11/01/2026
একটা প্রশ্ন দিয়ে শুরু করি।
আমাদের শিশুরা কি জন্ম থেকেই ক্যান্সারের ঝুঁকি নিয়ে বড় হচ্ছে?
আজ যে বাস্তবতা আমরা দেখছি, তা ভয়ংকর। আগে ক্যান্সার মানেই বয়স্ক মানুষ। আজ হাসপাতালে এসে দেখি ৩ বছর, ৫ বছর, ১০ বছরের শিশু কেমোথেরাপি নিচ্ছে।
কেন এমন হচ্ছে?
ভেজাল খাদ্য। রাসায়নিক সার। অতিরিক্ত কীটনাশক। ফল পাকাতে ক্যালসিয়াম কার্বাইড। সবজি টাটকা রাখতে ফরমালিন। মাছ-মাংসে অ্যান্টিবায়োটিক ও হরমোন।
এই সব কিছু আমরা জেনে বুঝেই খাচ্ছি। আর সেই বিষ ঢুকছে সবচেয়ে বেশি কার শরীরে? শিশুদের।
একজন বড় মানুষ হয়তো কিছুটা সহ্য করতে পারে। কিন্তু শিশুর শরীর? ওদের লিভার, কিডনি, ইমিউন সিস্টেম এখনো পূর্ণতা পায়নি। এই বিষাক্ত কেমিক্যালগুলো সরাসরি ওদের ডিএনএ ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
ফলাফল? লিউকেমিয়া। ব্রেইন টিউমার। লিম্ফোমা। অজানা ক্যান্সার, যার নামও আগে আমরা শুনিনি।
সবচেয়ে কষ্টের কথা কী জানেন? এই শিশুরা কোনো দোষ করেনি। দোষ আমাদের। দোষ আমাদের খাবার ব্যবস্থার। দোষ আমাদের নীরব থাকার।
আমরা যদি আজও না বলি, না বুঝি, না সচেতন হই, তাহলে আগামী প্রজন্ম আরও ভয়াবহ মূল্য দেবে।
করণীয় কী? সম্পূর্ণ নিরাপদ খাবার হয়তো এখনই পাওয়া সম্ভব না। কিন্তু কিছুটা হলেও ঝুঁকি কমানো যায়।
ফল ও সবজি ভালোভাবে ধুয়ে খাওয়া। সম্ভব হলে মৌসুমি খাবার বেছে নেওয়া। একই খাবার বারবার না খাওয়া। শিশুদের প্যাকেটজাত জাঙ্ক ফুড কমানো। নিজেদের বাগানে বা পরিচিত উৎস থেকে খাবার নেওয়ার চেষ্টা করা।
সবচেয়ে জরুরি বিষয়, চুপ করে না থাকা। এই কথাগুলো বলা। শেয়ার করা। মানুষকে নাড়া দেওয়া।
কারণ আজ যদি আমরা চুপ থাকি, আগামীকাল হয়তো সেই ক্যান্সার আক্রান্ত শিশুটি আমার, আপনার, আমাদেরই কেউ হবে।
এই লেখা পড়ে যদি একজন অভিভাবকও একটু সচেতন হন, তাহলেই এই লেখা সার্থক।
অনুগ্রহ করে শেয়ার করুন। শিশুদের জন্য। আগামী প্রজন্মের জন্য।
ডা.আব্দুর রহমান
ছবি: ডা: সালাম স্যার
From: DrDr. Abdur Rahman