12/07/2023
বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম সর্বজন পছন্দের পেশা হচ্ছে 'উদ্যোক্তা' হওয়া, এবং যুবসমাজ এখন ঝুঁকছে ছক ভাঙার মনুষ্য সভ্যতার আদিম নেশায়, যার ফলে বিভিন্ন ধরনের নিত্যনতুন উদ্যোগ/ব্যবসা আমরা হরহামেশাই দেখি।
Connections: যেকোনো উদ্যোক্তার জন্যে কানেকশনস একটি অত্যন্ত জরুরি বিষয়, আপনার আশেপাশের মানুষ যদি ক্যারিয়ার কিংবা উদ্যোগ নিয়ে বিন্দু পরিমাণে সচেতন না হয়, তাহলে একদম প্রথমে যে কয়েকজন লোক আপনার প্রয়োজন (এবং এটি সব ধরনের উদ্যোগের ক্ষেত্রেই প্রয়োজনীয়) তা যোগাড় করতেই আপনার অবস্থা হবে মরীচিকার পেছনে দৌড়ানোর মত।
Communication Skills: কানেকশনস তৈরি করার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আপনাকে জানতে হবে কোন পেশায় কর সাথে কিভাবে কমিউনিকেট করলে অপর প্রান্তের ব্যক্তি আপনার কথা শোনার জন্য উদগ্রীব হবে। জানতে হবে linkedin সহ সকল professional Social Media এর উপযোগী ব্যবহার।
Leadership Skills: উদ্যোক্তা হওয়ার পূর্বশর্ত হচ্ছে উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য লিডার হওয়ার যোগ্যতা। এবং এই যোগ্যতা অর্জন করতে হবে বছরের পর বছর কমিউনিকেশন এ নিজেকে প্রবৃদ্ধ করে। অন্যথায়, আপনার কর্মী কেনো আপনার কথা মান্য করবে? বাজারে উদ্যোক্তার অভাব নেই। তবে প্রশিক্ষিত এবং সুকৌশলী উদ্যোক্তার প্রচন্ড অভাব রয়েছে। আপনাকে বুঝতে হবে আপনার কর্মীদের সুবিধা, অসুবিধা, চাহিদা, বুঝতে হবে কি তাদের মোটিভেট করবে, কি তাদের আপনার প্রজেক্টে আগ্রহী করে তুলবে।
The Perfect Idea: যেকোনো ইউনিক এবং সময়োপযোগী আইডিয়া হতে পারে আপনার উদ্যোগ এর বিষয়বস্তু, এবং এটি একটু বেশিই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এর জন্য ২টি চিত্র কল্পনা করি:
১ম চিত্র: আপনি একটু দুর্দান্ত ইউনিক প্রজেক্ট তৈরী করলেন, কিন্তু সেটি আপনার সমাজে না আপনার কাছাকাছি মানুষের কোনো উপকারে আসছে না, বা এটি এখন সময়োপযোগী না, হয়তো ১০ বছর পর কাজে লাগার মত প্রজেক্ট, কিন্তু এখন নয়। তখন আপনার ব্যবসা চলবে না।
২য় চিত্র: আপনি একটু সময়োপযোগী এবং মানুষের প্রয়োজন মোতাবেক একটি প্রজেক্ট ঠিক করলেন, কিন্তু আপনার আইডিয়া ইউনিক না, বরং একই ধরনের শখানেক ব্যবসা বাজারে রয়েছে, এবং এটির চাহিদা এত বেশিও নয় যে আগে নির্মিত ব্যবসা ছেড়ে মানুষ আপনার কাছে ভীড় বসাবে। ফলাফল, শূন্য।
এজন্য আপনাকে সবদিক বিবেচনা করেই আপনার আইডিয়া, প্রজেক্ট এবং ব্যবসার মূল ভিত্তি নির্বাচন করতে হবে।
Creating Your Team: পূর্বে যে কানেকশনস এবং কমিউনিকেশন এর কথা বলা হয়েছিল, তা এই পর্যায়ে এসে যথাযথ প্রয়োগ করতে হবে। কর কোন বিষয়ে দক্ষতা, সে অনুযায়ী তাকে সেই বিষয়ের জন্য টিমে নিতে হবে। আপনার যদি পর্যাপ্ত ফান্ড থেকে তাহলে তাদের বেতনের হিসেব, অন্যথায় তাদের অন্য কিভাবে ইনসেনটিভ দেওয়া যায় সে বিষয়ে আপনার পর্যাপ্ত ধারণা থাকতে হবে। মনে রাখতে হবে যে কোনো প্রকার ইনসেনটিভ ছাড়া অন্যদের কাজে মোটিভেটেড রাখা একটি প্রায় অসম্ভবপর কাজ।
Your Business Name: আপনার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নাম হতে হবে, অভিজাত, আধুনিক, সহজবোধ্য, ইউনিক, এবং অবশ্যই আপনার ব্যবসার মোটিভ, ভিশন সবকিছুই তার মধ্যেই রিপ্রেজেন্ট করতে হবে। হাজার হোক, প্রথম ইম্প্রেশন ম্যাটার করে, আর কোনো ব্যবসার ক্ষেত্রে নাম সেই ধার বহন করে।
Define Your 'Why': আপনার প্রজেক্ট বা ব্যবসার উদ্দেশ্য কি, এটি মানুষকে কিভাবে সাহায্য করবে তার একটা পরিপূর্ন আইডিয়া আপনার তৈরী করতে হবে। এতে করে জনমানুষের কাছে আপনার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য পৌঁছে দেওয়া সহজ হবে, আপনার ব্যবসা হবে মানুষের দ্বারা স্বীকৃত।
Set Your Target Customer: আপনার ব্যবসা বা সার্ভিস কাদের প্রতি ডেডিকেটেড সেটি নির্বাচন করুন। কোনো সংস্থা হতে পারেন তরুণদের জন্যে নির্মিত, আবার কোনো সংস্থা বৃদ্ধের জন্য। এতে করে কিভাবে আপনার সংস্থা কে আপনি জনসমক্ষে তুলে ধরবেন তার স্পষ্ট রূপরেখা আপনি তৈরী করতে পারবেন।
Funding: আপনার আইডিয়া, প্রজেক্ট এবং কতদিনের মধ্যে কতটুকু কাজ সম্পাদন করতে চান তার উপর নির্ভর করবে আপনার কি পরিমাণ ফান্ড দরকার। অনেকেই নিজের সম্পত্তি বিক্রি করে ফান্ডের যোগাড় করেন, অনেকে ধীরে ধীরে ব্যবসা চালান যাতে একবারে বেশি ফান্ড দরকার না হয়। উভয় প্রথাই বেশ জনপ্রিয়। আরো একটি রাস্তা আছে যা ইদানিং বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। তা হলো ব্যাংক থেকে লোন নেওয়া। অনেকে এই ব্যাপারটি এড়িয়ে যেতে চান, ডকুমেন্টস এর ঝামেলায় জড়াতে চান না। কিন্তু এটি বর্তমান বিশ্বে একটি বিশাল ফান্ডিং সিস্টেম, তাই দেখে শুনে নিজের সুবিধা অনুযায়ী কোনো একটি ব্যাংক থেকে ফান্ড নেওয়া উপকারী হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
Write Your Business Plan: ডক একাউন্ট খুলে তাতে আপনার ব্যবসার যাবতীয় সবকিছু নোট করুন। কবে নাগাদ আপনি কোন ভিশন পরিপূর্ন করতে চান, স্কেজ্যুল কেমন হবে, কে কোন দায়িত্বে থাকবে, কি কি প্রজেক্ট সংঘটন করবেন সব কিছুর বিস্তারিত তালিকা থাকবে, এবং সাথে থাকবে এক্সিট প্ল্যান। কারণ যেকোনো ব্যবসা যথাযথ পরিকল্পনার পরেও কোনো অনিবার্য কারণবশত ডুবে যেতেই পারে, পৃথিবীর অন্যতম billionaire Mark Zuckerberg ও ফেসবুকের আগে অনেক প্রজেক্ট করেছিলেন যা বিফল হয়েছিল। তাই সর্বদা একটি এক্সিট প্ল্যান রাখা খুবই গুরত্বপূর্ণ, যাতে অবস্থা প্রচণ্ড বেগতিক দেখলে নিরাপদে নিজেকে এবং নিজের টিম কে দুর্দশা থেকে রক্ষা করা যায়।
Managing Data: ডেটা ম্যানেজ করার জন্য একটি স্প্রেডশীট ফাইল ওপেন রাখুন সর্বদা, সবধরনের হিসেব, এমনকি কতজন একটি প্রজেক্টে কতসময় কাজ করছে সবকিছুর খসড়া যেনো এই ফাইল এ থাকে। যেকোনো সময় চাইলেই যেনো খুঁজে পাওয়া সহজ হয়।
Marketing Strategy: মার্কেটিং এর জন্য আলাদা টিম রাখতে হবে যদি না আপনি দক্ষ ব্যক্তি হন এই ক্ষেত্রে। তারপর স্ট্র্যাটেজি ফলো করেই মার্কেটিং করতে হবে। শুধু পোস্টার, ব্যানার, ফেসবুক গ্রুপ, পেজ বা টিভি বিজ্ঞাপন হলেই চলবে না। থাকতে হবে আকর্ষণীয় গ্রাফিক্স ডিজাইন এবং রিটেন কনটেন্ট, এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে ভিডিও কনটেন্ট। বুঝতে হবে কোন বয়সের জন্যে প্রতিষ্ঠানটি, সেই বয়স অনুযায়ী হতে হবে সবরকম ব্যবস্থা।
Govt. Registration: সংস্থা খোলার কয়েকদিনের মধ্যেই সরকারের অনুমোদন পত্র যোগাড় করুন। রেজিস্ট্রেশন করুন সরকারি ওয়েবসাইট এ, প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান, ডকুমেন্টস সাবমিট, এবং বাকি সব স্টেপ পরিপূর্ন করে আপনার সংস্থা কে একটি লিগ্যাল প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলুন। এতে করে পরবর্তীতে যেকোনো লিগ্যাল ইস্যু ডিল করা সহজতর হবে।
Don't Be Demotivated Easily: এই শহরে মোটিভেশন যেমন বিকতে পাওয়া যায়, ডিমোটিভেটেড হওয়ায় এ শহরে প্রচণ্ড সহজ। ব্যবসায় প্রথমেই লাভ না হওয়া, বা একটা ব্যবসা বিফলে যাওয়া ব্যক্তিরা ভোগেন চরম দুশ্চিন্তায়। কিন্তু এই ডিমোটিভেশন কখনোই আপনার উপকারে লাগবে না, যেমন সস্তার মোটিভেশন গুলোও কোনো উপকারে লাগে না। যেটা উপকারে লাগবে বা কাজে আসবে, সেটি হচ্ছে এক্সপিরিয়েন্স (হতে পারে সফলতার, বা বিফলতার, যেকোনো অভিজ্ঞতাই কাজে লাগে) এবং রিয়েলিটি। রিয়েলিটি তে থেকেই মানুষকে বুঝতে হবে কিভাবে কি পদক্ষেপ গ্রহণ করলে সফলতার চাবিকাঠি তার হাতে ধরা দেবে।
Grow Your Business: আস্তে আস্তে, আপনার ব্যবসা চালিয়ে নিয়ে যান, প্রথম কদিন সবধরনের নেগেটিভ ধারণা মাথায় ঝেঁকে বসবে। ওসবে কান না দিয়ে আপনি রিয়েলিটি কে ফলো করে নিজের সংস্থার পরিকল্পনা গুলো বাস্তবায়িত করতে থাকুন।
Khalid Saifullah Juel
Deputy Head Executive, ESND