তাদেরকে এদেশের নাগরিকত্ব দিয়ে ‘বাংলাদেশী’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয় এবং সাংবিধানিক পরিভাষায় (২৩ক অনুচ্ছেদ) তাদেরকে উপজাতি বা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বলা হয়েছে। এটি-ই ঐতিহাসিক ও নৃতাত্ত্বিকভাবে প্রমাণিত ও প্রতিষ্ঠিত বিষয়। এর বাইরে চরমপন্থী ছাত্র ইউনিয়নসহ বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বক্তব্য বানোয়াট, মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
সভরেন্টির নেতৃদ্বয় বলেন, ২০০৭ সালে জাতিসংঘ ঘোষিত আদিবাসী বিষয়ক ঘোষণাপত্র এবং আদিবাসী স্বীকৃতির ব্যাপারটি মূলত উপরোল্লেখিত ইউরোপীয় অভিবাসী কর্তৃক দখলকৃত আদিবাসী অঞ্চলে প্রাধান্য বিস্তারকারীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। তথা আমেরিকার আদিবাসী রেড ইন্ডিয়ান, অস্ট্রেলিয়ার আদিবাসী অ্যাবরিজিনাল ও টরেস স্ট্রেইট আইল্যান্ডার, নিউজিল্যান্ডের আদিবাসী মাওরি, কানাডার আদিবাসী ইনুইট ও মেটিসদের ক্ষেত্রে প্রজোয্য। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে নয়।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে বাঙালি-অবাঙালি সকলের অভিন্ন পরিচয় ‘বাংলাদেশী’। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান দেশের সকল জাতি-গোষ্ঠীকে ‘বাংলাদেশি’ পরিচয়ের মাধ্যমে এক ছাতার নিচে নিয়ে এসেছিলেন। কিন্তু বি"চ্ছি"ন্নতাবাদী গোষ্ঠী শহীদ প্রেসিডেন্টের ‘বাংলাদেশি’ জাতীয়তার পরিচয় বাদ দিয়ে ‘আদিবাসী’ ও জুম্ম জাতীয়তা’ নামক রাষ্ট্র বিরোধী দাবীতে সোচ্চার।
দ্বিতীয়ত: সিএইচটিআরএফ আয়োজিত আলোচনা সভায় মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, তথ্যমন্ত্রী, এনসিপি, এবি পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দসহ স্টুডেন্টস ফর সভরেন্টির আহবায়ক মুহম্মদ জিয়াউল হকও সেখানে বক্তব্য রাখেন। চরমপন্থী সংগঠনটি এটা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে! অথচ দেশের সার্বভৌমত্ব বিষয়ক উক্ত বৈঠকে যোগদান করে মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অত্যন্ত দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছেন এবং সবার আগে দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে গুরুত্ব দিয়েছেন।
তৃতীয়ত: গত ১৫ জানুয়ারি ২০২৫ মতিঝিলের এনসিটিবির সামনে ঘটে যাওয়া সং"ঘ"র্ষকে কেন্দ্র করে চরমপন্থী ছাত্র ইউনিয়ন সভরেন্টির নেতৃবৃন্দকে স"ন্ত্রা"সী বলার অপচেষ্টা করেছে! অথচ ঐদিন তারা তথা বি"চ্ছি"ন্নতাবাদীরাই মতিঝিলে সভরেন্টির অবস্থানস্থলে গিয়ে স"ন্ত্রা"সী কায়দায় হামলা করে। পাহাড়ের স"শ"স্ত্র গোষ্ঠী ইউপিডিএফ এর মদদে তাদের স"ন্ত্রা"সীপনা ঐদিন এতো বেশি ছিল যে, পুলিশের চার চারটি নিরাপত্তা বেষ্টনি ভেঙ্গে সভরেন্টির সমাবেশে ঢুকে হা"ম"লা চালিয়ে সং"ঘর্ষ বাধায়। নিজেদের স"ন্ত্রা"সীপনা এবং তাদের ফাদার সংগঠন স"শ"স্ত্র গোষ্ঠী ইউপিডিএফ এর স"ন্ত্রা"সীপনাকে ঢাকতে অন্যদের উপর দোষ চাপানো তাদের পুরনো অভ্যাস।
স্টুডেন্টস ফর সভরেন্টি চরমপন্থী মৌলবাদী সংগঠন ‘ছাত্র ইউনিয়ন’ কর্তৃক ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের পরিচয়ের নৃতাত্ত্বিক মিথ্যাচার ও আদিবাসীর মতো রাষ্ট্রবিরোধী প্রচারণার তীব্র নিন্দা জানায়। একইসাথে ভবিষ্যতে এসব মিথ্যাচার ও রাষ্ট্রবিরোধী প্রচারণা থেকে বিরত থাকার আহবান জানায়। নইলে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বার্তাপ্রেরক-
মুহম্মদ সাইফুল ইসলাম
দপ্তর সম্পাদক,
স্টুডেন্টস ফর সভরেন্টি, কেন্দ্রীয় কমিটি।
তারিখ: ১৮ আগস্ট ২০২৬।