16/10/2026
অক্টোবর স্তন ক্যান্সার সচেতনতা মাস। এই মাস জুড়েই ব্রেস্ট ক্যান্সার সচেতনতা সম্পর্কে বেশ জোড়ালোভাবে নারীদেরকে সচেতন করার চেষ্টা করা হয়। তবে প্রতিকী অর্থে এই মাসটিকে সচেতনতার মাস হিসেবে ধরা হলেও ব্রেস্ট ক্যান্সার প্রতিরোধে সচেতন থাকতে হবে বছর জুড়ে। তারই অংশ হিসেবে প্রথমেই জানা দরকার ব্রেস্টর গঠন, আকার, আকৃতি অর্থাৎ ব্রেস্ট এনাটমি। আসুন ব্রেস্টের গঠন সস্পর্কে জানা ও সচেতন হওয়া যাক।
স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলোর একটি হলো নিজের শরীরকে জানা ও বোঝা। স্তনের স্বাভাবিক গঠন, আকার ও আকৃতির পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করার জন্য স্তন শারীরস্থান বা ব্রেস্ট এনাটমি (Breast Anatomy) সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা থাকা খুবই জরুরি।
নিচে স্তনের ভেতরের ও বাইরের গঠন সহজভাবে উপস্থাপন করা হলো:
১. স্তনের প্রধান বাহ্যিক গঠন (External Anatomy)
ত্বক (Skin): স্তনের উপরিভাগের সাধারণ চামড়া বা ত্বক।
অ্যারোলা (Ar**la): স্তনবৃন্তের (Ni**le) চারপাশের অপেক্ষাকৃত গাঢ় রঙের গোলাকার অংশ। এতে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র গ্রন্থি থাকে যা প্রাকৃতিক তেল নিঃসৃত করে স্তনবৃন্তকে আর্দ্র ও সুরক্ষিত রাখে।
স্তনবৃন্ত বা নিপল (Ni**le): অ্যারোলার কেন্দ্রে অবস্থান করে। দুগ্ধনালীগুলো (Milk Ducts) এসে এই স্থানেই উন্মুক্ত হয়।
২. স্তনের অভ্যন্তরীণ টিস্যু ও অভ্যন্তরীণ গঠন (Internal Structure)
অভ্যন্তরীণভাবে স্তন মূলত তিন ধরণের টিস্যু নিয়ে গঠিত:
ক. গ্রন্থিময় টিস্যু (Glandular Tissue)
লোবিউল (Lobules): এগুলো দুধ উৎপাদনকারী ছোট ছোট গ্রন্থি বা থলি। প্রতিটি স্তনে প্রায় ১৫ থেকে ২০টি লোবিউল থাকে।
ডাল বা দুগ্ধনালী (Ducts): লোবিউল থেকে উৎপন্ন দুধ স্তনবৃন্ত বা নিপল পর্যন্ত পৌঁছে দেয় যেসব সরু নালী, সেগুলোকে ডাক্ট বা দুগ্ধনালী বলা হয়। অধিকাংশ স্তন ক্যান্সার এই দুগ্ধনালীর ভেতরের প্রাচীর থেকেই শুরু হয়।
খ. চর্বি বা মেদ টিস্যু (Adipose/Fatty Tissue)
স্তনের সিংহভাগ আকার ও নরম ভাব নির্ভর করে এই ফ্যাটি টিস্যুর পরিমাণের ওপর। বয়স ও ওজন পরিবর্তনের সাথে সাথে স্তনে চর্বির পরিমাণে তারতম্য ঘটে।
গ. সংযোগকারী বা তন্তুময় টিস্যু (Fibrous/Connective Tissue)
কুপারস লিগামেন্ট (Cooper's Ligaments): এটি স্তনের টিস্যুগুলোকে বুকের পেশীর সাথে ধরে রাখতে সাহায্য করে এবং স্তনের গঠন ও দৃঢ়তা বজায় রাখে।
৩. লিম্ফ্যাটিক সিস্টেম বা লসিকা টিস্যু (Lymphatic System)
স্তনের ভেতর ছোট ছোট লিম্ফ ভেসেল (Lymph Vessels) বা লসিকানালী এবং লিম্ফ নোড (Lymph Nodes) থাকে।
স্তনের লসিকা তরল প্রধানত বগল (Axilla) ও বুকের ভেতরের লিম্ফ নোডে প্রবাহিত হয়।
ক্যান্সার কোষে কোনো অস্বাভাবিকতা তৈরি হলে বা ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়তে শুরু করলে তা প্রথমে বগলের লিম্ফ নোডগুলোকে প্রভাবিত করতে পারে। তাই বগলে কোনো চাকা বা ফোলা ভাব আছে কিনা তাও খেয়াল রাখা জরুরি।
৪. স্তনের স্বাভাবিক পরিবর্তন ও স্ব-পরীক্ষা (Breast Self-Examination)
স্বাভাবিক তারতম্য: বয়সের সাথে, ঋতুচক্রের (Menstruation) বিভিন্ন ধাপে, গর্ভাবস্থায় কিংবা বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় স্তনের আকার, আকৃতি এবং স্পর্শের অনুভূতিতে স্বাভাবিক পরিবর্তন আসে।
কখন সতর্ক হবেন:
স্তনের টিস্যুতে বা বগলে নতুন কোনো অস্বাভাবিক চাকা (Lump) অনুভব করা।
স্তনবৃন্ত ভেতরের দিকে দেবে যাওয়া বা নিপল থেকে রক্ত কিংবা অস্বাভাবিক তরল নিঃসৃত হওয়া।
স্তনের ত্বকে গর্ত, ভাঁজ বা কমলালেবুর খোসার মতো খসখসে ভাব দেখা দেওয়া।
বিশেষভাবে করণীয়:
প্রতি মাসে নির্দিষ্ট সময়ে নিজে নিজে স্তন পরীক্ষা (Self-Examination) করা এবং কোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তন চোখে পড়লে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।