04/06/2022
বয়লার আইন ২০২২ সংশোধনের দাবিতে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন
নিজস্ব প্রতিবেদক::
বাংলাদেশ বয়লার পরিচারক ফেডারেশনের উদ্যোগে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বয়লার আইন ২০২২ সংশোধনের দাবীতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। গত ৩রা এপ্রিল রোজ শুক্রবার বিকাল ৩ ঘটিকায় আয়োজিত উক্ত মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম। প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক শিল্পমন্ত্রী দিলিপ বড়ুয়া। বিভিন্ন শিল্পকারখানা হতে আগত প্রায় দুই হাজার বয়লার পরিচারক মানববন্ধনে অংশ গ্রহণ করেন। মানববন্ধনে বয়লার পরিচারক ফেডারেশন প্রতিনিধি হিসাবে বক্তব্য প্রদান করেন, ইমন হাসান, সবুজ হুসাইন সাকিব, শহিদুল ইসলাম মিলন, শাহিন মিয়া, রেজাউল করিম, ইউসুফ মির্জা এলিন, প্রমুখ।
মানববন্ধনে বক্তব্য দিতে গিয়ে বয়লার পরিচারকগন দাবি করেন, বয়লার আইন-২২ এ বয়লার পরিচারক সনদ'কে লাইসেন্সে রুপান্তরের সিদ্ধান্তের সংশোধন করতে হবে এবং সনদ হিসাবেই বহাল চান।
নতুন আইনে বয়লার পরিচারকদের ১ম শ্রেণি এবং ২য় শ্রেণির পরিচারক সনদকে যথাক্রমে গ্রেড-২ এবং গ্রেড-৩ লাইসেন্সের আইন সংশোধন দাবী করেন।
মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাবেক শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া বলেন, যেহেতু আমি এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছি, নতুন আইনে যে বিষয়গুলো বয়লার পরিচারকদের স্বার্থক্ষুন্ন হয়েছে সেটি অমানবিক। এতদিন ১ম শ্রেণীর বয়লার পরিচারক সকল ধরনের হিটিং সার্ফেসের বয়লার পরিচালনা করতে পারতেন, এখন নতুন আইনে তাদের ৫০০০ বর্গফুট নির্ধারণ করে দেওয়াটা অমানবিক ও অযৌক্তিক। তিনি বলেন, এই আইনের ফলে যেসকল পরিচারকগন ৫০০০ বর্গফুটের অধিক বয়লার পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন তারা কর্মহীন হয়ে পরবেন।
তিনি প্রশ্ন করেন যেহেতু বর্তমানে দেশে প্রথম এবং দ্বিতীয় শ্রেণির বাহিরে কোন বয়লার পরিচারক নেই, তাহলে নতুন আইন মতে ৫০০০ অধিক হিটিং সার্ফেস বয়লার কে পরিচালনা করবেন?
তাহলে কি সেসকল শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ থাকবে? দিলীপ বড়ুয়া আরও বলেন, বয়লার পরিচারকদের এই যৌক্তিক দাবিতে তিনি একমত পোষণ করেন এবং সাথে থাকবেন।
সভাপতির বক্তব্যে শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম বলেন, বয়লার পরিচারক সনদ যেহেতু লিখিত ও মৌখিক (ব্যবহারিক) পরিক্ষা দিয়ে অর্জন করতে হয় তাই এটি লাইসেন্সে রূপান্তর অযৌক্তিক।
তিনি বলেন, সকল সেক্টরে পদোন্নতি হয়, আর বয়লার পরিচারকদের অবনতি করা হয়েছে। এই আইনের সংশোধন না হলে বয়লার পরিচারকদের শিল্পের উৎপাদন বন্ধ করে আন্দোলনে নামা ছাড়া উপায় থাকবে না।
এই শ্রমিক নেতা আরও বলেন, বয়লার পরিচারকরা কর্মবিরতি দিলে দেশের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পরবে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক শিল্পের উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাবে, বিদ্যুৎ কেন্দ্র সহ সকল শিল্প কারখানায় বন্ধ হবে তাই আইনের সংশোধন এবং নিম্নোক্ত দাবি গুলো পেশ করেন-
১.লাইসেন্স নয়, বিদ্যমান, সনদ বহাল রাখতে হবে ।
২.বিদ্যমান প্রথম শ্রেনীর সার্টিফিকেট প্রথম গ্রেড এবং দ্বিতীয় শ্রেনীর সার্টিফিকেট ২য় গ্রেড হিসেবে বহাল রাখতে হবে।
৩. বয়লার পরিচারকদের সুষ্ঠ কর্ম পরিবেশ চাই।
৪.পরিচারকদের ঝুকি ভাতা এবং ইনসুরেন্সের ব্যাবস্তা করতে হবে।
৫. সিমাহিন কর্ম ঘন্টা নয়, দৈনিক কর্মঘন্টা ৮ ঘন্টা করতে হবে ।
৬.অনিবন্ধিত বয়লার চিন্হিত করে নিবন্ধনের আওতায় আনতে হবে।
বক্তাগন এর জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করে মানববন্ধন কর্মসূচি সমাপ্ত ঘোষণা করেন।