07/05/2025
যারা নব্বইয়ের দশকে বড় হয়েছেন, তাদের মনে পড়ার কথা— বাংলাদেশে একদল লোক বলে বেড়াতো, সাদ্দামের হাতে এমন অস্ত্র আছে, যেটা দিয়ে ৩ মিনিটে পৃথিবী ধ্বংস করা সম্ভব! এবং এটা তারা খুব গর্বের সাথে বলতো। বেকুবগুলো কিন্তু এটা চিন্তা করতো না যে, সাদ্দাম পৃথিবী ধ্বংস করলে এরা নিজেরাও ধ্বংস হয়ে যাবে। কারও হাতে পৃথিবী ধ্বংস করার অস্ত্র আছে, এটা তো অত্যন্ত দুশ্চিন্তার সংবাদ। কিন্তু বাংলাদেশের বেকুবরা সুখ অনুভব করতো। কারণ সাদ্দামকে তারা মুসলিম বিশ্বের নেতা ভাবতো। মুসলিম বিশ্বের নেতার অবশ্যই ৩ মিনিটে পৃথিবী ধ্বংস করার অধিকার আছে! এই হলো ছাগলের চিন্তার ব্যাসার্ধ ও পরিধি।
কিন্তু আমেরিকা সাদ্দামের হাবভাব ও হুমকিধামকিকে সিরিয়াসলি নিয়ে নিলো। যারা আমেরিকায় থাকেন, তারা জানেন যে, আমেরিকানরা সরলভাবে চিন্তা করে। সে মিথ্যা হুমকিকেও সত্য মনে করে অকল্পনীয় পাল্টা আঘাত হানতে পারে। ইরাক যুদ্ধ এ কারণেই ঘটেছিলো। সাদ্দাম সারা বিশ্বে প্রচার করেছিলো যে তার হাতে মারাত্মক সব অস্ত্র আছে। ইরাকীরা জানতো সাদ্দাম মিথ্যুক। কিন্তু বাংলাদেশের ইসলামী সেনারা ভাবতো সাদ্দাম সত্যুক। সাদ্দাম যখন নিজ শরীর থেকে ২৪ লিটার রক্ত দিয়ে কোরান শরীফ লিখিয়েছিলেন, তখন অনেক ইরাকীই সেটিকে ধর্মীয় প্রতারণার অভিনব নজির আখ্যা দিয়েছিলেন। সাদ্দাম হাজার হাজার মুসলমানকে হত্যা করে রক্ত দিয়ে কোরান লিখে মুসলমানগিরি প্রদর্শন করেছিলেন।
যে-লোক নিজ শরীরের ২৪ লিটার রক্ত দিয়ে কোরান লিখলেন, আল্লাহ তার সাথে থাকলো না, তার পক্ষ নিয়ে আমেরিকাকে শায়েস্তা করলো না, এ এক বিরাট রহস্য!
ইউনূস সরকারের এক কাছের লোক, সাবেক সেনা কর্মকর্তা, পোশাক-আশাকে সাদ্দামী চেতনায় উজ্জীবিত সৈনিক, ভারত দখলের হুমকি দিয়েছেন। এটি একটি প্যাটার্ন। বাংলাদেশের প্রতিটি সাদ্দামী চেতনার লোক ভারত দখলের স্বপ্ন দেখে। ধর্মগুণ্ডারা আশায় বসে আছে, কবে যে ভারতের ধ্বংস হবে! আর ভারত সেদিকে, দিন দিন, বিজ্ঞান প্রযুক্তি সমর বাণিজ্য সব দিকে তরতর করে এগিয়ে যাচ্ছে। বলদ যখন ধর্ম নিয়ে হাউকাউয়ে মেতে আছে, বয়কট টয়কট সেভেন সিস্টার খেলছে, রাতদিন মূর্খদের ওয়াজ শুনছে, বুদ্ধিমান ভারত তখন আপন শক্তিতে আত্মোন্নয়নে মনোযোগ দিচ্ছে।
বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ২০ কোটি জনসংখ্যার ক্ষুদ্র একটি দেশ পরমাণু শক্তিধর ভারতের পেটে অবস্থান করছে। বাংলাদেশ যদি মৌলবাদকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয়, তাহলে এনালোজিকলি, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কটা ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সম্পর্কে গড়াবে। ধীরে ধীরে।
ফিলিস্তিনের মানুষ মোটাদাগে শান্তিপূর্ণ। বাংলাদেশের মানুষও মোটাদাগে শান্তিপূর্ণ। কিন্তু ফিলিস্তিনকে যেভাবে হামাস ধংস করেছে, ইসরায়েলে অকেজো বিচ্ছিন্ন সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে, ঠিক সেভাবে, বাংলাদেশকেও একদিন মৌলবাদী শক্তি ধ্বংস করতে পারে। পৃথিবীর কোথাও ইসলামী সন্ত্রাসবাদ জয়ী হতে পারে নি, কিন্তু এরা সাধারণ নিরীহ মুসলমানের জানমাল সব জায়গায় বিপন্ন করছে। বাংলাদেশে যেভাবে ধর্মীয় কারণে ভারতবিদ্বেষ বিস্তার লাভ করছে, ভারতী পণ্য, ভূমি, ও আকাশপথের উপর নজিরবিহীন নির্ভরতার পরও যেভাবে ভারতের বিরুদ্ধে লিল্লাখোররা উস্কানি দিচ্ছে, তাতে বাংলার শান্তিপূর্ণ নিরীহ কৃষিজীবী ও শ্রমজীবী মুসলমানদের জীবন অকল্পনীয় ঝুঁকির ভেতর পড়ছে। যুদ্ধ তো কোনো নিয়মনীতি বা নৈতিকতার ধার ধারে না। কোনো লিল্লাখোর ভারতীয় মিসাইলের সামনে দাঁড়াবে না। জীবন দেবে সাধারণ মানুষ।
সুতরাং সাবধান। মুসলমানদের উচিত, এখনই ইসলামপন্থী লিল্লাখোরদের বিরুদ্ধে কন্ঠসোচ্চার করা। ইসলামপন্থী ফেসবুকজীবীদের 'না' বলা। মুসলমান আর ইসলামপন্থী এক জিনিস নয়। বাংলাদেশে মুসলমান থাকবে, কিন্তু ইসলামপন্থী থাকবে না। এই মুহুর্তে, সারা বিশ্বে, মুসলমানদের সবচেয়ে বড় শত্রু ইসলামপন্থীরা।