15/03/2026
আপনি কি জানেন, জাতিসংঘের তথ্যমতে এবং প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী বিশ্বজুড়ে ২০২২ সালে ১০০ কোটি টনের বেশি খাবার নষ্ট হয়েছে। আর এর বেশিরভাগই হয় বসতবাড়িতে। আবার জাতিসংঘের ফুড ওয়েস্ট ইনডেক্স শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বের প্রায় ৮০ কোটি মানুষ যখন না খেয়ে থাকে।
আবার বিবিসি নিউজের একটা প্রতিবেদন অনুযায়ী, একজন বাংলাদেশী গড়ে ৮২ কেজি খাবার অপচয় করে। ফুড ওয়েস্ট ইনডেক্স রিপোর্ট ২০২৪ শীর্ষক ওই প্রতিবেদনে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী ওই সময়ে বাংলাদেশের খাদ্য অপচয়ের এ প্রবণতা ছিলো ভারত, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে বেশি।
ইসলাম ধর্ম অনুযায়ী আল্লাহ তায়ালা মানুষকে আত্মশুদ্ধি, সংযম এর মাধ্যমে তাঁর সন্তুষ্টি লাভের সুযোগ দিতে রমজান মাস প্রেরণ করেছেন। আল্লাহ তায়ালা এবং মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স) অপচয় করতে বার বার নিষেধ করেছেন। অপচয়ের মতো অপব্যয়কে নিষিদ্ধ করে কুরআন মজিদে বর্ণিত হয়েছে, “আর কিছুতেই অপব্যয় করবে না। যারা অপব্যয় করে তারা শয়তানের ভাই এবং শয়তান তার প্রতিপালকের প্রতি অতিশয় অকৃতজ্ঞ”। [সূরা আল-ইসরা, আয়াত: ২৬-২৭]।
আবু হুরায়রা (রা.) সূত্রে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, ‘যখন রমজান উপস্থিত হয়, জান্নাতের দরজা খুলে দেওয়া হয়। জাহান্নামের সব দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়। দুষ্ট শয়তানদের শৃঙ্খলে আবদ্ধ করা হয়।’ (মুসলিম, হাদিস : ১০৭৯)।
রমজান মাস আমাদের শুধু ক্ষুধা সহ্য করার শিক্ষা ই দেয় না বরং অন্যের কষ্ট অনুভব করার এবং আত্মসংযম এর শিক্ষা ও দেয়। অথচ আমরা অনেক সময় সেহেরি ও ইফতারে প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত খাবার তৈরি করি এবং সম্পূর্ণ শেষ করতে পারি না এবং যার একটা অংশ নষ্ট হয়। এটা শুধু অর্থের ই অপচয় নয় বরং পরিবেশ ও মানবতার প্রতি চরম অবিচার।
তাই আসুন, রমজান মাসে আমরা সচেতন হই। নিজের ভেতরের শয়তান টাকে ও বন্দি করে রাখি। প্রয়োজন অনুযায়ী খাবার প্রস্তুত করি এবং অতিরিক্ত খাবার প্রতিবেশী ও সুবিধাবঞ্চিত অসহায় মানুষের মাঝে ভাগ করে দেই। পাশাপাশি অসহায় জীবদের প্রতি ও মানবতা দেখাই। আমাদের মনে রাখা উচিত, প্রতিটা দানা ই সৃষ্টিকর্তার নেয়ামত, এর সঠিক ব্যবহার করা আমাদের দায়িত্ব। রমজান হোক আমাদের আত্মশুদ্ধি, সংযম আর অপচয় মুক্ত জীবন গড়ার মাস।